ঢাকা ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প কেন্দ্রীয় চুক্তিতে যে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ভারত পিএসএলে নিরাপত্তা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগ, যা বলছে পিসিবি যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী পাটুরিয়ায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়, পারাপারে চলছে ১৮টি লঞ্চ চট্টগ্রামে ডিসির নির্দেশে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ মন্ত্রী-এমপিরা কে কোথায় ঈদ করবেন? ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শরীয়তপুর জেলা বি এন পি সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর থানা বি এন পির আহ্বায়ক এস এম এ হামিদ ঈশ্বরদী থেকে এলো উদ্ধারকারী ট্রেন, সৈয়দপুর থেকে আসছে আরেকটি রূহানীনগর এর পক্ষ থেকে সম্মানিত ইমাম-মুয়াজ্জিনগণকে  হাদিয়া প্রদান

অকারণে হঠাৎ কান্না কেন উপকারী, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:০৬:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫৪২ বার পড়া হয়েছে

অনেকেই কখনো না কখনো অকারণে কেঁদে ফেলেন। নিজের ঘরে বসে থাকা অবস্থায় জেকে বসে অবসাদ, নিঃশব্দে আসে কান্না। এই অভিজ্ঞতাকে অনেকে দুর্বলতা ভাবলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শরীর ও মনের জন্য স্বাভাবিক এবং উপকারী একটি প্রতিক্রিয়া। গবেষণায় দেখা গেছে, মন খুলে কান্না করলে মানসিক চাপ কমে এবং স্নায়ুর কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়।

সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় জনপ্রিয় হরমোন কোচ পূর্ণিমা পেরি জানান, অকারণে কান্না আসলে শরীরের বুদ্ধিদীপ্ত আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার অংশ।

তিনি বলেন, ‘কান্না দুর্বলতার প্রকাশ নয় বরং এটি শরীরের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার একটি স্বাভাবিক উপায়।’

পূর্ণিমা পেরির ব্যাখ্যায়, কান্না শরীরের প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম সক্রিয় করে, যা শরীরকে শান্ত অবস্থায় ফিরিয়ে আনে। যখন শরীরে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, তখন শরীর তা কমানোর পথ খোঁজে।

কান্না সেই প্রক্রিয়ারই একটি অংশ, যা মানুষকে ‘ফাইট-অর-ফ্লাইট’ মানসিকতা থেকে বের করে আনে।
অতিরিক্ত চাপ, মানসিক ক্লান্তি বা উদ্বেগের সময় কান্না এলে তা শরীর থেকে মানসিক চাপ বের করে দিতে সাহায্য করে। ফলে কান্নার পর অনেকেই হালকা ও স্বস্তি অনুভব করেন।

ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কান্নার পর মনে হতে পারে যেন বুকের ওপর থেকে ভারী বোঝা সরে গেছে।

কান্না জমে থাকা নেতিবাচক আবেগ তৈরি করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কান্না স্নায়ুকে নিরাপত্তার সংকেত দেয়। মানুষ সাধারণত নিরাপদ পরিবেশেই আবেগ প্রকাশ করে। তাই যখন কেউ বিশ্বাসযোগ্য মানুষদের সামনে বা ব্যক্তিগত জায়গায় কান্না করেন, তখন শরীর আর সতর্ক অবস্থায় থাকে না বরং স্বস্তির অনুভূতি তৈরি হয়।

পূর্ণিমা পেরির মতে, অব্যক্ত আবেগ বুক, গলা ও মাথায় চাপ সৃষ্টি করে।

কান্নার মাধ্যমে এই ভেতরের চাপ মুক্ত হয়। ফলে মানসিক ও শারীরিকভাবে হালকা অনুভূত হয়।
ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক আরো জানায়, তীব্র মানসিক যন্ত্রণা বা হতাশার সময় কান্না আসা স্বাভাবিক। কান্না শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি অনেক সময় স্পষ্ট মনে হয় এবং আবেগগুলোকে সামলানো সহজ হয়।

হরমোন কোচ পূর্ণিমা পেরি সতর্ক করে বলেন, আবেগ দীর্ঘদিন চেপে রাখলে শরীরে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়।

তিনি জানান, ‘আপনি যদি ইদানীং বেশি কাঁদছেন, তার মানে শরীর ভেঙে পড়ছে না বরং নিজের স্বাভাবিক ভারসাম্যে ফিরতে চাইছে।’

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প

অকারণে হঠাৎ কান্না কেন উপকারী, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

আপডেট সময় ০২:০৬:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অনেকেই কখনো না কখনো অকারণে কেঁদে ফেলেন। নিজের ঘরে বসে থাকা অবস্থায় জেকে বসে অবসাদ, নিঃশব্দে আসে কান্না। এই অভিজ্ঞতাকে অনেকে দুর্বলতা ভাবলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শরীর ও মনের জন্য স্বাভাবিক এবং উপকারী একটি প্রতিক্রিয়া। গবেষণায় দেখা গেছে, মন খুলে কান্না করলে মানসিক চাপ কমে এবং স্নায়ুর কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়।

সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় জনপ্রিয় হরমোন কোচ পূর্ণিমা পেরি জানান, অকারণে কান্না আসলে শরীরের বুদ্ধিদীপ্ত আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার অংশ।

তিনি বলেন, ‘কান্না দুর্বলতার প্রকাশ নয় বরং এটি শরীরের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার একটি স্বাভাবিক উপায়।’

পূর্ণিমা পেরির ব্যাখ্যায়, কান্না শরীরের প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম সক্রিয় করে, যা শরীরকে শান্ত অবস্থায় ফিরিয়ে আনে। যখন শরীরে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, তখন শরীর তা কমানোর পথ খোঁজে।

কান্না সেই প্রক্রিয়ারই একটি অংশ, যা মানুষকে ‘ফাইট-অর-ফ্লাইট’ মানসিকতা থেকে বের করে আনে।
অতিরিক্ত চাপ, মানসিক ক্লান্তি বা উদ্বেগের সময় কান্না এলে তা শরীর থেকে মানসিক চাপ বের করে দিতে সাহায্য করে। ফলে কান্নার পর অনেকেই হালকা ও স্বস্তি অনুভব করেন।

ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কান্নার পর মনে হতে পারে যেন বুকের ওপর থেকে ভারী বোঝা সরে গেছে।

কান্না জমে থাকা নেতিবাচক আবেগ তৈরি করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কান্না স্নায়ুকে নিরাপত্তার সংকেত দেয়। মানুষ সাধারণত নিরাপদ পরিবেশেই আবেগ প্রকাশ করে। তাই যখন কেউ বিশ্বাসযোগ্য মানুষদের সামনে বা ব্যক্তিগত জায়গায় কান্না করেন, তখন শরীর আর সতর্ক অবস্থায় থাকে না বরং স্বস্তির অনুভূতি তৈরি হয়।

পূর্ণিমা পেরির মতে, অব্যক্ত আবেগ বুক, গলা ও মাথায় চাপ সৃষ্টি করে।

কান্নার মাধ্যমে এই ভেতরের চাপ মুক্ত হয়। ফলে মানসিক ও শারীরিকভাবে হালকা অনুভূত হয়।
ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক আরো জানায়, তীব্র মানসিক যন্ত্রণা বা হতাশার সময় কান্না আসা স্বাভাবিক। কান্না শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি অনেক সময় স্পষ্ট মনে হয় এবং আবেগগুলোকে সামলানো সহজ হয়।

হরমোন কোচ পূর্ণিমা পেরি সতর্ক করে বলেন, আবেগ দীর্ঘদিন চেপে রাখলে শরীরে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়।

তিনি জানান, ‘আপনি যদি ইদানীং বেশি কাঁদছেন, তার মানে শরীর ভেঙে পড়ছে না বরং নিজের স্বাভাবিক ভারসাম্যে ফিরতে চাইছে।’