সংবাদ শিরোনাম ::
গুগলে দেখলাম দুর্নীতিতে এক নম্বরে রাজনীতিবিদরা, দুই নম্বরে আমলারা: রুমিন ফারহানা তালাকের নোটিশের পর শ্বশুরবাড়ি-জামাইপক্ষের বিরোধ, গরু ও মালামাল নেওয়ার অভিযোগ ডিএনসিসির সোহেল মিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পবিপ্রবিতে ব্যবসায় প্রশাসন, সিএসই ও মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষকদের সঙ্গে উপাচার্যের মতবিনিময় বিআইডাব্লিউটিএর প্রকল্প পরিচালক আবুল কালামের দূর্নীতি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার কর্মকর্তা মাহফুজের বিরুদ্ধে নারীকে মারধরের অভিযোগ ১৬তম গ্রেডের কর্মচারী, অথচ কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক! শফিকুল ইসলামের সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন চার্জে লাগিয়ে মোবাইল চালাতে গিয়ে বিস্ফোরণ, প্রাণ গেল মিজানের কমলনগরে ক্ষতিগ্রস্ত ৩ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান  আমশিল্প ও ইপিজেড প্রতিষ্ঠায় বিশেষ গুরুত্বের দাবি, প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের

স্বামী থাকা অবস্থায় ৩য়বার বিয়ে: মোহরানা আদায়ের নামে ব্যবসা

রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার ১৫ নং বড়হযরতপুর ইউনিয়নের রামনাথেরপাড়ায় ঘটেছে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। অভিযোগ উঠেছে—স্বামী থাকা অবস্থায় এক নারী
গোপনে ৩শ বিয়ে করে মোহরানা আদায়ের মাধ্যমে ব্যবসা করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিঠাপুকুর উপজেলার রামনাথেরপাড়ার মো. আশরাফুল ইসলাম (পিতা—ফজল মিয়া) ২০১৮ সালের ১৫ জুন মুসলিম শরিয়ত মোতাবেক বিয়ে করেন পীরগঞ্জ উপজেলার ৪নং কুমেদপুর ইউনিয়নের দিকদুয়ারি গ্রামের শফিকুল ইসলামের মেয়ে মোছাঃ শম্পা বেগমকে।
বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে সংসারে অশান্তি শুরু হয়। একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যস্থতায় সালিশ বৈঠক হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শম্পা বেগম সংসার করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং কিছুদিন স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন। কিন্তু পরবর্তীতে আবারও মোবাইল প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ।
পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠলে আশরাফুল ইসলাম স্ত্রীকে ছেড়ে দেন। এরপর শম্পা বেগম তার স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা দায়ের করেন (মামলা নং: সিআর ৩৬০/২১)। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে দুই পক্ষের মধ্যে মীমাংসা হয় এবং আদালতের উপস্থিতিতে ২০২২ সালের ৪ আগস্ট ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় পুনরায় কাবিননামা সম্পন্ন হয়।

তবে তদন্তে জানা যায়, প্রথম স্বামীর সঙ্গে সংসার চলমান থাকা অবস্থাতেই গোপনে ২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বর শম্পা বেগম নিজেকে “অবিবাহিতা” পরিচয় দিয়ে তৃতীয় বারের মতো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন বড় মির্জাপুর (শঠিবাড়ী), মিঠাপুকুরের মো. মুসাব্বিরুল হোসেনের সঙ্গে। সেই কাবিননামায় মোহরানা ধরা হয় ৩ লক্ষ টাকা।
অল্প কিছুদিন পরই ২০২৪ সালের ১৭ জানুয়ারি শম্পা বেগম ওই তৃতীয় স্বামীকে তালাক দেন এবং কাবিনের ৩ লক্ষ টাকাও আদায় করেন। অথচ প্রথম স্বামী আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে এখনো পর্যন্ত কোনো তালাক সম্পন্ন হয়নি—এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে প্রথম স্বামী আশরাফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন,
আমাকে শেষ করে দিয়েছে শম্পা। আদালতে মামলা দিয়ে নিজে আবার অন্য জায়গায় বিয়ে করে কাবিনের টাকা আদায় করছে। এক স্বামীকে তালাক না দিয়ে অন্যকে বিয়ে করার বিধান কোথায় আছে? আমি দেশের গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ন্যায়বিচার চাই।”
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, স্বামী থাকা অবস্থায় একাধিক বিয়ে ও কাবিনের টাকা আদায়ের এই প্রক্রিয়া যেন এখন ব্যবসায় রূপ নিয়েছে।
এ বিষয়ে আইনজীবীরা মনে করছেন, “প্রথম স্বামীকে তালাক না দিয়ে দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিয়ে ইসলামি শরিয়া ও দেশের প্রচলিত আইনে অবৈধ। এমন কর্মকাণ্ড শাস্তিযোগ্য অপরাধ।”

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গুগলে দেখলাম দুর্নীতিতে এক নম্বরে রাজনীতিবিদরা, দুই নম্বরে আমলারা: রুমিন ফারহানা

স্বামী থাকা অবস্থায় ৩য়বার বিয়ে: মোহরানা আদায়ের নামে ব্যবসা

আপডেট সময় ০২:৫৫:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার ১৫ নং বড়হযরতপুর ইউনিয়নের রামনাথেরপাড়ায় ঘটেছে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। অভিযোগ উঠেছে—স্বামী থাকা অবস্থায় এক নারী
গোপনে ৩শ বিয়ে করে মোহরানা আদায়ের মাধ্যমে ব্যবসা করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিঠাপুকুর উপজেলার রামনাথেরপাড়ার মো. আশরাফুল ইসলাম (পিতা—ফজল মিয়া) ২০১৮ সালের ১৫ জুন মুসলিম শরিয়ত মোতাবেক বিয়ে করেন পীরগঞ্জ উপজেলার ৪নং কুমেদপুর ইউনিয়নের দিকদুয়ারি গ্রামের শফিকুল ইসলামের মেয়ে মোছাঃ শম্পা বেগমকে।
বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে সংসারে অশান্তি শুরু হয়। একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যস্থতায় সালিশ বৈঠক হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শম্পা বেগম সংসার করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং কিছুদিন স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন। কিন্তু পরবর্তীতে আবারও মোবাইল প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ।
পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠলে আশরাফুল ইসলাম স্ত্রীকে ছেড়ে দেন। এরপর শম্পা বেগম তার স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা দায়ের করেন (মামলা নং: সিআর ৩৬০/২১)। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে দুই পক্ষের মধ্যে মীমাংসা হয় এবং আদালতের উপস্থিতিতে ২০২২ সালের ৪ আগস্ট ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় পুনরায় কাবিননামা সম্পন্ন হয়।

তবে তদন্তে জানা যায়, প্রথম স্বামীর সঙ্গে সংসার চলমান থাকা অবস্থাতেই গোপনে ২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বর শম্পা বেগম নিজেকে “অবিবাহিতা” পরিচয় দিয়ে তৃতীয় বারের মতো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন বড় মির্জাপুর (শঠিবাড়ী), মিঠাপুকুরের মো. মুসাব্বিরুল হোসেনের সঙ্গে। সেই কাবিননামায় মোহরানা ধরা হয় ৩ লক্ষ টাকা।
অল্প কিছুদিন পরই ২০২৪ সালের ১৭ জানুয়ারি শম্পা বেগম ওই তৃতীয় স্বামীকে তালাক দেন এবং কাবিনের ৩ লক্ষ টাকাও আদায় করেন। অথচ প্রথম স্বামী আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে এখনো পর্যন্ত কোনো তালাক সম্পন্ন হয়নি—এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে প্রথম স্বামী আশরাফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন,
আমাকে শেষ করে দিয়েছে শম্পা। আদালতে মামলা দিয়ে নিজে আবার অন্য জায়গায় বিয়ে করে কাবিনের টাকা আদায় করছে। এক স্বামীকে তালাক না দিয়ে অন্যকে বিয়ে করার বিধান কোথায় আছে? আমি দেশের গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ন্যায়বিচার চাই।”
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, স্বামী থাকা অবস্থায় একাধিক বিয়ে ও কাবিনের টাকা আদায়ের এই প্রক্রিয়া যেন এখন ব্যবসায় রূপ নিয়েছে।
এ বিষয়ে আইনজীবীরা মনে করছেন, “প্রথম স্বামীকে তালাক না দিয়ে দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিয়ে ইসলামি শরিয়া ও দেশের প্রচলিত আইনে অবৈধ। এমন কর্মকাণ্ড শাস্তিযোগ্য অপরাধ।”