ঢাকা ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নিখোঁজের একদিন পর পায়রা নদীতে মিলল জুঁইয়ের মরদেহ আমিরাতে বাংলাদেশিদের ভিসা বাতিলের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সরকার: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী শেখ মুজিবকে নিয়ে পোস্ট দেওয়ায় কলেজ শিক্ষক বরখাস্ত মাদক ব্যবসার অভিযোগে দারাজের বিরুদ্ধে মামলা নারকোটিক্সের সার্কে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায় বাংলাদেশ মামলা প্রত্যাহার না করলে মিলবে না নীতি সহায়তা জ্বালানি সংকট দূর করতে নেওয়া হচ্ছে তিন পরিকল্পনা: সেতুমন্ত্রী এসএসসি-এইচএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়নে আসছে নতুন নীতিমালা বড়পুকুরিয়ায় কয়লাখনির ১৬৮ শ্রমিককে পুনর্বহালের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন সাবেক আইজিপি বেনজীরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ পেছাল

উত্তরা ব্যাংক কর্মকর্তা আরিফুল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে এই স্লোগানকে সামনে রেখে কুমিল্লায় উত্তরা ব্যাংক কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে ব্যাংকার্স ফোরাম কুমিল্লা এবং উত্তরা ব্যাংক শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন (সিবিএ), কুমিল্লা অঞ্চল।এতে জেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কর্মস্থলের দায়িত্ব পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে একজন ব্যাংক কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে হত্যা করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনায় শুধু একটি পরিবার নয়, গোটা ব্যাংকিং খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তারা অবিলম্বে প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বক্তারা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর শাখায় কর্মরত উত্তরা ব্যাংক পিএলসির প্রিন্সিপাল অফিসার আরিফুল ইসলাম গত ৬ জুলাই অফিসের কার্যক্রম শেষ করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে গোপীনাথপুর হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে মাদকাসক্ত ও কথিত মাদক ব্যবসায়ী আলী নামের এক ব্যক্তি তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি মারা যান।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন উত্তরা ব্যাংক কুমিল্লা জোনের আঞ্চলিক প্রধান এম এম আব্দুস সামাদ, কুমিল্লা শাখার ব্যবস্থাপক আবুল খায়ের, উত্তরা ব্যাংক সিবিএ কুমিল্লা অঞ্চলের সভাপতি মো. জাকির হোসেন, সিবিএ নেতা মোঃ সোহেল মিয়া,মোঃ সাইফুল ইসলাম, সোনালী ব্যাংক সিবিএর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান, উত্তরা ব্যাংকের মোজাফফরগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মো. আমিনুল ইসলাম, চান্দিনা শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইয়াসিন রহমান, যমুনা ব্যাংক চকবাজার শাখার ব্যবস্থাপক সোলেমান খান, বাখরাবাদ শাখার ব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিন চৌধুরী, লাকসাম শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ গোলাম মহিউদ্দিন, রাজগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক এ কে এম জিয়াউল হক, কুমিল্লা বাঁচাও মঞ্চের সদস্য সচিব মো. নাসির উদ্দিন, শ্রমিক দল কুমিল্লা মহানগর শাখার সভাপতি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, রূপালী ব্যাংক সিবিএ সভাপতি মেহেদী হাসান, ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা এম এ মাসুদ, উত্তরা ব্যাংক সিবিএ নেতা হারুনুর রশিদসহ অন্যরা।

সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, আরিফুল ইসলাম ছিলেন একজন সৎ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল ব্যাংক কর্মকর্তা। তার হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ব্যাংকারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

এ ছাড়া জেলার প্রায় ২০টি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, সিবিএ নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিখোঁজের একদিন পর পায়রা নদীতে মিলল জুঁইয়ের মরদেহ

উত্তরা ব্যাংক কর্মকর্তা আরিফুল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

আপডেট সময় ০২:৫১:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে এই স্লোগানকে সামনে রেখে কুমিল্লায় উত্তরা ব্যাংক কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে ব্যাংকার্স ফোরাম কুমিল্লা এবং উত্তরা ব্যাংক শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন (সিবিএ), কুমিল্লা অঞ্চল।এতে জেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কর্মস্থলের দায়িত্ব পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে একজন ব্যাংক কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে হত্যা করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনায় শুধু একটি পরিবার নয়, গোটা ব্যাংকিং খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তারা অবিলম্বে প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বক্তারা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর শাখায় কর্মরত উত্তরা ব্যাংক পিএলসির প্রিন্সিপাল অফিসার আরিফুল ইসলাম গত ৬ জুলাই অফিসের কার্যক্রম শেষ করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে গোপীনাথপুর হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে মাদকাসক্ত ও কথিত মাদক ব্যবসায়ী আলী নামের এক ব্যক্তি তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি মারা যান।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন উত্তরা ব্যাংক কুমিল্লা জোনের আঞ্চলিক প্রধান এম এম আব্দুস সামাদ, কুমিল্লা শাখার ব্যবস্থাপক আবুল খায়ের, উত্তরা ব্যাংক সিবিএ কুমিল্লা অঞ্চলের সভাপতি মো. জাকির হোসেন, সিবিএ নেতা মোঃ সোহেল মিয়া,মোঃ সাইফুল ইসলাম, সোনালী ব্যাংক সিবিএর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান, উত্তরা ব্যাংকের মোজাফফরগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মো. আমিনুল ইসলাম, চান্দিনা শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইয়াসিন রহমান, যমুনা ব্যাংক চকবাজার শাখার ব্যবস্থাপক সোলেমান খান, বাখরাবাদ শাখার ব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিন চৌধুরী, লাকসাম শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ গোলাম মহিউদ্দিন, রাজগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক এ কে এম জিয়াউল হক, কুমিল্লা বাঁচাও মঞ্চের সদস্য সচিব মো. নাসির উদ্দিন, শ্রমিক দল কুমিল্লা মহানগর শাখার সভাপতি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, রূপালী ব্যাংক সিবিএ সভাপতি মেহেদী হাসান, ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা এম এ মাসুদ, উত্তরা ব্যাংক সিবিএ নেতা হারুনুর রশিদসহ অন্যরা।

সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, আরিফুল ইসলাম ছিলেন একজন সৎ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল ব্যাংক কর্মকর্তা। তার হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ব্যাংকারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

এ ছাড়া জেলার প্রায় ২০টি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, সিবিএ নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেন।