ঢাকা ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভাগ্নি-জামাই-ভাগিনা’দের দাপটে সক্রিয় আওয়ামী দুর্নীতিবাজরা দক্ষিণ আফ্রিকায় পরিত্যক্ত খনিতে ঢুকে ১৪ জনের মৃত্যু আউটসোর্সিং ঠিকাদার প্রথা বাতিল না হলে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত হবে না: শিমুল বিশ্বাস মির্জাপুরে নবাগত ইউএনও হিসেবে জহিরুল আলমের যোগদান ৩ জন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদকে পবিপ্রবি’র রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য মনোনয়ন দিলেন চ্যান্সেলর আদিতমারীতে সার আইন লঙ্ঘনে ২ ব্যবসায়ীকে জরিমানা ৫ মাদরাসায় শতভাগ ফেল করায় সিসিটিভিকে দায়ী করলেন অধ্যক্ষ কম্ব্যাট পাইলট হয়ে দেশ ও জাতির সেবা করতে চায় জুয়ারিয়া ১৮ আগস্ট থেকে কুমিল্লায় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান, ‘কাউকে ছাড় নয়’ ধামরাইয়ে রাইস মিল ও ৩ মিষ্টির দোকানকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা

নির্বাহী প্রকৌশলী জসিমের সম্পদের পাহাড়

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০৯:৩১:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৭৩৬ বার পড়া হয়েছে

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের (মসিক) নির্বাহী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন। তিনি ছিলেন ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র ইকরামুল হক টিটুর আস্থাভাজন। মেয়র টিটুর প্রভাব খাটিয়ে গড়েছেন অঢেল সম্পদ। প্রকৌশলীর পদ যেন জসিমের কাছে টাকার মেশিন। তিনি যেদিকে যান সেদিকে টাকা আর টাকা। আওয়ামী সরকারের পতনের পরও তিনি ময়মনসিংহে বহাল তবিয়তে।

কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার নজির দীঘি কাপাশাটিয়া গ্রামের আবু ছিদ্দিকের ছেলে জসিম উদ্দিন। ঢাকা পলিটেকনিক থেকে পাস করে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং করেন। তিনি ঢাকা পলিটেকনিক ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরবর্তীতে আওয়ামী নেতাদের সুপারিশে চাকরি পান। এ চাকরিই যেন তাকে আলাদিনের চেরাগ পাইয়ে দিয়েছে। ১০-১২ বছরে হয়েছেন কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক। অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদার কাজের জন্য তার নির্দেশ মোতাবেক কাজের মান এদিক-সেদিক হলে তার জন্য ৪০% কমিশন দিতে হয়। সরজমিনে অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, ময়মনসিংহ সদরে নিজের নামে বলাশপুর মৌজায় ৬০৬৫ নং দাগে ৪ শতক, ছত্রপুর মৌজায় ২৫ নং দাগে তার ও স্ত্রীর নামে ৬.৫ শতক, বাড়েরা মৌজায় ৭৫৮১ নং দাগে ৩.৪ শতক, মাসকান্দা মৌজায় ১৯৪০ নং দাগে ৫.৩ শতক জমি কিনেছেন। যার বর্তমান বাজারমূল্য ১০ কোটি টাকার উপরে। মিরপুর বাওলিয়ায় নিজের নামে প্রায় কোটি টাকার একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। ত্রিশাল উপজেলার সাখুয়া মৌজায় ৫৩১৬ নং দাগে ১৬.৫ শতক জমি।

এ ছাড়াও মাসকান্দায় ৫ তলা ফাউন্ডেশন চার ইউনিটের দুই তলা কমপ্লিট একটি বাড়ি রয়েছে। ৩৪ লাখ টাকা মূল্যের প্রিমিও আঠারো মডেলের একটি গাড়ি তার স্ত্রী ব্যবহার করেন। নামে-বেনামে রয়েছে অঢেল সম্পদ। এ ছাড়াও স্ত্রী সালমা আক্তারের নামে কোটি টাকার এফডিআর। সন্তানদের নামেও কোটি টাকার বীমা করা আছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে সঙ্গেই অতুল চক্রবর্তী রোডে পঞ্চনীড় টাওয়ারের ষষ্ঠ তলায় কোটি টাকায় কেনা তিন ইউনিটের একটি ফ্লোর পুরোটাই তার স্ত্রীর নামে। সেখানেই পরিবার নিয়ে বসবাস করেন প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন। ভেতরে ঢুকেই চোখ ধাঁধানো ডিজাইন দেখে অবাক হবেন যে কেউ। সৌন্দর্যবর্ধনে হাজার হাজার লাইটের পয়েন্ট রাখা হয়েছে। দেখলেই শখ ও সাধ্যের অনুমান করা যায়। কোটি টাকা খরচ করে সাজানো হয়েছে এ বাড়িটি। তার গ্রামের মানুষ জানান, জসিম উদ্দিন বড় চাকরি করেন বলে জানেন তারা। তবে বিপুল অর্থসম্পদের মালিক তা এলাকার কেউ জানেন না। মাসকান্দা এলাকার স্থানীয় আফছর উদ্দিন বলেন, জসিম স্যার সিটি করপোরেশনের বড় অফিসার। তিনি এই বাড়িতে থাকেন না, ভাড়া দিয়েছেন। পাশেই ছত্রপুর, বাড়েরায় তার আরও জায়গা আছে। ঢাকায় তার বাড়ি আছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জসিম উদ্দিন বলেন, আমার পদমর্যাদা অনুযায়ী যে সম্পদ করেছি তা অতি সামান্য। আরও বেশি করার কথা। আমি যা করেছি সবই বৈধ সম্পদ। পঞ্চনীড়ের ছয়তলা ফ্লোর তার শ্বশুরের কেনা বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, আমি ১০ বছর এখানেই আছি। একটি মহল সুবিধা নিতে না পারায় তারা আমার বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভাগ্নি-জামাই-ভাগিনা’দের দাপটে সক্রিয় আওয়ামী দুর্নীতিবাজরা

নির্বাহী প্রকৌশলী জসিমের সম্পদের পাহাড়

আপডেট সময় ০৯:৩১:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের (মসিক) নির্বাহী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন। তিনি ছিলেন ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র ইকরামুল হক টিটুর আস্থাভাজন। মেয়র টিটুর প্রভাব খাটিয়ে গড়েছেন অঢেল সম্পদ। প্রকৌশলীর পদ যেন জসিমের কাছে টাকার মেশিন। তিনি যেদিকে যান সেদিকে টাকা আর টাকা। আওয়ামী সরকারের পতনের পরও তিনি ময়মনসিংহে বহাল তবিয়তে।

কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার নজির দীঘি কাপাশাটিয়া গ্রামের আবু ছিদ্দিকের ছেলে জসিম উদ্দিন। ঢাকা পলিটেকনিক থেকে পাস করে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং করেন। তিনি ঢাকা পলিটেকনিক ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরবর্তীতে আওয়ামী নেতাদের সুপারিশে চাকরি পান। এ চাকরিই যেন তাকে আলাদিনের চেরাগ পাইয়ে দিয়েছে। ১০-১২ বছরে হয়েছেন কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক। অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদার কাজের জন্য তার নির্দেশ মোতাবেক কাজের মান এদিক-সেদিক হলে তার জন্য ৪০% কমিশন দিতে হয়। সরজমিনে অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, ময়মনসিংহ সদরে নিজের নামে বলাশপুর মৌজায় ৬০৬৫ নং দাগে ৪ শতক, ছত্রপুর মৌজায় ২৫ নং দাগে তার ও স্ত্রীর নামে ৬.৫ শতক, বাড়েরা মৌজায় ৭৫৮১ নং দাগে ৩.৪ শতক, মাসকান্দা মৌজায় ১৯৪০ নং দাগে ৫.৩ শতক জমি কিনেছেন। যার বর্তমান বাজারমূল্য ১০ কোটি টাকার উপরে। মিরপুর বাওলিয়ায় নিজের নামে প্রায় কোটি টাকার একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। ত্রিশাল উপজেলার সাখুয়া মৌজায় ৫৩১৬ নং দাগে ১৬.৫ শতক জমি।

এ ছাড়াও মাসকান্দায় ৫ তলা ফাউন্ডেশন চার ইউনিটের দুই তলা কমপ্লিট একটি বাড়ি রয়েছে। ৩৪ লাখ টাকা মূল্যের প্রিমিও আঠারো মডেলের একটি গাড়ি তার স্ত্রী ব্যবহার করেন। নামে-বেনামে রয়েছে অঢেল সম্পদ। এ ছাড়াও স্ত্রী সালমা আক্তারের নামে কোটি টাকার এফডিআর। সন্তানদের নামেও কোটি টাকার বীমা করা আছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে সঙ্গেই অতুল চক্রবর্তী রোডে পঞ্চনীড় টাওয়ারের ষষ্ঠ তলায় কোটি টাকায় কেনা তিন ইউনিটের একটি ফ্লোর পুরোটাই তার স্ত্রীর নামে। সেখানেই পরিবার নিয়ে বসবাস করেন প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন। ভেতরে ঢুকেই চোখ ধাঁধানো ডিজাইন দেখে অবাক হবেন যে কেউ। সৌন্দর্যবর্ধনে হাজার হাজার লাইটের পয়েন্ট রাখা হয়েছে। দেখলেই শখ ও সাধ্যের অনুমান করা যায়। কোটি টাকা খরচ করে সাজানো হয়েছে এ বাড়িটি। তার গ্রামের মানুষ জানান, জসিম উদ্দিন বড় চাকরি করেন বলে জানেন তারা। তবে বিপুল অর্থসম্পদের মালিক তা এলাকার কেউ জানেন না। মাসকান্দা এলাকার স্থানীয় আফছর উদ্দিন বলেন, জসিম স্যার সিটি করপোরেশনের বড় অফিসার। তিনি এই বাড়িতে থাকেন না, ভাড়া দিয়েছেন। পাশেই ছত্রপুর, বাড়েরায় তার আরও জায়গা আছে। ঢাকায় তার বাড়ি আছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জসিম উদ্দিন বলেন, আমার পদমর্যাদা অনুযায়ী যে সম্পদ করেছি তা অতি সামান্য। আরও বেশি করার কথা। আমি যা করেছি সবই বৈধ সম্পদ। পঞ্চনীড়ের ছয়তলা ফ্লোর তার শ্বশুরের কেনা বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, আমি ১০ বছর এখানেই আছি। একটি মহল সুবিধা নিতে না পারায় তারা আমার বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে।