সংবাদ শিরোনাম ::
আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করলেন আইসিসির তিন বিচারক গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতায় বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হোটেল রুমে স্বামী, পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের ঘরে বিবাদ ১ টাকার দুর্নীতি বের করতে পারলে ইস্তফা দেবো: হাসনাত  আশুরা মানুষকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় : রাষ্ট্রপতি তিস্তা মহাপরিকল্পনায় কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী চীন নরসিংদীতে কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে নিক্ষেপ, যুবক আটক ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত আটকা বহু, উদ্ধারে আসছেন না কেউ বরগুনায় সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে প্যানেল চেয়ারম্যান (ইউপি সদস্যের) বিরুদ্ধে মামলা
সাইনবোর্ড ব্যবসায় সর্বস্বান্ত গ্রাহকরা

রয়েল ইকো ল্যান্ডের হাউজিং প্রতারণা

রাজধানী থেকে শুরু করে প্রবাসীদের কাছে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে জমি বিক্রির নামে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে রয়েল ইকো ল্যান্ড নামের একটি হাউজিং কোম্পানি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরকাড়া বিজ্ঞাপন, প্রবাসীদের জন্য বিশেষ অফার ও কিস্তি সুবিধার কথা বলে তারা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অথচ বাস্তবে নেই জমির মালিকানা, নেই সরকারি অনুমোদন—শুধুই ভাড়া করা জমিতে সাইনবোর্ড বসিয়ে প্রতারণার ভয়ংকর ফাঁদ।
প্রতারণার শুরু সাইনবোর্ড থেকে হাউজিং ব্যবসা : মাওয়ার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, রয়েল ইকো ল্যান্ড নামের কোম্পানির সাইনবোর্ড বসানো জমিগুলো অন্য মালিকের নামে রেকর্ডভুক্ত। কোম্পানিটি অল্প কিছু কৃষিজমি কিনলেও শতগুণ বেশি প্লট বিক্রির বিজ্ঞাপন প্রচার করছে। তাদের ব্যবসার একমাত্র পুঁজি হলো—বিলাসবহুল অফিস, সুসজ্জিত মার্কেটিং টিম এবং মিডিয়ায় প্রভাবশালী বিজ্ঞাপন।
একজন স্থানীয় ভূমি মালিক অভিযোগ করে বলেন, “তারা আমার জমি কয়েক মাসের জন্য ভাড়া নেয় শুধু সাইনবোর্ড লাগানোর উদ্দেশ্যে। পরে দেখি সেই জমিই প্লট আকারে বিক্রির বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। অথচ জমির মালিক আমি। এটা তো খোলাখুলি প্রতারণা।”
ভুক্তভোগীদের কান্না প্রবাসী সাইফুলের অভিজ্ঞতা : দুবাই প্রবাসী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম রয়েল ইকো ল্যান্ডের প্রতারণার শিকার। তিনি অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেখে ৫ লাখ টাকা অগ্রিম দিয়ে একটি প্লট বুকিং করেন। দেশে ফিরে জমি দেখতে চাইলে কোম্পানি প্রথমে নানা অজুহাত দেখায়। পরে জানতে পারেন, সেই একই জমি আরও তিনজনের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।
“আমি ভেবেছিলাম দেশে ফিরে একটা ঘর করব। এখন দেখি আমার কষ্টার্জিত টাকাই নেই, প্লটও নেই। দেশে এসে প্রতারিত হলাম।”
নাসরিন আক্তারের অভিজ্ঞতা : গাজীপুরের গৃহিণী নাসরিন আক্তারও প্রতারিত হয়েছেন। তিনি বুকিং মানি হিসেবে ২ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। কিছু কিস্তিও পরিশোধ করেন। হঠাৎ একদিন জানতে পারেন তাদের অফিস বন্ধ, ফোন নম্বরও অকার্যকর। “আমরা সাধারণ মানুষ, কাগজপত্র যাচাই করার সুযোগ ছিল না। এখন বুঝতে পারছি সবই ছিল সাজানো নাটক।”
বিদেশে মেলা করে প্রতারণার নতুন কৌশল : রয়েল ইকো ল্যান্ড শুধু দেশে নয়, প্রবাসীদেরও প্রধান টার্গেট করছে। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তারা দুবাই, আবুধাবি ও কাতারে তথাকথিত একক আবাসন মেলার আয়োজন করে। সেখানে প্রবাসীদের উদ্দেশে বলা হয়-“দেশে ফেরার পর আপনার নিজস্ব বাড়ি হোক নতুন ঢাকায়, গ্রামীণ পরিবেশে আধুনিক নান্দনিকতা।” সেই সময় অসংখ্য প্রবাসী অগ্রিম টাকা পরিশোধ করেন।
শারজাহতে কর্মরত প্রবাসী মিজানুর রহমান বলেন, “আবুধাবি মেলায় আমি ১২ লাখ টাকা দিয়ে প্লট কিনেছিলাম। দেশে গিয়ে দেখি সেখানে কিছুই নেই। কেবল খালি জমি আর সাইনবোর্ড।”
রাজউকের আইন অনুযায়ী, বেসরকারি আবাসিক প্রকল্পের জন্য ভূমি উন্নয়ন বিধিমালা-২০০৪ (সংশোধিত ২০১৫) অনুসারে নিবন্ধন নিতে হয়। এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তর, উপজেলা ভূমি অফিস ও স্থানীয় প্রশাসনের অনুমোদন আবশ্যক। কিন্তু রয়েল ইকো ল্যান্ড এসবের কোনোটিই মানেনি।
রাজউকের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের হাউজিং ব্যবসা সম্পূর্ণ অবৈধ। সাধারণ মানুষ যদি যাচাই না করে জমি কিনে প্রতারিত হয়, দায়ভার পুরোপুরি ক্রেতার ওপর চলে আসে।”
আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার আহসান কবির বলেন, “কোনো কোম্পানির প্রকল্প কিনতে হলে প্রথমে দেখতে হবে তারা ভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিবন্ধন নিয়েছে কিনা। না থাকলে তাদের কাছ থেকে জমি কেনা মানেই প্রতারণার ফাঁদে পড়া।”
প্রতারণার কৌশল : রয়েল ইকো ল্যান্ডের মার্কেটিং টিম গ্রাহককে ফাঁদে ফেলতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তাদের কৌশলগুলো হলো—
চটকদার বিজ্ঞাপন : ফেসবুক লাইভ, ইউটিউব ভিডিও, বিলবোর্ড ও সংবাদপত্রে বড় বিজ্ঞাপন।
আকর্ষণীয় অফার : বুকিং দিলেই উপহার, কিস্তি সুবিধা, ফ্রি প্রজেক্ট ভিজিট।
বিলাসবহুল অফিস : ভেতরে ঢুকলেই মনে হয় সবকিছু বৈধ।
আবেগী টার্গেটিং : প্রবাসীদের বলা হয়—“দেশে ফেরার পর নিজের বাড়ি, পরিবারের স্বপ্ন পূরণ।”
কিন্তু এসবই কেবল টোপ। ভুক্তভোগীরা একবার টাকা দিলে পরে আর কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না।
ভোক্তাদের ক্ষতির পরিমাণ : ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র ২০২৩ সালেই এই কোম্পানি প্রায় ২০০-২৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর বড় অংশ এসেছে প্রবাসীদের কাছ থেকে। অনেকেই জীবনভর কষ্ট করে উপার্জিত সঞ্চয় এক নিমিষে হারিয়ে ফেলেছেন।
অর্থনীতি বিশ্লেষক ড. হুমায়ুন কবির বলেন,“প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতারণার মাধ্যমে এই অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে বা অবৈধ চক্রের হাতে যাচ্ছে। সরকারের উচিত দ্রুত তদন্ত করে প্রতারকদের আইনের আওতায় আনা।”
ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের এক কর্মকর্তা বলেন, “প্রতারণা ঠেকাতে জমি কেনার আগে অবশ্যই যাচাই করতে হবে—প্রকল্পের অনুমোদন আছে কি না। সরকার চাইলে একটি বিশেষ সেল গঠন করে হাউজিং প্রতারণা মনিটর করতে পারে।”
রয়েল ইকো ল্যান্ডের মতো কোম্পানিগুলো কেবল মানুষকে প্রতারণা করছে না, বরং দেশের হাউজিং খাতে আস্থার সংকট তৈরি করছে। প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ লুট হচ্ছে, দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন “যাচাই-বাছাই ছাড়া জমি কেনা মানেই ধ্বংস।”
প্রতারণার এই ফাঁদ থেকে রক্ষা পেতে গ্রাহকদের সচেতন হতে হবে, আর সরকারের উচিত এ ধরনের ভুয়া হাউজিং কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ

সাইনবোর্ড ব্যবসায় সর্বস্বান্ত গ্রাহকরা

রয়েল ইকো ল্যান্ডের হাউজিং প্রতারণা

আপডেট সময় ১০:৫৯:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

রাজধানী থেকে শুরু করে প্রবাসীদের কাছে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে জমি বিক্রির নামে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে রয়েল ইকো ল্যান্ড নামের একটি হাউজিং কোম্পানি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরকাড়া বিজ্ঞাপন, প্রবাসীদের জন্য বিশেষ অফার ও কিস্তি সুবিধার কথা বলে তারা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অথচ বাস্তবে নেই জমির মালিকানা, নেই সরকারি অনুমোদন—শুধুই ভাড়া করা জমিতে সাইনবোর্ড বসিয়ে প্রতারণার ভয়ংকর ফাঁদ।
প্রতারণার শুরু সাইনবোর্ড থেকে হাউজিং ব্যবসা : মাওয়ার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, রয়েল ইকো ল্যান্ড নামের কোম্পানির সাইনবোর্ড বসানো জমিগুলো অন্য মালিকের নামে রেকর্ডভুক্ত। কোম্পানিটি অল্প কিছু কৃষিজমি কিনলেও শতগুণ বেশি প্লট বিক্রির বিজ্ঞাপন প্রচার করছে। তাদের ব্যবসার একমাত্র পুঁজি হলো—বিলাসবহুল অফিস, সুসজ্জিত মার্কেটিং টিম এবং মিডিয়ায় প্রভাবশালী বিজ্ঞাপন।
একজন স্থানীয় ভূমি মালিক অভিযোগ করে বলেন, “তারা আমার জমি কয়েক মাসের জন্য ভাড়া নেয় শুধু সাইনবোর্ড লাগানোর উদ্দেশ্যে। পরে দেখি সেই জমিই প্লট আকারে বিক্রির বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। অথচ জমির মালিক আমি। এটা তো খোলাখুলি প্রতারণা।”
ভুক্তভোগীদের কান্না প্রবাসী সাইফুলের অভিজ্ঞতা : দুবাই প্রবাসী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম রয়েল ইকো ল্যান্ডের প্রতারণার শিকার। তিনি অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেখে ৫ লাখ টাকা অগ্রিম দিয়ে একটি প্লট বুকিং করেন। দেশে ফিরে জমি দেখতে চাইলে কোম্পানি প্রথমে নানা অজুহাত দেখায়। পরে জানতে পারেন, সেই একই জমি আরও তিনজনের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।
“আমি ভেবেছিলাম দেশে ফিরে একটা ঘর করব। এখন দেখি আমার কষ্টার্জিত টাকাই নেই, প্লটও নেই। দেশে এসে প্রতারিত হলাম।”
নাসরিন আক্তারের অভিজ্ঞতা : গাজীপুরের গৃহিণী নাসরিন আক্তারও প্রতারিত হয়েছেন। তিনি বুকিং মানি হিসেবে ২ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। কিছু কিস্তিও পরিশোধ করেন। হঠাৎ একদিন জানতে পারেন তাদের অফিস বন্ধ, ফোন নম্বরও অকার্যকর। “আমরা সাধারণ মানুষ, কাগজপত্র যাচাই করার সুযোগ ছিল না। এখন বুঝতে পারছি সবই ছিল সাজানো নাটক।”
বিদেশে মেলা করে প্রতারণার নতুন কৌশল : রয়েল ইকো ল্যান্ড শুধু দেশে নয়, প্রবাসীদেরও প্রধান টার্গেট করছে। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তারা দুবাই, আবুধাবি ও কাতারে তথাকথিত একক আবাসন মেলার আয়োজন করে। সেখানে প্রবাসীদের উদ্দেশে বলা হয়-“দেশে ফেরার পর আপনার নিজস্ব বাড়ি হোক নতুন ঢাকায়, গ্রামীণ পরিবেশে আধুনিক নান্দনিকতা।” সেই সময় অসংখ্য প্রবাসী অগ্রিম টাকা পরিশোধ করেন।
শারজাহতে কর্মরত প্রবাসী মিজানুর রহমান বলেন, “আবুধাবি মেলায় আমি ১২ লাখ টাকা দিয়ে প্লট কিনেছিলাম। দেশে গিয়ে দেখি সেখানে কিছুই নেই। কেবল খালি জমি আর সাইনবোর্ড।”
রাজউকের আইন অনুযায়ী, বেসরকারি আবাসিক প্রকল্পের জন্য ভূমি উন্নয়ন বিধিমালা-২০০৪ (সংশোধিত ২০১৫) অনুসারে নিবন্ধন নিতে হয়। এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তর, উপজেলা ভূমি অফিস ও স্থানীয় প্রশাসনের অনুমোদন আবশ্যক। কিন্তু রয়েল ইকো ল্যান্ড এসবের কোনোটিই মানেনি।
রাজউকের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের হাউজিং ব্যবসা সম্পূর্ণ অবৈধ। সাধারণ মানুষ যদি যাচাই না করে জমি কিনে প্রতারিত হয়, দায়ভার পুরোপুরি ক্রেতার ওপর চলে আসে।”
আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার আহসান কবির বলেন, “কোনো কোম্পানির প্রকল্প কিনতে হলে প্রথমে দেখতে হবে তারা ভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিবন্ধন নিয়েছে কিনা। না থাকলে তাদের কাছ থেকে জমি কেনা মানেই প্রতারণার ফাঁদে পড়া।”
প্রতারণার কৌশল : রয়েল ইকো ল্যান্ডের মার্কেটিং টিম গ্রাহককে ফাঁদে ফেলতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তাদের কৌশলগুলো হলো—
চটকদার বিজ্ঞাপন : ফেসবুক লাইভ, ইউটিউব ভিডিও, বিলবোর্ড ও সংবাদপত্রে বড় বিজ্ঞাপন।
আকর্ষণীয় অফার : বুকিং দিলেই উপহার, কিস্তি সুবিধা, ফ্রি প্রজেক্ট ভিজিট।
বিলাসবহুল অফিস : ভেতরে ঢুকলেই মনে হয় সবকিছু বৈধ।
আবেগী টার্গেটিং : প্রবাসীদের বলা হয়—“দেশে ফেরার পর নিজের বাড়ি, পরিবারের স্বপ্ন পূরণ।”
কিন্তু এসবই কেবল টোপ। ভুক্তভোগীরা একবার টাকা দিলে পরে আর কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না।
ভোক্তাদের ক্ষতির পরিমাণ : ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র ২০২৩ সালেই এই কোম্পানি প্রায় ২০০-২৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর বড় অংশ এসেছে প্রবাসীদের কাছ থেকে। অনেকেই জীবনভর কষ্ট করে উপার্জিত সঞ্চয় এক নিমিষে হারিয়ে ফেলেছেন।
অর্থনীতি বিশ্লেষক ড. হুমায়ুন কবির বলেন,“প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতারণার মাধ্যমে এই অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে বা অবৈধ চক্রের হাতে যাচ্ছে। সরকারের উচিত দ্রুত তদন্ত করে প্রতারকদের আইনের আওতায় আনা।”
ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের এক কর্মকর্তা বলেন, “প্রতারণা ঠেকাতে জমি কেনার আগে অবশ্যই যাচাই করতে হবে—প্রকল্পের অনুমোদন আছে কি না। সরকার চাইলে একটি বিশেষ সেল গঠন করে হাউজিং প্রতারণা মনিটর করতে পারে।”
রয়েল ইকো ল্যান্ডের মতো কোম্পানিগুলো কেবল মানুষকে প্রতারণা করছে না, বরং দেশের হাউজিং খাতে আস্থার সংকট তৈরি করছে। প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ লুট হচ্ছে, দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন “যাচাই-বাছাই ছাড়া জমি কেনা মানেই ধ্বংস।”
প্রতারণার এই ফাঁদ থেকে রক্ষা পেতে গ্রাহকদের সচেতন হতে হবে, আর সরকারের উচিত এ ধরনের ভুয়া হাউজিং কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।