সংবাদ শিরোনাম ::
আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করলেন আইসিসির তিন বিচারক গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতায় বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হোটেল রুমে স্বামী, পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের ঘরে বিবাদ ১ টাকার দুর্নীতি বের করতে পারলে ইস্তফা দেবো: হাসনাত  আশুরা মানুষকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় : রাষ্ট্রপতি তিস্তা মহাপরিকল্পনায় কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী চীন নরসিংদীতে কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে নিক্ষেপ, যুবক আটক ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত আটকা বহু, উদ্ধারে আসছেন না কেউ বরগুনায় সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে প্যানেল চেয়ারম্যান (ইউপি সদস্যের) বিরুদ্ধে মামলা

সুবর্ণচরে প্রকল্পের নামে লুটপাট কেন্দ্রবিন্দুতে পিআইও ফরহাদ হোসেন

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জনপ্রতিনিধিদের লাপাত্তা হওয়ার সুযোগে সুবর্ণচরে সরকারি প্রকল্পের নামে চলছে লুটপাটের মহোৎসব। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ফরহাদ হোসেন-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ—তিনি নিজের নিয়ন্ত্রণে প্রকল্প বণ্টন, অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের পুরো প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন, আর প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, তদারকি ও জবাবদিহিতা না থাকায় পিআইও ফরহাদ হোসেন এখন সুবর্ণচর উপজেলা প্রশাসনের “সবচেয়ে প্রভাবশালী কর্মকর্তা।” টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে কমিশন বাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাতের একচেটিয়া নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন তিনি।
টিআর-কাবিখা প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ : ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সুবর্ণচর উপজেলায় টিআর, কাবিখা ও কাবিটা কর্মসূচির আওতায় প্রায় আড়াই কোটি টাকা ও ১৮০ টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ হয়নি। কোথাও নামমাত্র কাজ দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে, কোথাও বরাদ্দের পুরো অর্থই উধাও।
অভিযোগ অনুযায়ী, পিআইও ফরহাদ হোসেন প্রতিটি প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে ৫০ু৬৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন আদায় করেন। প্রকল্প কমিটি গঠনেও চলে পক্ষপাতিত্ব; নিজের পছন্দের লোকদের দিয়ে কমিটি করে অবশিষ্ট টাকার ভাগ নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখেন তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কেউ যদি এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করে, ফরহাদ হোসেন তখন ইউএনওর নাম ব্যবহার করে ভয় দেখান, এমনকি হুমকি দেন।
মাঠের বাস্তবতা: কাগজে প্রকল্প, মাঠে শূন্যতা : চরবাটা ইউনিয়নের হাজী নজির আহম্মদ জামে মসজিদ—দেওয়াল প্লাস্টারের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুর মাওলা জানান, “আমরা সরকারি কোনো টাকা পাইনি; এলাকাবাসীর সহযোগিতায় কাজ করেছি।”
একই ইউনিয়নের মৌলভী শরাফত উল্যাহ জামে মসজিদে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার বরাদ্দের অর্ধেকেরও হদিস নেই।
চরক্লার্ক ইউনিয়নের ইসলামপুর জামে মসজিদে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকার প্রকল্পে এখনো ইটের গাঁথুনি চলছে; প্লাস্টারের কাজ শুরুই হয়নি। পাশের রাস্তার জন্য ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও সেখানে কোনো সংস্কার হয়নি।
চর আমানউল্যাহ ইউনিয়নের তালিমুল কুরআন মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক জানেনই না, তাদের নামে কোনো বরাদ্দ হয়েছে। অথচ নথিতে দেখা যায়—সংস্কারের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
চরজব্বার ইউনিয়নের চরহাসান মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার বরাদ্দ ছিল, কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তা জানেন না।
চরজুবলী ইউনিয়নের অলিউল্যাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের জন্য বরাদ্দকৃত ২ লাখ টাকার মধ্যে মাত্র ৩০-৩৫ হাজার টাকার কাজ হয়েছে; বাকি টাকা ভাগ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ।
প্রকল্প তালিকা গোপন, সাইনবোর্ড নেই : সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি প্রকল্পের তালিকা উপজেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ ও প্রকল্প সাইটে সাইনবোর্ড টানানোর কথা। কিন্তু সুবর্ণচর উপজেলার পিআইও অফিস কিংবা ইউএনওর ওয়েবসাইট—কোথাও সেই তালিকা নেই।
কয়েক দফা অনুরোধ সত্ত্বেও পিআইও ফরহাদ হোসেন প্রকল্প তালিকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। একাধিক সূত্র বলছে, তালিকা গোপন রাখাই তাঁর কৌশল, যাতে প্রকল্পের বাস্তবচিত্র যাচাই করা না যায়।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ফরহাদ হোসেন বলেন, “সব প্রকল্পের কাজ জুনের আগেই শেষ হয়েছে। কাজ বুঝে নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতিকে অর্থ দেওয়া হয়েছে। শতভাগ কাজ কখনো হয় না। কাজ আদায় করতে চাপ দিতে হয়—তাই কেউ কেউ ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযোগ করছেন।” তবে তিনি স্বীকার করেন যে, “কিছু প্রকল্পে ছোটখাটো বিলম্ব থাকতে পারে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাবেয়া আসফার সায়মা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কাজ হয়নি বা অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, “পিআইও ফরহাদ হোসেন ইতোমধ্যে বদলি হয়েছেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জেলা কার্যালয়ে আসেনি।”
জেলা প্রশাসক খন্দকার ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, “কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি, প্রশাসনিক তদারকির দুর্বলতা ও পিআইও ফরহাদ হোসেনের একক নিয়ন্ত্রণ সুবর্ণচরের সরকারি প্রকল্পগুলোকে দুর্নীতির চক্রে ফেলেছে। প্রকল্প তালিকা গোপন রাখা এবং কাজের অনুপস্থিতি—সবই ইঙ্গিত দেয় পরিকল্পিত আত্মসাতের দিকে।
জনগণের তহবিলের এই অপব্যবহার ও পিআইওর বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগ এখন প্রশাসনিক তদন্তের দাবি রাখে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ

সুবর্ণচরে প্রকল্পের নামে লুটপাট কেন্দ্রবিন্দুতে পিআইও ফরহাদ হোসেন

আপডেট সময় ১২:৩৪:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জনপ্রতিনিধিদের লাপাত্তা হওয়ার সুযোগে সুবর্ণচরে সরকারি প্রকল্পের নামে চলছে লুটপাটের মহোৎসব। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ফরহাদ হোসেন-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ—তিনি নিজের নিয়ন্ত্রণে প্রকল্প বণ্টন, অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের পুরো প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন, আর প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, তদারকি ও জবাবদিহিতা না থাকায় পিআইও ফরহাদ হোসেন এখন সুবর্ণচর উপজেলা প্রশাসনের “সবচেয়ে প্রভাবশালী কর্মকর্তা।” টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে কমিশন বাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাতের একচেটিয়া নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন তিনি।
টিআর-কাবিখা প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ : ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সুবর্ণচর উপজেলায় টিআর, কাবিখা ও কাবিটা কর্মসূচির আওতায় প্রায় আড়াই কোটি টাকা ও ১৮০ টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ হয়নি। কোথাও নামমাত্র কাজ দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে, কোথাও বরাদ্দের পুরো অর্থই উধাও।
অভিযোগ অনুযায়ী, পিআইও ফরহাদ হোসেন প্রতিটি প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে ৫০ু৬৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন আদায় করেন। প্রকল্প কমিটি গঠনেও চলে পক্ষপাতিত্ব; নিজের পছন্দের লোকদের দিয়ে কমিটি করে অবশিষ্ট টাকার ভাগ নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখেন তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কেউ যদি এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করে, ফরহাদ হোসেন তখন ইউএনওর নাম ব্যবহার করে ভয় দেখান, এমনকি হুমকি দেন।
মাঠের বাস্তবতা: কাগজে প্রকল্প, মাঠে শূন্যতা : চরবাটা ইউনিয়নের হাজী নজির আহম্মদ জামে মসজিদ—দেওয়াল প্লাস্টারের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুর মাওলা জানান, “আমরা সরকারি কোনো টাকা পাইনি; এলাকাবাসীর সহযোগিতায় কাজ করেছি।”
একই ইউনিয়নের মৌলভী শরাফত উল্যাহ জামে মসজিদে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার বরাদ্দের অর্ধেকেরও হদিস নেই।
চরক্লার্ক ইউনিয়নের ইসলামপুর জামে মসজিদে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকার প্রকল্পে এখনো ইটের গাঁথুনি চলছে; প্লাস্টারের কাজ শুরুই হয়নি। পাশের রাস্তার জন্য ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও সেখানে কোনো সংস্কার হয়নি।
চর আমানউল্যাহ ইউনিয়নের তালিমুল কুরআন মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক জানেনই না, তাদের নামে কোনো বরাদ্দ হয়েছে। অথচ নথিতে দেখা যায়—সংস্কারের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
চরজব্বার ইউনিয়নের চরহাসান মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার বরাদ্দ ছিল, কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তা জানেন না।
চরজুবলী ইউনিয়নের অলিউল্যাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের জন্য বরাদ্দকৃত ২ লাখ টাকার মধ্যে মাত্র ৩০-৩৫ হাজার টাকার কাজ হয়েছে; বাকি টাকা ভাগ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ।
প্রকল্প তালিকা গোপন, সাইনবোর্ড নেই : সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি প্রকল্পের তালিকা উপজেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ ও প্রকল্প সাইটে সাইনবোর্ড টানানোর কথা। কিন্তু সুবর্ণচর উপজেলার পিআইও অফিস কিংবা ইউএনওর ওয়েবসাইট—কোথাও সেই তালিকা নেই।
কয়েক দফা অনুরোধ সত্ত্বেও পিআইও ফরহাদ হোসেন প্রকল্প তালিকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। একাধিক সূত্র বলছে, তালিকা গোপন রাখাই তাঁর কৌশল, যাতে প্রকল্পের বাস্তবচিত্র যাচাই করা না যায়।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ফরহাদ হোসেন বলেন, “সব প্রকল্পের কাজ জুনের আগেই শেষ হয়েছে। কাজ বুঝে নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতিকে অর্থ দেওয়া হয়েছে। শতভাগ কাজ কখনো হয় না। কাজ আদায় করতে চাপ দিতে হয়—তাই কেউ কেউ ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযোগ করছেন।” তবে তিনি স্বীকার করেন যে, “কিছু প্রকল্পে ছোটখাটো বিলম্ব থাকতে পারে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাবেয়া আসফার সায়মা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কাজ হয়নি বা অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, “পিআইও ফরহাদ হোসেন ইতোমধ্যে বদলি হয়েছেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জেলা কার্যালয়ে আসেনি।”
জেলা প্রশাসক খন্দকার ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, “কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি, প্রশাসনিক তদারকির দুর্বলতা ও পিআইও ফরহাদ হোসেনের একক নিয়ন্ত্রণ সুবর্ণচরের সরকারি প্রকল্পগুলোকে দুর্নীতির চক্রে ফেলেছে। প্রকল্প তালিকা গোপন রাখা এবং কাজের অনুপস্থিতি—সবই ইঙ্গিত দেয় পরিকল্পিত আত্মসাতের দিকে।
জনগণের তহবিলের এই অপব্যবহার ও পিআইওর বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগ এখন প্রশাসনিক তদন্তের দাবি রাখে।