সাধারণত নির্বাচনে প্রার্থীরা ভোটারদের টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে দেখা গেল উল্টো চিত্র। নিজের নির্বাচনী ব্যয় মেটাতে এবার ভোটার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছেই আর্থিক সহযোগিতা চাইলেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। রবিবার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) রাতে ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি এই ব্যতিক্রমী আবেদন জানান।
বরিশাল জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ার পর পুরোদমে প্রচারণার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী। রবিবার রাত ১০টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে আপলোড করা ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘‘বাবুগঞ্জ ও মুলাদী উপজেলার মতো প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক জনপদে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও চ্যালেঞ্জিং। জনসংযোগ ও যাতায়াত খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। নির্বাচন পরিচালনার জন্য টাকার প্রয়োজন, কিন্তু আমার এত টাকা নেই, পর্যাপ্ত আয়ও নেই।’’
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই সনদের প্রসঙ্গ টেনে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ‘‘নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের এই লড়াই শত শত শহীদের রেখে যাওয়া আমানত। শহীদ ওসমান হাদির স্বপ্নের ইনসাফ ও আজাদীর বাংলাদেশ গড়তে আমি সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করছি।’’ ভিডিওর সঙ্গে তিনি বিকাশ, নগদ ও ব্যাংক হিসাবের নম্বর যুক্ত করে দিয়েছেন।
ব্যারিস্টার ফুয়াদের এমন কর্মকাণ্ডে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘‘আইন পেশায় যেখানে অনেকে অঢেল সম্পদের মালিক, সেখানে একজন স্বনামধন্য ব্যারিস্টার হয়ে ফেসবুকে টাকা চাওয়াটা কিছুটা বেমানান।’’
তবে ভিন্নমতও রয়েছে। মুলাদী উপজেলার চরকালেখান নোমরহাট এলাকার ভোটার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘‘ছাত্রনেতারা যেখানে রাতারাতি কোটিপতি বনে যান, সেখানে ব্যারিস্টার ফুয়াদ নিজের অর্থনৈতিক দুর্বলতা প্রকাশ করে সততার পরিচয় দিয়েছেন। জনগণের টাকায় এমপি নির্বাচিত হলে তিনি জনগণের কাছেই বেশি দায়বদ্ধ থাকবেন।’’
নিজস্ব প্রতিবেদক 

























