সংবাদ শিরোনাম ::
আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করলেন আইসিসির তিন বিচারক গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতায় বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হোটেল রুমে স্বামী, পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের ঘরে বিবাদ ১ টাকার দুর্নীতি বের করতে পারলে ইস্তফা দেবো: হাসনাত  আশুরা মানুষকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় : রাষ্ট্রপতি তিস্তা মহাপরিকল্পনায় কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী চীন নরসিংদীতে কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে নিক্ষেপ, যুবক আটক ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত আটকা বহু, উদ্ধারে আসছেন না কেউ বরগুনায় সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে প্যানেল চেয়ারম্যান (ইউপি সদস্যের) বিরুদ্ধে মামলা

জনসন অ্যান্ড জনসনের ট্যালকম পাউডার ক্যানসার সৃষ্টি করে ৯৭ কোটি ডলার জরিমানা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:০০:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫
  • ৬৬৩ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বখ্যাত ওষুধ ও প্রসাধনী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান জনসন অ্যান্ড জনসন কে ট্যালকম পাউডার ব্যবহারে ক্যানসার সৃষ্টি করার দায়ে প্রায় ৯৬৬ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করার আদেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত।
লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি জুরি বোর্ড সোমবার রাতে এই রায় ঘোষণা করে। এতে বলা হয়, কোম্পানির তৈরি ট্যালকম বেবি পাউডারে ক্ষতিকর অ্যাসবেস্টস ফাইবার পাওয়া গেছে, যা ক্যানসারের অন্যতম কারণ।
ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা মে মুর নামের এক নারী ২০২১ সালে বিরল ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মৃত্যুর পর তার পরিবার জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে মামলা করে অভিযোগ তোলে যে, কোম্পানির বেবি পাউডার ও অন্যান্য ট্যালকম পণ্য ব্যবহারের ফলেই তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত হন।
আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়, মুরের ব্যবহৃত ট্যালকম পাউডারে অ্যাসবেস্টস ফাইবার ছিল—যা মানবদেহে প্রবেশ করলে ফুসফুস ও অভ্যন্তরীণ টিস্যুতে ক্যানসার সৃষ্টির ঝুঁকি বাড়ায়।
রায়ে জুরি বোর্ড জনসন অ্যান্ড জনসনকে নির্দেশ দিয়েছে- ১.৬ কোটি ডলার (১৬ মিলিয়ন) মুর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে হবে, এবং ৯৫০ মিলিয়ন ডলার দিতে হবে শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ হিসেবে।
এই রায়ের ফলে কোম্পানির বিরুদ্ধে চলমান হাজারো মামলার মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় জরিমানাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মুর পরিবারের আইনজীবী ট্রে ব্রানহ্যাম রায়ের পর বলেন, “আমরা আশা করি, জনসন অ্যান্ড জনসন অবশেষে এই মৃত্যুর দায় স্বীকার করবে এবং পণ্য নিরাপত্তা বিষয়ে আন্তরিক হবে।”
জনসন অ্যান্ড জনসন দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, তাদের ট্যালকম পাউডারে অ্যাসবেস্টস নেই এবং পণ্যটি নিরাপদ। তবে বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগে একাধিক মামলা চলছে।
বিশ্বজুড়ে ইতোমধ্যেই জনসন অ্যান্ড জনসন ট্যালকম বেবি পাউডার উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে এবং বিকল্প হিসেবে কর্নস্টার্চভিত্তিক পাউডার বাজারে এনেছে।
গত এক দশকে জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে ওভারিয়ান ক্যানসার ও মেসোথেলিওমা রোগে আক্রান্ত নারীদের কাছ থেকে কয়েক হাজার মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলার কিছুতে কোম্পানিকে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে, আবার কিছু রায় আপিল প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রায় প্রতিষ্ঠানটির জন্য কেবল আর্থিক ক্ষতি নয়, বরং তাদের ব্র্যান্ড বিশ্বাসযোগ্যতার ওপরও বড় প্রভাব ফেলবে।
এই রায় ট্যালকম পাউডার ও অন্যান্য কসমেটিক পণ্যের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে এমন পণ্যে স্বচ্ছতা ও কঠোর তদারকি এখন সময়ের দাবি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ

জনসন অ্যান্ড জনসনের ট্যালকম পাউডার ক্যানসার সৃষ্টি করে ৯৭ কোটি ডলার জরিমানা

আপডেট সময় ০১:০০:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫

বিশ্বখ্যাত ওষুধ ও প্রসাধনী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান জনসন অ্যান্ড জনসন কে ট্যালকম পাউডার ব্যবহারে ক্যানসার সৃষ্টি করার দায়ে প্রায় ৯৬৬ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করার আদেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত।
লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি জুরি বোর্ড সোমবার রাতে এই রায় ঘোষণা করে। এতে বলা হয়, কোম্পানির তৈরি ট্যালকম বেবি পাউডারে ক্ষতিকর অ্যাসবেস্টস ফাইবার পাওয়া গেছে, যা ক্যানসারের অন্যতম কারণ।
ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা মে মুর নামের এক নারী ২০২১ সালে বিরল ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মৃত্যুর পর তার পরিবার জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে মামলা করে অভিযোগ তোলে যে, কোম্পানির বেবি পাউডার ও অন্যান্য ট্যালকম পণ্য ব্যবহারের ফলেই তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত হন।
আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়, মুরের ব্যবহৃত ট্যালকম পাউডারে অ্যাসবেস্টস ফাইবার ছিল—যা মানবদেহে প্রবেশ করলে ফুসফুস ও অভ্যন্তরীণ টিস্যুতে ক্যানসার সৃষ্টির ঝুঁকি বাড়ায়।
রায়ে জুরি বোর্ড জনসন অ্যান্ড জনসনকে নির্দেশ দিয়েছে- ১.৬ কোটি ডলার (১৬ মিলিয়ন) মুর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে হবে, এবং ৯৫০ মিলিয়ন ডলার দিতে হবে শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ হিসেবে।
এই রায়ের ফলে কোম্পানির বিরুদ্ধে চলমান হাজারো মামলার মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় জরিমানাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মুর পরিবারের আইনজীবী ট্রে ব্রানহ্যাম রায়ের পর বলেন, “আমরা আশা করি, জনসন অ্যান্ড জনসন অবশেষে এই মৃত্যুর দায় স্বীকার করবে এবং পণ্য নিরাপত্তা বিষয়ে আন্তরিক হবে।”
জনসন অ্যান্ড জনসন দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, তাদের ট্যালকম পাউডারে অ্যাসবেস্টস নেই এবং পণ্যটি নিরাপদ। তবে বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগে একাধিক মামলা চলছে।
বিশ্বজুড়ে ইতোমধ্যেই জনসন অ্যান্ড জনসন ট্যালকম বেবি পাউডার উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে এবং বিকল্প হিসেবে কর্নস্টার্চভিত্তিক পাউডার বাজারে এনেছে।
গত এক দশকে জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে ওভারিয়ান ক্যানসার ও মেসোথেলিওমা রোগে আক্রান্ত নারীদের কাছ থেকে কয়েক হাজার মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলার কিছুতে কোম্পানিকে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে, আবার কিছু রায় আপিল প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রায় প্রতিষ্ঠানটির জন্য কেবল আর্থিক ক্ষতি নয়, বরং তাদের ব্র্যান্ড বিশ্বাসযোগ্যতার ওপরও বড় প্রভাব ফেলবে।
এই রায় ট্যালকম পাউডার ও অন্যান্য কসমেটিক পণ্যের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে এমন পণ্যে স্বচ্ছতা ও কঠোর তদারকি এখন সময়ের দাবি।