ঢাকা ০৬:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হাতকড়াসহ আদালত চত্বর থেকে পালালেন মাদক মামলার আসামি যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ দুর্যোগ, ঘর হারাল ৬৭ হাজার মানুষ চাঁপাইনবাবগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে ৩০০ শিক্ষার্থীর মাঝে গাছের চারা বিতরণ নরসিংদীতে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেফতার ৪৯ বগুড়ার সাব-রেজিস্ট্রার অনিমেষ পালের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ গ্যাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আর কত দিন লাগবে, জানালেন জ্বালানি মন্ত্রী গ্যাসের দাম এক টাকাও বাড়ালে সরকার টিকতে পারবে না : নাহিদ ইসলাম শিবির করায় ববির এক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীকে ছাত্রদলের মারধর, অতঃপর চাকরিচ্যুত জুলাই দিবস পালন শেষে জাজিরা উপজেলা বিএনপির সংবাদ সম্মেলন ১২ হাজার টাকার ঋণ, ১৩ লাখ টাকার মামলা; বালিয়াডাঙ্গীতে গ্রেপ্তার সুদ ব্যবসায়ী

বিবেক – আয়নায় আটকে থাকা সমাজের মুখ

  • হাসান মাহমুদ
  • আপডেট সময় ১২:৩৪:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫
  • ৭০৭ বার পড়া হয়েছে

ইকবাল জিল্লুল মজিদ
পরিচালক, কমিউনিটি হেলথ প্রোগ্রাম
রাডডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার, মিরপুর ১০, ঢাকা ১২১৬

বিবেক—শব্দটি শুনলেই মনের ভেতর এক ধরনের নরম আলো জ্বলে ওঠে। যেন গভীর রাতে একা দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাতিঘর, যার আলো আছে, দিকনির্দেশনা আছে, কিন্তু সেখানে পৌঁছাতে গিয়ে বহুবার পা হড়কে যায়।

আজকের সমাজে এই ‘বিবেক’ ঠিক কতটা জীবন্ত, আর কতটা যাদুঘরের মৃত শিল্প হয়ে গেছে—সেটাই বড় প্রশ্ন।

একটা সময় ছিল, যখন কারো ভুলে অন্যের হৃদয় ক্ষতবিক্ষত হলে, “ভুল করেছি” বলাটা সাহসের পরিচয় ছিল। এখন? এখন দোষী চুপ করে থাকে, আর বাকিরা মুচকি হেসে কফি খায়—তাদের বিবেক ক্লাউডে আপলোড হয়ে গেছে, ডাউনলোড করার সময় নেই!

রাস্তায় কেউ পড়ে গেলে, আগে মোবাইল ক্যামেরা ওঠে; হাত বাড়িয়ে তোলার কথা পরে আসে—কিংবা অনেক সময় আসে-ই না। এই ‘দর্শক সমাজে’ বিবেক এক ধরনের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হয়ে গেছে—শোনা যায়, কিন্তু কেউ মনোযোগ দেয় না। তবুও সেটা বাজতেই থাকে।

বিবেক শুধু ব্যক্তির নয়, রাষ্ট্রেরও থাকা জরুরি। কিন্তু আজকের রাষ্ট্রের বিবেক অনেকটা বিজ্ঞাপনের মতো—যেখানে বাস্তবতা নয়, ইমেজই মুখ্য। এক ক্ষুধার্ত মানুষ সরকারকে দেখে না, সে দেখে দেয়ালে লাগানো বিলবোর্ড—‘আমরা উন্নয়নের পথে’, আর সে হাঁটে উল্টো দিকে; পেছনে পড়ে থাকা গর্তগুলো টপকাতে টপকাতে।

স্কুলে আমরা “সততা” শিখি, কিন্তু পরীক্ষায় “প্রশ্নপত্র ফাঁস” করে পাশ করি। অফিসে “নৈতিকতা” নিয়ে সেমিনার হয়, আর ঘুষের হিসাব চলে ক্যালকুলেটরে। তাহলে কোথায় গেল সেই বিবেক? নাকি এখন তা হয়ে গেছে কাস্টমাইজড—”নিজের সুবিধামতো জাগে, আর অসুবিধায় ঘুমায়”?

তবুও মাঝেমধ্যে কিছু মানুষ, কিছু মুহূর্ত আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়। যেমন—একটি ছোট্ট ছেলে বা মেয়ে নিজের টিফিন ভিখিরির পাতে রেখে দেয় নিঃস্বার্থভাবে। তখন মনে হয়, বিবেক মরে যায়নি—সে শুধু ক্লান্ত, একটু আদর খুঁজছে।

পরিশেষে:
যদি বিবেক হয় আয়নার মতো, তবে সমাজ সেই আয়নায় নিজের মুখ দেখতে ভয় পায়। কারণ সেখানে সৌন্দর্যের নয়, সত্যের প্রতিফলন ঘটে।

আর যতদিন সত্যকে অস্বীকার করব, ততদিন বিবেক থাকবে শুধু বইয়ের পাতায়—না বলা কবিতার ছায়ায়।

তবুও আশাবাদী হওয়া যায়—কারণ বিবেক কখনো মরে না। সে শুধু অপেক্ষা করে—একটা চেতনার, একটা সাহসের, আর একটা বিপ্লবের।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাতকড়াসহ আদালত চত্বর থেকে পালালেন মাদক মামলার আসামি

বিবেক – আয়নায় আটকে থাকা সমাজের মুখ

আপডেট সময় ১২:৩৪:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫

ইকবাল জিল্লুল মজিদ
পরিচালক, কমিউনিটি হেলথ প্রোগ্রাম
রাডডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার, মিরপুর ১০, ঢাকা ১২১৬

বিবেক—শব্দটি শুনলেই মনের ভেতর এক ধরনের নরম আলো জ্বলে ওঠে। যেন গভীর রাতে একা দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাতিঘর, যার আলো আছে, দিকনির্দেশনা আছে, কিন্তু সেখানে পৌঁছাতে গিয়ে বহুবার পা হড়কে যায়।

আজকের সমাজে এই ‘বিবেক’ ঠিক কতটা জীবন্ত, আর কতটা যাদুঘরের মৃত শিল্প হয়ে গেছে—সেটাই বড় প্রশ্ন।

একটা সময় ছিল, যখন কারো ভুলে অন্যের হৃদয় ক্ষতবিক্ষত হলে, “ভুল করেছি” বলাটা সাহসের পরিচয় ছিল। এখন? এখন দোষী চুপ করে থাকে, আর বাকিরা মুচকি হেসে কফি খায়—তাদের বিবেক ক্লাউডে আপলোড হয়ে গেছে, ডাউনলোড করার সময় নেই!

রাস্তায় কেউ পড়ে গেলে, আগে মোবাইল ক্যামেরা ওঠে; হাত বাড়িয়ে তোলার কথা পরে আসে—কিংবা অনেক সময় আসে-ই না। এই ‘দর্শক সমাজে’ বিবেক এক ধরনের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হয়ে গেছে—শোনা যায়, কিন্তু কেউ মনোযোগ দেয় না। তবুও সেটা বাজতেই থাকে।

বিবেক শুধু ব্যক্তির নয়, রাষ্ট্রেরও থাকা জরুরি। কিন্তু আজকের রাষ্ট্রের বিবেক অনেকটা বিজ্ঞাপনের মতো—যেখানে বাস্তবতা নয়, ইমেজই মুখ্য। এক ক্ষুধার্ত মানুষ সরকারকে দেখে না, সে দেখে দেয়ালে লাগানো বিলবোর্ড—‘আমরা উন্নয়নের পথে’, আর সে হাঁটে উল্টো দিকে; পেছনে পড়ে থাকা গর্তগুলো টপকাতে টপকাতে।

স্কুলে আমরা “সততা” শিখি, কিন্তু পরীক্ষায় “প্রশ্নপত্র ফাঁস” করে পাশ করি। অফিসে “নৈতিকতা” নিয়ে সেমিনার হয়, আর ঘুষের হিসাব চলে ক্যালকুলেটরে। তাহলে কোথায় গেল সেই বিবেক? নাকি এখন তা হয়ে গেছে কাস্টমাইজড—”নিজের সুবিধামতো জাগে, আর অসুবিধায় ঘুমায়”?

তবুও মাঝেমধ্যে কিছু মানুষ, কিছু মুহূর্ত আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়। যেমন—একটি ছোট্ট ছেলে বা মেয়ে নিজের টিফিন ভিখিরির পাতে রেখে দেয় নিঃস্বার্থভাবে। তখন মনে হয়, বিবেক মরে যায়নি—সে শুধু ক্লান্ত, একটু আদর খুঁজছে।

পরিশেষে:
যদি বিবেক হয় আয়নার মতো, তবে সমাজ সেই আয়নায় নিজের মুখ দেখতে ভয় পায়। কারণ সেখানে সৌন্দর্যের নয়, সত্যের প্রতিফলন ঘটে।

আর যতদিন সত্যকে অস্বীকার করব, ততদিন বিবেক থাকবে শুধু বইয়ের পাতায়—না বলা কবিতার ছায়ায়।

তবুও আশাবাদী হওয়া যায়—কারণ বিবেক কখনো মরে না। সে শুধু অপেক্ষা করে—একটা চেতনার, একটা সাহসের, আর একটা বিপ্লবের।