ঢাকা ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাদারীপুরের রাজৈর এ অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা -২০২৬ এর পরীক্ষা শুরু ডিপ্লোমা পাস করার ৩ বছর পূর্বেই সহকারী কৃষি শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছে আবুল কালাম আজাদ গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ বরিশালে কাস্টমস কর্মকর্তাকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ—ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলা, প্রত্যাহারে হুমকির দাবি এক মাসে দুইবার বাড়লো এলপিজির দাম, ১২ কেজি ১৯৪০ টাকা ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু সেই ভুয়া আজিজের সহযোগী ইউসুফ রিমান্ডে জ্বালানির সংকট নেই, অসাধু সিন্ডিকেটে পাম্পগুলোতে কৃত্রিম সংকট হচ্ছে তারাকান্দায় বিএনপির দুই গ্রুপের কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে হঠাৎ ছিটকে পড়ে বাসচাপায় ঠিকাদার নিহত
ঘুষ, দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য, প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ

তাপসের হাতিয়ার ডিএসসিসির সাবেক সচিব আখতারুজ্জামান তাঁত বোর্ডে বহাল তবিয়তে

৫ ই আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব আকরামুজ্জামানের পদত্যাগ ও শাস্তির দাবিতে আন্দোলন করে সেই প্রেক্ষিতে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয় কিন্তু অদৃশ্য কারণে সচিব আকরামুজ্জামানকে তাঁত বোর্ডে বদলি করা হয়, অথচ সিটি কর্পোরেশনের সকল প্রকার অনিয়ম দুর্নীতি ঘুষ বাণিজ্য তদবির বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতে প্রদান কর্তাই ছিলেন সচিব আকরামুজ্জামান তাপসের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে পরিচিত ছিলেন ও শেখ সেলিমের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে কারণ তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরে পরিচয় দিতেন নিজেকে শেখ পরিবারের কাছের লোক হিসেবে।
অভিযোগ আছে ৫ আগস্টের পর অনেক সাংবাদিককে অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করেছেন যেন তার বিরুদ্ধে কোন সংবাদ প্রকাশ না হয় ।
দেশের শীর্ষ সকল গণমাধ্যমে অবৈধ ও নিয়ম বহির্ভূতভাবে ডিএসসিসির সচিব আখতারুজ্জামান ৯-স্বজনকে চাকরি দেয়ার সংবাদ প্রকাশিত হয়, এত অনিয়ম আর দুর্নীতির তথ্য থাকার পরও তিনি কিভাবে বহাল তবিয়তে?
ক্ষোভ প্রকাশ করেন ডিএসএসির অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ইপিআই সুপারভাইজার পদে লাইজু খানম। বীর মুক্তিযোদ্ধার নাতনি কোটায় নিয়োগ পেয়েছিলেন তিনি। তবে সিটি কর্পোরেশনে করা চাকরির আবেদনে এই কোটাই উল্লেখ করেননি তিনি। সেখানে কোটা উল্লেখ না করেও কোটায় চাকরি পেয়েছিলেন লাইজু।
লাইজুর বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কাজুলিয়া গ্রামে। একই গ্রামে বাড়ি ডিএসসিসির সাবেক সচিব আকরামুজ্জামানের। যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার এই কর্মকর্তার বোন রোজিনা বেগমের মেয়ে লাইজু। সিটি করপোরেশনে চাকরিপ্রত্যাশীদের অভিযোগ ছিল, মূলত মামা আকরামুজ্জামানের সাচিবিক আদেশে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে চাকরি পেয়েছিলেন লাইজু।
শুধু ভাগ্নি লাইজু নন, সাবেক সচিব আকরামুজ্জামান কর্মরত থাকাকালে আরও আটজন আত্মীয়স্বজনকে সিটি করপোরেশনে চাকরি দিয়েছিলেন।
নিয়োগপ্রাপ্ত শুধু ভাগ্নি জামাইয়ের বাড়ি নড়াইলে। বাকি আটজনের বাড়িই গোপালগঞ্জে তবে তারা বিভিন্ন জায়গার ঠিকানা দিয়েছিল।
আকরামুজ্জামান তৎকালীন ওই নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সচিব হয়ে আত্মীয়স্বজনদের নিয়োগ দিয়েছিল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির সরকারি চাকরিতে নিয়োগের এমন ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা দরকার ছিল। নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগ বোর্ডে থাকা কোনো কর্মকর্তার স্বজন চাকরিপ্রত্যাশী হলে তাকে ওই নিয়োগ বোর্ড থেকে পদত্যাগ করতে হয়। কিন্তু সাবেক সচিব নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সচিব থেকে, এই ক্ষমতার অপব্যবহার করেছিলেন।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যে দেখা যায় লাইজু খানমের বোন লিনা খানম ও ভাই মুশফিক উস শালেহীনও চাকরি করছেন ডিএসসিসিতে। রেজিস্ট্রেশন সহকারী (জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধীকরণ) পদে লিনা। আর কার্যসহকারী পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন মুশফিক কে। আকরামুজ্জামানের আরেক ভাগ্নি হামিমা খানম প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা কর্মী পদে নিয়োগদিয়েছিলেন। শুধু ভাগ্নে-ভাগ্নি নয়, আকরামুজ্জামানের প্রভাবে চাকরি পেয়েছেন তার ভাগ্নি জামাই মো. শাহীন মোল্ল্যা। তার বাড়ি নড়াইলের কালিয়া উপজেলার কচুয়াডাঙ্গা গ্রামে। উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক পদে ডিএসসিসির সচিবের দপ্তরে নিয়োগ পেয়েছিলেন শাহীন।
সাবেক সচিব আকরামুজ্জামানের চার চাচাতো ভাইও নিয়োগ পেয়েছিলেন সিটি করপোরেশনে। ২০২১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রেন্ট অ্যাসিসটেন্ট পদে যোগদান করেছেন মারুফ হাওলাদার। ইপিআই সুপারভাইজার পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন মো. শাকিল আহম্মেদ কে। ২০২২ সালের ২১ আগস্ট স্প্রেম্যান সুপারভাইজার পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন ছাব্বির আহমেদ কে। পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন সোহাগ হাওলাদারকে । এর মধ্যে তথ্য গোপন করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে একসঙ্গে সরকারি দুটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন সোহাগ। তিনি গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ের অফিস সহায়ক পদেও কর্মরত ছিলেন বিষয়টি জানাজানি হলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সোহাগ হাওলাদার সিটি কর্পোরেশনে আর কর্মে যোগ দেননি এবং সচিব আকরামুজ্জামান নিজেও জানতেন এবং জেনে শুনে অবৈধভাবে তাকে নিয়োগ দেন, যেখানে নিজের আত্মীয়-স্বজনদের দিতে পারতেন না ,সেখানে যোগ্য লোকদের বাদ দিয়ে অযোগ্যদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন।
অভিযোগ আছে গত ৫ আগস্ট এর আগে ফ্যাসিবাদের স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পতনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে সরকারের নানা পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্রের নীল নকশা প্রণয়ন করেছিল আওয়ামী লীগ, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ পন্থী বিভিন্ন কর্মচারী কর্মকর্তাদের একত্রিত হয়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের নীল নকশা প্রণয়ন করছে এখনো, সেই তালিকায় আছেন আখতারুজ্জামান।
গত বছর ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচারের পতন হলে ফ্যাসিবাদের দোসরদের চিহ্নিত করে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ দুর্নীতিবাজ আমলাদের সরিয়ে দেয় সরকার, কিন্তু অনেকেই ভোল পাল্টিয়ে এখনো রয়ে গেছেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে ।স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন পরিণত হয়েছিল একটি পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপস শত শত কোটি টাকা লুটপাট করে খেয়েছেন ও বিএনপি-জামাত তকমা লাগিয়ে বহু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচুত্য করেছেন, মেয়র তাপসের সীমাহীন দুর্নীতি অনিয়ম আর একচ্ছত্র আধিপত্যের প্রধান হাতিয়ার ছিলেন দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক সচিব আকরামুজ্জামান, তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে নিজের আত্মীয়স্বজনকে চাকরি দিয়েছেন এবং তাপসের আমলে প্রতিটা নিয়োগে কোটি কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে নিয়োগ প্রদান করতেন।
২০২৪ সালের ৫ ই আগস্টের পরে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে ডিএসসিসির প্রকৌশলী খাইরুল বাকেরকে নিয়ে একটি পোস্ট করেছিলেন একজন প্রকৌশলী কিভাবে ১৫০০ কোটি টাকার মালিক এবং এখনো কিভাবে ফ্যাসিবাদের দোসর দের পুনর্বাসন ও পুরস্কৃত করা হচ্ছে?
গোপালগঞ্জ সদরের কাজুলিয়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান আকরামুজ্জামান গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে ও গোপালগঞ্জের নাম ভাঙিয়ে শত শত কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন। গোপালগঞ্জ সদরে আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ করেছেন। গোপালগঞ্জের বিভিন্ন মৌজায় পরিবারের সদস্য ও বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের নামে বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ক্রয় করেছেন, রয়েছে তার রাজধানী ঢাকার বনশ্রী রামপুরা যাত্রাবাড়ী, পূর্বাচল ধানমন্ডি গুলশান সহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বাড়ি ও ফ্লাট , অভিযোগ আছে দেশের বাহিরে ইতিমধ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন কানাডায় বেগম পাড়ায় রয়েছে তার একাধিক বাড়ি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বজ্র, রাজস্ব, পরিবহন সহ একাধিক বিভাগের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা কর্মচারী বলেন বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে শুধুমাত্র সচিব আকরামুজ্জামানের প্রভাবে আমাদেরকে ওএসডি করা হয়েছিল, আমাদের অনেক সহকর্মীকে চাকরি চ্যুত করা হয়েছে অন্যায় ভাবে অথচ ফ্যাসিবাদের একজন প্রভাবশালী দোসর হয়েও এখনো কিভাবে বহাল তবিয়তে? আরো বলেন এই সিটি কর্পোরেশনের সমস্ত প্রকল্প থেকে উনি বিপুল পরিমাণ কমিশন বাণিজ্য করতেন অবৈধভাবে সিটি কর্পোরেশনের শত শত কোটি টাকার লোপাট করেছেন এবং বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সিটি কর্পোরেশনের একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারীর নাম তিনি তালিকাভুক্ত করেন এবং আন্দোলনে না যাওয়ার হুমকি দেন তিনি প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে ছাত্র জনতার আন্দোলন দমাতে কঠোর ভূমিকা রেখেছেন। তাকে দ্রুত চাকরি থেকে বরখাস্ত করে গ্রেফতার করা হোক ।
এখনো চালিয়ে যাচ্ছেন দুর্নীতি তাঁত বোর্ডে বসে তার বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারী বলেন আমরা অবাক হয়েছিলাম ৫ই আগস্টের পরে যেখানে ফ্যাসিবাদের দোসরদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে সেখানে তিনি কিভাবে এখানে বদলি হয়ে আসলেন? গ্রাম্য একটি প্রবাদ আছে ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভাঙ্গে ঠিক তেমনি আকরামুজ্জামান তাঁত বোর্ডে বসেও ব্যাপক অনিয়ম ওর দুর্নীতি সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন।
নিজেকে আড়াল করতে তাঁত বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে আকরামুজ্জামানের ছবি ও মোবাইল নাম্বার সরিয়ে রেখেছেন অথচ সরকারের প্রতিটা দপ্তরের ওয়েবসাইটে সকল কর্মকর্তা কর্মচারীর নাম পদবী মোবাইল নাম্বার থাকার নির্দেশনা রয়েছে এখানেও তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার ছবি ও মোবাইল নাম্বার সরিয়ে রেখেছে, এ ব্যাপারে তাঁত বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে কেউই গণমাধ্যমের কাছে কথা বলতে রাজি হননি।
দেশের প্রধান কয়েকটি রাজনৈতিক দলের বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদ বলেন এই ধরনের ফ্যাসিবাদের দোসরদের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় একটি স্বচ্ছ নির্বাচন কখনোই সম্ভব না জাতীয় নির্বাচনের আগে স্বৈরাচারের দোসরদের সমূলে উৎখাত করতে হবে।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য আকরামুজ্জামানের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
যুগ্ম সচিব আকরামুজ্জামানের ঘুষ দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের আরও তথ্য নিয়ে আসছে দ্বিতীয় পর্ব।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদারীপুরের রাজৈর এ অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা -২০২৬ এর পরীক্ষা শুরু

ঘুষ, দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য, প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ

তাপসের হাতিয়ার ডিএসসিসির সাবেক সচিব আখতারুজ্জামান তাঁত বোর্ডে বহাল তবিয়তে

আপডেট সময় ০৬:৫৩:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫

৫ ই আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব আকরামুজ্জামানের পদত্যাগ ও শাস্তির দাবিতে আন্দোলন করে সেই প্রেক্ষিতে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয় কিন্তু অদৃশ্য কারণে সচিব আকরামুজ্জামানকে তাঁত বোর্ডে বদলি করা হয়, অথচ সিটি কর্পোরেশনের সকল প্রকার অনিয়ম দুর্নীতি ঘুষ বাণিজ্য তদবির বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতে প্রদান কর্তাই ছিলেন সচিব আকরামুজ্জামান তাপসের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে পরিচিত ছিলেন ও শেখ সেলিমের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে কারণ তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরে পরিচয় দিতেন নিজেকে শেখ পরিবারের কাছের লোক হিসেবে।
অভিযোগ আছে ৫ আগস্টের পর অনেক সাংবাদিককে অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করেছেন যেন তার বিরুদ্ধে কোন সংবাদ প্রকাশ না হয় ।
দেশের শীর্ষ সকল গণমাধ্যমে অবৈধ ও নিয়ম বহির্ভূতভাবে ডিএসসিসির সচিব আখতারুজ্জামান ৯-স্বজনকে চাকরি দেয়ার সংবাদ প্রকাশিত হয়, এত অনিয়ম আর দুর্নীতির তথ্য থাকার পরও তিনি কিভাবে বহাল তবিয়তে?
ক্ষোভ প্রকাশ করেন ডিএসএসির অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ইপিআই সুপারভাইজার পদে লাইজু খানম। বীর মুক্তিযোদ্ধার নাতনি কোটায় নিয়োগ পেয়েছিলেন তিনি। তবে সিটি কর্পোরেশনে করা চাকরির আবেদনে এই কোটাই উল্লেখ করেননি তিনি। সেখানে কোটা উল্লেখ না করেও কোটায় চাকরি পেয়েছিলেন লাইজু।
লাইজুর বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কাজুলিয়া গ্রামে। একই গ্রামে বাড়ি ডিএসসিসির সাবেক সচিব আকরামুজ্জামানের। যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার এই কর্মকর্তার বোন রোজিনা বেগমের মেয়ে লাইজু। সিটি করপোরেশনে চাকরিপ্রত্যাশীদের অভিযোগ ছিল, মূলত মামা আকরামুজ্জামানের সাচিবিক আদেশে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে চাকরি পেয়েছিলেন লাইজু।
শুধু ভাগ্নি লাইজু নন, সাবেক সচিব আকরামুজ্জামান কর্মরত থাকাকালে আরও আটজন আত্মীয়স্বজনকে সিটি করপোরেশনে চাকরি দিয়েছিলেন।
নিয়োগপ্রাপ্ত শুধু ভাগ্নি জামাইয়ের বাড়ি নড়াইলে। বাকি আটজনের বাড়িই গোপালগঞ্জে তবে তারা বিভিন্ন জায়গার ঠিকানা দিয়েছিল।
আকরামুজ্জামান তৎকালীন ওই নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সচিব হয়ে আত্মীয়স্বজনদের নিয়োগ দিয়েছিল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির সরকারি চাকরিতে নিয়োগের এমন ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা দরকার ছিল। নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগ বোর্ডে থাকা কোনো কর্মকর্তার স্বজন চাকরিপ্রত্যাশী হলে তাকে ওই নিয়োগ বোর্ড থেকে পদত্যাগ করতে হয়। কিন্তু সাবেক সচিব নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সচিব থেকে, এই ক্ষমতার অপব্যবহার করেছিলেন।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যে দেখা যায় লাইজু খানমের বোন লিনা খানম ও ভাই মুশফিক উস শালেহীনও চাকরি করছেন ডিএসসিসিতে। রেজিস্ট্রেশন সহকারী (জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধীকরণ) পদে লিনা। আর কার্যসহকারী পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন মুশফিক কে। আকরামুজ্জামানের আরেক ভাগ্নি হামিমা খানম প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা কর্মী পদে নিয়োগদিয়েছিলেন। শুধু ভাগ্নে-ভাগ্নি নয়, আকরামুজ্জামানের প্রভাবে চাকরি পেয়েছেন তার ভাগ্নি জামাই মো. শাহীন মোল্ল্যা। তার বাড়ি নড়াইলের কালিয়া উপজেলার কচুয়াডাঙ্গা গ্রামে। উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক পদে ডিএসসিসির সচিবের দপ্তরে নিয়োগ পেয়েছিলেন শাহীন।
সাবেক সচিব আকরামুজ্জামানের চার চাচাতো ভাইও নিয়োগ পেয়েছিলেন সিটি করপোরেশনে। ২০২১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রেন্ট অ্যাসিসটেন্ট পদে যোগদান করেছেন মারুফ হাওলাদার। ইপিআই সুপারভাইজার পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন মো. শাকিল আহম্মেদ কে। ২০২২ সালের ২১ আগস্ট স্প্রেম্যান সুপারভাইজার পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন ছাব্বির আহমেদ কে। পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন সোহাগ হাওলাদারকে । এর মধ্যে তথ্য গোপন করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে একসঙ্গে সরকারি দুটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন সোহাগ। তিনি গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ের অফিস সহায়ক পদেও কর্মরত ছিলেন বিষয়টি জানাজানি হলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সোহাগ হাওলাদার সিটি কর্পোরেশনে আর কর্মে যোগ দেননি এবং সচিব আকরামুজ্জামান নিজেও জানতেন এবং জেনে শুনে অবৈধভাবে তাকে নিয়োগ দেন, যেখানে নিজের আত্মীয়-স্বজনদের দিতে পারতেন না ,সেখানে যোগ্য লোকদের বাদ দিয়ে অযোগ্যদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন।
অভিযোগ আছে গত ৫ আগস্ট এর আগে ফ্যাসিবাদের স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পতনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে সরকারের নানা পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্রের নীল নকশা প্রণয়ন করেছিল আওয়ামী লীগ, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ পন্থী বিভিন্ন কর্মচারী কর্মকর্তাদের একত্রিত হয়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের নীল নকশা প্রণয়ন করছে এখনো, সেই তালিকায় আছেন আখতারুজ্জামান।
গত বছর ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচারের পতন হলে ফ্যাসিবাদের দোসরদের চিহ্নিত করে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ দুর্নীতিবাজ আমলাদের সরিয়ে দেয় সরকার, কিন্তু অনেকেই ভোল পাল্টিয়ে এখনো রয়ে গেছেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে ।স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন পরিণত হয়েছিল একটি পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপস শত শত কোটি টাকা লুটপাট করে খেয়েছেন ও বিএনপি-জামাত তকমা লাগিয়ে বহু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচুত্য করেছেন, মেয়র তাপসের সীমাহীন দুর্নীতি অনিয়ম আর একচ্ছত্র আধিপত্যের প্রধান হাতিয়ার ছিলেন দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক সচিব আকরামুজ্জামান, তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে নিজের আত্মীয়স্বজনকে চাকরি দিয়েছেন এবং তাপসের আমলে প্রতিটা নিয়োগে কোটি কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে নিয়োগ প্রদান করতেন।
২০২৪ সালের ৫ ই আগস্টের পরে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে ডিএসসিসির প্রকৌশলী খাইরুল বাকেরকে নিয়ে একটি পোস্ট করেছিলেন একজন প্রকৌশলী কিভাবে ১৫০০ কোটি টাকার মালিক এবং এখনো কিভাবে ফ্যাসিবাদের দোসর দের পুনর্বাসন ও পুরস্কৃত করা হচ্ছে?
গোপালগঞ্জ সদরের কাজুলিয়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান আকরামুজ্জামান গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে ও গোপালগঞ্জের নাম ভাঙিয়ে শত শত কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন। গোপালগঞ্জ সদরে আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ করেছেন। গোপালগঞ্জের বিভিন্ন মৌজায় পরিবারের সদস্য ও বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের নামে বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ক্রয় করেছেন, রয়েছে তার রাজধানী ঢাকার বনশ্রী রামপুরা যাত্রাবাড়ী, পূর্বাচল ধানমন্ডি গুলশান সহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বাড়ি ও ফ্লাট , অভিযোগ আছে দেশের বাহিরে ইতিমধ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন কানাডায় বেগম পাড়ায় রয়েছে তার একাধিক বাড়ি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বজ্র, রাজস্ব, পরিবহন সহ একাধিক বিভাগের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা কর্মচারী বলেন বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে শুধুমাত্র সচিব আকরামুজ্জামানের প্রভাবে আমাদেরকে ওএসডি করা হয়েছিল, আমাদের অনেক সহকর্মীকে চাকরি চ্যুত করা হয়েছে অন্যায় ভাবে অথচ ফ্যাসিবাদের একজন প্রভাবশালী দোসর হয়েও এখনো কিভাবে বহাল তবিয়তে? আরো বলেন এই সিটি কর্পোরেশনের সমস্ত প্রকল্প থেকে উনি বিপুল পরিমাণ কমিশন বাণিজ্য করতেন অবৈধভাবে সিটি কর্পোরেশনের শত শত কোটি টাকার লোপাট করেছেন এবং বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সিটি কর্পোরেশনের একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারীর নাম তিনি তালিকাভুক্ত করেন এবং আন্দোলনে না যাওয়ার হুমকি দেন তিনি প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে ছাত্র জনতার আন্দোলন দমাতে কঠোর ভূমিকা রেখেছেন। তাকে দ্রুত চাকরি থেকে বরখাস্ত করে গ্রেফতার করা হোক ।
এখনো চালিয়ে যাচ্ছেন দুর্নীতি তাঁত বোর্ডে বসে তার বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারী বলেন আমরা অবাক হয়েছিলাম ৫ই আগস্টের পরে যেখানে ফ্যাসিবাদের দোসরদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে সেখানে তিনি কিভাবে এখানে বদলি হয়ে আসলেন? গ্রাম্য একটি প্রবাদ আছে ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভাঙ্গে ঠিক তেমনি আকরামুজ্জামান তাঁত বোর্ডে বসেও ব্যাপক অনিয়ম ওর দুর্নীতি সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন।
নিজেকে আড়াল করতে তাঁত বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে আকরামুজ্জামানের ছবি ও মোবাইল নাম্বার সরিয়ে রেখেছেন অথচ সরকারের প্রতিটা দপ্তরের ওয়েবসাইটে সকল কর্মকর্তা কর্মচারীর নাম পদবী মোবাইল নাম্বার থাকার নির্দেশনা রয়েছে এখানেও তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার ছবি ও মোবাইল নাম্বার সরিয়ে রেখেছে, এ ব্যাপারে তাঁত বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে কেউই গণমাধ্যমের কাছে কথা বলতে রাজি হননি।
দেশের প্রধান কয়েকটি রাজনৈতিক দলের বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদ বলেন এই ধরনের ফ্যাসিবাদের দোসরদের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় একটি স্বচ্ছ নির্বাচন কখনোই সম্ভব না জাতীয় নির্বাচনের আগে স্বৈরাচারের দোসরদের সমূলে উৎখাত করতে হবে।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য আকরামুজ্জামানের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
যুগ্ম সচিব আকরামুজ্জামানের ঘুষ দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের আরও তথ্য নিয়ে আসছে দ্বিতীয় পর্ব।