ঢাকা ০৩:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আত্রাইয়ের বান্দাইখাড়া বয়তুল্ল্যাহ সেতুর উত্তর পাশে ধস: যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা উত্তরা ব্যাংক কর্মকর্তা আরিফুল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তরার সড়কে শিক্ষার্থীরা আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করলেন পঞ্চগড়ের কৃতী সন্তান আব্দুল মালেক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্তির নয়ন মিয়ার প্রতিবাদ ঢাকা পরিচ্ছন্ন করতে দল-মতহীন ঐক্য চান মির্জা ফখরুল বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা এমডি মুজিবুরের জনতা ব্যাংকে লুটপাট বরগুনার গৌরীচন্নায় প্রাথমিকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেলো তিন জমজ বোন মেরামতের নামে কোটি টাকা হরিলুটের অভিযোগ নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুলের বিরুদ্ধে কমলনগরে বিদ্যালয় নির্মানে রডের বদলে বাঁশ, ঘুষ খেয়ে বিল পাস করে মোজাহিদ

বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা এমডি মুজিবুরের জনতা ব্যাংকে লুটপাট

বাইরে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট। প্রচলিত কথার মতো সরকারি জনতা ব্যাংকের কথা বলছি। বিগত সরকারে আমলে অর্থনীতি ধ্বংসের মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হয়েছে ব্যাংকিংখাত। সরকার পরিবর্তন হলেও সেই খাত টেনে তুলতে এখনো তারেক রহমানের সরকার রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছে। তেমনই জনতা ব্যাংকের কথা বলছি। বাইরে যেমন তেমন, ভেতরে দুর্নীতিতে সয়লাব! জনতা ব্যাংকের এমডি মো. মজিবুর রহমান ব্যাংকের উন্নতির জন্য রাতদিন খাটছেন। কিন্তু ভেতরের খবর হলো তার প্রতিটি ফাইল সই হওয়ার পেছনে লুকিয়ে থাকে কোটি টাকার কমিশন ও ঘুষের হিসাব। বদলি বাণিজ্য থেকে শুরু করে ঋণ পাইয়ে দেওয়া, সবখানেই তার চাই পার্সেন্টেজ।
৩ হাজার কোটিরও বেশি টাকা লোকসান করানো এই শীর্ষ কর্মকর্তার অনিয়ম আর অপরাধের বিষদাঁত এখনই যদি উপড়ে ফেলা না হয়, তবে জনতা ব্যাংককে দেউলিয়া হওয়া থেকে কেউ বাঁচাতে পারবে না এমনটাই জানান একাধিক কর্মকর্তারা।
‎ ‎১৯৬৯ সালে ময়মনসিংহের হাসাদিয়া গ্রামে জন্ম নেওয়া মজিবুর রহমান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিয়ে ব্যাংকিংয়ে এসেছিলেন। ১৯৯৮ সালে রূপালী ব্যাংকে যোগ দিয়েই জড়িয়ে পড়েন ‘বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ সংগঠন’-এর সাথে। দলীয় আনুগত্যের পুরস্কারস্বরূপ সবাইকে ডিঙিয়ে ডিজিএম থেকে সবার আগে জিএম বনে যান এবং ২০১৯ সালে ছিলেন রূপালী ব্যাংক বঙ্গবন্ধু পরিষদের ৪ নম্বর ক্রমিকে থাকা প্রতাপশালী উপদেষ্টা। একটা সময় নিজেকে ‘আওয়ামী লীগ পরিবারের লোক’ এবং ‘এস আলম’ গ্যাংয়ের বিশ্বস্ত অনুসারী হিসেবে পরিচয় দিতে সবচেয়ে বেশি গর্ববোধ করতেন। অথচ আজ ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের পর নিজের চেয়ার বাঁচাতে ও অপকর্ম ঢাকতে তিনি রাতারাতি ভোল পাল্টে এখন ভাঙাচ্ছেন বিএনপির নাম। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, আওয়ামী লীগের আমলে ক্ষমতা দেখিয়ে চলেছে আর এখন বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে চলছেন। তাকে দ্রুত সরকারে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
‎ব্যাংকপাড়ায় এখন প্রকাশ্য গুঞ্জন, বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করে প্রায় ৪৭ কোটি টাকা ঘুষের এক অবিশ্বাস্য চুক্তিতে মজিবুর এই জনতা ব্যাংকের এমডি পদটি হাসিল করেছিলেন। আর সেই চড়া লগ্নি সুদে-আসলে তুলতে তিনি এখন দেউলিয়া বানাতে বসেছেন দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই সরকারি ব্যাংকটিকে।
মজিবুর রহমানের চরম অদক্ষতা ও লাগামহীন দুর্নীতির কারণে জনতা ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণ সম্পদ না হয়ে আজ গলার ফাঁসে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত এ ব্যাংকের ৭০ শতাংশেরও বেশি ঋণ এখন খেলাপি। বিভিন্ন মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে লোকসানের পরিমাণ ছিল ৩০৬৬ কোটি টাকা, যা সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫ সালে সুদ খাতেই লোকসান দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার কোটির ওপরে! ফলে বছর শেষে জনতা ব্যাংকের লোকসান দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকায়।
‎এখানেই শেষ নয়, চূড়ান্ত নিরীক্ষা শেষে এই নিট লোকসান ৫ হাজার কোটি টাকা, খেলাপি ঋণ ৭০ হাজার কোটি এবং মূলধন ঘাটতি ৬৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার ভয়াবহ পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। মুনাফা তো দূরের কথা, ১০-১২ শতাংশ চড়া সুদে আনা সাধারণ মানুষের আমানত থেকেই এখন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করছে ব্যাংকটি।
‎একজন এমডি কতটা মরিয়া হলে গ্রাহককে ওপেন ব্ল্যাকমেইল করতে পারেন, তার প্রমাণ ‘ওরিয়ান ফার্মা’। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এই স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানটিকে ২ কোটি ৪১ লক্ষ টাকার একটি ফায়ার ইনসিওরেন্স প্রজেক্ট জোরপূর্বক মজিবুরের এক আত্মীয়ের ‘ইউনিয়ন ইনসুরেন্স’-কে দিতে বাধ্য করা হয়। ওরিয়ান অনিচ্ছা সত্ত্বেও এমডির হুমকিতে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ডেবিটের চিঠি দিতে বাধ্য হয়েছিল। আর এই এক ডিল থেকেই মজিবুর একাই পকেটে পুরেছেন ১ কোটি ৯ লাখ টাকার নগদ কমিশন! বাকি বকশিশ ভাগ করে নিয়েছেন তার অন্ধ সহযোগী ৪৮ মতিঝিল শাখার দুর্নীতিগ্রস্ত ডিজিএম সোবাহান এবং এমডির সেই আত্মীয়।
‎আর্থিক এই বিপর্যয়ের মধ্যেও জনতা ব্যাংকে বিন্দুমাত্র সুশাসন ফেরেনি। গত ৭ ডিসেম্বর তড়িঘড়ি করে ২৬ জন কর্মকর্তাকে ডিজিএম পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। সহকারী মহাব্যবস্থাপক থেকে এই পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রতি জন থেকে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা করে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ এখন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) টেবিলে জমা পড়েছে। ফিল্ড পর্যায়ের অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের কোনো মূল্যায়ন না করে, কোটি টাকার ঘুষের বিনিময়ে অদক্ষদের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার ও পোস্টিং দেওয়া হচ্ছে। আর এই পুরো বদলি বাণিজ্যের ক্যাশিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন স্বয়ং এমডি মজিবুরের আপন ভায়রা ভাই! হয়রানিমূলক বদলির হাত থেকে বাঁচতে সৎ কর্মকর্তারা এখন নিজেদের জমানো টাকা ঘুষ দিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করছেন।
‎বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নীতি সহায়তা পাওয়া সৎ গ্রাহকদের পুন:তফশিল দিতে মজিবুর গড়িমসি করছেন ঘুষের আশায়। বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি ও ব্যাংকিং সেক্টরকে লাভজনক করার রূপরেখার সামনে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় বাধা জনতা ব্যাংকের এমডি মজিবুর রহমান। ৪৭ কোটির মিশন, বদলি বাণিজ্য ও ইন্সুরেন্স কেলেঙ্কারির আরও গভীর, অকাট্য এবং মারাত্মক কিছু নথিপত্র নিয়ে আসছে ২য় পর্ব।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আত্রাইয়ের বান্দাইখাড়া বয়তুল্ল্যাহ সেতুর উত্তর পাশে ধস: যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা

বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা এমডি মুজিবুরের জনতা ব্যাংকে লুটপাট

আপডেট সময় ০২:০০:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

বাইরে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট। প্রচলিত কথার মতো সরকারি জনতা ব্যাংকের কথা বলছি। বিগত সরকারে আমলে অর্থনীতি ধ্বংসের মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হয়েছে ব্যাংকিংখাত। সরকার পরিবর্তন হলেও সেই খাত টেনে তুলতে এখনো তারেক রহমানের সরকার রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছে। তেমনই জনতা ব্যাংকের কথা বলছি। বাইরে যেমন তেমন, ভেতরে দুর্নীতিতে সয়লাব! জনতা ব্যাংকের এমডি মো. মজিবুর রহমান ব্যাংকের উন্নতির জন্য রাতদিন খাটছেন। কিন্তু ভেতরের খবর হলো তার প্রতিটি ফাইল সই হওয়ার পেছনে লুকিয়ে থাকে কোটি টাকার কমিশন ও ঘুষের হিসাব। বদলি বাণিজ্য থেকে শুরু করে ঋণ পাইয়ে দেওয়া, সবখানেই তার চাই পার্সেন্টেজ।
৩ হাজার কোটিরও বেশি টাকা লোকসান করানো এই শীর্ষ কর্মকর্তার অনিয়ম আর অপরাধের বিষদাঁত এখনই যদি উপড়ে ফেলা না হয়, তবে জনতা ব্যাংককে দেউলিয়া হওয়া থেকে কেউ বাঁচাতে পারবে না এমনটাই জানান একাধিক কর্মকর্তারা।
‎ ‎১৯৬৯ সালে ময়মনসিংহের হাসাদিয়া গ্রামে জন্ম নেওয়া মজিবুর রহমান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিয়ে ব্যাংকিংয়ে এসেছিলেন। ১৯৯৮ সালে রূপালী ব্যাংকে যোগ দিয়েই জড়িয়ে পড়েন ‘বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ সংগঠন’-এর সাথে। দলীয় আনুগত্যের পুরস্কারস্বরূপ সবাইকে ডিঙিয়ে ডিজিএম থেকে সবার আগে জিএম বনে যান এবং ২০১৯ সালে ছিলেন রূপালী ব্যাংক বঙ্গবন্ধু পরিষদের ৪ নম্বর ক্রমিকে থাকা প্রতাপশালী উপদেষ্টা। একটা সময় নিজেকে ‘আওয়ামী লীগ পরিবারের লোক’ এবং ‘এস আলম’ গ্যাংয়ের বিশ্বস্ত অনুসারী হিসেবে পরিচয় দিতে সবচেয়ে বেশি গর্ববোধ করতেন। অথচ আজ ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের পর নিজের চেয়ার বাঁচাতে ও অপকর্ম ঢাকতে তিনি রাতারাতি ভোল পাল্টে এখন ভাঙাচ্ছেন বিএনপির নাম। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, আওয়ামী লীগের আমলে ক্ষমতা দেখিয়ে চলেছে আর এখন বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে চলছেন। তাকে দ্রুত সরকারে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
‎ব্যাংকপাড়ায় এখন প্রকাশ্য গুঞ্জন, বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করে প্রায় ৪৭ কোটি টাকা ঘুষের এক অবিশ্বাস্য চুক্তিতে মজিবুর এই জনতা ব্যাংকের এমডি পদটি হাসিল করেছিলেন। আর সেই চড়া লগ্নি সুদে-আসলে তুলতে তিনি এখন দেউলিয়া বানাতে বসেছেন দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই সরকারি ব্যাংকটিকে।
মজিবুর রহমানের চরম অদক্ষতা ও লাগামহীন দুর্নীতির কারণে জনতা ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণ সম্পদ না হয়ে আজ গলার ফাঁসে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত এ ব্যাংকের ৭০ শতাংশেরও বেশি ঋণ এখন খেলাপি। বিভিন্ন মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে লোকসানের পরিমাণ ছিল ৩০৬৬ কোটি টাকা, যা সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫ সালে সুদ খাতেই লোকসান দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার কোটির ওপরে! ফলে বছর শেষে জনতা ব্যাংকের লোকসান দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকায়।
‎এখানেই শেষ নয়, চূড়ান্ত নিরীক্ষা শেষে এই নিট লোকসান ৫ হাজার কোটি টাকা, খেলাপি ঋণ ৭০ হাজার কোটি এবং মূলধন ঘাটতি ৬৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার ভয়াবহ পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। মুনাফা তো দূরের কথা, ১০-১২ শতাংশ চড়া সুদে আনা সাধারণ মানুষের আমানত থেকেই এখন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করছে ব্যাংকটি।
‎একজন এমডি কতটা মরিয়া হলে গ্রাহককে ওপেন ব্ল্যাকমেইল করতে পারেন, তার প্রমাণ ‘ওরিয়ান ফার্মা’। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এই স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানটিকে ২ কোটি ৪১ লক্ষ টাকার একটি ফায়ার ইনসিওরেন্স প্রজেক্ট জোরপূর্বক মজিবুরের এক আত্মীয়ের ‘ইউনিয়ন ইনসুরেন্স’-কে দিতে বাধ্য করা হয়। ওরিয়ান অনিচ্ছা সত্ত্বেও এমডির হুমকিতে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ডেবিটের চিঠি দিতে বাধ্য হয়েছিল। আর এই এক ডিল থেকেই মজিবুর একাই পকেটে পুরেছেন ১ কোটি ৯ লাখ টাকার নগদ কমিশন! বাকি বকশিশ ভাগ করে নিয়েছেন তার অন্ধ সহযোগী ৪৮ মতিঝিল শাখার দুর্নীতিগ্রস্ত ডিজিএম সোবাহান এবং এমডির সেই আত্মীয়।
‎আর্থিক এই বিপর্যয়ের মধ্যেও জনতা ব্যাংকে বিন্দুমাত্র সুশাসন ফেরেনি। গত ৭ ডিসেম্বর তড়িঘড়ি করে ২৬ জন কর্মকর্তাকে ডিজিএম পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। সহকারী মহাব্যবস্থাপক থেকে এই পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রতি জন থেকে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা করে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ এখন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) টেবিলে জমা পড়েছে। ফিল্ড পর্যায়ের অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের কোনো মূল্যায়ন না করে, কোটি টাকার ঘুষের বিনিময়ে অদক্ষদের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার ও পোস্টিং দেওয়া হচ্ছে। আর এই পুরো বদলি বাণিজ্যের ক্যাশিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন স্বয়ং এমডি মজিবুরের আপন ভায়রা ভাই! হয়রানিমূলক বদলির হাত থেকে বাঁচতে সৎ কর্মকর্তারা এখন নিজেদের জমানো টাকা ঘুষ দিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করছেন।
‎বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নীতি সহায়তা পাওয়া সৎ গ্রাহকদের পুন:তফশিল দিতে মজিবুর গড়িমসি করছেন ঘুষের আশায়। বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি ও ব্যাংকিং সেক্টরকে লাভজনক করার রূপরেখার সামনে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় বাধা জনতা ব্যাংকের এমডি মজিবুর রহমান। ৪৭ কোটির মিশন, বদলি বাণিজ্য ও ইন্সুরেন্স কেলেঙ্কারির আরও গভীর, অকাট্য এবং মারাত্মক কিছু নথিপত্র নিয়ে আসছে ২য় পর্ব।