সংবাদ শিরোনাম ::
মৌলভীবাজারের বড়লেখা দুর্গম পাহাড়ি সীমান্তে বিজিবি কর্তৃক ৩০০ প্যাকেট ভারতীয় মন্ড সিগারেট আটক দেশে নতুন উদ্যোক্তা না আসাই আয় বৈষম্যের মূল কারণ : বাণিজ্যমন্ত্রী আর্জেন্টিনাকে দুঃসংবাদ দিলেন কেইনকে কালো জাদু করা ঘানার সেই তান্ত্রিক দেশের ৯ জেলায় বন্যার শঙ্কা করমুক্ত আয়সীমা ৬ লাখ টাকা করার প্রস্তাব প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর চীনের সঙ্গে সমঝোতায় বাংলাদেশের নিউ মিডিয়ায় গুণগত পরিবর্তন আসবে : তথ্যমন্ত্রী দুর্নীতি মামলায় টিউলিপসহ ২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন পেছাল এলপিজির কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সিরাজুল ও জ্বালানি সচিব সাইফুলের সিন্ডিকেটে কোটি টাকা আত্মসাত মনোহরগঞ্জে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

কতটা ভয়ংকর হতে পারে নিপাহ ভাইরাস? জানুন প্রতিরোধের উপায়

  • জীবনযাপন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:২৩:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৪৪ বার পড়া হয়েছে

বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক একটি সংক্রামক রোগ হচ্ছে নিপাহ ভাইরাস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ভাইরাসকে টপ-১০ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্যাথোজেনের তালিকায় রেখেছে। কারণ, এটি দ্রুত ছড়াতে পারে এবং মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।

কোভিড সংক্রমণের চাপ সামলাতে সামলাতেই নিপাহ ভাইরাস নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ভারতের মহারাষ্ট্রে বাদুড়ের শরীরে এই ভাইরাসের অ্যান্টিবডি ধরা পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এই ভাইরাসটি মূলত একটি জুনোটিক রোগ, অর্থাৎ যা প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। সাধারণত ফলখেকো বাদুড় এই ভাইরাসের প্রধান বাহক হিসেবে পরিচিত। কখনো কখনো শূকরও এই ভাইরাস বহন করতে পারে এবং সেখান থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

নিপাহ ভাইরাসের লক্ষণ

নিপাহ ভাইরাসের লক্ষণ শুরুতে খুব সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতই মনে হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির বমি বমি ভাব, বমি, সর্দি-কাশি, জ্বর ও শরীরে ব্যথা হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, তীব্র দুর্বলতা এবং শরীরে জ্বালাপোড়াভাব দেখা যায়। পরিস্থিতি গুরুতর হলে মস্তিষ্কে সংক্রমণ বা এনসেফালাইটিস হতে পারে, যার ফলে খিঁচুনি, অচেতনতা এমনকি কোমায় চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

এই কারণেই নিপাহ ভাইরাসের উপসর্গ কখনো হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
বর্তমানে নিপাহ ভাইরাসের এমন কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ বা টিকা নেই, যা এই রোগকে সম্পূর্ণভাবে সারিয়ে তুলতে পারে। চিকিৎসা মূলত সাপোর্টিভ কেয়ারের ওপর নির্ভরশীল। রোগীকে পর্যাপ্ত তরল দিতে হয়, যাতে ডিহাইড্রেশন না হয়, অক্সিজেন থেরাপির প্রয়োজন হতে পারে এবং বমি বা অন্যান্য উপসর্গ কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়। দ্রুত চিকিৎসা শুরু হলে মৃত্যুঝুঁকি কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হয়।

তবে নিপাহ ভাইরাসের চিকিৎসা এখনো চিকিৎসকদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। নিপাহ ভাইরাসের ক্ষেত্রে প্রতিরোধই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। যেসব এলাকায় বাদুড়ের উপস্থিতি বেশি, সেখানে সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।

গাছে ঝুলে থাকা ফলই হোক বা কাটা ফল, না ধুয়ে খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ সেগুলোতে বাদুড়ের লালা বা মূত্র লেগে থাকতে পারে। বাদুড় বা অসুস্থ শূকরের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা অত্যন্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি অন্যান্য ভাইরাল সংক্রমণের মতোই নিয়মিত হাত ধোয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং অসুস্থ ব্যক্তির কাছাকাছি গেলে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।

সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক তথ্য জানা এবং সন্দেহজনক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। নিপাহ ভাইরাস কতটা ঠেকানো যাবে, তা মূলত সচেতনতা, স্বাস্থ্যবিধি এবং পরিবেশগত সতর্কতার ওপর নির্ভরশীল।

সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মৌলভীবাজারের বড়লেখা দুর্গম পাহাড়ি সীমান্তে বিজিবি কর্তৃক ৩০০ প্যাকেট ভারতীয় মন্ড সিগারেট আটক

কতটা ভয়ংকর হতে পারে নিপাহ ভাইরাস? জানুন প্রতিরোধের উপায়

আপডেট সময় ০৫:২৩:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক একটি সংক্রামক রোগ হচ্ছে নিপাহ ভাইরাস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ভাইরাসকে টপ-১০ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্যাথোজেনের তালিকায় রেখেছে। কারণ, এটি দ্রুত ছড়াতে পারে এবং মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।

কোভিড সংক্রমণের চাপ সামলাতে সামলাতেই নিপাহ ভাইরাস নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ভারতের মহারাষ্ট্রে বাদুড়ের শরীরে এই ভাইরাসের অ্যান্টিবডি ধরা পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এই ভাইরাসটি মূলত একটি জুনোটিক রোগ, অর্থাৎ যা প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। সাধারণত ফলখেকো বাদুড় এই ভাইরাসের প্রধান বাহক হিসেবে পরিচিত। কখনো কখনো শূকরও এই ভাইরাস বহন করতে পারে এবং সেখান থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

নিপাহ ভাইরাসের লক্ষণ

নিপাহ ভাইরাসের লক্ষণ শুরুতে খুব সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতই মনে হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির বমি বমি ভাব, বমি, সর্দি-কাশি, জ্বর ও শরীরে ব্যথা হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, তীব্র দুর্বলতা এবং শরীরে জ্বালাপোড়াভাব দেখা যায়। পরিস্থিতি গুরুতর হলে মস্তিষ্কে সংক্রমণ বা এনসেফালাইটিস হতে পারে, যার ফলে খিঁচুনি, অচেতনতা এমনকি কোমায় চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

এই কারণেই নিপাহ ভাইরাসের উপসর্গ কখনো হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
বর্তমানে নিপাহ ভাইরাসের এমন কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ বা টিকা নেই, যা এই রোগকে সম্পূর্ণভাবে সারিয়ে তুলতে পারে। চিকিৎসা মূলত সাপোর্টিভ কেয়ারের ওপর নির্ভরশীল। রোগীকে পর্যাপ্ত তরল দিতে হয়, যাতে ডিহাইড্রেশন না হয়, অক্সিজেন থেরাপির প্রয়োজন হতে পারে এবং বমি বা অন্যান্য উপসর্গ কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়। দ্রুত চিকিৎসা শুরু হলে মৃত্যুঝুঁকি কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হয়।

তবে নিপাহ ভাইরাসের চিকিৎসা এখনো চিকিৎসকদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। নিপাহ ভাইরাসের ক্ষেত্রে প্রতিরোধই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। যেসব এলাকায় বাদুড়ের উপস্থিতি বেশি, সেখানে সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।

গাছে ঝুলে থাকা ফলই হোক বা কাটা ফল, না ধুয়ে খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ সেগুলোতে বাদুড়ের লালা বা মূত্র লেগে থাকতে পারে। বাদুড় বা অসুস্থ শূকরের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা অত্যন্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি অন্যান্য ভাইরাল সংক্রমণের মতোই নিয়মিত হাত ধোয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং অসুস্থ ব্যক্তির কাছাকাছি গেলে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।

সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক তথ্য জানা এবং সন্দেহজনক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। নিপাহ ভাইরাস কতটা ঠেকানো যাবে, তা মূলত সচেতনতা, স্বাস্থ্যবিধি এবং পরিবেশগত সতর্কতার ওপর নির্ভরশীল।

সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস