ঢাকা ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প কেন্দ্রীয় চুক্তিতে যে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ভারত পিএসএলে নিরাপত্তা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগ, যা বলছে পিসিবি যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী পাটুরিয়ায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়, পারাপারে চলছে ১৮টি লঞ্চ চট্টগ্রামে ডিসির নির্দেশে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ মন্ত্রী-এমপিরা কে কোথায় ঈদ করবেন? ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শরীয়তপুর জেলা বি এন পি সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর থানা বি এন পির আহ্বায়ক এস এম এ হামিদ ঈশ্বরদী থেকে এলো উদ্ধারকারী ট্রেন, সৈয়দপুর থেকে আসছে আরেকটি রূহানীনগর এর পক্ষ থেকে সম্মানিত ইমাম-মুয়াজ্জিনগণকে  হাদিয়া প্রদান

রান্নায় কোন তেল কতটা খাবেন, জানালেন কার্ডিওলজিস্ট

  • জীবনযাপন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৩২:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৬৮ বার পড়া হয়েছে

হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি এড়াতে প্রতিদিন রান্নায় কতটা তেল ব্যবহার করা উচিত, কিংবা কোন তেল হৃৎপিণ্ডের জন্য সবচেয়ে উপকারী—এই প্রশ্নগুলো অনেকের মনেই উঁকি দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ হৃদযন্ত্রের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো সঠিক তেল বেছে নেওয়া এবং পরিমিত পরিমাণে তা ব্যবহার করা। আমাদের রান্নাঘরের এক অবিচ্ছেদ্য উপাদান এই তেল। ফোড়ন, ঝাল, ভাজা—সব ক্ষেত্রেই তেল প্রয়োজন।

কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, নিয়মিত অতিরিক্ত বা ভুল ধরনের তেল গ্রহণ করলে হৃদরোগের আশঙ্কা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তাই দৈনন্দিন জীবনে তেলের সঠিক মাত্রা ও ধরন জানা অত্যন্ত প্রয়োজন।
কার্ডিওলজিস্ট ডা. গজিন্দর কুমার গোয়েল জানান, একজন সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে প্রতিদিন তেলের পরিমাণ ৩ থেকে ৪ চা-চামচের বেশি হওয়া উচিত নয়। অর্থাৎ দিনে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিলিলিটার তেলই যথেষ্ট।

সেই হিসেবে একজন মানুষের জন্য মাসে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিলিটার তেল নিরাপদ। চার জনের পরিবারের ক্ষেত্রে মাসে মোটামুটি ২ লিটারের বেশি তেল ব্যবহার না করাই
হৃৎপিণ্ডের জন্য কোন তেল ভালো

ডা. গোয়েলের মতে, সরিষার তেল, সূর্যমুখী তেল ও জলপাই তেল—এই তিনটি তুলনামূলকভাবে হৃদ স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। তবে আমাদের দেশে রান্নার জন্য সবচেয়ে উপযোগী হলো সরিষার তেল।

কেন সরিষার তেল সবচেয়ে উপকারী

অপরিশোধিত বা কাঁচা সরিষার তেলের স্মোক পয়েন্ট প্রায় ২৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ফলে বেশি তাপে রান্না হলেও এই তেল সহজে পুড়ে যায় না এবং এর পুষ্টিগুণ অনেকটাই বজায় থাকে। এতে থাকা ভালো ফ্যাট হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী।

সূর্যমুখী তেলও হৃদরোগীদের জন্য ভালো বিকল্প হলেও জলপাই তেলের স্মোক পয়েন্ট কম হওয়ায় এটি আমাদের দেশের রান্নায় খুব বেশি উপযোগী নয়।

কেন রিফাইন তেল এড়ানো জরুরি

পরিশোধিত বা রিফাইন তেল উচ্চ তাপ ও রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়। এই প্রক্রিয়ায় তেলে ক্ষতিকর উপাদান তৈরি হতে পারে, যা দীর্ঘদিন খেলে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয়।

এই কোলেস্টেরলই ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের বড় কারণ হয়ে ওঠে।
অতিরিক্ত তেল খাওয়ার ক্ষতি

মাঝে মধ্যে ভাজাপোড়া খেলে বড় কোনো সমস্যা না হলেও নিয়মিত অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার খেলে ধমনিতে চর্বি জমা, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

প্রতিদিন কতটা তেল নিরাপদ

প্রতিদিন : ১৫–২০ মিলিলিটার
প্রতি সপ্তাহে : ১০৫–১৪০ মিলিলিটার
প্রতি মাসে : ৫০০–৬০০ মিলিলিটার
এই পরিমাণ একজন সুস্থ মানুষের জন্য নিরাপদ বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

হৃদরোগীদের জন্য বিশেষ পরামর্শ

যারা ইতোমধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত, তাদের ক্ষেত্রে তেল গ্রহণের পরিমাণ আরো কম হওয়া প্রয়োজন। ডা. গোয়েলের মতে, হৃদরোগীদের জন্য মাসে ৭৫০ মিলিলিটারের বেশি তেল গ্রহণ করা উচিত নয়। তিনি পরামর্শ দেন, মোট তেলের মধ্যে ৮০ শতাংশ সরিষার তেল এবং ২০ শতাংশ ঘি বা মাখন ব্যবহার করলে স্বাদ ও পুষ্টির সঠিক ভারসাম্য বজায় থাকে। সঠিক তেল নির্বাচন এবং নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারই অল্প বয়সে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর অন্যতম উপায়। সুস্থ থাকতে চাইলে আজ থেকেই রান্নার তেলের দিকে বিশেষ নজর দিন।

সূত্র : আজতক বাংলা

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প

রান্নায় কোন তেল কতটা খাবেন, জানালেন কার্ডিওলজিস্ট

আপডেট সময় ০৪:৩২:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি এড়াতে প্রতিদিন রান্নায় কতটা তেল ব্যবহার করা উচিত, কিংবা কোন তেল হৃৎপিণ্ডের জন্য সবচেয়ে উপকারী—এই প্রশ্নগুলো অনেকের মনেই উঁকি দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ হৃদযন্ত্রের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো সঠিক তেল বেছে নেওয়া এবং পরিমিত পরিমাণে তা ব্যবহার করা। আমাদের রান্নাঘরের এক অবিচ্ছেদ্য উপাদান এই তেল। ফোড়ন, ঝাল, ভাজা—সব ক্ষেত্রেই তেল প্রয়োজন।

কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, নিয়মিত অতিরিক্ত বা ভুল ধরনের তেল গ্রহণ করলে হৃদরোগের আশঙ্কা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তাই দৈনন্দিন জীবনে তেলের সঠিক মাত্রা ও ধরন জানা অত্যন্ত প্রয়োজন।
কার্ডিওলজিস্ট ডা. গজিন্দর কুমার গোয়েল জানান, একজন সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে প্রতিদিন তেলের পরিমাণ ৩ থেকে ৪ চা-চামচের বেশি হওয়া উচিত নয়। অর্থাৎ দিনে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিলিলিটার তেলই যথেষ্ট।

সেই হিসেবে একজন মানুষের জন্য মাসে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিলিটার তেল নিরাপদ। চার জনের পরিবারের ক্ষেত্রে মাসে মোটামুটি ২ লিটারের বেশি তেল ব্যবহার না করাই
হৃৎপিণ্ডের জন্য কোন তেল ভালো

ডা. গোয়েলের মতে, সরিষার তেল, সূর্যমুখী তেল ও জলপাই তেল—এই তিনটি তুলনামূলকভাবে হৃদ স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। তবে আমাদের দেশে রান্নার জন্য সবচেয়ে উপযোগী হলো সরিষার তেল।

কেন সরিষার তেল সবচেয়ে উপকারী

অপরিশোধিত বা কাঁচা সরিষার তেলের স্মোক পয়েন্ট প্রায় ২৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ফলে বেশি তাপে রান্না হলেও এই তেল সহজে পুড়ে যায় না এবং এর পুষ্টিগুণ অনেকটাই বজায় থাকে। এতে থাকা ভালো ফ্যাট হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী।

সূর্যমুখী তেলও হৃদরোগীদের জন্য ভালো বিকল্প হলেও জলপাই তেলের স্মোক পয়েন্ট কম হওয়ায় এটি আমাদের দেশের রান্নায় খুব বেশি উপযোগী নয়।

কেন রিফাইন তেল এড়ানো জরুরি

পরিশোধিত বা রিফাইন তেল উচ্চ তাপ ও রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়। এই প্রক্রিয়ায় তেলে ক্ষতিকর উপাদান তৈরি হতে পারে, যা দীর্ঘদিন খেলে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয়।

এই কোলেস্টেরলই ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের বড় কারণ হয়ে ওঠে।
অতিরিক্ত তেল খাওয়ার ক্ষতি

মাঝে মধ্যে ভাজাপোড়া খেলে বড় কোনো সমস্যা না হলেও নিয়মিত অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার খেলে ধমনিতে চর্বি জমা, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

প্রতিদিন কতটা তেল নিরাপদ

প্রতিদিন : ১৫–২০ মিলিলিটার
প্রতি সপ্তাহে : ১০৫–১৪০ মিলিলিটার
প্রতি মাসে : ৫০০–৬০০ মিলিলিটার
এই পরিমাণ একজন সুস্থ মানুষের জন্য নিরাপদ বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

হৃদরোগীদের জন্য বিশেষ পরামর্শ

যারা ইতোমধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত, তাদের ক্ষেত্রে তেল গ্রহণের পরিমাণ আরো কম হওয়া প্রয়োজন। ডা. গোয়েলের মতে, হৃদরোগীদের জন্য মাসে ৭৫০ মিলিলিটারের বেশি তেল গ্রহণ করা উচিত নয়। তিনি পরামর্শ দেন, মোট তেলের মধ্যে ৮০ শতাংশ সরিষার তেল এবং ২০ শতাংশ ঘি বা মাখন ব্যবহার করলে স্বাদ ও পুষ্টির সঠিক ভারসাম্য বজায় থাকে। সঠিক তেল নির্বাচন এবং নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারই অল্প বয়সে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর অন্যতম উপায়। সুস্থ থাকতে চাইলে আজ থেকেই রান্নার তেলের দিকে বিশেষ নজর দিন।

সূত্র : আজতক বাংলা