ভোলার, বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের মূলাইপত্তন ৮ নং ওয়ার্ডের সরকার বাড়ীর ইজমালি পুকুর থেকে মাছ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে, স্হানীয় আওয়ামী লীগের নেতা হারুন মিয়ার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটে বুধবার সকাল আনুমানিক আটটার দিকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন – আওয়ামী লীগের আমলে হারুন মেম্বার আমাদের মূলাইপত্তনে হিন্দুদের ওপর যেই ভাবে মানুষিক টর্চার করেছেন তা বললে শেষ হবেনা। জমি দখল, জোরপূর্বক আমাদের জমিন অন্যদের দিয়ে দেওয়া, তার সাথে স্বাভাবিক ভাবে কোন কথা বলা যেতোনা। সাবেক এমপি আলী আজম মুকুল এর দুলাভাই জাফর উল্ল্যাহ চৌধুরীর নাম দিয়ে টবগী ইউনিয়নে শালিস বানিজ্য থেকে শুরু করে যেই কোন বিষয় তার কাছে গিয়ে কোন সুবিচার পাওয়া যেতোনা। জাফর উল্ল্যাহ চৌধুরীর ক্ষমতা দিয়ে দীর্ঘ ১৭ বছর টবগী ইউনিয়ন তিনি শাসন করেছেন। কেউ তার কাছে অভিযোগ নিয়ে গেলে আসামী পক্ষ না আসতে চাইলে হারুন মিয়া তার লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে জোরপূর্বক তার ক্লাবে নিয়ে আসতেন।
আরও একজন ভুক্তভোগী জানান, হারুন মিয়ার মার্কেটটি তার নিজ নামে রাখা হয়। এই মার্কেটে একটি ক্লাব ছিলো সকল ধরনের শালিস এই ক্লাবে হতো, কেউ কথা না শুনলে ক্লাবে আটকিয়ে রেখে বোরহানউদ্দিন থানায় কল দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিতেন, এমন অসংখ্য ঘটনা রয়েছে এই হারুন মিয়ার নামে। কারো জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ আছে, হারুন মিয়ার কাছে আসলেই দলিলে পাবেনা, ওই জমি নিজে দাড়িয়ে থেকে দখল করে দিতেন। এক একটা শালিসি তাকে ৫০০০/ হাজার টাকা করে দেওয়া লাগতো, দৈনিক সকাল থেকে রাত অব্দি ৯/১০ টা শালিসি করতেন, এইভাবেই মানুষের কাছ থেকে টাকা কামিয়েছেন হারুন মেম্বার।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বাড়ীর সবাই মিলে এজমালি পুকুরে মাছ চাষ করি,মাঝে মধ্যে মেহমান আসলে কিংবা কোন উপলক্ষে সবার মতে মাছ ধরা হয়, আমাদের বাড়ীর পুরুষরা অধিকাংশই চাকরির সুবাধে এলাকার বাহিরে থাকে। আমরা মহিলারাই বাড়ীতে বসবাস করি, গত বুধবার সকালে মনিরাম বাজারের সাবেক হারুন মেম্বার (আওয়ামী লীগের নেতা) তিনি আমাদের কারো সাথে কোন কথা না বলেই, আমাদের পুকুর থেকে ৪/৫ জন লোক মিলে মাছ ধরা শুরু করেছেন, পরে লোক মারফত জানতে পারলে বাড়ীর সবাইকে মাছ ধরার বিষয় কোন অনুমতি দিয়েছে কিনা, জিজ্ঞেস করলে কেউ কিছু জানেনা বলে। পরে আমরা কয়েকজন মিলে হারুন মিয়াকে মাছ ধরতে বাঁধ দেই। এমনকি ৯৯৯ কল দিলে পুলিশ আসতে আসতে তারা ২০/২৫ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নিয়ে দ্রুত চলে যান। পরে পুলিশ আসলে পুরো বিষয়টি তাদেরকে জানাই, পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন লিখিত অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
অন্যদিকে অভিযুক্ত হারুন মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান- মাছ ধরার বিষয় আমি সপ্তাহ খানিক আগে তাদের বাড়ীতে গিয়ে অনুমতি নিয়েছি, এবং তারা আমাকে মাছ ধরতে বলেছেন, তাই কাউকে আর কিছু না বলেই মাছ ধরেছি।
ভুক্তভোগী প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এবিষয়ে বোরহানউদ্দিন থানার ওসি সিদ্দিকুর রহমান জানান, উল্লেখিত বিষয় ৯৯৯ কল দিলে, ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছে, এবং তদন্তও করেছেন তবে লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
রিয়াজ ফরাজি (ভোলা) 



















