সংবাদ শিরোনাম ::
দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যেই কাস্টমস কর্মকর্তা শামীম উল আলমের পদোন্নতি, প্রশ্নের মুখে জবাবদিহি এলপিজির কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সিরাজুল ও জ্বালানি সচিব সাইফুলের সিন্ডিকেটে কোটি টাকা আত্মসাত মনোহরগঞ্জে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি, হাবিবসহ তিন পুলিশের মৃত্যুদণ্ড আত্রাইয়ে ১৯৩ কেন্দ্রে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ‘দুর্নীতির সাম্রাজ্য’ অভিযোগের পাহাড় কাদির ও সহকারী হারিসের বিরুদ্ধে বিজিবি-র‍্যাবের যৌথ অভিযানে কাভার্ড ভ্যানসহ ভারতীয় শাড়ি ও কসমেটিক্স আটক এলেঙ্গাকে উপজেলা করার দাবিতে সংসদে এমপির বক্তব্য, কালিহাতীজুড়ে সমালোচনার ঝড়

আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

গ্রাম কাস্টমস হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে সরকার হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভিযোগ, কাস্টম হাউসে দীর্ঘদিন কর্মরত থাকার কারণে আসাদুজ্জামান খান সিনিয়র-জুনিয়র কাউকেই তেমন গুরুত্ব দেন না এবং অনেক ক্ষেত্রে নিজের ইচ্ছামতো কাজ করে থাকেন। এমনকি তার প্রভাবের কারণে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। তাওে কাছে খোদ এনবিআর চেয়ারম্যান অসহায় বলে জানা গেছে। কয়েকজন অফিস স্টাফের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিতেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করেও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ খালাসে সহায়তা করা হয়। সম্প্রতি চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে দাখিল করা একটি আমদানিকৃত পণ্যের চালানকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০ জুলাই ২০২৫ তারিখে সি-১৩৬৭৫৩২ নম্বর বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে একটি চালান কাস্টমস হাউসে দাখিল করা হয়। কাগজপত্র অনুযায়ী চালানটিতে ১,০০২ কার্টন ম্যাসাজার, মিনি ভ্যাকুয়াম ক্লিনার, নাইফ, স্প্রেয়ার নজল, রেঞ্চ, হেয়ার স্ট্রেইটনার, নেইল কাটার, আইব্রো ক্লিপ, কাঁচি, কি-রিং, প্লাস্টিক ও গ্লাস বিডস আমদানির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, বৈধ পণ্যের আড়ালে আরও ৫০০ কার্টন অবৈধ সিগারেট আনা হয়েছিল। অভিযোগকারীদের দাবি, চালানটি কাস্টমস সিস্টেমে জমা দেওয়ার পরপরই রাজস্ব কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান খানের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে তথ্য-প্রমাণসহ একটি বার্তা পাঠানো হয়েছিল। নিয়মানুযায়ী এমন তথ্য পাওয়ার পর চালানটি কায়িক পরীক্ষার আওতায় এনে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করার কথা ছিল। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, চালানটি খালাসের সুযোগ করে দেওয়া হয়, যার ফলে সরকার উল্লেখযোগ্য রাজস্ব হারিয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে কাস্টম হাউসে গেলে কমিশনার মাহবুবুর রহমানের কার্যালয় থেকে ডেপুটি কমিশনার আল আমিন শরীফের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। পরে তিনি ডেপুটি কমিশনার তারেক মাহমুদের সঙ্গে কথা বলতে পরামর্শ দেন। ডেপুটি কমিশনার তারেক মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ঘটনাকালে তিনি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে ছিলেন না। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান খানের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এসএমএস পাঠিয়েও কোনো উত্তর মেলেনি। তবে সরাসরি সাক্ষাতে তিনি বলেন, “কাস্টম হাউসের অনিয়ম-দুর্নীতির পেছনে একটি বড় নেটওয়ার্ক রয়েছে। শুধুমাত্র আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা হাস্যকর।” এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার মুহা. মাহবুবুর রহমান বলেন, “কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ পাওয়া গেলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের স্বার্থ ক্ষুন্ন হয় এমন কর্মকা-ের প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যেই কাস্টমস কর্মকর্তা শামীম উল আলমের পদোন্নতি, প্রশ্নের মুখে জবাবদিহি

আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

আপডেট সময় ০১:০৮:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

গ্রাম কাস্টমস হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে সরকার হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভিযোগ, কাস্টম হাউসে দীর্ঘদিন কর্মরত থাকার কারণে আসাদুজ্জামান খান সিনিয়র-জুনিয়র কাউকেই তেমন গুরুত্ব দেন না এবং অনেক ক্ষেত্রে নিজের ইচ্ছামতো কাজ করে থাকেন। এমনকি তার প্রভাবের কারণে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। তাওে কাছে খোদ এনবিআর চেয়ারম্যান অসহায় বলে জানা গেছে। কয়েকজন অফিস স্টাফের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিতেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করেও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ খালাসে সহায়তা করা হয়। সম্প্রতি চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে দাখিল করা একটি আমদানিকৃত পণ্যের চালানকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০ জুলাই ২০২৫ তারিখে সি-১৩৬৭৫৩২ নম্বর বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে একটি চালান কাস্টমস হাউসে দাখিল করা হয়। কাগজপত্র অনুযায়ী চালানটিতে ১,০০২ কার্টন ম্যাসাজার, মিনি ভ্যাকুয়াম ক্লিনার, নাইফ, স্প্রেয়ার নজল, রেঞ্চ, হেয়ার স্ট্রেইটনার, নেইল কাটার, আইব্রো ক্লিপ, কাঁচি, কি-রিং, প্লাস্টিক ও গ্লাস বিডস আমদানির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, বৈধ পণ্যের আড়ালে আরও ৫০০ কার্টন অবৈধ সিগারেট আনা হয়েছিল। অভিযোগকারীদের দাবি, চালানটি কাস্টমস সিস্টেমে জমা দেওয়ার পরপরই রাজস্ব কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান খানের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে তথ্য-প্রমাণসহ একটি বার্তা পাঠানো হয়েছিল। নিয়মানুযায়ী এমন তথ্য পাওয়ার পর চালানটি কায়িক পরীক্ষার আওতায় এনে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করার কথা ছিল। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, চালানটি খালাসের সুযোগ করে দেওয়া হয়, যার ফলে সরকার উল্লেখযোগ্য রাজস্ব হারিয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে কাস্টম হাউসে গেলে কমিশনার মাহবুবুর রহমানের কার্যালয় থেকে ডেপুটি কমিশনার আল আমিন শরীফের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। পরে তিনি ডেপুটি কমিশনার তারেক মাহমুদের সঙ্গে কথা বলতে পরামর্শ দেন। ডেপুটি কমিশনার তারেক মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ঘটনাকালে তিনি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে ছিলেন না। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান খানের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এসএমএস পাঠিয়েও কোনো উত্তর মেলেনি। তবে সরাসরি সাক্ষাতে তিনি বলেন, “কাস্টম হাউসের অনিয়ম-দুর্নীতির পেছনে একটি বড় নেটওয়ার্ক রয়েছে। শুধুমাত্র আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা হাস্যকর।” এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার মুহা. মাহবুবুর রহমান বলেন, “কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ পাওয়া গেলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের স্বার্থ ক্ষুন্ন হয় এমন কর্মকা-ের প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”