ঢাকা ০৪:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প কেন্দ্রীয় চুক্তিতে যে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ভারত পিএসএলে নিরাপত্তা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগ, যা বলছে পিসিবি যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী পাটুরিয়ায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়, পারাপারে চলছে ১৮টি লঞ্চ চট্টগ্রামে ডিসির নির্দেশে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ মন্ত্রী-এমপিরা কে কোথায় ঈদ করবেন? ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শরীয়তপুর জেলা বি এন পি সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর থানা বি এন পির আহ্বায়ক এস এম এ হামিদ ঈশ্বরদী থেকে এলো উদ্ধারকারী ট্রেন, সৈয়দপুর থেকে আসছে আরেকটি রূহানীনগর এর পক্ষ থেকে সম্মানিত ইমাম-মুয়াজ্জিনগণকে  হাদিয়া প্রদান

নোবিপ্রবি ছাত্রীদের নিয়ে কর্মকর্তার অশালীন মন্তব্য, শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে ছাত্রীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) হাউজিং অ্যান্ড এস্টেট শাখার কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধন শেষে তারা ওই কর্মকর্তার বহিষ্কারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ তামজিদ হোছাইন বরাবর স্মারকলিপি দেন। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল ১৫ অক্টোবর নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজের ছাত্রী সংস্থা নিয়ে একটি পোস্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা আব্দুল কাদের রহমান নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘আর নয় গুপ্ত ও পরকীয়া। এবার স্বামী হিসাবে স্বীকৃতি’ মানহানিকর, কুরুচিপূর্ণ ও বিদ্বেষমূলক এমন মন্তব্য করেন। তারা জানান, আব্দুল কাদের কেবল নোবিপ্রবির ছাত্রীদের ব্যক্তিগত মর্যাদা ও নিরাপত্তাবোধকে হেয় করেনি, বরং নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি সামষ্টিকভাবে ঘৃণাপূর্ণ ও অশালীন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছে। একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে এ ধরনের নিন্দনীয় বক্তব্য কেবল অনভিপ্রেতই নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা, পেশাগত আচরণবিধি ও নারী-পুরুষ সমতার সাংবিধানিক মূল্যবোধেরও পরিপন্থী।

এ বিষয়ে তানজিনা আক্তার রিমি বলেন, ‘ছাত্রীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ, অবমাননাকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আওতাভুক্ত নয়; বরং এটি সরাসরি হয়রানি, চরিত্রহনন ও মানসিক নির্যাতনের শামিল। ভিন্ন আদর্শ, মত বা চিন্তার শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ এই আচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু, নিরাপদ ও সম্মানজনক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার পথে বড় বাধা। আমরা উপযুক্ত বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’ মানববন্ধনে উপস্থিত শিক্ষার্থী রাহীকুম মাখতুম বলেন, ‘নোবিপ্রবি কর্মকর্তা কর্তৃক নারী শিক্ষার্থীদের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

আমরা জানি, আমাদের মা-বাবার পরেই প্রশাসনই আমাদের ভরসার জায়গা। সবসময় তারা আমাদের পাশে দাড়িয়ে অবিভাবকের ভূমিকা পালন করেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।’
উপস্থিত অন্য আরেক শিক্ষার্থী নিশাদ আহমেদ জীবন বলেন, ‘এক কর্মকর্তা কর্তৃক আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্লাট শেমিং করা হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই ক্যাম্পাসে রাজনীতি চাই না।

কিন্তু যে শিক্ষার্থী তার মতাদর্শ প্রকাশ করতে চায়, সে একজন নারী শিক্ষার্থী হোক এবং ছেলে শিক্ষার্থী হোক, শুধুমাত্র রাজনৈতিকভাবে তাকে স্লাট শেমিং করা হয়, এটার জন্য আমি বিন্দুমাত্র ছাড় দেব না।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের এই রাজনৈতিক পরিসরে রাজনৈতিক সচেতন নারীদের অভাব, যখন নারীরা রাজনৈতিক সচেতন হয় সামনে উঠে আসে তখন তাদের স্লাট শেমিং করার একটা কালচার ক্রিয়েট হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশে। এটার বিরুদ্ধে আমার অবস্থান সবসময় থাকবে। স্লাট শেমিংয়ের বিষয়টা আমাদের একজন সহকারী রেজিস্ট্রার করছে। প্রশাসনকে অনতিবিলম্বে তাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে, যাতে করে একজন নারী মতাদর্শ প্রকাশ করতে হেনস্তার শিকার না হতে হয়।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মেহেদি হাসান বলেন, ‘এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ কে সামনে রেখে নারীর ক্ষমতায়নকে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ সরকার কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটা জায়গায় আমাদের নারী শিক্ষার্থীদের বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্যের মাধ্যমে হেনস্তা করা হচ্ছে। ওই কর্মকর্তা নিয়ম ভঙ্গ করে এখন কর্মরত আছে কিন্তু আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কোনো রকম ব্যবস্তা নিতে দেখিনি। তাই আজকের মানববন্ধন থেকে প্রশাসনকে আহ্বান জানাই অনতিবিলম্বে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

মানববন্ধনে ছাত্রীরা আব্দুল কাদেরকে প্রকাশ্যে তার মন্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাটির বিরুদ্ধে অবিলম্বে প্রশাসনিক তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং নারী শিক্ষার্থীদের সম্মানহানি ও নৈতিক হয়রানির দায়ে তার বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি হিসেবে অবিলম্বে ওই কর্মকর্তাকে বহিষ্কারের দাবি জানান।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প

নোবিপ্রবি ছাত্রীদের নিয়ে কর্মকর্তার অশালীন মন্তব্য, শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

আপডেট সময় ০৮:৫৪:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে ছাত্রীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) হাউজিং অ্যান্ড এস্টেট শাখার কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধন শেষে তারা ওই কর্মকর্তার বহিষ্কারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ তামজিদ হোছাইন বরাবর স্মারকলিপি দেন। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল ১৫ অক্টোবর নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজের ছাত্রী সংস্থা নিয়ে একটি পোস্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা আব্দুল কাদের রহমান নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘আর নয় গুপ্ত ও পরকীয়া। এবার স্বামী হিসাবে স্বীকৃতি’ মানহানিকর, কুরুচিপূর্ণ ও বিদ্বেষমূলক এমন মন্তব্য করেন। তারা জানান, আব্দুল কাদের কেবল নোবিপ্রবির ছাত্রীদের ব্যক্তিগত মর্যাদা ও নিরাপত্তাবোধকে হেয় করেনি, বরং নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি সামষ্টিকভাবে ঘৃণাপূর্ণ ও অশালীন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছে। একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে এ ধরনের নিন্দনীয় বক্তব্য কেবল অনভিপ্রেতই নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা, পেশাগত আচরণবিধি ও নারী-পুরুষ সমতার সাংবিধানিক মূল্যবোধেরও পরিপন্থী।

এ বিষয়ে তানজিনা আক্তার রিমি বলেন, ‘ছাত্রীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ, অবমাননাকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আওতাভুক্ত নয়; বরং এটি সরাসরি হয়রানি, চরিত্রহনন ও মানসিক নির্যাতনের শামিল। ভিন্ন আদর্শ, মত বা চিন্তার শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ এই আচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু, নিরাপদ ও সম্মানজনক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার পথে বড় বাধা। আমরা উপযুক্ত বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’ মানববন্ধনে উপস্থিত শিক্ষার্থী রাহীকুম মাখতুম বলেন, ‘নোবিপ্রবি কর্মকর্তা কর্তৃক নারী শিক্ষার্থীদের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

আমরা জানি, আমাদের মা-বাবার পরেই প্রশাসনই আমাদের ভরসার জায়গা। সবসময় তারা আমাদের পাশে দাড়িয়ে অবিভাবকের ভূমিকা পালন করেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।’
উপস্থিত অন্য আরেক শিক্ষার্থী নিশাদ আহমেদ জীবন বলেন, ‘এক কর্মকর্তা কর্তৃক আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্লাট শেমিং করা হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই ক্যাম্পাসে রাজনীতি চাই না।

কিন্তু যে শিক্ষার্থী তার মতাদর্শ প্রকাশ করতে চায়, সে একজন নারী শিক্ষার্থী হোক এবং ছেলে শিক্ষার্থী হোক, শুধুমাত্র রাজনৈতিকভাবে তাকে স্লাট শেমিং করা হয়, এটার জন্য আমি বিন্দুমাত্র ছাড় দেব না।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের এই রাজনৈতিক পরিসরে রাজনৈতিক সচেতন নারীদের অভাব, যখন নারীরা রাজনৈতিক সচেতন হয় সামনে উঠে আসে তখন তাদের স্লাট শেমিং করার একটা কালচার ক্রিয়েট হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশে। এটার বিরুদ্ধে আমার অবস্থান সবসময় থাকবে। স্লাট শেমিংয়ের বিষয়টা আমাদের একজন সহকারী রেজিস্ট্রার করছে। প্রশাসনকে অনতিবিলম্বে তাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে, যাতে করে একজন নারী মতাদর্শ প্রকাশ করতে হেনস্তার শিকার না হতে হয়।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মেহেদি হাসান বলেন, ‘এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ কে সামনে রেখে নারীর ক্ষমতায়নকে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ সরকার কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটা জায়গায় আমাদের নারী শিক্ষার্থীদের বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্যের মাধ্যমে হেনস্তা করা হচ্ছে। ওই কর্মকর্তা নিয়ম ভঙ্গ করে এখন কর্মরত আছে কিন্তু আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কোনো রকম ব্যবস্তা নিতে দেখিনি। তাই আজকের মানববন্ধন থেকে প্রশাসনকে আহ্বান জানাই অনতিবিলম্বে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

মানববন্ধনে ছাত্রীরা আব্দুল কাদেরকে প্রকাশ্যে তার মন্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাটির বিরুদ্ধে অবিলম্বে প্রশাসনিক তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং নারী শিক্ষার্থীদের সম্মানহানি ও নৈতিক হয়রানির দায়ে তার বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি হিসেবে অবিলম্বে ওই কর্মকর্তাকে বহিষ্কারের দাবি জানান।