ঢাকা ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বরিশালে কাস্টমস কর্মকর্তাকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ—ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলা, প্রত্যাহারে হুমকির দাবি এক মাসে দুইবার বাড়লো এলপিজির দাম, ১২ কেজি ১৯৪০ টাকা ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু সেই ভুয়া আজিজের সহযোগী ইউসুফ রিমান্ডে জ্বালানির সংকট নেই, অসাধু সিন্ডিকেটে পাম্পগুলোতে কৃত্রিম সংকট হচ্ছে তারাকান্দায় বিএনপির দুই গ্রুপের কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে হঠাৎ ছিটকে পড়ে বাসচাপায় ঠিকাদার নিহত চুয়াডাঙ্গায় ঘুমন্ত নারীকে কুপিয়ে হত্যা সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ নিয়ে ফের উত্তাল চট্টগ্রাম শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে মোটরসাইকেল চালানোর প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ডাকসু
রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বিঘ্নিত

স্বানাপ সিন্ডিকেটে বন্দি জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতাল

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে কর্মরত কিছু সিনিয়র নার্সের বিরুদ্ধে দায়িত্বে গাফিলতি, প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার এবং সেবার মান ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ উঠেছে। বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদ (স্বানাপ) নামের একটি সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ—সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক শুভ্রা রানী নাথ, হামিদা বেগম, মিতালী কর্মকার, মিতা রানী, শাহিনা সুলতানা, কামরুন্নাহার ও হুমায়ূন কবির (খাজা)সহ আরও কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের ইউনিট বণ্টন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রেখে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রমতে, এসব নার্স কর্মস্থলে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রশাসনিক সুবিধা আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে দাবি উঠেছে। তবে বাস্তবে তাদের সেবার মান, কর্মদক্ষতা ও উপস্থিতি নিয়ে রোগী ও সহকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েও কিছু নার্সের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং দায়িত্ব পালনের ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে—এমন মন্তব্য পাওয়া গেছে একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্রে।

বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় এই নার্সদের কয়েকজন শান্তি মিছিলে অংশ নেন। একই সময়ে হাসপাতালে আহত শিক্ষার্থীরা সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছিল। বিষয়টি সে সময় সমালোচনার জন্ম দিলেও প্রশাসনিকভাবে তা আমলে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া, হাসপাতালের পরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) জাকির হোসেনের বিরুদ্ধেও দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সূত্র জানায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয়ের মাধ্যমে হাসপাতালের নানা কার্যক্রমে প্রভাব বজায় রেখে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া বিগত সময়ে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন ইউনিটে ইনচার্জের দায়িত্ব প্রদানের মতো অভিযোগও রয়েছে।

একজন জ্যেষ্ঠ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এই সিন্ডিকেটের রাজনৈতিক প্রভাব এতটাই গভীর যে, কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলার সাহস পায়নি। তবে এখন সময় এসেছে স্বচ্ছ তদন্ত ও সেবার মান পুনরুদ্ধারের।”

সচেতন মহলের মতে, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। তারা বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত না হলে স্বাস্থ্যখাতে কাঙ্ক্ষিত শুদ্ধি সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, জুলাই আগস্ট এর আন্দোলনের পর ফ্যাসিবাদী নার্সদের অন্য হাসপাতালে শাস্তি ও বদলি করা হলেও জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে কোন শাস্তি ও বদলি করা হয়নি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে কাস্টমস কর্মকর্তাকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ—ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলা, প্রত্যাহারে হুমকির দাবি

রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বিঘ্নিত

স্বানাপ সিন্ডিকেটে বন্দি জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতাল

আপডেট সময় ১০:৩৫:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মে ২০২৫

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে কর্মরত কিছু সিনিয়র নার্সের বিরুদ্ধে দায়িত্বে গাফিলতি, প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার এবং সেবার মান ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ উঠেছে। বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদ (স্বানাপ) নামের একটি সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ—সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক শুভ্রা রানী নাথ, হামিদা বেগম, মিতালী কর্মকার, মিতা রানী, শাহিনা সুলতানা, কামরুন্নাহার ও হুমায়ূন কবির (খাজা)সহ আরও কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের ইউনিট বণ্টন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রেখে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রমতে, এসব নার্স কর্মস্থলে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রশাসনিক সুবিধা আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে দাবি উঠেছে। তবে বাস্তবে তাদের সেবার মান, কর্মদক্ষতা ও উপস্থিতি নিয়ে রোগী ও সহকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েও কিছু নার্সের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং দায়িত্ব পালনের ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে—এমন মন্তব্য পাওয়া গেছে একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্রে।

বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় এই নার্সদের কয়েকজন শান্তি মিছিলে অংশ নেন। একই সময়ে হাসপাতালে আহত শিক্ষার্থীরা সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছিল। বিষয়টি সে সময় সমালোচনার জন্ম দিলেও প্রশাসনিকভাবে তা আমলে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া, হাসপাতালের পরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) জাকির হোসেনের বিরুদ্ধেও দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সূত্র জানায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয়ের মাধ্যমে হাসপাতালের নানা কার্যক্রমে প্রভাব বজায় রেখে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া বিগত সময়ে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন ইউনিটে ইনচার্জের দায়িত্ব প্রদানের মতো অভিযোগও রয়েছে।

একজন জ্যেষ্ঠ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এই সিন্ডিকেটের রাজনৈতিক প্রভাব এতটাই গভীর যে, কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলার সাহস পায়নি। তবে এখন সময় এসেছে স্বচ্ছ তদন্ত ও সেবার মান পুনরুদ্ধারের।”

সচেতন মহলের মতে, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। তারা বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত না হলে স্বাস্থ্যখাতে কাঙ্ক্ষিত শুদ্ধি সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, জুলাই আগস্ট এর আন্দোলনের পর ফ্যাসিবাদী নার্সদের অন্য হাসপাতালে শাস্তি ও বদলি করা হলেও জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে কোন শাস্তি ও বদলি করা হয়নি।