ঢাকা ০৫:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
২৬৭ কোটি টাকার ঋণ, ১৩৩ কোটি টাকা সুদ মওকুফ চান প্রশাসক ফজলুল হক ছাত্রদলের পরিচয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচারের অভিযোগ, বেপরোয়া জহির গং সিন্ডিকেট স্পিকারের সঙ্গে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নিলে রুট পারমিট বাতিল : সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বাগেরহাটের রামপালে ইতু হত্যা মামলার প্রধান তিন আসামি গ্রেপ্তার তাড়াইলে কলেরা টিকার দ্বিতীয় রাউন্ড নিয়ে পরিকল্পনা ও অ্যাডভোকেসি সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপ, ১,৩২৪ রোগী; মেঝেতেও চিকিৎসা কমলনগরে এক রাতে দুই বাড়িতে ডাকাতি, টিনের চাল কেটে তিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি কালিহাতীতে প্রটেকটিভ ইসলামী লাইফ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার মান বাড়াতে হবে: রাষ্ট্রপতি

খিলগাঁও থেকে ডিবির হাতে গ্রেফতার মোল্লা ফখরুল, নড়াইল ও ঢাকায় একাধিক মামলা

নড়াইল জেলার নড়াগাতী উপজেলার নওগাতী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য মোল্লা ফখরুল ইসলামকে ঢাকার খিলগাঁও এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তার বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় পূর্বে সাধারণ ডায়েরি থাকা এবং নড়াইল জেলায় একাধিক মামলার তথ্যের ভিত্তিতেই এই গ্রেফতার অভিযান পরিচালিত হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গতকাল গভীর রাতে খিলগাঁও থানাধীন পশ্চিম নন্দীপাড়ার নিজ বাসা থেকে ডিবি পুলিশের একটি দল তাকে আটক করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, মোল্লা ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঢাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগে সাধারণ ডায়েরি রয়েছে। পাশাপাশি নড়াইল জেলার বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও সহিংসতা সংক্রান্ত একাধিক মামলা বিচারাধীন থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মোল্লা ফখরুল ইসলাম নড়াইল-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বিএম কবিরুল হক মুক্তির ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি কবিরুল হক মুক্তির ঘনিষ্ঠতার সুযোগে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব বিস্তার করেন। পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের পরও তিনি খোলস পাল্টে বিভিন্ন এলাকায় অপকর্মে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নড়াইল জেলার বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা একটি মামলার নথিতে মোল্লা ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের বিবরণ রয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৮ নভেম্বর দুপুর আনুমানিক ১২টা ১৫ মিনিটে নড়াগাতী উপজেলার কলাবাড়ীয়া গ্রামে বাদীর বসতবাড়িতে গিয়ে একদল ব্যক্তি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। এতে বাদীর জানমালের গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়।

নথিতে উল্লেখ রয়েছে, অভিযুক্ত পক্ষ এলাকাজুড়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত এবং মিথ্যা মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে থাকে। ঢাকায় একটি জমি কেনাবেচা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে খিলগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। সেই ঘটনার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে নড়াইলে সংঘটিত ঘটনাটি ঘটে বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও জানা যায়, সাবেক এমপি কবিরুল হক মুক্তি গ্রেফতার হওয়ার পরও মোল্লা ফখরুল ইসলাম তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন এবং গ্রেফতারের দিন গুলশান থানায় তাকে দেখতে যান। এই বিষয়গুলোও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

মোল্লা ফখরুল ইসলামের স্থায়ী ঠিকানা নড়াইল জেলার নড়াগাতী উপজেলার কলাবাড়ীয়া গ্রামে এবং বর্তমানে তিনি ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় বসবাস করছিলেন। তার পিতা মরহুম মো. আতিয়ার রসুল ও মাতা মরহুমা রাহিলা খাতুন।

ঢাকা ডিবি পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, খিলগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি ও নড়াইলের মামলার নথি একত্রে পর্যালোচনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করা হবে। এ ঘটনায় নড়াইল ও ঢাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

২৬৭ কোটি টাকার ঋণ, ১৩৩ কোটি টাকা সুদ মওকুফ চান প্রশাসক ফজলুল হক

খিলগাঁও থেকে ডিবির হাতে গ্রেফতার মোল্লা ফখরুল, নড়াইল ও ঢাকায় একাধিক মামলা

আপডেট সময় ০৮:১৮:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

নড়াইল জেলার নড়াগাতী উপজেলার নওগাতী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য মোল্লা ফখরুল ইসলামকে ঢাকার খিলগাঁও এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তার বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় পূর্বে সাধারণ ডায়েরি থাকা এবং নড়াইল জেলায় একাধিক মামলার তথ্যের ভিত্তিতেই এই গ্রেফতার অভিযান পরিচালিত হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গতকাল গভীর রাতে খিলগাঁও থানাধীন পশ্চিম নন্দীপাড়ার নিজ বাসা থেকে ডিবি পুলিশের একটি দল তাকে আটক করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, মোল্লা ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঢাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগে সাধারণ ডায়েরি রয়েছে। পাশাপাশি নড়াইল জেলার বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও সহিংসতা সংক্রান্ত একাধিক মামলা বিচারাধীন থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মোল্লা ফখরুল ইসলাম নড়াইল-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বিএম কবিরুল হক মুক্তির ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি কবিরুল হক মুক্তির ঘনিষ্ঠতার সুযোগে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব বিস্তার করেন। পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের পরও তিনি খোলস পাল্টে বিভিন্ন এলাকায় অপকর্মে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নড়াইল জেলার বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা একটি মামলার নথিতে মোল্লা ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের বিবরণ রয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৮ নভেম্বর দুপুর আনুমানিক ১২টা ১৫ মিনিটে নড়াগাতী উপজেলার কলাবাড়ীয়া গ্রামে বাদীর বসতবাড়িতে গিয়ে একদল ব্যক্তি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। এতে বাদীর জানমালের গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়।

নথিতে উল্লেখ রয়েছে, অভিযুক্ত পক্ষ এলাকাজুড়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত এবং মিথ্যা মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে থাকে। ঢাকায় একটি জমি কেনাবেচা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে খিলগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। সেই ঘটনার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে নড়াইলে সংঘটিত ঘটনাটি ঘটে বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও জানা যায়, সাবেক এমপি কবিরুল হক মুক্তি গ্রেফতার হওয়ার পরও মোল্লা ফখরুল ইসলাম তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন এবং গ্রেফতারের দিন গুলশান থানায় তাকে দেখতে যান। এই বিষয়গুলোও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

মোল্লা ফখরুল ইসলামের স্থায়ী ঠিকানা নড়াইল জেলার নড়াগাতী উপজেলার কলাবাড়ীয়া গ্রামে এবং বর্তমানে তিনি ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় বসবাস করছিলেন। তার পিতা মরহুম মো. আতিয়ার রসুল ও মাতা মরহুমা রাহিলা খাতুন।

ঢাকা ডিবি পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, খিলগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি ও নড়াইলের মামলার নথি একত্রে পর্যালোচনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করা হবে। এ ঘটনায় নড়াইল ও ঢাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।