ঢাকা ০২:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নির্বাচন কমিশনকে দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করার চেষ্টা চলছে : পাটওয়ারী নরসিংদী ভূয়া সিভিল কোর্ট কমিশনার গ্রেফতার আমদানি বাণিজ্য সহজ করতে এক ছাতার নিচে সব বিধিমালা গোপনে বিমান বদলালেন ট্রাম্প, ক্ষুব্ধ সফরসঙ্গী সাংবাদিকরা পাহারাদার ৫ কুকুরকে অচেতন করে কৃষকের গরু চুরি বিদ্যুৎ সংযোগের পরই ৩ মহল্লায় পুড়ে গেল টিভি-ফ্রিজসহ বিভিন্ন ডিভাইস রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল রংপুরের হাড়িয়ারকুঠিতে একদিনে হাজার গাছের চারা রোপণ ব্যাটারি রিকশা-ই-বাইক বিদ্যুতের বড় অংশ টেনে নিচ্ছে : জ্বালানিমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল করতে ইসিতে ১১ দলীয় জোট

আকবর শাহ থানার ক্যাশিয়ার পরিচয়ে চাঁদাবাজি, সাংবাদিককে হোয়াটসঅ্যাপে হুমকি

চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ থানার ক্যাশিয়ার পরিচয়ে অলির বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, মাত্র আড়াই লাখ টাকার বিনিময়ে তিনি থানার অলিখিত ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব নিয়েছেন এবং এর পর থেকেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন অলি।

অভিযোগ অনুযায়ী, অলি নগরীর বিভিন্ন অপরাধী চক্র ও অবৈধ কার্যক্রম থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলেন। এর মধ্যে রয়েছে মাদক ব্যবসা, জুয়ার আসর, সাগরপাড়ের অবৈধ তেলের দোকান, ট্রাক স্ট্যান্ড, পাহাড় কাটা এবং চোরাই কাঠের গাড়ি। এসব থেকে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করে অল্প সময়েই কোটিপতি বনে গেছেন তিনি। এমনকি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীও হয়েছিলেন অলি।

এই চাঁদাবাজির তথ্য যাচাই করতে গিয়ে দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিন-এর স্টাফ রিপোর্টার রানা নাহা অলির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু তথ্য দেওয়ার পরিবর্তে উল্টো খারাপ আচরণ করেন অলি। পরে তিনি হোয়াটসঅ্যাপে ভয়েস বার্তা পাঠিয়ে সরাসরি হুমকি দেন সাংবাদিক রানা নাহাকে।

ভয়েস বার্তায় অলি বলেন—“রানা, তুমি আমার পেছনে লেগেছ। মনে কর আজকের পর থেকে তোমার সঙ্গে আমার শত্রুতা শুরু হলো। আমি এর শেষ দেখে ছাড়ব।”

তিনি আরও দাবি করেন, “আগেও তোমার মতো অনেক সাংবাদিককে আমি জেলে পাঠিয়েছি। মিজান নামের এক সাংবাদিককে জেলে পাঠানোর পাশাপাশি মারধরও করিয়েছি। তার ভিডিও আমার কাছে এখনো আছে।”

এছাড়াও তিনি রানার সাংবাদিকতার প্রমাণপত্র দেখতে চান এবং হুমকি দিয়ে বলেন—“তুমি যদি প্রমাণ না দিতে পারো, তাহলে চট্টগ্রামে কিভাবে থাকো আমি দেখে নেব।”

অলির এ হুমকিতে সাংবাদিক রানা নাহা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নিজের জীবনের সুরক্ষার জন্য তিনি ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানায় একটি অভিযোগ (জিডি) দায়ের করেছেন।

রানা নাহা বলেন, “এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। একসময় প্রত্যেক সাংবাদিককে তুহিনের মতো পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে। এখনই দমন না করা গেলে এরা আরও ভয়ংকর হয়ে উঠবে।”

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম বলেন,“তিনি আমাদের থানায় জিডি করেছেন, আমরা জিডি গ্রহণ করেছি। যদিও ঘটনাস্থল আমাদের থানা এলাকায় নয়, তারপরও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।”

নিজ থানা এলাকায় অভিযোগ না করে কেন কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ করেছেন—এ বিষয়ে সাংবাদিক রানা নাহা বলেন,“যখন ক্যাশিয়ার অলি আমাকে হুমকি দিয়েছিল তখন আমি কোতোয়ালি থানা এলাকায় অবস্থান করছিলাম। তাই অভিযোগটি কোতোয়ালি থানায় দিয়েছি।”

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচন কমিশনকে দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করার চেষ্টা চলছে : পাটওয়ারী

আকবর শাহ থানার ক্যাশিয়ার পরিচয়ে চাঁদাবাজি, সাংবাদিককে হোয়াটসঅ্যাপে হুমকি

আপডেট সময় ০৮:৫১:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫

চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ থানার ক্যাশিয়ার পরিচয়ে অলির বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, মাত্র আড়াই লাখ টাকার বিনিময়ে তিনি থানার অলিখিত ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব নিয়েছেন এবং এর পর থেকেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন অলি।

অভিযোগ অনুযায়ী, অলি নগরীর বিভিন্ন অপরাধী চক্র ও অবৈধ কার্যক্রম থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলেন। এর মধ্যে রয়েছে মাদক ব্যবসা, জুয়ার আসর, সাগরপাড়ের অবৈধ তেলের দোকান, ট্রাক স্ট্যান্ড, পাহাড় কাটা এবং চোরাই কাঠের গাড়ি। এসব থেকে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করে অল্প সময়েই কোটিপতি বনে গেছেন তিনি। এমনকি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীও হয়েছিলেন অলি।

এই চাঁদাবাজির তথ্য যাচাই করতে গিয়ে দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিন-এর স্টাফ রিপোর্টার রানা নাহা অলির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু তথ্য দেওয়ার পরিবর্তে উল্টো খারাপ আচরণ করেন অলি। পরে তিনি হোয়াটসঅ্যাপে ভয়েস বার্তা পাঠিয়ে সরাসরি হুমকি দেন সাংবাদিক রানা নাহাকে।

ভয়েস বার্তায় অলি বলেন—“রানা, তুমি আমার পেছনে লেগেছ। মনে কর আজকের পর থেকে তোমার সঙ্গে আমার শত্রুতা শুরু হলো। আমি এর শেষ দেখে ছাড়ব।”

তিনি আরও দাবি করেন, “আগেও তোমার মতো অনেক সাংবাদিককে আমি জেলে পাঠিয়েছি। মিজান নামের এক সাংবাদিককে জেলে পাঠানোর পাশাপাশি মারধরও করিয়েছি। তার ভিডিও আমার কাছে এখনো আছে।”

এছাড়াও তিনি রানার সাংবাদিকতার প্রমাণপত্র দেখতে চান এবং হুমকি দিয়ে বলেন—“তুমি যদি প্রমাণ না দিতে পারো, তাহলে চট্টগ্রামে কিভাবে থাকো আমি দেখে নেব।”

অলির এ হুমকিতে সাংবাদিক রানা নাহা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নিজের জীবনের সুরক্ষার জন্য তিনি ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানায় একটি অভিযোগ (জিডি) দায়ের করেছেন।

রানা নাহা বলেন, “এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। একসময় প্রত্যেক সাংবাদিককে তুহিনের মতো পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে। এখনই দমন না করা গেলে এরা আরও ভয়ংকর হয়ে উঠবে।”

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম বলেন,“তিনি আমাদের থানায় জিডি করেছেন, আমরা জিডি গ্রহণ করেছি। যদিও ঘটনাস্থল আমাদের থানা এলাকায় নয়, তারপরও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।”

নিজ থানা এলাকায় অভিযোগ না করে কেন কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ করেছেন—এ বিষয়ে সাংবাদিক রানা নাহা বলেন,“যখন ক্যাশিয়ার অলি আমাকে হুমকি দিয়েছিল তখন আমি কোতোয়ালি থানা এলাকায় অবস্থান করছিলাম। তাই অভিযোগটি কোতোয়ালি থানায় দিয়েছি।”