ঢাকা ১০:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাদারীপুরের রাজৈর এ অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা -২০২৬ এর পরীক্ষা শুরু ডিপ্লোমা পাস করার ৩ বছর পূর্বেই সহকারী কৃষি শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছে আবুল কালাম আজাদ গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ বরিশালে কাস্টমস কর্মকর্তাকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ—ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলা, প্রত্যাহারে হুমকির দাবি এক মাসে দুইবার বাড়লো এলপিজির দাম, ১২ কেজি ১৯৪০ টাকা ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু সেই ভুয়া আজিজের সহযোগী ইউসুফ রিমান্ডে জ্বালানির সংকট নেই, অসাধু সিন্ডিকেটে পাম্পগুলোতে কৃত্রিম সংকট হচ্ছে তারাকান্দায় বিএনপির দুই গ্রুপের কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে হঠাৎ ছিটকে পড়ে বাসচাপায় ঠিকাদার নিহত
চাকুরী দেয়ার নাম করে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা

ভয়ংকর প্রতারক মাসুদের খপ্পরে নিঃস্ব শত পরিবার

ঢাকার এক ভয়ংকর প্রতারক মাসুদুর রহমানের খপ্পরে পরে নিঃস্ব শত পরিবার । চাকুরী দেয়ার নাম করে হাতিয়ে নিয়েছে শতকোটি টাকা। তার গ্ৰামের বাড়ি নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার দক্ষিণ কাঁচি কাটা এলাকায়। তথ্য সূত্রে জানা যায়, মাসুদ নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার মৃত চান মিয়া বেপারীর ছেলে। বর্তমানে ঢাকার বসুন্ধরা এলাকায় এক্সপোর্ট ও ইম্পোর্ট ব্যবসা করেন বলে মানুষের কাছে পরিচয় দিয়ে থাকেন। ব্যবসার আড়ালে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরি দেয়ার নাম করে প্রতারণা করে হাতিয়ে নিয়েছে শতকোটি টাকা।
তথ্য সূত্রে আরো জানা যায়, মাসুদ গত মে মাসে সরকারি নিরাপত্তা সংস্থা এন এস আইতে চাকুরী দেয়ার কথা বলে ভোলার মুহাইমিনুল ইসলাম আবিরের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। টাকার সিকিউরিটি বাবদ ৩ শত টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি ও দুই লাখ টাকা করে ডাচ বাংলা ব্যাংকের তার একাউন্ট নাম্বারের দুটি চেক প্রদান করেন। শর্ত সাপেক্ষে যদি সে এমসিকিউ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয় তাহলে মাসুদ পনের দিনের মধ্যে টাকা ফেরত দিয়ে দেবে।
যখন পরীক্ষার্থী প্রাথমিক বাছাই পর্বে অকৃতকার্য হয় তখন মাসুদের কাছে টাকা চাইতে গেলে সে পনের দিনের মধ্যে টাকা ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আজ অবদি টাকা ফেরত দেয় নি। দেই দিচ্ছি বলে কালক্ষেপণ করছে। উপায় অন্তর না পেয়ে বিগত ২৫ আগস্ট পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ( ক্রাইম এন্ড অপারেশন) ডি এম পি বরাবর প্রতিকার ও আইনী সহায়তা চেয়ে আবেদন করলে তিনি ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জকে বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্ৰহণ করতে বলেন। ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য এস আই হাফিজুর রহমানকে নির্দেশ দেন। এস আই হাফিজুর রহমান অভিযুক্ত মাসুদকে একাধিকবার থানায় হাজির হওয়ার জন্য তার ব্যবহৃত মুঠো ফোনে কল করলে সে আসছি ,আসব ও অসুস্থ আছে বলে মিথ্যা কথা বলে যাচ্ছে।টাক নেয়ার কথা স্বীকার করলেও টাকা ফেরত দেয়ার ব্যপারে কোন প্রকার উদ্যোগ নেই। এখন পর্যন্ত মাসুদ থানায় না এসে প্রসাশনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

মাসুদুর রহমানের অপকর্ম ও প্রতারণার অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেড়িয়ে আসে অনেক ভয়ংকর চাঞ্চল্যকর তথ্য। মাসুদ তার গ্ৰামের বাড়িতে থাকাকালীন সময়ে তার বাবার কাছে মাদকের টাকা চাইতে গেলে তার বাবা টাকা না দেয়ায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে তার বাবার মাথা ফাটিয়ে মাটিতে ফেলে দিয়ে বাবার গলায় পাড়া দিয়ে ধরে মৃত্যুর কাছাকাছি নিয়ে যায়। তার বাবার আত্মচিৎকার শুনে আসপাশের লোকজন ছুটে এসে তার বাবাকে প্রাণে রক্ষা করে। তার এলাকাতেই সে মাদকের হাতেখড়ি নেন। মাসুদ কয়েকবার জেল খাটার পর নরসিংদী থেকে ঢাকায় পালিয়ে এসে মোহাম্মদপুরে মাদকের আন্ডার ওয়াল্ডের সাথে জড়িত হন। প্রথমে দের যুগ ধরে মোহাম্মদপুরে তার মাদকের ব্যবসা চালিয়ে যান। মাদক বিক্রি করতে একটি স্যান্ডিগেট ঘরে তোলেন। গাঁজা, ইয়াবা , হেরোইন,মদ,শীশা, ফেন্সিডিলের ব্যবসা চালিয়ে যান মোহামপুরে । ফলে পুরো দের যুগ মোহাম্মদপুর , ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, চকবাজার, কামরাঙ্গীরচর মাদকের সম্রাজ্য মাসুদ নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন। তার সাথে তৎকালীন আওয়ামী লীগের কক্সবাজারের এমপি বদির সাথে সখ্যতা ছিল সেই সুবাদে দেশি-বিদেশি মাদক পেতে তার বেগ পেতে হতো না। তার মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করতেন মৌমিতা নামের এক সুন্দরী। খদ্দেরকে আকৃষ্ট করতে তার নাম্বারে ফোন দেওয়া হয়। মৌমিতা তার কর্মি দিয়ে নিদৃষ্ট স্থানে মাদক পৌঁছিয়ে দেয়। মাদক সেবন ও মাস্তি দুটোই করা হয়। মাদক সেবন ও রঙ্গ লিলার পাশাপাশি খদ্দেরের অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে ব্লাকমেইল করা হয়। হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। অপ্সরা সুন্দরীদের মাধ্যমে মাসুদ মাদক বিক্রি করে এখন কয়েক কোটি টাকার মালিক। মাদকের পাশাপাশি মাসুদ আন্ডার ওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। বিগত আওয়ামী লীগের আমলে হাজারিবাগ এলাকার এমপি সাদেক খানের সাথে তার সখ্যতা ছিল নিবির। মাদক ব্যবসার পাশাপাশি জমির দালালি করতেন এবং কন্ট্রাক্ট কিলিং করে পুরো এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আন্ডার ওয়াল্ডের মসনদ দখল করে রাখেন।
বিগত বছর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলন ঠেকাতে বসুন্ধরা যমুনা ফিউচার পার্ক এলাকায় আওয়ামী লীগের সাথে থেকে বিদেশে অস্ত্র দিয়ে নিরীহ জনতাকে গুলি করে হত্যা করে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর মাসুদ বসুন্ধরায় তার বাসা নিয়ে আসেন।
কয়েক মাস পালিয়ে থাকার পর পুরোনো খেলায় নতুন করে মেতে উঠেছেন। গত ১৬ আগষ্ট বসুন্ধরা ডি ব্লকের ৫৮ নাম্বার বাসা থেকে পুলিশ ১৪০ গ্ৰাম আইস উদ্ধার করে এবং একজনকে গ্ৰেফতার করে। গ্ৰেফতারকৃত লোক একজন সাবেক মেজরের লোক বলে পরিচয় দেয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায় সেই ছদ্মবেশে মেজর হচ্ছে ভয়ংকর মাদক ব্যবসায়ী মাসুদুর রহমান।
চাকুরী দেয়ার কথা বলে মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য বসুন্ধরা মেইন রোডের সাথে মুনসি বাড়ি মসজিদ সংলগ্ন কপোতাক্ষ মেঘ বিল্ডিং এর ষষ্ঠ তলায় এক হাজার স্কয়ার ফুটের অফিস ভাড়া নিয়ে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। তার এই প্রতারণার সাথে নাকি সাবেক ও বর্তমান কিছু সচিব ও পুলিশের সাবেক কিছু কর্মকর্তা জড়িত আছে। তাদেরকে খুশি রাখতে বসুন্ধরার আভিজাত্য ফ্ল্যাটে প্রায় রাতেই বসে মাদকের আসর। রাত যত গভীর হয় নৃত্যের ঝংকার ততো বাড়তে থাকে। ভোর রাত পর্যন্ত চলে রঙ্গ মঞ্চ। হ্যানি ট্রাফ সৃষ্টি করেও অনেক ভদ্রলোককে করেছেন সর্ব শান্ত। চাকুরী দেয়ার নাম করে শতকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে মাসুদ। তার এ অপকর্মের সাথে পুরো একটি গ্যাং জড়িত। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা থেকে বিজ্ঞপ্তি সংগ্ৰহ করে দালালদের কাছে পাঠিয়ে দেয়। দালালরা বিভিন্ন এলাকা থেকে কেন্ডিডেট এনে মাসুদের হাতে দিলে মাসুদ তাদেরকে লোভনীয় অফার দিয়ে হাতিয়ে নেন কোটি কোটি টাকা। চাকুরী দিতে না পারলে গা ঢাকা দিয়ে পালিয়ে বেড়ান বিভিন্ন দিকে। কেউ একটু কঠোর হলে তাকে মাসুদ হুমকি দিয়ে বলেন আমার কাছে একে ৪৭ আছে বেশি বাড়াবাড়ি করলে একেবারে ফুটো করে দেব।
ভাটারা থানার এস আই হাফিজুর রহমান ভূঁইয়াকে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাসুদ একজন প্রতারক । আমি তাকে কয়েকবার তার ব্যবহৃত মুঠো ফোনে কল দিয়ে থানায় আসতে বললে সে আসবে বলে আর আসে না। সে একটা ভয়ংকর প্রতারক তাকে ধরার জন্য আমরা অব্যাহত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। যে কোন সময় সে গ্ৰেফতার হবে বলে আমি আশা করছি। এব্যাপারে অভিযুক্ত মাসুদকে তার ব্যবহৃত মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কাজ করে দেওয়ার জন্য মানুষের কাছ থেকে টাকা নেই। কিছু কাজ হয় আবার কিছু কাজ হয়না।এন এস আইতে আমার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে কাজটি করতে চেয়েছিলাম কিন্তু কাজটি স্লিপ কেটেছে। আপনাদের টাকা অমি দেব তবে একটু দেরি হবে। মাদকের ব্যবসার সাথে কত বছর জড়িত এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমি মাদকের সাথে সরাসরি জড়িত না। আমার সাথে কিছু কলিগ আছে তারা মাদকের সাথে কিছু টা জড়িত। চাকুরী দেয়ার কথা বলে যে প্রতারণা করছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, আমি মানুষকে উপকার করি দু একটা এদিক সেদিক হয় তাতে কিছু মনে করিনা। আপনার সাথে যারা আছে তাদের নাম দেন তাতে সে বলেন, তাদের নাম দেওয়া যাবে না। এদের সাথে আমি ব্যবসা করি তাদের নাম ও মোবাইল নাম্বার দিলে আমার ব্যবসা শেষ হয়ে যাবে। মাসুদ প্রায়ই দম্ভ করে বলেন, পুলিশ, র্যাব , সেনাবাহিনী,ডিজি এফ আই, গোয়েন্দা সংস্থা ও এন এস আই আমাকে কিছু করতে পারবে না। আমার হাত অনেক উপরে। আমি সকাল বিকাল এদেরকে নিয়ে নাস্তা করি। ভুক্তভোগীরা মাসুদের মতো এরকম প্রতারকের দৌরাত্ম বন্ধ করে দেশকে মুক্ত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদারীপুরের রাজৈর এ অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা -২০২৬ এর পরীক্ষা শুরু

চাকুরী দেয়ার নাম করে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা

ভয়ংকর প্রতারক মাসুদের খপ্পরে নিঃস্ব শত পরিবার

আপডেট সময় ০৬:৩২:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ঢাকার এক ভয়ংকর প্রতারক মাসুদুর রহমানের খপ্পরে পরে নিঃস্ব শত পরিবার । চাকুরী দেয়ার নাম করে হাতিয়ে নিয়েছে শতকোটি টাকা। তার গ্ৰামের বাড়ি নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার দক্ষিণ কাঁচি কাটা এলাকায়। তথ্য সূত্রে জানা যায়, মাসুদ নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার মৃত চান মিয়া বেপারীর ছেলে। বর্তমানে ঢাকার বসুন্ধরা এলাকায় এক্সপোর্ট ও ইম্পোর্ট ব্যবসা করেন বলে মানুষের কাছে পরিচয় দিয়ে থাকেন। ব্যবসার আড়ালে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরি দেয়ার নাম করে প্রতারণা করে হাতিয়ে নিয়েছে শতকোটি টাকা।
তথ্য সূত্রে আরো জানা যায়, মাসুদ গত মে মাসে সরকারি নিরাপত্তা সংস্থা এন এস আইতে চাকুরী দেয়ার কথা বলে ভোলার মুহাইমিনুল ইসলাম আবিরের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। টাকার সিকিউরিটি বাবদ ৩ শত টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি ও দুই লাখ টাকা করে ডাচ বাংলা ব্যাংকের তার একাউন্ট নাম্বারের দুটি চেক প্রদান করেন। শর্ত সাপেক্ষে যদি সে এমসিকিউ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয় তাহলে মাসুদ পনের দিনের মধ্যে টাকা ফেরত দিয়ে দেবে।
যখন পরীক্ষার্থী প্রাথমিক বাছাই পর্বে অকৃতকার্য হয় তখন মাসুদের কাছে টাকা চাইতে গেলে সে পনের দিনের মধ্যে টাকা ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আজ অবদি টাকা ফেরত দেয় নি। দেই দিচ্ছি বলে কালক্ষেপণ করছে। উপায় অন্তর না পেয়ে বিগত ২৫ আগস্ট পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ( ক্রাইম এন্ড অপারেশন) ডি এম পি বরাবর প্রতিকার ও আইনী সহায়তা চেয়ে আবেদন করলে তিনি ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জকে বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্ৰহণ করতে বলেন। ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য এস আই হাফিজুর রহমানকে নির্দেশ দেন। এস আই হাফিজুর রহমান অভিযুক্ত মাসুদকে একাধিকবার থানায় হাজির হওয়ার জন্য তার ব্যবহৃত মুঠো ফোনে কল করলে সে আসছি ,আসব ও অসুস্থ আছে বলে মিথ্যা কথা বলে যাচ্ছে।টাক নেয়ার কথা স্বীকার করলেও টাকা ফেরত দেয়ার ব্যপারে কোন প্রকার উদ্যোগ নেই। এখন পর্যন্ত মাসুদ থানায় না এসে প্রসাশনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

মাসুদুর রহমানের অপকর্ম ও প্রতারণার অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেড়িয়ে আসে অনেক ভয়ংকর চাঞ্চল্যকর তথ্য। মাসুদ তার গ্ৰামের বাড়িতে থাকাকালীন সময়ে তার বাবার কাছে মাদকের টাকা চাইতে গেলে তার বাবা টাকা না দেয়ায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে তার বাবার মাথা ফাটিয়ে মাটিতে ফেলে দিয়ে বাবার গলায় পাড়া দিয়ে ধরে মৃত্যুর কাছাকাছি নিয়ে যায়। তার বাবার আত্মচিৎকার শুনে আসপাশের লোকজন ছুটে এসে তার বাবাকে প্রাণে রক্ষা করে। তার এলাকাতেই সে মাদকের হাতেখড়ি নেন। মাসুদ কয়েকবার জেল খাটার পর নরসিংদী থেকে ঢাকায় পালিয়ে এসে মোহাম্মদপুরে মাদকের আন্ডার ওয়াল্ডের সাথে জড়িত হন। প্রথমে দের যুগ ধরে মোহাম্মদপুরে তার মাদকের ব্যবসা চালিয়ে যান। মাদক বিক্রি করতে একটি স্যান্ডিগেট ঘরে তোলেন। গাঁজা, ইয়াবা , হেরোইন,মদ,শীশা, ফেন্সিডিলের ব্যবসা চালিয়ে যান মোহামপুরে । ফলে পুরো দের যুগ মোহাম্মদপুর , ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, চকবাজার, কামরাঙ্গীরচর মাদকের সম্রাজ্য মাসুদ নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন। তার সাথে তৎকালীন আওয়ামী লীগের কক্সবাজারের এমপি বদির সাথে সখ্যতা ছিল সেই সুবাদে দেশি-বিদেশি মাদক পেতে তার বেগ পেতে হতো না। তার মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করতেন মৌমিতা নামের এক সুন্দরী। খদ্দেরকে আকৃষ্ট করতে তার নাম্বারে ফোন দেওয়া হয়। মৌমিতা তার কর্মি দিয়ে নিদৃষ্ট স্থানে মাদক পৌঁছিয়ে দেয়। মাদক সেবন ও মাস্তি দুটোই করা হয়। মাদক সেবন ও রঙ্গ লিলার পাশাপাশি খদ্দেরের অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে ব্লাকমেইল করা হয়। হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। অপ্সরা সুন্দরীদের মাধ্যমে মাসুদ মাদক বিক্রি করে এখন কয়েক কোটি টাকার মালিক। মাদকের পাশাপাশি মাসুদ আন্ডার ওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। বিগত আওয়ামী লীগের আমলে হাজারিবাগ এলাকার এমপি সাদেক খানের সাথে তার সখ্যতা ছিল নিবির। মাদক ব্যবসার পাশাপাশি জমির দালালি করতেন এবং কন্ট্রাক্ট কিলিং করে পুরো এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আন্ডার ওয়াল্ডের মসনদ দখল করে রাখেন।
বিগত বছর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলন ঠেকাতে বসুন্ধরা যমুনা ফিউচার পার্ক এলাকায় আওয়ামী লীগের সাথে থেকে বিদেশে অস্ত্র দিয়ে নিরীহ জনতাকে গুলি করে হত্যা করে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর মাসুদ বসুন্ধরায় তার বাসা নিয়ে আসেন।
কয়েক মাস পালিয়ে থাকার পর পুরোনো খেলায় নতুন করে মেতে উঠেছেন। গত ১৬ আগষ্ট বসুন্ধরা ডি ব্লকের ৫৮ নাম্বার বাসা থেকে পুলিশ ১৪০ গ্ৰাম আইস উদ্ধার করে এবং একজনকে গ্ৰেফতার করে। গ্ৰেফতারকৃত লোক একজন সাবেক মেজরের লোক বলে পরিচয় দেয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায় সেই ছদ্মবেশে মেজর হচ্ছে ভয়ংকর মাদক ব্যবসায়ী মাসুদুর রহমান।
চাকুরী দেয়ার কথা বলে মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য বসুন্ধরা মেইন রোডের সাথে মুনসি বাড়ি মসজিদ সংলগ্ন কপোতাক্ষ মেঘ বিল্ডিং এর ষষ্ঠ তলায় এক হাজার স্কয়ার ফুটের অফিস ভাড়া নিয়ে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। তার এই প্রতারণার সাথে নাকি সাবেক ও বর্তমান কিছু সচিব ও পুলিশের সাবেক কিছু কর্মকর্তা জড়িত আছে। তাদেরকে খুশি রাখতে বসুন্ধরার আভিজাত্য ফ্ল্যাটে প্রায় রাতেই বসে মাদকের আসর। রাত যত গভীর হয় নৃত্যের ঝংকার ততো বাড়তে থাকে। ভোর রাত পর্যন্ত চলে রঙ্গ মঞ্চ। হ্যানি ট্রাফ সৃষ্টি করেও অনেক ভদ্রলোককে করেছেন সর্ব শান্ত। চাকুরী দেয়ার নাম করে শতকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে মাসুদ। তার এ অপকর্মের সাথে পুরো একটি গ্যাং জড়িত। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা থেকে বিজ্ঞপ্তি সংগ্ৰহ করে দালালদের কাছে পাঠিয়ে দেয়। দালালরা বিভিন্ন এলাকা থেকে কেন্ডিডেট এনে মাসুদের হাতে দিলে মাসুদ তাদেরকে লোভনীয় অফার দিয়ে হাতিয়ে নেন কোটি কোটি টাকা। চাকুরী দিতে না পারলে গা ঢাকা দিয়ে পালিয়ে বেড়ান বিভিন্ন দিকে। কেউ একটু কঠোর হলে তাকে মাসুদ হুমকি দিয়ে বলেন আমার কাছে একে ৪৭ আছে বেশি বাড়াবাড়ি করলে একেবারে ফুটো করে দেব।
ভাটারা থানার এস আই হাফিজুর রহমান ভূঁইয়াকে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাসুদ একজন প্রতারক । আমি তাকে কয়েকবার তার ব্যবহৃত মুঠো ফোনে কল দিয়ে থানায় আসতে বললে সে আসবে বলে আর আসে না। সে একটা ভয়ংকর প্রতারক তাকে ধরার জন্য আমরা অব্যাহত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। যে কোন সময় সে গ্ৰেফতার হবে বলে আমি আশা করছি। এব্যাপারে অভিযুক্ত মাসুদকে তার ব্যবহৃত মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কাজ করে দেওয়ার জন্য মানুষের কাছ থেকে টাকা নেই। কিছু কাজ হয় আবার কিছু কাজ হয়না।এন এস আইতে আমার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে কাজটি করতে চেয়েছিলাম কিন্তু কাজটি স্লিপ কেটেছে। আপনাদের টাকা অমি দেব তবে একটু দেরি হবে। মাদকের ব্যবসার সাথে কত বছর জড়িত এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমি মাদকের সাথে সরাসরি জড়িত না। আমার সাথে কিছু কলিগ আছে তারা মাদকের সাথে কিছু টা জড়িত। চাকুরী দেয়ার কথা বলে যে প্রতারণা করছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, আমি মানুষকে উপকার করি দু একটা এদিক সেদিক হয় তাতে কিছু মনে করিনা। আপনার সাথে যারা আছে তাদের নাম দেন তাতে সে বলেন, তাদের নাম দেওয়া যাবে না। এদের সাথে আমি ব্যবসা করি তাদের নাম ও মোবাইল নাম্বার দিলে আমার ব্যবসা শেষ হয়ে যাবে। মাসুদ প্রায়ই দম্ভ করে বলেন, পুলিশ, র্যাব , সেনাবাহিনী,ডিজি এফ আই, গোয়েন্দা সংস্থা ও এন এস আই আমাকে কিছু করতে পারবে না। আমার হাত অনেক উপরে। আমি সকাল বিকাল এদেরকে নিয়ে নাস্তা করি। ভুক্তভোগীরা মাসুদের মতো এরকম প্রতারকের দৌরাত্ম বন্ধ করে দেশকে মুক্ত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।