ড্রিঙ্কওয়েলের (উইস্ট বাংলাদেশ লিমিটেড) এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিনহাজ চৌধুরী আমেরিকান নাগরিক(দ্বৈত নাগরিক)। মিনহাজ চৌধুরী পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়ের বন্ধু এবং ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসর ও ঢাকা ওয়াসার সাবেক এমডি তাকসিম এ. খানের ছেলের বন্ধু। ড্রিঙ্কওয়েল (উইস্ট বাংলাদেশ লিমিটেড) এর পরিচালক ইমতিয়াজ মোহাম্মদ মোহসিনও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিনহাজ চৌধুরী ও পরিচালক ইমতিয়াজ মোহাম্মদ মোহসিন আওয়ামী লীগের শাসনামলে নিয়মিত দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করতেন এবং অনুদান প্রদান করতেন। আওয়ামী দলীয় ক্ষমতার প্রভাব বলয়ে বেআইনিভাবে এটিএম বুথের কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরেও ঢাকা ওয়াসার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজস করে বেআইনী চুক্তি বহাল রেখে এটিএম বুথ পরিচালনা করে কোটি ।
পিপিআর এবং পিপিএ প্রতিপালন ব্যতিরেকে কোন ধরনের উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়া ”গোপন চুক্তির” আওতায় কাজ বাগিয়ে নেয়ার পর; পুনরায় পাঁচ বছরের জন্যে চুক্তি নবায়ন করার নিমিত্তে ড্রিঙ্কওয়েল কোম্পানির কো-ফাউন্ডার ও সিইও মিনহাজ চৌধুরী ঢাকা ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন। বর্তমানে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত দরপত্র (ওটিএম) বা পিপিপি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে, পর্দার আড়ালে পুনরায় ড্রিঙ্কওয়েল কোম্পানির সঙ্গেই চুক্তি নবায়নের জোর অপতৎপরতা ও দৌড়ঝাঁপ চলছে বলে জানাগেছে।
বিগত নয় বছরে বিনা বিনিয়োগে ড্রিঙ্কওয়েল কোম্পানি ‘ওয়াটার এটিএম’ বুথের বিক্রিত পানির টাকা থেকে প্রায় ১৪০ কোটি হাতিয়ে নিয়েছে। ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ ‘ওয়াটার এটিএম’ বুথের অবকাঠামো নির্মান বাবদ ব্যয় করেছে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। সে হিসাবে ‘ওয়াটার এটিএম’ বুথের প্রকল্পে সরকারের লোকসান হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। ওয়াসা ভবনে ড্রিঙ্কওয়েল (উইস্ট বাংলাদেশ লিমিটেড) এর ব্যবহৃত অফিসের বাজার দর অনুযায়ী মাসিক ভাড়া হয় ৫ লাখ টাকা। অফিস ভাড়া বাবদ নয় বছরে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা গচ্চা দিয়েছে ঢাকা ওয়াসা।
ঢাকা ওয়াসার ‘ওয়াটার এটিএম’ প্রকল্পের সকল অবকাঠামো ও বিনিয়োগ ঢাকা ওয়াসার। কেবল পানি বিক্রির টাকা ঢাকা ওয়াসার না। ঢাকা ওয়াসার বিনিয়োগে ঢাকা শহরে ২৯৪টি ‘ওয়াটার এটিএম’ বুথের বিক্রিত পানির টাকা নিয়ে যাচ্ছে আমেরিকান নাগরিক মিনহাজ চৌধুরীর মালিকানাধিন ড্রিঙ্কওয়েল কোম্পানি। এমনকি বিনা পুঁজিতে ব্যবসা বাগিয়ে নেয়া ড্রিঙ্কওয়েল কোম্পানি ঢাকা ওয়াসা ভবনে ফ্রি অফিসও ব্যবহার করছেন।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, ড্রিঙ্কওয়েল কোম্পানির কো-ফাউন্ডার ও সিইও মিনহাজ চৌধুরীর ব্যবসায়িক পার্টনার হচ্ছেন ঢাকা ওয়াসার সাবেক এমডি এবং ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসর তাকসিম এ. খান। মূলত: কর্পোরেট ফ্যাসিস্ট খ্যাত ঢাকা ওয়াসার সাবেক এমডি তাকসিম এ. খান আমেরিকান নাগরিক এবং ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসর মিনহাজ চৌধুরীর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে ব্যবসা করে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।
৫ আগস্ট-২৪ তারিখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বহুল বিতর্কিত ও সমালোচিত তাকসিম এ. খান ঢাকা ওয়াসার এমডি পদ থেকে পদত্যাগ করে আত্মগোপনে চলে যান। তাকসিম এ. খান পলায়নের পর ঢাকা ওয়াসায় এখন পর্যন্ত একাধিকবার এমডি পরিবর্তন হয়েছে। অথচ তাকসিম এ. খানের পরোক্ষ পার্টনারশীপ থাকা ড্রিঙ্কওয়েল কোম্পানির সাথে চুক্তি আজ পর্যন্ত বাতিল করা হয়নি। বরং ড্রিঙ্কওয়েল কোম্পানিকে পুনরায় পরিচালনার কাজ দেয়ার জন্যে উঠে পড়ে লেগেছে ঢাকা ওয়াসার তাকসিমের দোসর কতিপয় কর্মকর্তা। ঢাকা ওয়াসার একজন তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী ও একাধিক নির্বার্হী প্রকৌশলী ড্রিঙ্কওয়েল কোম্পানি থেকে নিয়মিত মাসোহারা ও উপঢৌকন পাচ্ছেন বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানাগেছে।
বিনা পুঁজিতে ব্যবসা বাগিয়ে নেয়া ড্রিঙ্কওয়েল কোম্পানি কর্মচারিদের ঠিকমত বেতনও পরিশোধ করছে না বলে জানাগেছে। বিগত ঈদের পূর্বে কর্মচারিরা বেতন ও বোনাসের দাবিতে ঢাকা ওয়াসা ভবনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।
ওয়াসার সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য মতে, ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে ভবিষ্যতে যেকোনো নতুন প্রকল্প বা চুক্তি শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘ওপেন টেন্ডার’ বা উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে হবে। কিন্তু সেই নীতিগত সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পর্দার আড়ালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ড্রিঙ্কওয়েল’-এর সঙ্গেই আবারও সমঝোতা চালিয়ে যাওয়ার জোর প্রস্তুতি চলছে।
শুরুতেই ছিল শুভঙ্করের ফাঁকি। নাগরিকদের কম মূল্যে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে ওয়াসা ও ড্রিঙ্কওয়েলের যৌথ উদ্যোগে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পপিপি) মডেলে এই ওয়াটার এটিএম প্রকল্পটি শুরু হয়। চুক্তির শর্ত ছিল:ওয়াসা বুথের সিভিল স্ট্রাকচার বা ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ করবে।ড্রিঙ্কওয়েল অটোমেশন, ফিল্ট্রেশন প্রযুক্তি, স্মার্ট কার্ড ও সার্বিক অপারেশন পরিচালনা করবে। বুথ থেকে অর্জিত আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ উভয় পক্ষ ভাগাভাগি করে নেবে। কিন্তু বাস্তবে এই মডেলটি ওয়াসার জন্য চরম আর্থিক বিপর্যয় নিয়ে আসে।
ঢাকা ওয়াসার নিজস্ব অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনেই স্বীকার করা হয়েছে, প্রকল্পটি শুরু থেকেই তীব্র লোকসানে চলছিল এবং লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, যেকোনো পিপিপি প্রকল্পে বাজারদর নির্ধারণ, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা এবং বিকল্প প্রযুক্তির মূল্যায়ন করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ড্রিঙ্কওয়েলকে কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে এই শর্তগুলো কতটা মানা হয়েছিল, তা নিয়ে ওয়াসার ভেতরেই রয়েছে বিস্তর প্রশ্ন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওয়াসার এক কর্মকর্তা বলেন, “প্রকল্পটি শুরু থেকেই একটি বিশেষ অদৃশ্য সুরক্ষার বলয়ের মধ্যে ছিল। এখানে নিয়ম-কানুন নয়, একটি বিশেষ পক্ষকে সুবিধা দেওয়াই ছিল মূল চালিকাশক্তি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি ড্রিঙ্কওয়েলকে পুনরায় সুবিধা দিতে একটি নতুন ওয়াটার এটিএম ডিজাইন ও মডেল প্রস্তাব করা হয়েছে। এই নতুন মডেলে জালিয়াতি ও চতুরতা আরও বাড়ানো হয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী: এবার বুথ নির্মাণের শতভাগ খরচ বহন করবে ঢাকা ওয়াসা।
এবিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য ড্রিংকওয়েলের সিইও মিনহাজ চৌধুরীর মোবাইলে ফোন করলে তা বন্ধ পাওয়া গেছে।
সংবাদ শিরোনাম ::
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসর মিনহাজ চৌধুরীর কব্জায় ঢাকা ওয়াসার ওয়াটার এটিএম!
-
নিজস্ব প্রতিবেদক - আপডেট সময় ০৬:৩৫:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
- ৫১৫ বার পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ























