জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট ও আসন সমঝোতাকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। দলের নীতি ও আদর্শিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবার পদত্যাগ করলেন ফরিদপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক সৈয়দা নীলিমা দোলা। শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস ও পদত্যাগপত্র সংযুক্ত করে তিনি দল ছাড়ার ঘোষণা দেন।
উল্লেখ্য, সৈয়দা নীলিমা দোলা ফরিদপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতির মেয়ে। এর আগে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা ও তার স্বামীসহ একাধিক নেতা এনসিপি ত্যাগ করেন।
পদত্যাগপত্রে নীলিমা দোলা দলের বর্তমান নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, ‘‘আমি মনে করি এনসিপির পক্ষে এখন আর মধ্যপন্থী (সেন্ট্রিস্ট) রাজনীতির নতুন পথ সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। দলটি জুলাই পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে ভেবে সঙ্গে ছিলাম। কিন্তু সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, দলটি সম্পূর্ণভাবে ডানপন্থী ঘরানায় ঢুকে পড়েছে এবং সেই ধারার রাজনীতিকেই পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে।’’
জামায়াতের সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, এটি কোনো কৌশলগত জোট নয়। যদি তাই হতো, তবে এত নেতাকর্মী পদত্যাগ করতেন না। তিনি বলেন, ‘‘দলের কর্মীদের চোখে ধুলো দিয়ে এবং মনোনয়ন দেওয়ার নাম করে তীব্র প্রতারণার মাধ্যমে এই জোট করা হয়েছে।’’
যারা পদত্যাগ করছেন তাদের ‘বামপন্থী’ হিসেবে ট্যাগ দেওয়ার প্রবণতাকে তিনি ‘গেম প্ল্যান’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘‘বামপন্থীরা বেরিয়ে যাচ্ছে—এই ধুয়া তুললে জামায়াতের কাছে দল বিক্রি করা সহজ হয়। তাহলে কি যারা দলে রয়ে গেল তারা সবাই ডানপন্থী? আপনারা না একটা সেন্ট্রিস্ট দল?’’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘জুলাই অভ্যুত্থানের পর এনসিপির ওপর মানুষের যে আস্থা ছিল, তা গত কয়েক মাসে চূর্ণবিচূর্ণ হয়েছে। এনসিপি হাজারো শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে রাজনীতি করতে এসেছিল। আমি নেতাদের মনে করিয়ে দিতে চাই, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে কোনো ধর্মীয় বিপ্লব বা অভ্যুত্থান হয়নি। কিন্তু আপনারা এই অভ্যুত্থানকে ধর্মীয় মোড়কে ভরে সেই পুরোনো বয়ান প্রতিষ্ঠিত করার পথেই হাঁটছেন।’’
নীলিমা দোলা আরও উল্লেখ করেন, গত দেড় বছরে নারী, শিশু, আদিবাসী ও সংখ্যালঘুদের ওপর চলা নির্যাতনের প্রতিবাদ জানাতে এই ‘তারুণ্যনির্ভর’ দলকে দিনের পর দিন ভাবতে হয়েছে, যা তার রাজনৈতিক অভিপ্রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি পদত্যাগপত্রে ‘লাল সালাম’ জানিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

























