ঢাকা ১২:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সেমির টিকেটে চোখ, মরক্কোর প্রতিশোধ নাকি ফরাসি উত্তাপ? অর্থ আত্মসাত ও প্রতারণার মামলায় সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ঝালকাঠিতে এলজিইডির প্রকল্পের দরপত্র মূল্যায়নে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ইডিসিএলে বার বার কাজ পায় ছাত্রলীগের আমিনুল ইসলাম রুবেলের প্রতিষ্ঠান কুমিল্লায় আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের সংঘর্ষ, নিহত ১ প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ঢাকা মেডিকেল পরিদর্শনে উচ্ছ্বসিত সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম বোর্ডের আজকের এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা স্থগিত পাল্টা আ’ক্র’ম’ণে ইরান : বাহরাইন-কুয়েতে অবস্থিত ৮৫ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা ১৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ডেই বদলে গেল ম্যাচের গল্প দেড় বিলিয়ন ডলার আকুর বিল পরিশোধ, কমলো রিজার্ভ

যশোরে আশরাফুল মাদারিসে একসঙ্গে ইতেকাফে ১৭০০ মুসল্লি

কেউ কোরআন পড়ছেন, কেউ শুনছেন। সারারাত আমল করে কেউ বিশ্রাম নিচ্ছেন। এর মধ্যে আবার অনেকে গ্রুপ করে হাদিসের তালিম শুনছেন। সকাল ১০টা থেকে শুরু হয় নসিয়ত। সেখানে নফল ইবাদতকারীদের একাংশ এসে অংশ নিচ্ছেন। এ চিত্র যশোর সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের সতীঘাটা এলাকার আশরাফুল মাদারিসের। এখানে দেশি-বিদেশি প্রায় ১৭০০ মুসল্লি একসঙ্গে ইতেকাফে বসেছেন। যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন শায়খ ইব্রাহিম আফ্রিকি। যাকে সকলে মুরব্বি হিসেবে সম্বোধন করছেন।

শুধু তাই নয়, এতো সংখ্যক মুসল্লির সেবা-যত্নে খাদেম হিসেবে শিক্ষক-ছাত্রের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে ৬০০ জনের টিম। তাদের মাধ্যমে বিনামূল্যে ইফতার, সেহরি থেকে সকল কিছু সরবরাহ করা হচ্ছে মাদরাসার পক্ষ থেকেই।

এদিকে একসঙ্গে এত সংখ্যক মুসল্লি ইতিকাফে বসায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলার ১৫৯৫ মুসল্লির পাশাপাশি আটটি দেশের ৮২ জন বিদেশি মুসল্লি রয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, সতীঘাটা এলাকার আশরাফুল মাদারিস কম্পাউন্ডে অবস্থিত মসজিদটিতে প্রথম রমজান থেকেই নফল ইতিকাফে বসার জন্য বিপুলসংখ্যক মুসল্লি আসতে শুরু করেন। শেষ দশকের ২৫ রমজান পর্যন্ত মুসল্লির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৭ জনে। এদের মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার, সিঙ্গাপুর, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র ও পানামার ৮২ জন মুসল্লিও রয়েছেন।

রোববার (১৫ মার্চ) সরেজমিনে দেখা গেছে, চারতলা মসজিদ কম্পাউন্ড। ভবনের দ্বিতীয় তলায় ইতেকাফে বসেছেন শায়খ ইব্রাহিম আফ্রিকিসহ বিদেশি মুসল্লিরা। প্রথম, তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত মুসল্লিরা অবস্থান করছেন। পার্শ্ববর্তী আরেক চার তলা ভবনে অবস্থান করছেন নফল ইবাদতকারীরা। সকাল ১০টার দিকে নসিয়ত শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবাই মসজিদে এসে অংশ নিচ্ছেন।

রান্নাঘরে দেখা মিলেছে কর্মব্যস্ততা। গ্রুপ করে পেঁয়াজ, আলু, লাউসহ বিভিন্ন সবজি কাটাকাটি চলছে। একপাশে বড় কড়াইয়ে বেগুনি ভাজছেন দুজন। এর পূর্বপাশে আরেকটি গ্রুপ আলুর চপ বানাচ্ছেন। এরপাশে মুরগি কাটছেন তিনজন।

আশরাফুল মাদারিসের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, শায়খুল হাদিস মাহমুদুল হাসান গাঙ্গুহি (রহ.)-এর সিলসিলার অনুসারীরাই মূলত এখানে ইতিকাফে অংশ নেন। বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক শায়খ ইব্রাহিম আফ্রিকি এই সিলসিলার অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব। তিনি যেখানে যান, দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা তার অনুসারীরাও তার সান্নিধ্য লাভের জন্য সেখানে ছুটে যান।

তিনি আরও জানান, এবার শায়খ ইব্রাহিম আফ্রিকি যশোরের আশরাফুল মাদারিস প্রাঙ্গণের মসজিদে অবস্থান করছেন। সে কারণে দেশ-বিদেশে থাকা তার অনুসারীরাও এখানে এসে ইতিকাফে অংশ নিয়েছেন। ইতিকাফ চলাকালে নামাজের আগে শায়খ ইব্রাহিম আফ্রিকিসহ দেশ-বিদেশের প্রখ্যাত আলেমরা নসিহত পেশ করছেন। ভিন্ন ভাষায় দেওয়া নসিহত বাংলায় অনুবাদ করেও মুসল্লিদের শোনানো হচ্ছে।

রান্নায় নিয়োজিত শিক্ষক হাসান ইমাম জানান, ইতিকাফে অংশ নেওয়া বিপুলসংখ্যক মুসল্লির ইফতার, রাতের খাবার ও সেহরির আয়োজন করা হচ্ছে আশরাফুল মাদারিস কম্পাউন্ডেই। বিদেশি মুসল্লিদের অনেকেই বাংলাদেশি খাবারে পুরোপুরি অভ্যস্ত নন। তাই তাদের খাদ্যাভ্যাসের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আলাদা খাবারের ব্যবস্থাও করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মসজিদটির পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আশরাফুল মাদারিসের মহাপরিচালক মাওলানা নাসীরুল্লাহ বলেন, ২০২৩ সাল থেকে এখানে বড় পরিসরে ইতিকাফের আয়োজন করা হচ্ছে। তবে এবার আরও বড় পরিসরে ইতিকাফের আয়োজন করা হয়েছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সেমির টিকেটে চোখ, মরক্কোর প্রতিশোধ নাকি ফরাসি উত্তাপ?

যশোরে আশরাফুল মাদারিসে একসঙ্গে ইতেকাফে ১৭০০ মুসল্লি

আপডেট সময় ০৯:০৫:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

কেউ কোরআন পড়ছেন, কেউ শুনছেন। সারারাত আমল করে কেউ বিশ্রাম নিচ্ছেন। এর মধ্যে আবার অনেকে গ্রুপ করে হাদিসের তালিম শুনছেন। সকাল ১০টা থেকে শুরু হয় নসিয়ত। সেখানে নফল ইবাদতকারীদের একাংশ এসে অংশ নিচ্ছেন। এ চিত্র যশোর সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের সতীঘাটা এলাকার আশরাফুল মাদারিসের। এখানে দেশি-বিদেশি প্রায় ১৭০০ মুসল্লি একসঙ্গে ইতেকাফে বসেছেন। যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন শায়খ ইব্রাহিম আফ্রিকি। যাকে সকলে মুরব্বি হিসেবে সম্বোধন করছেন।

শুধু তাই নয়, এতো সংখ্যক মুসল্লির সেবা-যত্নে খাদেম হিসেবে শিক্ষক-ছাত্রের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে ৬০০ জনের টিম। তাদের মাধ্যমে বিনামূল্যে ইফতার, সেহরি থেকে সকল কিছু সরবরাহ করা হচ্ছে মাদরাসার পক্ষ থেকেই।

এদিকে একসঙ্গে এত সংখ্যক মুসল্লি ইতিকাফে বসায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলার ১৫৯৫ মুসল্লির পাশাপাশি আটটি দেশের ৮২ জন বিদেশি মুসল্লি রয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, সতীঘাটা এলাকার আশরাফুল মাদারিস কম্পাউন্ডে অবস্থিত মসজিদটিতে প্রথম রমজান থেকেই নফল ইতিকাফে বসার জন্য বিপুলসংখ্যক মুসল্লি আসতে শুরু করেন। শেষ দশকের ২৫ রমজান পর্যন্ত মুসল্লির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৭ জনে। এদের মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার, সিঙ্গাপুর, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র ও পানামার ৮২ জন মুসল্লিও রয়েছেন।

রোববার (১৫ মার্চ) সরেজমিনে দেখা গেছে, চারতলা মসজিদ কম্পাউন্ড। ভবনের দ্বিতীয় তলায় ইতেকাফে বসেছেন শায়খ ইব্রাহিম আফ্রিকিসহ বিদেশি মুসল্লিরা। প্রথম, তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত মুসল্লিরা অবস্থান করছেন। পার্শ্ববর্তী আরেক চার তলা ভবনে অবস্থান করছেন নফল ইবাদতকারীরা। সকাল ১০টার দিকে নসিয়ত শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবাই মসজিদে এসে অংশ নিচ্ছেন।

রান্নাঘরে দেখা মিলেছে কর্মব্যস্ততা। গ্রুপ করে পেঁয়াজ, আলু, লাউসহ বিভিন্ন সবজি কাটাকাটি চলছে। একপাশে বড় কড়াইয়ে বেগুনি ভাজছেন দুজন। এর পূর্বপাশে আরেকটি গ্রুপ আলুর চপ বানাচ্ছেন। এরপাশে মুরগি কাটছেন তিনজন।

আশরাফুল মাদারিসের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, শায়খুল হাদিস মাহমুদুল হাসান গাঙ্গুহি (রহ.)-এর সিলসিলার অনুসারীরাই মূলত এখানে ইতিকাফে অংশ নেন। বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক শায়খ ইব্রাহিম আফ্রিকি এই সিলসিলার অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব। তিনি যেখানে যান, দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা তার অনুসারীরাও তার সান্নিধ্য লাভের জন্য সেখানে ছুটে যান।

তিনি আরও জানান, এবার শায়খ ইব্রাহিম আফ্রিকি যশোরের আশরাফুল মাদারিস প্রাঙ্গণের মসজিদে অবস্থান করছেন। সে কারণে দেশ-বিদেশে থাকা তার অনুসারীরাও এখানে এসে ইতিকাফে অংশ নিয়েছেন। ইতিকাফ চলাকালে নামাজের আগে শায়খ ইব্রাহিম আফ্রিকিসহ দেশ-বিদেশের প্রখ্যাত আলেমরা নসিহত পেশ করছেন। ভিন্ন ভাষায় দেওয়া নসিহত বাংলায় অনুবাদ করেও মুসল্লিদের শোনানো হচ্ছে।

রান্নায় নিয়োজিত শিক্ষক হাসান ইমাম জানান, ইতিকাফে অংশ নেওয়া বিপুলসংখ্যক মুসল্লির ইফতার, রাতের খাবার ও সেহরির আয়োজন করা হচ্ছে আশরাফুল মাদারিস কম্পাউন্ডেই। বিদেশি মুসল্লিদের অনেকেই বাংলাদেশি খাবারে পুরোপুরি অভ্যস্ত নন। তাই তাদের খাদ্যাভ্যাসের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আলাদা খাবারের ব্যবস্থাও করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মসজিদটির পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আশরাফুল মাদারিসের মহাপরিচালক মাওলানা নাসীরুল্লাহ বলেন, ২০২৩ সাল থেকে এখানে বড় পরিসরে ইতিকাফের আয়োজন করা হচ্ছে। তবে এবার আরও বড় পরিসরে ইতিকাফের আয়োজন করা হয়েছে।