সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার পাইকুরাটি ইউনিয়নে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলাকে ঘিরে দেখা দিয়েছে রহস্য। মামলায় উল্লেখিত গরু ও ধান উদ্ধারের ঘটনায় একের পর এক অসঙ্গতি ধরা পড়ায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—আসলেই কি সেখানে লুটপাট হয়েছিল, নাকি মামলা সাজানো হয়েছিল প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য?
ঘটনাটি ঘটেছে ধর্মপাশার পাইকুরাটি ইউনিয়নের চকিয়াচাপুর গ্রামে। গত ২৭ আগস্ট ওই গ্রামের হাবিকুল ইসলাম ১৭ জনের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন।
গরুর হিসাব নিয়ে ধোঁয়াশা
মামলার এজাহারে প্রথমে ১২টি গরুর কথা উল্লেখ করা হলেও পরে টাইপকৃত কপিতে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৯-এ। এর মধ্য থেকে পুলিশ মোট ৭টি গরু উদ্ধার করে। তবে উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর বেশিরভাগই বাদীপক্ষের আত্মীয়স্বজনদের বাড়ি থেকে পাওয়া যায়।
বাদীপক্ষের আত্মীয় সিদ্দিকের মেয়ে অভিযোগ করে বলেন, “একটি ছেলে এসে বলল, আমরা বিপদে আছি, গরুগুলো এখানে রেখে যাচ্ছি। কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে সেগুলো নিয়ে যায়।”
পরিত্যক্ত সৌর প্রকল্পের একটি ঘর থেকেও ২টি গরু উদ্ধার করা হয়। তবে কে বা কারা সেখানে রেখেছে, তা কেউ জানাতে পারেনি। পার্শ্ববর্তী বরই গ্রামের একটি চর থেকেও দুটি গরু পাওয়া যায়। এছাড়া বজলুর রহমানের বাড়ি থেকেও ২টি গরু উদ্ধার হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি কয়েকদিন আগে গরু বিক্রি করেছেন। বিক্রির কোনো প্রমাণ তিনি দেখাতে পারেননি। অথচ উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর রঙ ও বৈশিষ্ট্য মামলার গরুর সঙ্গেই মিলে যায়।
ধান উদ্ধার নিয়েও প্রশ্ন
অন্যদিকে, মামলায় লুট হওয়া ৬০ মণ ধান উদ্ধার হয় বাদীর আত্মীয়ের ঘর থেকেই। স্থানীয় চেয়ারম্যান মুজাম্মেল হক বলেন, “এখানে কোনো লুটপাট হয়নি। বাদী নিজের ঘর থেকেই ধান এনে পুলিশকে দেখিয়েছে।”
জনমনে সন্দেহ
মামলার এজাহারে অসঙ্গতি, উদ্ধার হওয়া গরু-ধানের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং সরাসরি প্রমাণের অভাব—সব মিলিয়ে মামলাটি এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। এলাকায় এখন আলোচনার মূল বিষয়—আসলেই কি ধর্মপাশায় লুটপাট হয়েছিল, নাকি মামলা সাজানো হয়েছিল প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য?
এমন প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি 





















