ঢাকা ০৭:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাল্টা আ’ক্র’ম’ণে ইরান : বাহরাইন-কুয়েতে অবস্থিত ৮৫ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে এখন বড় ধরনের সংঘাত শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার জবাবে এবার পাল্টা আঘাত হেনেছে ইরান। বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় একযোগে বিশাল হামলা চালিয়েছে তারা।

ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের নৌ এবং বিমান বাহিনী যৌথভাবে এই অপারেশন চালিয়েছে। এই হামলায় প্রচুর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। আইআরজিসি বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি এবং কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমান ঘাঁটিতে সুনির্দিষ্ট আঘাত হানার দাবি করেছে।

ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি তাদের ‘প্রাথমিক জবাব’। এর আগে ইরানের হরমুজগন ও মাহশাহর এলাকার উপকূলীয় ঘাঁটি এবং বেসামরিক স্টেশনে বিমান হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ইরান এই হামলাকে যুদ্ধবিরতি ও ইসলামাবাদ চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। এছাড়া ইরানের প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজার ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানকে আড়াল করতেই ওয়াশিংটন এই সময়টি বেছে নিয়েছে বলে দাবি আইআরজিসির।

এদিকে ইরানের বুশেহর প্রদেশের খোরমুজ এলাকার আকাশে একটি অত্যাধুনিক মার্কিন ‘এমকিউ-৯’ ড্রোন গুলি করে নামানোর দাবি করেছে ইরান। আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেন মহবি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমা লঙ্ঘনের জবাবেই ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়।

মার্কিন নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হার্লান উলম্যান আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি খুবই আশঙ্কাজনক। যেকোনো সময় এটি পুরো অঞ্চলে একটি বড় যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। তবে একটি বড় আঞ্চলিক যুদ্ধ কোনো পক্ষের জন্যই ভালো হবে না। তাই পরিস্থিতি শান্ত রাখা দুই দেশের স্বার্থেরই অনুকূল।

উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন দুই দেশ যুদ্ধ বন্ধের চুক্তিতে সই করেছিল। কিন্তু মাত্র ২০ দিনের মাথায় হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার ইরানে প্রথম হামলা চালায় আমেরিকা। সেই হামলার পরই ইরান এই ভয়াবহ পাল্টা জবাব দিল।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাল্টা আ’ক্র’ম’ণে ইরান : বাহরাইন-কুয়েতে অবস্থিত ৮৫ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা

আপডেট সময় ১১:৩৬:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে এখন বড় ধরনের সংঘাত শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার জবাবে এবার পাল্টা আঘাত হেনেছে ইরান। বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় একযোগে বিশাল হামলা চালিয়েছে তারা।

ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের নৌ এবং বিমান বাহিনী যৌথভাবে এই অপারেশন চালিয়েছে। এই হামলায় প্রচুর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। আইআরজিসি বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি এবং কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমান ঘাঁটিতে সুনির্দিষ্ট আঘাত হানার দাবি করেছে।

ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি তাদের ‘প্রাথমিক জবাব’। এর আগে ইরানের হরমুজগন ও মাহশাহর এলাকার উপকূলীয় ঘাঁটি এবং বেসামরিক স্টেশনে বিমান হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ইরান এই হামলাকে যুদ্ধবিরতি ও ইসলামাবাদ চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। এছাড়া ইরানের প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজার ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানকে আড়াল করতেই ওয়াশিংটন এই সময়টি বেছে নিয়েছে বলে দাবি আইআরজিসির।

এদিকে ইরানের বুশেহর প্রদেশের খোরমুজ এলাকার আকাশে একটি অত্যাধুনিক মার্কিন ‘এমকিউ-৯’ ড্রোন গুলি করে নামানোর দাবি করেছে ইরান। আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেন মহবি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমা লঙ্ঘনের জবাবেই ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়।

মার্কিন নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হার্লান উলম্যান আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি খুবই আশঙ্কাজনক। যেকোনো সময় এটি পুরো অঞ্চলে একটি বড় যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। তবে একটি বড় আঞ্চলিক যুদ্ধ কোনো পক্ষের জন্যই ভালো হবে না। তাই পরিস্থিতি শান্ত রাখা দুই দেশের স্বার্থেরই অনুকূল।

উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন দুই দেশ যুদ্ধ বন্ধের চুক্তিতে সই করেছিল। কিন্তু মাত্র ২০ দিনের মাথায় হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার ইরানে প্রথম হামলা চালায় আমেরিকা। সেই হামলার পরই ইরান এই ভয়াবহ পাল্টা জবাব দিল।