ঢাকা ০৩:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চ: কুমিল্লায় ১১ দলীয় ঐক্যের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় ইন্টারপোলের কাছে বেনজীরের অবস্থান জানতে চেয়ে পুলিশের চিঠি পীরগঞ্জে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ১৭৫ শিক্ষার্থীকে ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা দ্বিতীয় বাংলাদেশি বংশদ্ভূত তানভীর শাহনেওয়াজ কানাডার ফেডারেল পার্লামেন্টে এমপি নির্বাচিত বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঝালকাঠিতে সুগন্ধা নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত গাড়িচালক মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ সিআই মৃত্যুঞ্জয়ের বিরুদ্ধে অর্থ আদায়ের অভিযোগ আহমেদ বাওয়ানী একাডেমিতে অনিয়মের অভিযোগ পরিচালক আল ফাত্তাহকে ঘিরে ৩ হাজার কোটি টাকার অভিযোগ পূর্তে প্যারাডাইমের ফের দাপট, গুরুত্বপূর্ণ কাজ যাচ্ছে একই প্রতিষ্ঠানের ঝুড়িতে

প্রশাসনের সভায় মামলার আসামি আ.লীগ নেতা

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) মতবিনিময় সভায় একাধিক বন মামলার আসামি আওয়ামী লীগ নেতা নাজিম উদ্দিন রানার অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রামের লোহাগড়া উপজেলা সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় ইউএনও মো. সাইফুল ইসলামের পাশে আওয়ামী লীগ নেতার ছবি দেখে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

নাজিম উদ্দিন রানা (৪২) বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের আজিজনগর রোডপাড়ার মৃত আহমদ ছফার ছেলে। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের আজিজনগর সাংগঠনিক উপজেলার সাবেক সভাপতি ও আজিজনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এ ছাড়া তিনি লামা উপজেলা যুবলীগের সাবেক সহসভাপতি এবং বান্দরবান জেলা কৃষক লীগের সদস্য হিসেবে বিভিন্ন সময় দায়িত্ব পালন করেছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নাজিম উদ্দিন রানার বিরুদ্ধে অর্ধডজনেরও বেশি বন মামলা রয়েছে। এসব মামলার বেশির ভাগই চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি সাতগড় বনবিট ও চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এলাকায় দায়ের করা। বন ধ্বংস, বনবিভাগের জায়গা দখল ও অবৈধ কাঠ পাচারসহ গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এ ছাড়াও চলতি বছরের ১৫ জুলাই লোহাগাড়া ভূমি অফিসে গোপন নথির ছবি তুলতে গিয়ে তিনি হাতেনাতে আটক হন। ওই সময় তার বিরুদ্ধে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট আইনে মামলা হয়। পরদিন তাকে চট্টগ্রাম আদালতে পাঠানো হয়।

এর আগে বিস্ফোরক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে সঙ্গে নিয়ে লোহাগাড়া ইউএনও মতবিনিময় সভা করে বিতর্কের সৃষ্টি করেন, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় পরিবেশ কর্মীরা বলছেন, চুনতি অভয়ারণ্য দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চল। সেখানে বন মামলার আসামিকে প্রশাসনিক বৈঠকে বসানো সরকারের পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চ: কুমিল্লায় ১১ দলীয় ঐক্যের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়

প্রশাসনের সভায় মামলার আসামি আ.লীগ নেতা

আপডেট সময় ০৫:৩৮:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) মতবিনিময় সভায় একাধিক বন মামলার আসামি আওয়ামী লীগ নেতা নাজিম উদ্দিন রানার অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রামের লোহাগড়া উপজেলা সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় ইউএনও মো. সাইফুল ইসলামের পাশে আওয়ামী লীগ নেতার ছবি দেখে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

নাজিম উদ্দিন রানা (৪২) বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের আজিজনগর রোডপাড়ার মৃত আহমদ ছফার ছেলে। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের আজিজনগর সাংগঠনিক উপজেলার সাবেক সভাপতি ও আজিজনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এ ছাড়া তিনি লামা উপজেলা যুবলীগের সাবেক সহসভাপতি এবং বান্দরবান জেলা কৃষক লীগের সদস্য হিসেবে বিভিন্ন সময় দায়িত্ব পালন করেছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নাজিম উদ্দিন রানার বিরুদ্ধে অর্ধডজনেরও বেশি বন মামলা রয়েছে। এসব মামলার বেশির ভাগই চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি সাতগড় বনবিট ও চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এলাকায় দায়ের করা। বন ধ্বংস, বনবিভাগের জায়গা দখল ও অবৈধ কাঠ পাচারসহ গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এ ছাড়াও চলতি বছরের ১৫ জুলাই লোহাগাড়া ভূমি অফিসে গোপন নথির ছবি তুলতে গিয়ে তিনি হাতেনাতে আটক হন। ওই সময় তার বিরুদ্ধে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট আইনে মামলা হয়। পরদিন তাকে চট্টগ্রাম আদালতে পাঠানো হয়।

এর আগে বিস্ফোরক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে সঙ্গে নিয়ে লোহাগাড়া ইউএনও মতবিনিময় সভা করে বিতর্কের সৃষ্টি করেন, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় পরিবেশ কর্মীরা বলছেন, চুনতি অভয়ারণ্য দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চল। সেখানে বন মামলার আসামিকে প্রশাসনিক বৈঠকে বসানো সরকারের পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।