ঢাকা ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিরাজগঞ্জে রাজউক কর্মকর্তার অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধির অভিযোগ

সিরাজগঞ্জ পৌরসভার মাছুমপুর (উকিলপাড়া) মহল্লার আবু তাহের রাজউক’র (রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) উত্তরা শাখার নিম্নমান সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরি করেন। চলাফেরা করেন ব্যক্তিগত বিলাসবহুল দামি গাড়িতে। বেশভুষা রাজা-বাদশাহ্‌র মতো।

সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের মাছুমপুরে রয়েছে ৩ কোটি টাকার দৃষ্টিনন্দন আলিশান ৬তলা বাড়ি। ঢাকায় রয়েছে একাধিক ফ্ল্যাট। স্বল্প বেতনের চাকরি করে তিনি কীভাবে কোটিপতি হলেন। আর কীভাবেই বা এতো বিত্তবৈভবের মালিক হলেন তা নিয়ে এলাকায় চলছে নানা গুঞ্জন। স্থানীয় সাংবাদিকদের দীর্ঘ অনুসন্ধানে তার এই বিত্তবৈভবের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে।

 

এলাকাবাসী জানান, আবু তাহের সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার গান্দাইল ইউনিয়নের গান্দাইল উত্তরপাড়া গ্রামের মকবুল হোসেন মুন্সীর বড় ছেলে। বিয়ে করেছেন একাধিক। সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের মাছুমপুর উকিলপাড়ায় (বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মন্টুর) কাছ থেকে ২০২০ সালে ৫ শতক জায়গা ক্রয় করেন। তার বর্তমান মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা। সেই জায়গায় তিনি প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে (৬তলা) দৃষ্টিনন্দন বাড়ি তৈরি করেছেন। এই দুর্নীতিবাজ কর্মচারী বর্তমানে রাজউক উত্তরা শাখায় কর্মরত।
সিরাজগঞ্জ শহর ও রাজধানী ছাড়াও তার গ্রামের বাড়ি কাজিপুরেও তার ২/৩ বিঘা সম্পত্তি রয়েছে বলে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে। আবু তাহের কোনো অভিজাত ঘরের সন্তান না হলেও তার পুরো পরিবার অভিজাত জীবনযাপন করেন। চলাচল করেন বিলাসবহুল গাড়িতে। বর্তমানে সিরাজগঞ্জের জায়গাসহ বাড়ির মূল্য ৩ কোটি টাকারও বেশি। সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রিত ভবনে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা প্রহরী রয়েছেন। এ ছাড়াও সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য রয়েছেন আবু তাহেরের বড় বউ। ভবনের সামনে ঝুলছে ‘টু-লেট’ সাইনবোর্ড।

এলাকাবাসী জানান, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে মোহাম্মদ নাসিম ডাক, টেলিযোগাযোগ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হন। এরপর ১৯৯৭/৯৮ সালের দিকে মোহাম্মদ নাসিমের সুপারিশে আবু তাহের প্রথমে রাজউকে দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মী হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। পরে উত্তরা শাখার নিম্নমান সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে তার চাকরি বহাল হয়। এরপর থেকেই আবু তাহেরের কপাল খুলে যায়। আবু তাহেরের বাবা মকবুল হোসেন মুন্সী পেশায় একজন কৃষক। তার বাবার নামে ৩/৪ বিঘা জমি আছে। মকবুল হোসেন মুন্সীর দুই ছেলে ও ৩ মেয়ে। ৩ মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছেলের মধ্যে আবু তাহের বড়। ছোট ছেলে সানোয়ার হোসেন কারারক্ষী। তিনি নাটোরে কর্মরত।
গান্দাইল গ্রামের একাধিক ব্যক্তি বলেন, আবু তাহেরের বাবার নামে ৩/৪ বিঘা জমি আছে। এ ছাড়া আবু তাহের চাকরি পাওয়ার পরে নিজ গ্রামে নিজের নামে ২/৩ বিঘা জমি কিনেছেন। সিরাজগঞ্জ শহরের মাছুমপুরেও তার বহুতল আলিশান ভবন রয়েছে।

এ বিষয়ে আবু তাহেরের চাচাতো ভাই, গোলাম রব্বানি বলেন, তার ভাই আবু তাহের চাকরি পাওয়ার পর নিজ গ্রামে ২৩ ডিসিমেল জায়গা ক্রয় করেন। এরপর সেই জায়গা বিক্রি করে সিরাজগঞ্জ শহরের মাছুমপুর এলাকায় ৫ শতক জায়গা ক্রয় করেন। এরপর শ্বশুরবাড়ির সম্পত্তি বিক্রির টাকা, ভাই বোন ও আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার-দেনা এবং ব্যাংক থেকে ৮০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে মাছুমপুরে এই বিল্ডিং তৈরি করেছেন। এ বিল্ডিংয়ের একটি ফ্ল্যাটও আবার তার সমন্ধি কামরুল ইসলাম নিয়ে নিয়েছেন। এই কামরুল ইসলামই বিভিন্ন মিডিয়ার কাছে তার নামে মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ঢাকায় তার ভাই আবু তাহেরের কোনো ফ্ল্যাট বা সম্পত্তি নেই। তিনি খুব সহজ-সরল জীবন-যাপন করেন। আবু তাহেরের দুই বিয়ের কথা তিনি স্বীকার করে বলেন। আরও একটি বিয়ের কথা শুনেছি। কিন্তু তার সে বউকে দেখিনি।

তার এই অঢেল সম্পদের বিষয়ে জানতে চাইলে আবু তাহের বলেন, আমার বাবার সম্পত্তি বিক্রি ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এই বাড়ি নির্মাণ করেছি।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর লিয়াজোঁ অফিসার মাহফুজ রেজা বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। এ বিষয়ে এই প্রথম জানতে পারলাম তার মতো একজন কম্পিটার অপারেটরের এতো অঢেল সম্পদ রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সিরাজগঞ্জে রাজউক কর্মকর্তার অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধির অভিযোগ

আপডেট সময় ১২:০৫:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

সিরাজগঞ্জ পৌরসভার মাছুমপুর (উকিলপাড়া) মহল্লার আবু তাহের রাজউক’র (রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) উত্তরা শাখার নিম্নমান সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরি করেন। চলাফেরা করেন ব্যক্তিগত বিলাসবহুল দামি গাড়িতে। বেশভুষা রাজা-বাদশাহ্‌র মতো।

সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের মাছুমপুরে রয়েছে ৩ কোটি টাকার দৃষ্টিনন্দন আলিশান ৬তলা বাড়ি। ঢাকায় রয়েছে একাধিক ফ্ল্যাট। স্বল্প বেতনের চাকরি করে তিনি কীভাবে কোটিপতি হলেন। আর কীভাবেই বা এতো বিত্তবৈভবের মালিক হলেন তা নিয়ে এলাকায় চলছে নানা গুঞ্জন। স্থানীয় সাংবাদিকদের দীর্ঘ অনুসন্ধানে তার এই বিত্তবৈভবের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে।

 

এলাকাবাসী জানান, আবু তাহের সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার গান্দাইল ইউনিয়নের গান্দাইল উত্তরপাড়া গ্রামের মকবুল হোসেন মুন্সীর বড় ছেলে। বিয়ে করেছেন একাধিক। সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের মাছুমপুর উকিলপাড়ায় (বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মন্টুর) কাছ থেকে ২০২০ সালে ৫ শতক জায়গা ক্রয় করেন। তার বর্তমান মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা। সেই জায়গায় তিনি প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে (৬তলা) দৃষ্টিনন্দন বাড়ি তৈরি করেছেন। এই দুর্নীতিবাজ কর্মচারী বর্তমানে রাজউক উত্তরা শাখায় কর্মরত।
সিরাজগঞ্জ শহর ও রাজধানী ছাড়াও তার গ্রামের বাড়ি কাজিপুরেও তার ২/৩ বিঘা সম্পত্তি রয়েছে বলে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে। আবু তাহের কোনো অভিজাত ঘরের সন্তান না হলেও তার পুরো পরিবার অভিজাত জীবনযাপন করেন। চলাচল করেন বিলাসবহুল গাড়িতে। বর্তমানে সিরাজগঞ্জের জায়গাসহ বাড়ির মূল্য ৩ কোটি টাকারও বেশি। সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রিত ভবনে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা প্রহরী রয়েছেন। এ ছাড়াও সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য রয়েছেন আবু তাহেরের বড় বউ। ভবনের সামনে ঝুলছে ‘টু-লেট’ সাইনবোর্ড।

এলাকাবাসী জানান, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে মোহাম্মদ নাসিম ডাক, টেলিযোগাযোগ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হন। এরপর ১৯৯৭/৯৮ সালের দিকে মোহাম্মদ নাসিমের সুপারিশে আবু তাহের প্রথমে রাজউকে দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মী হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। পরে উত্তরা শাখার নিম্নমান সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে তার চাকরি বহাল হয়। এরপর থেকেই আবু তাহেরের কপাল খুলে যায়। আবু তাহেরের বাবা মকবুল হোসেন মুন্সী পেশায় একজন কৃষক। তার বাবার নামে ৩/৪ বিঘা জমি আছে। মকবুল হোসেন মুন্সীর দুই ছেলে ও ৩ মেয়ে। ৩ মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছেলের মধ্যে আবু তাহের বড়। ছোট ছেলে সানোয়ার হোসেন কারারক্ষী। তিনি নাটোরে কর্মরত।
গান্দাইল গ্রামের একাধিক ব্যক্তি বলেন, আবু তাহেরের বাবার নামে ৩/৪ বিঘা জমি আছে। এ ছাড়া আবু তাহের চাকরি পাওয়ার পরে নিজ গ্রামে নিজের নামে ২/৩ বিঘা জমি কিনেছেন। সিরাজগঞ্জ শহরের মাছুমপুরেও তার বহুতল আলিশান ভবন রয়েছে।

এ বিষয়ে আবু তাহেরের চাচাতো ভাই, গোলাম রব্বানি বলেন, তার ভাই আবু তাহের চাকরি পাওয়ার পর নিজ গ্রামে ২৩ ডিসিমেল জায়গা ক্রয় করেন। এরপর সেই জায়গা বিক্রি করে সিরাজগঞ্জ শহরের মাছুমপুর এলাকায় ৫ শতক জায়গা ক্রয় করেন। এরপর শ্বশুরবাড়ির সম্পত্তি বিক্রির টাকা, ভাই বোন ও আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার-দেনা এবং ব্যাংক থেকে ৮০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে মাছুমপুরে এই বিল্ডিং তৈরি করেছেন। এ বিল্ডিংয়ের একটি ফ্ল্যাটও আবার তার সমন্ধি কামরুল ইসলাম নিয়ে নিয়েছেন। এই কামরুল ইসলামই বিভিন্ন মিডিয়ার কাছে তার নামে মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ঢাকায় তার ভাই আবু তাহেরের কোনো ফ্ল্যাট বা সম্পত্তি নেই। তিনি খুব সহজ-সরল জীবন-যাপন করেন। আবু তাহেরের দুই বিয়ের কথা তিনি স্বীকার করে বলেন। আরও একটি বিয়ের কথা শুনেছি। কিন্তু তার সে বউকে দেখিনি।

তার এই অঢেল সম্পদের বিষয়ে জানতে চাইলে আবু তাহের বলেন, আমার বাবার সম্পত্তি বিক্রি ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এই বাড়ি নির্মাণ করেছি।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর লিয়াজোঁ অফিসার মাহফুজ রেজা বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। এ বিষয়ে এই প্রথম জানতে পারলাম তার মতো একজন কম্পিটার অপারেটরের এতো অঢেল সম্পদ রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।