ভোলার লালমোহনের মূর্তিমান আতঙ্কের নাম বাবুল পঞ্চায়েত । হত্যা, সন্ত্রাস,চর দখল, চাঁদাবাজি ও ধর্ষণ যার নিত্যদিনের কাজ। বিগত সরকারের পতনের পর ৫ আগস্ট গণ অভ্যুত্থানের পর ঢাকা থেকে পদার্পণ করেন বাবুল পঞ্চায়েত।
শূন্য হাতে লালমোহনে আসার পর থেকে বাবুল এখন শত কোটি টাকার মালিক। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বাবুল একাধিক মামলায় জেল খেটেছেন। অন্তর্র্বতীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বাবুল শুরু করে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, চর দখল ও ধর্ষণের মতো ঘৃণিত কাজ করেছেন। তথ্য সূত্রে জানা যায়, বিগত সরকারের আমলে বাবুল চেক ডিজআর্ণার মামলা, চুরি ও ছিনতাইসহ একাধিক মামলায় জেল খেটেছেন। জেলে থাকাকালীন সময়ে বাবুলের আত্মীয় স্বজন তাকে টাকা পয়সা দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। বাবুলকে জেল থেকে মুক্ত করার জন্য তার ছোট ভাই মানুষের কাছ থেকে টাকা পয়সা ধার করে বাবুলকে জেল থেকে মুক্ত করেন। তথ্য সূত্রে আরো জানা যায়, বাবুল জেলে থাকাকালীন অবস্থায় তার চাচাতো ভাই ফোরকানের কাছ থেকে ২০১৭ সালে গজারিয়ায় মৌজার এস এ ১২৮ খতিয়ানে ১০ শতাংশ জমি বিক্রি করার নাম করে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেন।
বাবুল সরকার পতনের পর তার লালমোহনে এসে প্রথমে তার চাচাতো ভাইয়ের নির্মাণাধীন ঘরের ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। বাবুল জমি দলিল দেয়ার পরিবর্তে উল্টো তারা যাতে ঘর নির্মাণ করতে না পারে সেই ব্যবস্থা করেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, বাবুলের লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসীরা গত বছরের ২১ আগষ্ট রাত এগারোটার দিকে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে মানুষের মাঝে ভীতি সঞ্চার করে পুরো বাড়ির মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
এ বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার ভোলা -০৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের সাথে দেখা করলে হাফিজ সাহেব বাবুলকে কোনো কথা বলেননি। বরংচ বলেন তোমরা বাবুলের ভাইয়ের কাছে টাকা দিয়েছ তার কাছে বোঝ এখানে কেন এসেছ। আমি এটার কোন সমাধান দিতে পারব না।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, বাবুল পঞ্চায়েত বর্তমানে এলাকায় বি এন পি’র উপজেলা সাধারণ সম্পাদক। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে লালমোহনের সকল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদার মহৌৎসবে মেতে উঠেছে। অল্প দিনের মধ্যে বনে যান শতকোটি টাকার মালিক।
প্রতিটি এলাকার বাজারে, প্রতিটি দোকানে মাসিক চাঁদার হার বসিয়ে দেন। বিভিন্ন চর দখল, মানুষের জমি দখল, এলাকায় কেউ নতুন বাড়ি নির্মাণ করতে হলে তাকে চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে বাড়ীর মালিককে করা হয় গুম অথবা হত্যা করে ভাসিয়ে দেয়া হয় নদীতে। পুরাতন আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা এখন বাবুলের ছত্রছায়ায় থেকে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। পুরাতন বিএনপি’র নেতাকর্মীদের আওয়ামী লীগের ট্যাগ লাগিয়ে দল থেকে দুরে সরিয়ে দিয়ে নিজের অবস্থান পোক্ত করে। পূরাতন বিএনপির নেতাকর্মীরা কপাল চাপড়াতে চাপড়াতে আফসোস করে। অনেক নেতা কর্মীরা বিগত সরকারের আমলে নানা মামলা হামলায় জর্জরিত হয়ে জেল জুলুম নির্যাতন সহ্য করে এখন দল থেকে উপেক্ষিত।এ বিষয়ে ভুক্তোভোগী ফোরকান মিয়া বলেন, বাবুল যখন মাসের পর মাস জেল খেটেছে তখন তার ছোট ভাই আমার কাছ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমি বিক্রি করার নাম করে টাকা নিলেও এখন আমাকে বিভিন্নভাবে নাজেহাল করে আসছে। আমি একাধিকবার তার কাছে জমির দলিল চাইলে আমাকে জমি দিবেনা বলে সাফ জানিয়ে দেয়। তিনি আরো বলেন আমি একাধিকবার তার বাসায় ছেলে মেয়ে নিয়ে তার পায়ে পরে আমার জমি ফেরত চাইলেও কোন প্রকার সুরাহা করেনি। উল্টো তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাকে এলাকা ছাড়া করেছে। আমাদের রক্তে লালমোহনে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত আর আমরাই আজ আওয়ামী লীগের ট্যাগের মিথ্যা অপবাদ গলায় ঝুলিয়ে ঘুরতে হয়।
অভিযুক্ত বাবুলের ছোট ভাই জাকির হোসেন নোমানের সাথে এ বিষয়ে তার ব্যবহৃত মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের ব্যপারে যা শুনেছেন তা সঠিক নয়। আমার ভাই যখন জেলে ছিল তখন ফোরকান মিয়ার কাছ থেকে নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিয়ে গজারিয়ায় মৌজার ১২৮ নং খতিয়ান থেকে দশ শতাংশ জমি দেয়ার কথা ছিল কিন্তু আমাদের বাবা চাচাদের জমি ভাগবাটোয়ারা করে যে যার মতো দখল করে নেয়। এখন ফোরকান আর কোন জমি পাবেনা। তার কাছ থেকে নেয়া টাকা অনুযায়ী তাকে যে জমি বিক্রি করার কথা ছিল তা সে আগেই নিয়ে গেছে।
এব্যাপারে অভিযুক্ত বাবুল পঞ্চায়েতকে তার ব্যবহৃত মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনি যা শুনেছেন তা পুরোপুরি সত্য নহে। আমি চেকের মামলায় কোনো দিন জেল খাটিনি। আওয়ামী লীগের লোকজন আমাকে এক মহিলার মাথার টিকলি চুরির দায়ে জেলে পাঠিয়েছিল তখন ফোরকানের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে আমার ছোট ভাই জাকির হোসেন নোমান। আমি এলাকার লোকজনকে বলেছি ফোরকান যে পরিমাণ জমি পাবে সে পরিমাণ শালিশ ডেকে দিয়ে দিতে। সে জেলে থাকা কালীন সময়ে তার ভাই নোমান ফোরকানের কাছ থেকে জমি বিক্রি করার নাম করে টাকা নিয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ আমার ভাই তার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। আমি যখন ২০১৭ সালে জেলে ছিলাম তখন জাকির আমার চাচাতো ভাইয়ের কাছ থেকে ১০ শতাংশ জমি দেয়ার কথা বলে দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা নিয়েছে। এখনো কোনো জমি ফেরত দেননি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটাতেও সমস্যা আছে। জমি দলিল দেয়ার কথা ছিল আট শতাংশ কিন্তু স্ট্যাম্প ঘষামাজা করে দশ শতাংশ লিখেছে।সে আরো বলেন, আমি একজন ভালো লোক পাইনা যারা আমার বাড়ির এই ঝামেলা গুলো মিমাংসা করে দেবে। আপনি ফোরকানের বাড়ি নির্মাণের সময় রড, সিমেন্ট ও ইট আপনার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে লুট করিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফোরকান দোকান থেকে বাড়ি নির্মাণের জন্য মালামাল বাকিতে এনেছিল বাড়ি করতে না পাড়ায় তা ফেরত দিয়েছে। আমি বা আমার কোনো লোকজন তা লুট করে নি। ৫ আগস্টের পর আপনার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, দখলদারির অভিযোগ উঠেছে। তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, আপনি এসে খোঁজ খবর নেন লালমোহনের মানুষ এখন খুব শান্তিতে আছে। আমি কোনো চাঁদাবাজির সাথে জড়িত নই। তিনি আরো বলেন, আমার দল ক্ষমতায় আসলে এক ইঞ্চি জমিও আমি ছাড় দেবনা। ফোরকান আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত থেকে আমার উপর অত্যাচার নির্যাতন করে আমাকে বাড়ি ছাড়া করেছে। অথচ মেজর হাফিজ সাহেবের সামনে ফোরকান নিজেকে গজারিয়ায় ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয় দিয়ে কথা বলেছেন শত শত মানুষের সামনে তখন তো মেজর হাফিজ একবারও বলেন নি ফোরকান আওয়ামী লীগের লোক। একথা বলার পর বাবুল পঞ্চায়েত চুপসে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি’র অনেক ত্যাগী নেতারা অভিযোগ করে বলেন, বিগত বছরের ৫ই আগস্টে পর বাবুল আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছে। এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি,হত্যা,ধর্ষণ, জমি দখল,চর দখল দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। বাবুলের ক্যাডার বাহিনী পুরো লালমোহনে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলছে। পুরো লালমোহন এখন বাবুল আতংকে ভুগছে। কোন সুন্দরী মহিলা যদি কোন প্রকার অভিযোগ নিয়ে তার কাছে আসে তখন তাকে রাতে একাকী দেখা করতে বলে। যদি তুমি রাতে একাকী দেখা করতে পারো তাহলে আমি তোমার সকল সমস্যা সমাধান করে দেব। ইতিমধ্যে লালমোহনের বিভিন্ন চরে দখল করতে গিয়ে অনেক চাষীকে হত্যা করা হয়েছে যা বাবুল পঞ্চায়েতের নির্দেশেই হয়েছে যা পুরো লালমোহনের মানুষের মুখে মুখে। বিএনপির ত্যাগী নেতারা আফসোস করে বলেন, বিগত সরকারের আমলে আমরা নির্যাতনের মুখোমুখি হয়ে জীবন বাজি রেখে বিএনপির সকল প্রকার কর্মসূচি পালন করেছি আর এখন বাবুল আমাদেরকে আওয়ামী লীগের ট্যাগ লাগিয়ে মেজর হাফিজ থেকে ধুরে সরিয়ে রেখেছে। বাবুল আওয়ামী লীগের কর্মীদের কে তার ক্যাডার বাহিনীতে যুক্ত করে এখন বিএনপির লোকজনদের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে চাঁদা আদায় করছে। লালমোহনের অলিতে গলিতে,পাড়া মহল্লায় কেও ঘর বাড়ি করলে অথবা ব্যবসা বাণিজ্য করলে বাবুলের কাছে চাঁদা পৌঁছাতে হয় ব্যতিক্রম হলে সকল কাজ বন্ধ থাকবে। প্রতিবাদ করলে হতে হয় গুম, বাড়াবাড়ি করলে লাশ হয়ে ফিরতে হয় স্বজনদের কাছে। বিএনপির ত্যাগী নেতারা বাবুলের স্বেচ্ছাচারিতার অবসান ঘটিয়ে সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে দলকে সুসংগঠিত করতে চায়। তারা মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের কাছে ও বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন বাবুলের মতো একজন সন্ত্রাসীকে অপসারণ করে একজন যোগ্য ব্যক্তিকে দলের এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দিয়ে দলকে আরো সুসজ্জিত করা হোক। প্রসাশনের প্রতি জনগণের দাবি সঠিক তদন্ত করে সন্ত্রাসী বাবুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্?হণ করে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী মুক্ত লালমোহন ঘোষণা করা।
সংবাদ শিরোনাম ::
হত্যা, চর দখল, চাঁদাবাজি ও ধর্ষণ যার নিত্যদিনের কাজ
লালমোহনের মূর্তিমান আতঙ্ক বাবুল পঞ্চায়েত
-
নিজস্ব প্রতিবেদক - আপডেট সময় ০৯:২৫:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
- ৭৩৮ বার পড়া হয়েছে
জনপ্রিয় সংবাদ






















