বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বাগবাড়ী এলাকায় লাইনচ্যুত নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন উদ্ধারে ঈশ্বরদী থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যা ৬ টা ৫০ মিনিটে উদ্ধারকারী ট্রেনটি ঘটনাস্থলে পৌঁছে। সৈয়দপুর থেকে আরেকটি উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে আসছে। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ হোসেন মাসুম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে দুপুর ২টার দিকে সান্তাহার থেকে দুই কিলোমিটার উত্তরে বাগবাড়ী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনার কারণে উত্তরাঞ্চলের একাংশে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বাগবাড়ী এলাকায় গত ১৫-২০ দিন লাইন সংস্কারের কাজ করা হচ্ছে। তারপর থেকে এ লাইনে সাবধানে ট্রেন চলাচল করছিল। বুধবার সকাল ৬টা ২০ মিনিটে ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে বাগবাড়ী এলাকা পার হচ্ছিল। এ সময় ট্রেনের ইঞ্জিন পার হতে পারলেও বগি হঠাৎ করে লাইনচ্যুতের ঘটনা ঘটে। এতে ১৪টি বগির মধ্যে ৯টি বগি লাইন থেকে পড়ে যায়। আতঙ্কে ট্রেনের ছাদে থাকা যাত্রীরা লাফ দিয়ে নিচে পড়ে আহত হন।
এ সময় খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে। এলাকাবাসীও তাদের সহযোগিতা করে। নওগাঁ ২৫০শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয় অন্তত ৫০-৬০ জনকে। এ ঘটনার পর রংপুরগামী সকল ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। রেললাইন থেকে স্লিপারগুলো সরে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, ট্রেন চালক সিগনাল না বুঝে দ্রুত গতিতে ট্রেন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। চালকের অবহেলার কারণে এ কারণে দূর্ঘটনা ঘটেছে। এ লাইন দিয়ে আক্কেলপুর, জয়পুরহাট, পাঁচবিবি, বিরামপুর, হিলি, সৈয়দপুর, নীলফামারি ও চিলাহাটিতে যাওয়া যায়।
দুর্ঘটনার পর ট্রেনের যাত্রীরা যে যার মতো বিভিন্ন যানবাহনে করে গন্তব্যে চলে যান। স্থানীয় ডুইন ইব্রাহিম নামে একজন বলেন, গত ১৫-২০ দিন থেকে এ এলাকায় লাইন সংস্কারের কাজ হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে যেসব ট্রেন এ লাইন দিয়ে চলাচল করত তারা সাবধানে চলত। তবে এ স্থান থেকে এক কিলোমিটার দূরে লাল পতাকা টাঙানো আছে। কিন্তু চালক না বুঝে ট্রেন দ্রুত গতিতে চালিয়ে যাচ্ছিল। ইঞ্জিন পার হলেও বগি হুড়মুড় করে লাইন থেকে পড়ে যায়। এ সময় আতঙ্কে ছাদে থাকা যাত্রীরা লাফ দিয়ে নিচে পড়ে। এতে অনেকে হাতে পায়ে গুরুতর আহত হয়। ট্রেন চালকের ভুলের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, রাতের মধ্যেই ট্রেনটি উদ্ধার হবে বলে আশা করছি। যাত্রীদের নিরাপাত্তার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশের ব্যবস্থা রয়েছে। হাসপাতালে ভর্তিরত অনেকে চিকিৎসা নিয়ে গন্তব্যে ফিরে গেছেন।
বগুড়া প্রতিনিধি 





















