সংবাদ শিরোনাম ::
নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী ঝালকাঠি পৌর প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলায় ৯নং ওয়ার্ডের জয় কালিহাতীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার মুকসুদপুরে কৃষকের মাঝে নারকেল গাছের চারা ও সার বিতরণ ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল বাস্তবায়নে জোর, অভিভাবকদের সহযোগিতা কামনা সময় টিভির সাবেক এমডি আহমেদ জোবায়ের কারাগারে মিল্কভিটার চেয়ারম্যান শাতিলের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ স্বচ্ছতা,জবাবদিহীতা ও ন্যায়ভিত্তিক প্রশাসন নিশ্চিত করা হবে : ভিসি হেমায়েত জাহান

চোখের পলকেই নদীতে বিলীন দ্বিতল মসজিদ

প্রত্যক্ষদর্শী নুরউদ্দিন মাঝি বলেন, সকালেই খবর পাই আমাদের এলাকার মসজিদটি ভাঙনের কবলে পড়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। আমরা অনেকেই দ্রুত নদীর পাড়ে চলে আসি। একটু পরেই চোখের পলকে বিকট শব্দে মসজিদটি নদীর মধ্যে ভেঙে পড়ে। আমরা এলাকাবাসী খুবই আতঙ্কে আছি। আমাদের অনেকের ঘরবাড়ি চলে গেছে, বাকিগুলোও চলে যাবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, গত বছর নভেম্বর মাসে জাজিরার পদ্মা সেতু প্রকল্পের ইন্সট্রাকশন ইয়ার্ড রক্ষাবাঁধের জিরো পয়েন্ট এলাকায় প্রথম ভাঙন শুরু হয়। এতে বাঁধের ১০০ মিটার অংশে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এরপর চলতি বছরের ৭ জুন, ৭ জুলাই, ৯ জুলাই, ২৩ জুলাই, ৩১ জুলাই ও সবশেষ ৫ আগস্ট মোট কয়েক দফা ভাঙনে বাঁধটির অন্তত ৭৫০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙনে ওই বাঁধের পাশে আলম খাঁরকান্দি, ওছিম উদ্দিন মাদবরকান্দি, উকিল উদ্দিন মুন্সিকান্দি এবং মাঝির ঘাট এলাকার অন্তত ৩০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ৫০টি বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এছাড়া ভাঙন আতঙ্কে আরও শতাধিক ঘরবাড়ি সরিয়ে নেয় স্থানীয়রা। এদিকে ভাঙন বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই অঞ্চলের অন্তত ৬০০ পরিবার এবং মাঝিরঘাট বাজারের ২০০টির বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঝুঁকিতে রয়েছে।

এদিকে ভাঙন ঠেকাতে অস্থায়ী ভিত্তিতে ভাঙন কবলিত স্থানে বালুভর্তি জিওব্যাগ ও জিওটিউব ডাম্পিং করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এ পর্যন্ত ওই এলাকায় ১ লাখ ২০ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। তাতে ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি টাকা। তবে ভাঙনের ফলে সেগুলোও কোনো কাজে আসেনি। উপরন্তু সেই জিওব্যাগ সমেত নদীর তীর ভেঙে আরও ১৫০ মিটার ভেতরে প্রবেশ করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আফজাল হোসেন বলেন, জিওব্যাগ ডাম্পিং করেও কোনোভাবেই নদী ভাঙন থামানো যাচ্ছে না। জানি না কবে এই ভাঙন থামবে। তবে অতি দ্রুত স্থায়ী টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে।

জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মাদ তারেক হাসান বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত নদী ভাঙন ঠেকাতে আপদকালীন কাজ করছি। কিন্তু পদ্মা নদীতে যেই স্রোত, ভাঙন পুরোপুরি থামানো সম্ভব না। ভাঙন প্রতিরোধের একটিই ব্যবস্থা, সেটি হলো স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। আমরা ইতোমধ্যেই সে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। প্রকল্প অনুমোদন শেষে আমরা কাজ শুরু করতে পারবো।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে

চোখের পলকেই নদীতে বিলীন দ্বিতল মসজিদ

আপডেট সময় ১১:৫৫:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫

প্রত্যক্ষদর্শী নুরউদ্দিন মাঝি বলেন, সকালেই খবর পাই আমাদের এলাকার মসজিদটি ভাঙনের কবলে পড়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। আমরা অনেকেই দ্রুত নদীর পাড়ে চলে আসি। একটু পরেই চোখের পলকে বিকট শব্দে মসজিদটি নদীর মধ্যে ভেঙে পড়ে। আমরা এলাকাবাসী খুবই আতঙ্কে আছি। আমাদের অনেকের ঘরবাড়ি চলে গেছে, বাকিগুলোও চলে যাবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, গত বছর নভেম্বর মাসে জাজিরার পদ্মা সেতু প্রকল্পের ইন্সট্রাকশন ইয়ার্ড রক্ষাবাঁধের জিরো পয়েন্ট এলাকায় প্রথম ভাঙন শুরু হয়। এতে বাঁধের ১০০ মিটার অংশে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এরপর চলতি বছরের ৭ জুন, ৭ জুলাই, ৯ জুলাই, ২৩ জুলাই, ৩১ জুলাই ও সবশেষ ৫ আগস্ট মোট কয়েক দফা ভাঙনে বাঁধটির অন্তত ৭৫০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙনে ওই বাঁধের পাশে আলম খাঁরকান্দি, ওছিম উদ্দিন মাদবরকান্দি, উকিল উদ্দিন মুন্সিকান্দি এবং মাঝির ঘাট এলাকার অন্তত ৩০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ৫০টি বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এছাড়া ভাঙন আতঙ্কে আরও শতাধিক ঘরবাড়ি সরিয়ে নেয় স্থানীয়রা। এদিকে ভাঙন বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই অঞ্চলের অন্তত ৬০০ পরিবার এবং মাঝিরঘাট বাজারের ২০০টির বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঝুঁকিতে রয়েছে।

এদিকে ভাঙন ঠেকাতে অস্থায়ী ভিত্তিতে ভাঙন কবলিত স্থানে বালুভর্তি জিওব্যাগ ও জিওটিউব ডাম্পিং করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এ পর্যন্ত ওই এলাকায় ১ লাখ ২০ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। তাতে ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি টাকা। তবে ভাঙনের ফলে সেগুলোও কোনো কাজে আসেনি। উপরন্তু সেই জিওব্যাগ সমেত নদীর তীর ভেঙে আরও ১৫০ মিটার ভেতরে প্রবেশ করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আফজাল হোসেন বলেন, জিওব্যাগ ডাম্পিং করেও কোনোভাবেই নদী ভাঙন থামানো যাচ্ছে না। জানি না কবে এই ভাঙন থামবে। তবে অতি দ্রুত স্থায়ী টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে।

জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মাদ তারেক হাসান বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত নদী ভাঙন ঠেকাতে আপদকালীন কাজ করছি। কিন্তু পদ্মা নদীতে যেই স্রোত, ভাঙন পুরোপুরি থামানো সম্ভব না। ভাঙন প্রতিরোধের একটিই ব্যবস্থা, সেটি হলো স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। আমরা ইতোমধ্যেই সে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। প্রকল্প অনুমোদন শেষে আমরা কাজ শুরু করতে পারবো।