ঢাকা ০৯:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপির নারী এমপিকে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ র‍্যাবের নাম বদলে আসছে এসআরবি অফিস টাইমে ক্লিনিকে রোগী দেখছিলেন সরকারি চিকিৎসক, লাইসেন্স বাতিল ও বরখাস্তের নির্দেশ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ১২ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া সংস্কৃতির মাধ্যমে বিদায় করতে হবে : শফিকুর রহমান আ.লীগের কার্যক্রম নিয়ে ভারতকে কড়া বার্তা শামা ওবায়েদের  কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪ গ্রেপ্তার, উদ্ধার এক ভিকটিম ব্রাহ্মণপাড়ায় নবাগত ইউএনওর সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় কালিহাতীতে ২১৯ বোতল ফেন্সিডিলসহ রাজশাহীর শীর্ষ মাদককারবারি গ্রেপ্তার বড়লেখায় গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

মুনতাসীর মামুনের নিয়োগ বাতিল, টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ

  • চবি প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ১০:২৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ৬১৮ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ পদে থাকা ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনের নিয়োগ বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে ২০২৩ সালের
১৫ মার্চের পর থেকে তিনি যে অর্থ নিয়েছেন, তা ফেরত দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৭ অক্টোবর) গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ওনার যে চুক্তি ছিল তা তিনি বাস্তবায়ন করেননি। এ ছাড়া, সময়মতো আসেন না এবং দায়িত্ব পালন করেন না। এসব কারণে ওনার বঙ্গবন্ধু চেয়ার থেকে নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে টাকা তিনি নিয়েছেন, সেগুলো তাকে ফেরত দিতে হবে। তবে এখনো মুনতাসীর মামুনের পক্ষ থেকে কোনো রেসপন্স আমরা পাইনি।

জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর চবির রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষরে মুনতাসীর মামুনকে এই বিষয়ে চিঠি পাঠায় বিশ্ববিদ্যালয়
কর্তৃপক্ষ। এতে বলা হয়, চলতি বছরের ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু চেয়ার নির্বাহী কমিটির সপ্তম সভার সিদ্ধান্ত এবং ১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬২তম সিন্ডিকেট সভার অনুমোদনের ভিত্তিতে ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ থেকে তার নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে বঙ্গবন্ধু চেয়ার নির্বাহী কমিটির ষষ্ঠ সভায় দায়িত্ব পালন না করেও দেড় বছরের বেশি সময় বেতন-ভাতা ভোগের অভিযোগ ওঠে মুনতাসীর মামুনের বিরুদ্ধে।

সভায় বলা হয়, ২০২৩ সালের ৫ মার্চের পর থেকে তিনি কোনো গবেষণা, প্রবন্ধ বা বক্তৃতা আয়োজনের প্রমাণ দিতে পারেননি। বঙ্গবন্ধু চেয়ার পদের নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতি ছয় মাসে চেয়ারকে কাজের অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে হয় এবং বছরে অন্তত দুটি প্রবন্ধ রচনা ও চারটি বক্তৃতা আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে এসব দায়িত্ব পালনের কোনো তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার, জাদুঘর বা রেজিস্ট্রার দপ্তরে পাওয়া যায়নি। এরপর তার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলে তিনি লিখিত উত্তর দিলেও তাতে কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট হয়নি।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, মুনতাসীর মামুনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে শর্তগুলো ছিল, সেগুলো তিনি যথাযথভাবে পালন করেননি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা নিয়েছেন, কিন্তু সে অনুযায়ী কোনো কাজ নেই। তিনি আরও বলেন, আমরা এই পোস্টের জন্য সরকার কিংবা ইউজিসি থেকে কোনো টাকা পাই না। এ পোস্টে থেকে পাবলিকেশন প্রবন্ধ, গবেষণা করার কথা ছিল কিন্তু তিনি কোনো কিছুই করেনি। ৫ আগস্টের পরে এই পদে থেকে ওনার কোনো কাজ আমরা পাইনি, সে কারণে ওনার পদ বাতিল করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৭ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১০তম সিন্ডিকেট সভায় শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্ম নিয়ে গবেষণার জন্য বঙ্গবন্ধু চেয়ার পদ সৃষ্টি করা হয়। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই বছরের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই বছরের ১৫ মার্চ তিনি যোগ দেন। ২০২৩ সালের মার্চে তার মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানো হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী, তিনি প্রথম গ্রেডের অধ্যাপকের মর্যাদা ও মাসিক ১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা বেতন-ভাতা পেতেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির নারী এমপিকে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ

মুনতাসীর মামুনের নিয়োগ বাতিল, টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ

আপডেট সময় ১০:২৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ পদে থাকা ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনের নিয়োগ বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে ২০২৩ সালের
১৫ মার্চের পর থেকে তিনি যে অর্থ নিয়েছেন, তা ফেরত দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৭ অক্টোবর) গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ওনার যে চুক্তি ছিল তা তিনি বাস্তবায়ন করেননি। এ ছাড়া, সময়মতো আসেন না এবং দায়িত্ব পালন করেন না। এসব কারণে ওনার বঙ্গবন্ধু চেয়ার থেকে নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে টাকা তিনি নিয়েছেন, সেগুলো তাকে ফেরত দিতে হবে। তবে এখনো মুনতাসীর মামুনের পক্ষ থেকে কোনো রেসপন্স আমরা পাইনি।

জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর চবির রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষরে মুনতাসীর মামুনকে এই বিষয়ে চিঠি পাঠায় বিশ্ববিদ্যালয়
কর্তৃপক্ষ। এতে বলা হয়, চলতি বছরের ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু চেয়ার নির্বাহী কমিটির সপ্তম সভার সিদ্ধান্ত এবং ১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬২তম সিন্ডিকেট সভার অনুমোদনের ভিত্তিতে ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ থেকে তার নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে বঙ্গবন্ধু চেয়ার নির্বাহী কমিটির ষষ্ঠ সভায় দায়িত্ব পালন না করেও দেড় বছরের বেশি সময় বেতন-ভাতা ভোগের অভিযোগ ওঠে মুনতাসীর মামুনের বিরুদ্ধে।

সভায় বলা হয়, ২০২৩ সালের ৫ মার্চের পর থেকে তিনি কোনো গবেষণা, প্রবন্ধ বা বক্তৃতা আয়োজনের প্রমাণ দিতে পারেননি। বঙ্গবন্ধু চেয়ার পদের নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতি ছয় মাসে চেয়ারকে কাজের অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে হয় এবং বছরে অন্তত দুটি প্রবন্ধ রচনা ও চারটি বক্তৃতা আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে এসব দায়িত্ব পালনের কোনো তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার, জাদুঘর বা রেজিস্ট্রার দপ্তরে পাওয়া যায়নি। এরপর তার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলে তিনি লিখিত উত্তর দিলেও তাতে কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট হয়নি।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, মুনতাসীর মামুনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে শর্তগুলো ছিল, সেগুলো তিনি যথাযথভাবে পালন করেননি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা নিয়েছেন, কিন্তু সে অনুযায়ী কোনো কাজ নেই। তিনি আরও বলেন, আমরা এই পোস্টের জন্য সরকার কিংবা ইউজিসি থেকে কোনো টাকা পাই না। এ পোস্টে থেকে পাবলিকেশন প্রবন্ধ, গবেষণা করার কথা ছিল কিন্তু তিনি কোনো কিছুই করেনি। ৫ আগস্টের পরে এই পদে থেকে ওনার কোনো কাজ আমরা পাইনি, সে কারণে ওনার পদ বাতিল করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৭ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১০তম সিন্ডিকেট সভায় শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্ম নিয়ে গবেষণার জন্য বঙ্গবন্ধু চেয়ার পদ সৃষ্টি করা হয়। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই বছরের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই বছরের ১৫ মার্চ তিনি যোগ দেন। ২০২৩ সালের মার্চে তার মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানো হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী, তিনি প্রথম গ্রেডের অধ্যাপকের মর্যাদা ও মাসিক ১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা বেতন-ভাতা পেতেন।