সংবাদ শিরোনাম ::
সাবেক এমডির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদকের চিঠিকেও পাত্তা দেননি আইএফআইসি চেয়ারম্যান মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্তবর্তী ডিমাই বাজারে কমিউনিটি পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত মৌলভীবাজারের বড়লেখার উত্তর শাহবাজপুরে অবৈধ মাটি কাটার হিড়িক, টনক নড়ছে না প্রশাসনের ওসমান হাদিকে নিয়ে পাগলা মসজিদের দানবাক্সে চিঠি গিলাতলা-কালীগঞ্জ সড়ক সংস্কার কাজ পরিদর্শনে কর্তৃপক্ষ, কাজের মান সন্তোষজনক নোরা ফাতেহির সঙ্গে নতুন গানে আবারও সঞ্জয় রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের পথ সামনে খুলবে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া-চীন সফর পররাষ্ট্রনীতির মানদণ্ড নিশ্চিত করেছে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে হোন্ডার ম্যাংগো ফেস্ট, উচ্চস্বরে মাইক বাজিয়ে পরিবেশ দূষণ আত্রাইয়ে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত
মারামারি জেরে রাব্বিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

বনানীতে নিয়ন্ত্রণহীন স্পা শিসাবার

বনানী ১১ নম্বর রোডের বিলাসবহুল ‘৩৬০ ডিগ্রি শিশা বার’ দীর্ঘদিন ধরে রাতভর পার্টি, অবৈধ মদ বিক্রি, ইয়াবা সেবন ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের মালিক মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল। বৃহস্পতিবার ভোররাতে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় রাব্বি হাজারী (বয়স প্রায় ৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ২৯ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। ছুরিকাঘাতে রাব্বি হাজারী নামের এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় আবারও আলোচনায় এসেছে প্রতিষ্ঠানটি।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, এখানে রাত ১২টার পর থেকেই ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। শিসার পাশাপাশি চলে খোলামেলা মদের আসর, উচ্চ শব্দে গান ও নানা প্রকার নেশাদ্রব্য সেবন। তরুণ-তরুণীরা দলবেঁধে আসে, অনেকে এখানে অবৈধ চুক্তি ও অপরাধ পরিকল্পনাও করে থাকে।
রাজধানীর বনানী ১১ নম্বর সড়কের একটি ‘৩৬০ ডিগ্রি’ শিশা লাউঞ্জে ভোরে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ওই সময় লাউঞ্জে উপস্থিত কয়েকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হামলাকারী রাব্বি হাজারীর বুকে ও পেটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিক আঘাত করে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে বনানী থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা হয়েছে রক্তমাখা ছুরি এবং সিসিটিভি ফুটেজ।
এ বিষয়ে নিহতের পিতা বাদী হয়ে তিনজনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। আসামীরা হলেন-১। মুন্না, পিতা-মাতা : অজ্ঞাত, সাং-মোহাম্মদপুর, ২। মাকসুদুর রহমান হামজা (২৬),ত পিতা- আব্দুল আল-মামুন মোল্লা, মাতা-মোসা. রীনা সুলতানা, সাং- গাংটিয়ারা, বিল্লাল মেম্বারের বাড়ি, থানা-দেবিদ্বার, জেলা-কুমিল্লা। ৩। মো. ইব্রাহিম খলিল, মালিক থ্রি সিক্সটি শিশা লাউঞ্জ, থানা-বনানী, ঢাকা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় রাহাত হোসেন রাব্বি (৩১) বনানী থানা এলাকার একজন ইন্টারনেট ব্যবসায়ী। সে প্রতিদিনের ন্যায় ইং ১৩/০৮/২৫ তারিখ রাত্র অনুমান ২১.৩০ ঘটিকার সময় ব্যক্তিগত কাজের কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। ব্যক্তিগত কাজ শেষে সে ইং ১৩/০৮/২৫ তারিখ রাত্র অনুমান ২৩.৩০ ঘটিকার সময় তার বন্ধু নুরুল ইসলাম খোকন এর সাথে বনানী থানাধীন ১১ নং রোডস্থ, হাউজ নং-১০০, লিফটের-৪ তলায়, থ্রি সিক্সটি শিশা লাউঞ্জ নামক প্রতিষ্ঠানে যায়। সেখানে কাজ শেষে ইং ১৪/০৮/২৫ তারিখ ভোর অনুমান ০৪.৩০ ঘটিকার সময় আমার ছেলে রাহাত হোসেন রাব্বি তার বন্ধু নুরুল ইসলাম খোকনকে সাথে নিয়ে উক্ত বিল্ডিংয়ের লিফটের-৪ তলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় লিফটের ২য় তলায় আসা মাত্রই উল্লেখিত আসামীগন পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রাব্বির পথরোধ করে দাঁড়ায়। তখন রাব্বি ১নং আসামী মুন্নাকে চিনতে পেরে বলে যে, “মুন্না তুই এই সময় এখানে কেন” উক্ত কথা বলা মাত্রই আসামীদের সাথে আমার ছেলের তর্কবিতর্ক শুরু হয়। রাব্বির সাথে থাকা বন্ধু নুরুল ইসলাম খোকন তাদেরকে শান্ত করার চেষ্টা করে। তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে ১নং আসামী মুন্না তার পাঞ্জাবীর পকেটে থাকা ধারালো চাকু বের করে রাব্বিকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাম পায়ের উরুতে উপুর্যপুরি তিনটি আঘাত করে গুরুতর গভীর কাটা রক্তাক্ত জখম করে।
বনানী থানার ওসি (তদন্ত) জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি ব্যক্তিগত বিরোধের জের। তবে ব্যবসায়িক স্বার্থের দ্বন্দ্ব বা পূর্বশত্রুতার বিষয়টিও তদন্তে রাখা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুযায়ী কয়েকজন সন্দেহভাজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা ঘটনাটিকে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি। কে বা কারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং এর পেছনে কী উদ্দেশ্য কাজ করেছে—সবকিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
এদিকে, ঘটনার পর লাউঞ্জ এলাকা ও আশপাশে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, গভীর রাত পর্যন্ত এসব লাউঞ্জে অনিয়মিত কার্যক্রম চললেও কর্তৃপক্ষের কোনো নজরদারি নেই।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির প্রভাবশালী মালিকানার কারণে বহুদিন ধরেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। মাঝে মাঝে লোক দেখানো অভিযান হলেও কয়েকদিনের মধ্যেই কার্যক্রম আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়। ফলে ‘৩৬০ ডিগ্রি’ কার্যত একটি অঘোষিত অপরাধ-নিরাপদ এলাকা হিসেবে গড়ে উঠেছে।
পূর্বেও এই বার থেকে মারামারি, নারী নির্যাতন, এমনকি মাদকসহ গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এসব ঘটনা দ্রুত চাপা পড়ে যায়। এবার রাব্বি হাজারী হত্যাকাণ্ডের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
রাজধানীতে শিশা পরিবেশনের ওপর কড়া বিধিনিষেধ থাকলেও ‘৩৬০ ডিগ্রি’ তা প্রকাশ্যে লঙ্ঘন করে আসছে। তাদের কাছে বৈধ মদের লাইসেন্স আছে কি না, সেটিও প্রশ্নসাপেক্ষ।
নাগরিক সমাজ, স্থানীয় বাসিন্দা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘৩৬০ ডিগ্রি শিশা বার’-এর বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ ও মালিক-পরিচালকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
উল্লেখ্য এর আগে গত ১৭ মে গোয়েন্দা খবরে বনানীর সিসা লাউঞ্জে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর—ডিএনসি। অভিযানে তালাবদ্ধ কক্ষে শতাধিক তরুণ-তরুণীকে বেসামাল অবস্থায় দেখতে পান অভিযানে থাকা কর্মকর্তারা। যেখানে উপস্থিত ছিলেন— চলচ্চিত্র অঙ্গনের উঠতি মডেল ও অভিনেত্রীরাও। অভিযানে লাউঞ্জের একটি কক্ষে কয়েকজন বিদেশি নাগরিককে তরুণীদের নিয়ে সিসা সেবন করতে দেখা যায়।কর্মকর্তারা ওই কক্ষে প্রবেশ করলে তাদের ওপর চড়াও হন বিদেশি নাগরিকরা এবং ডিজিটাল এভিডেন্স সংগ্রহের সময় মোবাইল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় সিসা লাউঞ্জ থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক এমডির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদকের চিঠিকেও পাত্তা দেননি আইএফআইসি চেয়ারম্যান

মারামারি জেরে রাব্বিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

বনানীতে নিয়ন্ত্রণহীন স্পা শিসাবার

আপডেট সময় ১১:৩১:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫

বনানী ১১ নম্বর রোডের বিলাসবহুল ‘৩৬০ ডিগ্রি শিশা বার’ দীর্ঘদিন ধরে রাতভর পার্টি, অবৈধ মদ বিক্রি, ইয়াবা সেবন ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের মালিক মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল। বৃহস্পতিবার ভোররাতে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় রাব্বি হাজারী (বয়স প্রায় ৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ২৯ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। ছুরিকাঘাতে রাব্বি হাজারী নামের এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় আবারও আলোচনায় এসেছে প্রতিষ্ঠানটি।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, এখানে রাত ১২টার পর থেকেই ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। শিসার পাশাপাশি চলে খোলামেলা মদের আসর, উচ্চ শব্দে গান ও নানা প্রকার নেশাদ্রব্য সেবন। তরুণ-তরুণীরা দলবেঁধে আসে, অনেকে এখানে অবৈধ চুক্তি ও অপরাধ পরিকল্পনাও করে থাকে।
রাজধানীর বনানী ১১ নম্বর সড়কের একটি ‘৩৬০ ডিগ্রি’ শিশা লাউঞ্জে ভোরে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ওই সময় লাউঞ্জে উপস্থিত কয়েকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হামলাকারী রাব্বি হাজারীর বুকে ও পেটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিক আঘাত করে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে বনানী থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা হয়েছে রক্তমাখা ছুরি এবং সিসিটিভি ফুটেজ।
এ বিষয়ে নিহতের পিতা বাদী হয়ে তিনজনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। আসামীরা হলেন-১। মুন্না, পিতা-মাতা : অজ্ঞাত, সাং-মোহাম্মদপুর, ২। মাকসুদুর রহমান হামজা (২৬),ত পিতা- আব্দুল আল-মামুন মোল্লা, মাতা-মোসা. রীনা সুলতানা, সাং- গাংটিয়ারা, বিল্লাল মেম্বারের বাড়ি, থানা-দেবিদ্বার, জেলা-কুমিল্লা। ৩। মো. ইব্রাহিম খলিল, মালিক থ্রি সিক্সটি শিশা লাউঞ্জ, থানা-বনানী, ঢাকা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় রাহাত হোসেন রাব্বি (৩১) বনানী থানা এলাকার একজন ইন্টারনেট ব্যবসায়ী। সে প্রতিদিনের ন্যায় ইং ১৩/০৮/২৫ তারিখ রাত্র অনুমান ২১.৩০ ঘটিকার সময় ব্যক্তিগত কাজের কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। ব্যক্তিগত কাজ শেষে সে ইং ১৩/০৮/২৫ তারিখ রাত্র অনুমান ২৩.৩০ ঘটিকার সময় তার বন্ধু নুরুল ইসলাম খোকন এর সাথে বনানী থানাধীন ১১ নং রোডস্থ, হাউজ নং-১০০, লিফটের-৪ তলায়, থ্রি সিক্সটি শিশা লাউঞ্জ নামক প্রতিষ্ঠানে যায়। সেখানে কাজ শেষে ইং ১৪/০৮/২৫ তারিখ ভোর অনুমান ০৪.৩০ ঘটিকার সময় আমার ছেলে রাহাত হোসেন রাব্বি তার বন্ধু নুরুল ইসলাম খোকনকে সাথে নিয়ে উক্ত বিল্ডিংয়ের লিফটের-৪ তলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় লিফটের ২য় তলায় আসা মাত্রই উল্লেখিত আসামীগন পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রাব্বির পথরোধ করে দাঁড়ায়। তখন রাব্বি ১নং আসামী মুন্নাকে চিনতে পেরে বলে যে, “মুন্না তুই এই সময় এখানে কেন” উক্ত কথা বলা মাত্রই আসামীদের সাথে আমার ছেলের তর্কবিতর্ক শুরু হয়। রাব্বির সাথে থাকা বন্ধু নুরুল ইসলাম খোকন তাদেরকে শান্ত করার চেষ্টা করে। তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে ১নং আসামী মুন্না তার পাঞ্জাবীর পকেটে থাকা ধারালো চাকু বের করে রাব্বিকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাম পায়ের উরুতে উপুর্যপুরি তিনটি আঘাত করে গুরুতর গভীর কাটা রক্তাক্ত জখম করে।
বনানী থানার ওসি (তদন্ত) জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি ব্যক্তিগত বিরোধের জের। তবে ব্যবসায়িক স্বার্থের দ্বন্দ্ব বা পূর্বশত্রুতার বিষয়টিও তদন্তে রাখা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুযায়ী কয়েকজন সন্দেহভাজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা ঘটনাটিকে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি। কে বা কারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং এর পেছনে কী উদ্দেশ্য কাজ করেছে—সবকিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
এদিকে, ঘটনার পর লাউঞ্জ এলাকা ও আশপাশে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, গভীর রাত পর্যন্ত এসব লাউঞ্জে অনিয়মিত কার্যক্রম চললেও কর্তৃপক্ষের কোনো নজরদারি নেই।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির প্রভাবশালী মালিকানার কারণে বহুদিন ধরেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। মাঝে মাঝে লোক দেখানো অভিযান হলেও কয়েকদিনের মধ্যেই কার্যক্রম আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়। ফলে ‘৩৬০ ডিগ্রি’ কার্যত একটি অঘোষিত অপরাধ-নিরাপদ এলাকা হিসেবে গড়ে উঠেছে।
পূর্বেও এই বার থেকে মারামারি, নারী নির্যাতন, এমনকি মাদকসহ গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এসব ঘটনা দ্রুত চাপা পড়ে যায়। এবার রাব্বি হাজারী হত্যাকাণ্ডের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
রাজধানীতে শিশা পরিবেশনের ওপর কড়া বিধিনিষেধ থাকলেও ‘৩৬০ ডিগ্রি’ তা প্রকাশ্যে লঙ্ঘন করে আসছে। তাদের কাছে বৈধ মদের লাইসেন্স আছে কি না, সেটিও প্রশ্নসাপেক্ষ।
নাগরিক সমাজ, স্থানীয় বাসিন্দা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘৩৬০ ডিগ্রি শিশা বার’-এর বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ ও মালিক-পরিচালকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
উল্লেখ্য এর আগে গত ১৭ মে গোয়েন্দা খবরে বনানীর সিসা লাউঞ্জে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর—ডিএনসি। অভিযানে তালাবদ্ধ কক্ষে শতাধিক তরুণ-তরুণীকে বেসামাল অবস্থায় দেখতে পান অভিযানে থাকা কর্মকর্তারা। যেখানে উপস্থিত ছিলেন— চলচ্চিত্র অঙ্গনের উঠতি মডেল ও অভিনেত্রীরাও। অভিযানে লাউঞ্জের একটি কক্ষে কয়েকজন বিদেশি নাগরিককে তরুণীদের নিয়ে সিসা সেবন করতে দেখা যায়।কর্মকর্তারা ওই কক্ষে প্রবেশ করলে তাদের ওপর চড়াও হন বিদেশি নাগরিকরা এবং ডিজিটাল এভিডেন্স সংগ্রহের সময় মোবাইল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় সিসা লাউঞ্জ থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।