ঢাকা ০২:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকা পরিচ্ছন্ন করতে দল-মতহীন ঐক্য চান মির্জা ফখরুল বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা এমডি মুজিবুরের জনতা ব্যাংকে লুটপাট বরগুনার গৌরীচন্নায় প্রাথমিকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেলো তিন জমজ বোন মেরামতের নামে কোটি টাকা হরিলুটের অভিযোগ নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুলের বিরুদ্ধে কমলনগরে বিদ্যালয় নির্মানে রডের বদলে বাঁশ, ঘুষ খেয়ে বিল পাস করে মোজাহিদ রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে ১২০ কোটি টাকার ভুয়া সম্পদ, উধাও ব্যাংক তহবিল বেক্সিকোর শাইনপুকুরকে এলসি খোলার সুযোগ মদনে টিসিবির ডিলার নিয়োগে অনিয়ম চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তরুণদের যুদ্ধে পাঠাচ্ছে হক ইন্টারন্যাশনাল স্টেশন কর্মকর্তা নাজমুলের বিরুদ্ধে দরকষাকষি করে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

‘শাপলা কলি’ প্রতীকের পক্ষে কাজ করায় ইমামতি গেল খতিবের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপির নেতা সারজিস আলমের ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের পক্ষে কাজ করায় এক মসজিদের খতিবকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের কুচিয়ামোড় জামে মসজিদের। মসজিদের খতিবের নাম আব্দুল জব্বার। গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভের পরদিন, ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে তাকে দায়িত্ব পালন না করতে বলা হয় বলে দাবি খতিবের।

খতিব আব্দুর জব্বার বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পৃক্ত। সাম্প্রতিক নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে সারজিস আলমকে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে মনোনয়ন দেওয়ার পর দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার পক্ষে কাজ করেন। ২০০৮ সাল থেকে ২০২৬ সালের ১২ তারিখ পর্যন্ত আমি কুচিয়ামোড় জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। কোনো কারণ ছাড়াই আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, আমি জামায়াতে ইসলামী করি এবং শাপলা প্রতীকের পক্ষে নির্বাচন করেছি।

খতিব আরও বলেন, মুসল্লিদের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার জন্য কিছু সময় চাইলেও তাও দেওয়া হয়নি। আমি আশঙ্কায় আছি। বাজারে যেতে ভয় লাগছে। ১৩ তারিখ থেকে আমি বাসা থেকে বের হইনি। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সুবহান বলেন, আমরা চাই দেশে ইনসাফ কায়েম হোক, ইমাম-মুয়াজ্জিনেরা সত্য কথা বলতে পারুক। এখন যদি দল করার কারণে ইমামতি চলে যায়, এটা দুঃখজনক। আরেক বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন বলেন, দল করার কারণে ইমামকে বাদ দেওয়া ঠিক হয়নি। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আব্দুল হাকিম, যিনি আগে স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, ১৫ বছর ধরে উনি ইমামতি করছেন, আমাদের কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি নামাজের সময় দীর্ঘ বক্তব্য দিতেন এবং প্রকাশ্যে দলীয় কর্মকাণ্ড করতেন। আমরা বলেছি, ইমামতি করবেন দলীয় কার্যক্রম করবেন না।

আব্দুল হাকিমের দাবি, তাকে স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, শুক্রবার সকালে বলেছি, আজকে না আসতে। আমরা অন্য ইমাম দিয়ে দেখছি। উনাকে চূড়ান্তভাবে বাদ দেইনি। গ্রামের অনেক মুসল্লি তার দলীয় কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১২ তারিখের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী জয়ী হওয়ার পরদিনই ইমামকে দায়িত্বে না আসতে বলা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
মসজিদের সভাপতি আব্দুল হালিম বলেন, আমরা ব্যাপারটা নিয়ে বসছিলাম। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, রমজান মাসের পর তাকে বাদ দেব।

কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফায়েল প্রধান বলেন, এমন ঘটনা শুনেছি। ভোটের কারণে খতিবকে সরিয়ে দেয়াটা অবশ্যই অন্যায়। প্রকৃত ঘটনা জানতে আমি খোঁজ নেবো।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা পরিচ্ছন্ন করতে দল-মতহীন ঐক্য চান মির্জা ফখরুল

‘শাপলা কলি’ প্রতীকের পক্ষে কাজ করায় ইমামতি গেল খতিবের

আপডেট সময় ০৬:১৬:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপির নেতা সারজিস আলমের ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের পক্ষে কাজ করায় এক মসজিদের খতিবকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের কুচিয়ামোড় জামে মসজিদের। মসজিদের খতিবের নাম আব্দুল জব্বার। গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভের পরদিন, ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে তাকে দায়িত্ব পালন না করতে বলা হয় বলে দাবি খতিবের।

খতিব আব্দুর জব্বার বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পৃক্ত। সাম্প্রতিক নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে সারজিস আলমকে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে মনোনয়ন দেওয়ার পর দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার পক্ষে কাজ করেন। ২০০৮ সাল থেকে ২০২৬ সালের ১২ তারিখ পর্যন্ত আমি কুচিয়ামোড় জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। কোনো কারণ ছাড়াই আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, আমি জামায়াতে ইসলামী করি এবং শাপলা প্রতীকের পক্ষে নির্বাচন করেছি।

খতিব আরও বলেন, মুসল্লিদের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার জন্য কিছু সময় চাইলেও তাও দেওয়া হয়নি। আমি আশঙ্কায় আছি। বাজারে যেতে ভয় লাগছে। ১৩ তারিখ থেকে আমি বাসা থেকে বের হইনি। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সুবহান বলেন, আমরা চাই দেশে ইনসাফ কায়েম হোক, ইমাম-মুয়াজ্জিনেরা সত্য কথা বলতে পারুক। এখন যদি দল করার কারণে ইমামতি চলে যায়, এটা দুঃখজনক। আরেক বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন বলেন, দল করার কারণে ইমামকে বাদ দেওয়া ঠিক হয়নি। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আব্দুল হাকিম, যিনি আগে স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, ১৫ বছর ধরে উনি ইমামতি করছেন, আমাদের কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি নামাজের সময় দীর্ঘ বক্তব্য দিতেন এবং প্রকাশ্যে দলীয় কর্মকাণ্ড করতেন। আমরা বলেছি, ইমামতি করবেন দলীয় কার্যক্রম করবেন না।

আব্দুল হাকিমের দাবি, তাকে স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, শুক্রবার সকালে বলেছি, আজকে না আসতে। আমরা অন্য ইমাম দিয়ে দেখছি। উনাকে চূড়ান্তভাবে বাদ দেইনি। গ্রামের অনেক মুসল্লি তার দলীয় কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১২ তারিখের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী জয়ী হওয়ার পরদিনই ইমামকে দায়িত্বে না আসতে বলা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
মসজিদের সভাপতি আব্দুল হালিম বলেন, আমরা ব্যাপারটা নিয়ে বসছিলাম। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, রমজান মাসের পর তাকে বাদ দেব।

কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফায়েল প্রধান বলেন, এমন ঘটনা শুনেছি। ভোটের কারণে খতিবকে সরিয়ে দেয়াটা অবশ্যই অন্যায়। প্রকৃত ঘটনা জানতে আমি খোঁজ নেবো।