- টেন্ডার কারসাজি থেকে কোটি টাকা লুট
- ঘুষ বাণিজ্যে জড়িত সাবেক-বর্তমান কর্মকর্তা
- একাধিক মামলা ঝুলে আছে
- স্বৈরাচারের দোসরদের পদোন্নতি
- ক্ষমতায় থেকে প্রকল্পে লুটপাট
শুধু মাত্র কোটি কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, নিম্নমানের নির্মাণকাজ, টেন্ডার কারসাজি ও ঘুষ বাণিজ্যে করে ক্ষান্ত না হয়ে বছরের পর বছর সাধারণ মানুষের আয় করের টাকা লুটে নিচ্ছে গণপূর্ত বিভাগের একাধিক সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা। অথচ এসব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা রয়েছেন ধরা ছোঁয়া বাইরে। এক কথায় আইনের আওতায় আনা হয়নি তাদের।
দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সরকারি ভবন, সড়ক, সেতু ও আবাসন প্রকল্পের কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, ভুয়া বিল তৈরি, কাজ শেষ হওয়ার আগেই অর্থ উত্তোলন—এমন একাধিক অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তদারকি সংস্থার প্রতিবেদনেও অনিয়মের প্রমাণ মিললেও অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
গণপূর্ত বিভাগের ভেতরের একাধিক সূত্র জানায়, এসব কর্মকর্তারা প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের সঙ্গে সম্পর্কে পেয়েছে দায়মুক্তি। কেউ কেউ আবার অবসরে গিয়েও বেসরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে চাকরি করছেন।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ১০ বছরে গণপূর্ত বিভাগের প্রায় অর্ধশত প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে। তবে এসব মামলার অধিকাংশই এখনো তদন্ত বা আদালতের ধীরগতির কারণে ঝুলে আছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদে এখনো রয়েছেন সেইসব ব্যক্তিরা, যারা স্বৈরাচারী শাসনামলে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগে বিতর্কিত ছিলেন। সরকার ও নীতিনির্ধারকদের একাধিক পরিবর্তন হলেও এসব ব্যক্তিকে সরানো হয়নি, বরং তারা নানা প্রভাবশালী পদে বহাল থেকে দপ্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, এদের অনেকেই অতীতে ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে হাত রেখে নিয়েছেন সুযোগ সুবিধা।
রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় এবং প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুবাদে স্বৈরাচারী আমলে দ্রুত পদোন্নতি লাভ করেন। সেই সময় বিভিন্ন বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পে টেন্ডার কারচুপি, গুণগত মানে হেরফের এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ ওঠে। যদিও বেশ কয়েকটি তদন্ত প্রতিবেদন করা হয় এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
বর্তমান সরকার প্রশাসনের শুদ্ধি অভিযান চালানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও গণপূর্ত দপ্তরে এসব প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও কর্মচারীর অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, তারা দপ্তরের ভেতরে শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন, যা যেকোনো বদলির আদেশ ঠেকিয়ে দিতে সক্ষম।
এর মধ্যে অন্যতম কর্মকর্তারা হলেন:
তৈমুর আলম,তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী গণপূর্ত ই/এম সার্কেল-৪।
মো. মাসুদ রানা সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী গণপূর্ত বিভাগ-৪। ই/এম ৩।
মোয়াজ্জেম হোসেন, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী শেরে বাংলা নগর-১।
এ.এন মাজাহারুল ইসলাম, সাবের্ক নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকল্প-৫।
মো. মিজানুর রহমান সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী, গণপূর্তমো প্লাম্বিং ইউনিট-২, ঢাকা।
মোর্শেদ ইকবাল সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী গণপূর্ত অধিদপ্তর।
মো. আবুল খায়ের সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রংপুর গণপূর্ত জোন।
মো. জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী গণপূর্ত অধিদপ্তর।
মো. জাহাঙ্গীর, সাবেক কর্মকর্তা, ঢাকা গণপূর্ত-৩।
মো. সোলায়মান হোসেন সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী গণপূর্ত প্রকৌশলী ই/এম বিভাগ ১১।
আব্দুল হালিম সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী গণপূর্ত প্রকৌশলী ই/এম বিভাগ ১১।
শরীফ মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুম, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ই/এম বিভাগ ১১।
মোসলেহ উদ্দিন, সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী পদে দুর্নীতিবাজ মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ নিয়োগের জন্য জোর চেষ্টা-তদবির চলছে বলে অভিযোগ উঠেছিল স্বৈরাচার আমলে। রাজধানীর মিরপুর, আজিমপুর এবং মতিঝিলের ফ্ল্যাট প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ থাকা মোসলেহ উদ্দিন আহমেদকে প্রধান প্রকৌশলী পদে বসাতে চেষ্টা করছে দুর্নীতিবাজ একটি চক্র। এ কাজ সমাধা করতে তারা ২০ কোটি টাকার বাজেট নিয়ে নেমেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদের নামে ঢাকার বিজ্ঞ সিএমএম আদালতে সিআর মামলা নং-১১৮/২০২৫, ধারা ঃ ১৪৭/১৪৮/৩২৬/৩০৭/৫০৬/৩৪ দণ্ডবিধিতে মামলা দায়ের করেন মো. সমুন হাওলাদার।
এদের নামে দুদকে একাধিক মামলা থাকার পরও তারা প্রভাব খাটিয়ে যাচ্ছে গণপূর্ত অধিদপ্তরে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এখানে কিছু ব্যক্তি এমন প্রভাবশালী যে, তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। প্রজেক্ট, টেন্ডার, এমনকি কর্মী নিয়োগ-সবকিছুতেই তাদের হাত থাকে।”
জনগণের করের টাকায় পরিচালিত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানে এখনো স্বৈরাচারের দোসরদের প্রভাব বিস্তৃত থাকা প্রশাসনিক সংস্কার ও জবাবদিহি নিশ্চিতের পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতারকে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও ফোন রিসিভ করেনি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















