চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা খাদ্য গুদামের ইনচার্জ ইসমাইল আদমের বিরুদ্ধে খাদ্য কেনার নামে টাকা আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে গত আমন মৌসুমে খাদ্য কেনার নামে কৃষক ও মিল মালিকদের কাছ থেকে অন্তত ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
আদমের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রতি টনে ৪ হাজার টাকা কমিশন নিয়ে তিনি খাদ্য বিভাগের বরাদ্দের ধান-চাল কিনে এই অর্থ নিজের পকেটে নিয়েছে।
খাদ্য বিভাগের এই কর্মকর্তা ছাত্রলীগের খুলনা মহানগর শাখার নেতা ছিলেন। সাংগঠনিক পরিচয়ের প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি সরকারি চাকরিতে ঢোকেন। চাকরি করেছে যশোরের নোয়াপাড়া ও কুষ্টিয়া সদর খাদ্য গুদামে। নোয়াপাড়া খাদ্য গুদামে চাকরি করার সময় তিনি খুলনায় আলিশান বাড়ি ‘আবরার মহল’ নির্মাণ করেছেন।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মানহীন খাদ্য কেনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত করেছেন। খোলা বাজারে ধানের দাম ১০৫০ টাকা। সেখানে তিনি মন প্রতি ৩০০ টাকা করে কৃষকদের কাছ থেকে নিয়েছেন। এ ছাড়াও আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তার দপ্তরে প্রতি কেজিতে ৩০ পয়সা থেকে ১ টাকা পর্যন্ত বাড়তি টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
আলমডাঙ্গা উপজেলায় খাদ্য সংগ্রহের পরিমাণ ছিল ১৬৯ টন। পরে ধারণক্ষমতা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ২০৯ টন ধান-চাল ক্রয় করেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সময়ে ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল ও আওয়ামী লীগ নেতা শেখ তন্ময়ের নাম ভাঙিয়ে একের পর এক দুর্নীতির মাধ্যমে ব্যবসা চালিয়ে গেছেন খাদ্য কর্মকর্তা ইসমাইল আদম।
ইসমাইল আদমের বিরুদ্ধে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, তার ভয়ে কেউ দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাননি। তিনি ছিলেন খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের ক্যাডার এবং আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগপ্রাপ্ত। তার এসব কার্যকলাপ যেন খাদ্য বিভাগের শুদ্ধতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকেই চ্যালেঞ্জ জানায়।
গত বছরের ১৭ নভেম্বর খুলনা মহানগর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর ১৬ জন খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসের কর্মকর্তাদের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন। অভিযুক্তরা ভার্সিটি ও কলেজে থাকাকালীন কলেজ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। তারা কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি করেছেন। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আল-ওয়াজিউর রহমানকে প্রধান করে যশোর সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক গাজী মাজহারুল আনোয়ার ও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শিহাব হোসেনসহ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। খুলনা বিভাগীয় অফিস কর্তৃক তাদের এ দায়িত্ব দেয়।
জানা গেছে, অভিযুক্তদের শুনানির জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয় কুষ্টিয়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আল ওয়াজিউর রহমানকে। অভিযুক্তদের তালিকায় ইসমাইল আদমের নামও ছিল। কিন্তু তদন্তের বিষয়ে এখনও কোনো অগ্রগতি নেই।
মে মাসের মাঝামাঝিতে তদন্তের কাজ শুরু করেন এই কর্মকর্তা। অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ দোসরদের পুনরায় সুসংগঠিত করে দেশকে আবার অস্থিতিশীল করে তুলতে এ ধরনের তদন্ত চলছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ক্যাডার ওই ১৬ জন কর্মকর্তা অল্পদিনের মধ্যেই শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। বদলি বাণিজ্য ছিল তাদের অন্যতম ব্যবসা।
আওয়ামী শাসন আমলে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগপ্রাপ্ত। ইসমাইল আদম (খাদ্য পরিদর্শক ও ওসএলএসডি) বর্তমান আলমডাঙ্গায় কর্মরত আছেন।
কুষ্টিয়ার সদর গোডাউনের সাবেক খাদ্য পরিদর্শক ও ওসএলএসডি ইসমাইল আদম কুষ্টিয়ায় থাকাকালীন সময়ে খুলনার সাবেক এমপি শেখ হেলাল এবং শেখ তন্ময়ের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে গোডাউন হাতের মুঠোয় রেখে ইচ্ছামতো মানহীন চাল সংগ্রহ করতেন। প্রত্যেক মৌসুমে, মিল মালিকদের সঙ্গে সখ্যতা করে মিল থেকে নিম্নমানের চাল গোডাউনে সরবরাহ করতো। এ ছাড়াও গোডাউনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এমপি-মন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেন। কিন্তু তার অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না।
ইসমাইল আদমের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে আলমডাঙ্গার সিরাজ অ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্টের কর্মকর্তা মো. পিন্টু বলেন, “কীভাবে খাদ্য বিভাগে খাদ্য কেনা হয় তা সবাই জানে। ইসমাইল আদমের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো। কিছু খরচাপাতি তো করতে হয়েছে, তবে তিনি বেশি কিছু নেননি।”
পিন্টু বলেন, “আমি আদমের বিষয়ে বেশি কিছু বলতে চাইছি না। বিস্তারিত পরে জানাব।”
অভিযোগের বিষয়ে আলমডাঙ্গা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমাইল আদম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে এ সব অভিযোগ মিথ্যা। আমার প্রতিপক্ষরা এই সব রটনা করছেন। আমার যা আয়-ইনকাম তা আমার রিটার্ন ফাইলে উল্লেখ করা হচ্ছে।”
বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি সরকারি কর্মকর্তা। আমার কোনো দল নেই।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























