শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ৩০ এপ্রিল ২০২৫খ্রি. প্রজ্ঞাপন মোতাবেক মোছা. রোকসানা বেগমকে উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত), মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, রংপুর অঞ্চল, রংপুরের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই এমপিওভুক্তিতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতিতে মেতে উঠেছেন মোছা. রোকসানা বেগম। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যায় রোকসানা বেগম মন্ত্রণালয়ের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে এমপিও প্রার্থীর সাথে যোগসাজসী করে অর্থের বিনিময়ে এমপিওভূক্তির জন্য ফাইল অ্যাপ্রুভ করেন।
রোকসানা বেগম, উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এবং একই অফিসে কর্মরত মো. আশরাফুল আলম মন্ডল, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক এই দুইজন যোগসাজসী করে একসাথে প্রায় এক যুগ ধরে চাকরি করে আসছেন। ইতিপূর্বে তারা নীলফামারী জেলা শিক্ষা অফিস, রংপুর জেলা শিক্ষা অফিস, গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা অফিস এবং সর্বশেষ উপপরিচালকের কার্যালয় রংপুর-এ কর্মরত আছেন যা বাংলাদেশে নজিরবিহিন কোনো ঘটনা। নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে সর্বশেষ আশরাফুল আলম মন্ডল গাইবান্ধা থেকে রংপুর উপপরিচালকের কার্যালয়ে বদলি হয়ে যাওয়ার পরেও গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা অফিসের এমপিও ফাইল গুলোর কাজ করেছেন। আশরাফুল আলম মন্ডল ডিডি রোকসানার আস্থাভাজন হওয়ায় অত্যন্ত সুকৌশলে তারা একই অফিসে বদলি নিয়ে নানা অপকর্ম করে যাচ্ছেন। জুলাই এমপিও মাসে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যায় রোকসানা বেগম মন্ত্রণালয়ের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে এমপিও প্রার্থীর সাথে যোগসাজসী করে অর্থের বিনিময়ে এমপিওভুক্তির জন্য ফাইল অ্যাপ্রুভ করেন। জুলাই/২৫ এমপিওভুক্তিতে দেখা যায় গাইবান্ধা সদর উপজেলাধীন বিনাশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের সহকারী শিক্ষক মোছা. রিনা খাতুন ৫/২/২০১৪খ্রি. যোগদান করেন। রিনা খাতুনের নিয়োগের প্রায় ৮বছর পরে ১/১/২০২২খ্রি. শাখার অনুমোদন পাওয়ায় রোকসানা বেগমের পূর্ববর্তী ডিডি রিনা খাতুনের ফাইল রিজেক্ট করেন। রিনা খাতুন পুনরায় এমপিও আবেদন করলে ডিডি রোকসানার সাথে মোটা অংকের টাকা সমঝোতা হওয়ায় তার ফাইল অ্যাপ্রুভ করেন। অন্যদিকে দারুল ইহসান ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই শিক্ষকের দুটি বিএড সনদ অর্জনকারী শিক্ষকের উচ্চতর স্কেল বা উচ্চতর পদে এমপিওভুক্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি না থাকলেও রোকসানা বেগমের নিকট টাকার বিনিময়ে মিলছে এমপিওভুক্তি। গাইবান্ধা জেলার সদর উপজেলাধীন রহিমা খাতুন সিদ্দিকা মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ হারুন অর রশিদ সরকারের দারুল ইহসান ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি বিএড সনদ হওয়ায় পূর্বের ডিডি আব্দুর রশিদ তার এমপিও ফাইল অ্যাপ্রোভ করেন নাই। হারুন অর রশিদ সরকার এর এমপিও ফাইল অ্যাপ্র্রোভ করার পূর্বেই দারুল ইহসান সনদ দিয়ে উত্তোলনকৃত অর্থ ফেরত নেওয়ার বিধান থাকলেও রোকসানা বেগম তা না করে তার অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক আশরাফুল আলম মন্ডলের মাধ্যমে কয়েক লক্ষাধিক টাকা গ্রহন করে এমপিও ফাইল অ্যাপ্রোভ করেছেন। দুটি বিএড সনদ অর্জনকারী কয়েক হাজার শিক্ষক উচ্চতর স্কেল পাওয়ার অপেক্ষায় থাকলেও সেগুলোকে আমলে না নিয়ে টাকার বিনিময়ে চলছে এমপিও কার্যক্রম। রোকসানা বেগম নতুন শিক্ষকের এমপিও আবেদন ফাইল ও স্কেল সংক্রান্ত ফাইল নিজে যাচাই-বাছাই না করে আশরাফুল আলম মন্ডল কে দিয়ে সকল কাজ করিয়ে নেন যার ফলে সামান্য একজন কর্মচারী হয়ে গাইবান্ধা জেলা শহরে শাপলাপাড়া মোড়ের উত্তর পার্শ্বে কোটি টাকার জায়গা ক্রয় ও চার তলা ভবন নির্মাণ করেছেন। এমতাবস্থায় তাদের যুগলবন্দী হয়ে চাকরি করা ও অনিয়ম করে অর্থের বিনিময়ে এমপিওভুক্তির বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এমপিও এবং উচ্চতর স্কেল প্রার্থী শিক্ষকগণ।
সংবাদ শিরোনাম ::
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রংপুর অঞ্চলের উপপরিচালক কর্তৃক এমপিওভুক্তিতে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ
-
স্টাফ রিপোর্টার - আপডেট সময় ১১:০১:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫
- ৭৮৫ বার পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ




















