সংবাদ শিরোনাম ::
আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করলেন আইসিসির তিন বিচারক গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতায় বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হোটেল রুমে স্বামী, পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের ঘরে বিবাদ ১ টাকার দুর্নীতি বের করতে পারলে ইস্তফা দেবো: হাসনাত  আশুরা মানুষকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় : রাষ্ট্রপতি তিস্তা মহাপরিকল্পনায় কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী চীন নরসিংদীতে কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে নিক্ষেপ, যুবক আটক ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত আটকা বহু, উদ্ধারে আসছেন না কেউ বরগুনায় সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে প্যানেল চেয়ারম্যান (ইউপি সদস্যের) বিরুদ্ধে মামলা
কমিশনের খেলায় কোটি টাকা আয়

ব্যক্তিজীবন ও কর্মজীবন-সবখানেই বিতর্কিত গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হুমায়রা

সরকারি চাকরিতে তিন বছরের বেশি একই কর্মস্থলে থাকা যায় না—এটি নিয়ম। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হুমায়রা বিনতে রেজা এই নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একের পর এক ঢাকাতেই পদায়ন পেয়েছেন। কখনো গণপূর্ত এমআইএস সার্কেল, কখনো ই/এম সার্কেল-৪, আবার কখনো পিএন্ডডি সার্কেল—সব পদেই তিনি ঢাকাতেই থেকেছেন। বর্তমানে তিনি দায়িত্বে আছেন ঢাকা ই/এম সার্কেল-১-এর।
অভিযোগ রয়েছে, এসব পদায়নের জন্য তিনি বিপুল অংকের টাকা খরচ করেছেন। কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকায় থাকা মানেই বড় বড় টেন্ডার ও প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকা, যার মাধ্যমে বিপুল অংকের অর্থ উপার্জনের সুযোগ থাকে। তাই নিয়ম ভঙ্গ করেও হুমায়রা ঢাকাতেই টিকে আছেন।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে হুমায়রা বিনতে রেজার অধীনে ঢাকার ই/এম বিভাগ-১ থেকে শতকরা ৯০ ভাগ টেন্ডার ওটিএম (ঙঢ়বহ ঞবহফবৎ গবঃযড়ফ) পদ্ধতিতে আহ্বান করা হয়েছে। অথচ সরকারী প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এগুলো এলটিএম পদ্ধতিতে হওয়ার কথা ছিল।
নির্দেশনাটি তিনি দিয়েছিলেন নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মো. আশরাফুল ইসলামের মাধ্যমে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিটি টেন্ডারের অনুমোদনের জন্য তিনি গড়ে ৫ শতাংশ হারে কমিশন নিতেন। কেবল ই/এম বিভাগ-১-ই নয়, ই/এম বিভাগ-২ ও ৩—সব জায়গাতেই একই প্রক্রিয়ায় কমিশন খেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে ই/এম সার্কেল-১ এর অধীনে প্রায় ৪০টি এপিপি বরাদ্দের কাজ ওটিএম পদ্ধতিতে আহ্বান করা হয়েছে, যার সবগুলোর প্রাক্কলন অনুমোদন করছেন হুমায়রা নিজে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতে গিয়ে নিয়ম ভঙ্গ করে তিনি কোটি কোটি টাকা আয় করছেন।
হুমায়রা বিনতে রেজা ২৪তম বিসিএস থেকে গণপূর্ত ক্যাডারে যোগ দেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ চাকরি জীবনে তিনি কখনোই ওয়ার্কিং ডিভিশনে সরাসরি মাঠ পর্যায়ের কাজে যাননি। অথচ তিনি এখন ই/এম ওয়ার্কিং সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী!
অভিজ্ঞতাহীন হয়েও ঢাকার বড় পদগুলোতে দায়িত্ব পাওয়া নিয়োগ ও পদায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে অভ্যন্তরীণ মহল।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য স্পষ্ট আচরণবিধি রয়েছে-তাদের এমন কোনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়া চলবে না, যা পেশাগত ইমেজ ক্ষুণ্ণ করে। অথচ হুমায়রা বিনতে রেজা ব্যক্তিগতভাবে টিকটকসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় বলে জানা গেছে।
তিনি নিয়মিত ভিডিও আপলোড করেন এবং নানা ধরনের কনটেন্ট তৈরি করেন। কর্মকর্তারা বলছেন, “একজন সিনিয়র প্রকৌশলীর জন্য এটি আচরণবিধি ভঙ্গের শামিল।”
হুমায়রার ব্যক্তিজীবনও সমান বিতর্কিত।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পড়াকালীন সময়ে এক সহপাঠীর সঙ্গে বিয়ে করেন। সেই বিয়ে টেকেনি।
পরে বেসরকারি একটি টেলিকম কোম্পানির কর্মকর্তা ইমতিয়াজ আহমেদকে বিয়ে করেন। এই সংসারে তার দুটি সন্তান রয়েছে। কিন্তু এই সম্পর্কও টেকসই হয়নি।
কথিত আছে, গণপূর্ত ইএম বিভাগ-১১ এর সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফ মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুমের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের কারণে ইমতিয়াজের সংসার ছেড়ে দেন হুমায়রা।
অফিস মহলে এ নিয়ে নানান গুঞ্জন রয়েছে। সহকর্মীরা বলছেন, ব্যক্তিজীবনের এই অস্থিরতা তার পেশাগত দায়িত্বেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান- “হুমায়রার সঙ্গে অনেক ঠিকাদারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তিনি যেভাবে কাজ ভাগ করে দেন, তাতে কিছু প্রভাবশালী ঠিকাদার নিয়মিত লাভবান হন। কেউ প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি করা হয়।”
একজন সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন-“তিনি ঢাকাতেই থাকতে চান। নিয়ম ভাঙলেও তাকে সরানো যায় না। কারণ, তার ওপরের মহলে শক্তিশালী যোগাযোগ আছে।”
ঢাকার একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন, কাজ পেতে হলে হুমায়রা বিনতে রেজাকে কমিশন দিতে হয়। কমিশন না দিলে দরপত্র বাতিল হয় বা নানা অজুহাতে বাদ দেওয়া হয়।
এক ঠিকাদার বলেন- “আমরা সরকারি নিয়ম মেনে টেন্ডার করি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওটিএম পদ্ধতিতে ঠিকাদার ঠিক করা হয় এবং কমিশন দিয়ে যারা কাজ নেয়, তারাই জয়ী হয়।”
ঢাকায় দীর্ঘদিন ধরে হুমায়রা বিনতে রেজার মতো বিতর্কিত কর্মকর্তার পদায়ন জনমনে প্রশ্ন তুলছে। একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন- “সরকারের নতুন সময়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এত অভিযোগের পরও হুমায়রা যদি বহাল থাকেন, তবে প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা কমে যাবে।”
এই বিষয়ে হুমায়রা বিনতে রেজার বক্তব্য জানতে তার দুটি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে তার প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ঢাকায় দীর্ঘদিন পদায়ন, টেন্ডার বাণিজ্য, কমিশন খাওয়া, আচরণবিধি ভঙ্গ এবং ব্যক্তিজীবনের নানান বিতর্ক—সব মিলিয়ে হুমায়রা বিনতে রেজা এখন গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক বিতর্কিত কর্মকর্তা।
কর্মকর্তা-কর্মচারী, ঠিকাদার এবং সুশীল সমাজের দাবি, তাকে অবিলম্বে জবাবদিহির আওতায় আনা হোক। অন্যথায় গণপূর্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও অনিয়ম অব্যাহত থাকবে, যার সরাসরি খেসারত দিতে হবে সাধারণ জনগণকে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ

কমিশনের খেলায় কোটি টাকা আয়

ব্যক্তিজীবন ও কর্মজীবন-সবখানেই বিতর্কিত গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হুমায়রা

আপডেট সময় ১১:০৯:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

সরকারি চাকরিতে তিন বছরের বেশি একই কর্মস্থলে থাকা যায় না—এটি নিয়ম। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হুমায়রা বিনতে রেজা এই নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একের পর এক ঢাকাতেই পদায়ন পেয়েছেন। কখনো গণপূর্ত এমআইএস সার্কেল, কখনো ই/এম সার্কেল-৪, আবার কখনো পিএন্ডডি সার্কেল—সব পদেই তিনি ঢাকাতেই থেকেছেন। বর্তমানে তিনি দায়িত্বে আছেন ঢাকা ই/এম সার্কেল-১-এর।
অভিযোগ রয়েছে, এসব পদায়নের জন্য তিনি বিপুল অংকের টাকা খরচ করেছেন। কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকায় থাকা মানেই বড় বড় টেন্ডার ও প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকা, যার মাধ্যমে বিপুল অংকের অর্থ উপার্জনের সুযোগ থাকে। তাই নিয়ম ভঙ্গ করেও হুমায়রা ঢাকাতেই টিকে আছেন।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে হুমায়রা বিনতে রেজার অধীনে ঢাকার ই/এম বিভাগ-১ থেকে শতকরা ৯০ ভাগ টেন্ডার ওটিএম (ঙঢ়বহ ঞবহফবৎ গবঃযড়ফ) পদ্ধতিতে আহ্বান করা হয়েছে। অথচ সরকারী প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এগুলো এলটিএম পদ্ধতিতে হওয়ার কথা ছিল।
নির্দেশনাটি তিনি দিয়েছিলেন নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মো. আশরাফুল ইসলামের মাধ্যমে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিটি টেন্ডারের অনুমোদনের জন্য তিনি গড়ে ৫ শতাংশ হারে কমিশন নিতেন। কেবল ই/এম বিভাগ-১-ই নয়, ই/এম বিভাগ-২ ও ৩—সব জায়গাতেই একই প্রক্রিয়ায় কমিশন খেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে ই/এম সার্কেল-১ এর অধীনে প্রায় ৪০টি এপিপি বরাদ্দের কাজ ওটিএম পদ্ধতিতে আহ্বান করা হয়েছে, যার সবগুলোর প্রাক্কলন অনুমোদন করছেন হুমায়রা নিজে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতে গিয়ে নিয়ম ভঙ্গ করে তিনি কোটি কোটি টাকা আয় করছেন।
হুমায়রা বিনতে রেজা ২৪তম বিসিএস থেকে গণপূর্ত ক্যাডারে যোগ দেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ চাকরি জীবনে তিনি কখনোই ওয়ার্কিং ডিভিশনে সরাসরি মাঠ পর্যায়ের কাজে যাননি। অথচ তিনি এখন ই/এম ওয়ার্কিং সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী!
অভিজ্ঞতাহীন হয়েও ঢাকার বড় পদগুলোতে দায়িত্ব পাওয়া নিয়োগ ও পদায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে অভ্যন্তরীণ মহল।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য স্পষ্ট আচরণবিধি রয়েছে-তাদের এমন কোনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়া চলবে না, যা পেশাগত ইমেজ ক্ষুণ্ণ করে। অথচ হুমায়রা বিনতে রেজা ব্যক্তিগতভাবে টিকটকসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় বলে জানা গেছে।
তিনি নিয়মিত ভিডিও আপলোড করেন এবং নানা ধরনের কনটেন্ট তৈরি করেন। কর্মকর্তারা বলছেন, “একজন সিনিয়র প্রকৌশলীর জন্য এটি আচরণবিধি ভঙ্গের শামিল।”
হুমায়রার ব্যক্তিজীবনও সমান বিতর্কিত।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পড়াকালীন সময়ে এক সহপাঠীর সঙ্গে বিয়ে করেন। সেই বিয়ে টেকেনি।
পরে বেসরকারি একটি টেলিকম কোম্পানির কর্মকর্তা ইমতিয়াজ আহমেদকে বিয়ে করেন। এই সংসারে তার দুটি সন্তান রয়েছে। কিন্তু এই সম্পর্কও টেকসই হয়নি।
কথিত আছে, গণপূর্ত ইএম বিভাগ-১১ এর সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফ মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুমের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের কারণে ইমতিয়াজের সংসার ছেড়ে দেন হুমায়রা।
অফিস মহলে এ নিয়ে নানান গুঞ্জন রয়েছে। সহকর্মীরা বলছেন, ব্যক্তিজীবনের এই অস্থিরতা তার পেশাগত দায়িত্বেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান- “হুমায়রার সঙ্গে অনেক ঠিকাদারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তিনি যেভাবে কাজ ভাগ করে দেন, তাতে কিছু প্রভাবশালী ঠিকাদার নিয়মিত লাভবান হন। কেউ প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি করা হয়।”
একজন সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন-“তিনি ঢাকাতেই থাকতে চান। নিয়ম ভাঙলেও তাকে সরানো যায় না। কারণ, তার ওপরের মহলে শক্তিশালী যোগাযোগ আছে।”
ঢাকার একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন, কাজ পেতে হলে হুমায়রা বিনতে রেজাকে কমিশন দিতে হয়। কমিশন না দিলে দরপত্র বাতিল হয় বা নানা অজুহাতে বাদ দেওয়া হয়।
এক ঠিকাদার বলেন- “আমরা সরকারি নিয়ম মেনে টেন্ডার করি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওটিএম পদ্ধতিতে ঠিকাদার ঠিক করা হয় এবং কমিশন দিয়ে যারা কাজ নেয়, তারাই জয়ী হয়।”
ঢাকায় দীর্ঘদিন ধরে হুমায়রা বিনতে রেজার মতো বিতর্কিত কর্মকর্তার পদায়ন জনমনে প্রশ্ন তুলছে। একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন- “সরকারের নতুন সময়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এত অভিযোগের পরও হুমায়রা যদি বহাল থাকেন, তবে প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা কমে যাবে।”
এই বিষয়ে হুমায়রা বিনতে রেজার বক্তব্য জানতে তার দুটি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে তার প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ঢাকায় দীর্ঘদিন পদায়ন, টেন্ডার বাণিজ্য, কমিশন খাওয়া, আচরণবিধি ভঙ্গ এবং ব্যক্তিজীবনের নানান বিতর্ক—সব মিলিয়ে হুমায়রা বিনতে রেজা এখন গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক বিতর্কিত কর্মকর্তা।
কর্মকর্তা-কর্মচারী, ঠিকাদার এবং সুশীল সমাজের দাবি, তাকে অবিলম্বে জবাবদিহির আওতায় আনা হোক। অন্যথায় গণপূর্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও অনিয়ম অব্যাহত থাকবে, যার সরাসরি খেসারত দিতে হবে সাধারণ জনগণকে।