চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাচন অফিসে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ হয় না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। অফিস সহকারী বাদলের হাতেই যেন সব কাজের চাবি, এমনটাই বলছেন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ। নতুন ভোটার হতে আসা একাধিক ব্যক্তি জানান, টাকা ছাড়া নতুন আইডি কার্ড করানো এখানে রীতিমতো অসম্ভব। মাসের পর মাস ফাইল আটকে রেখে নানা ধরনের হয়রানি করা হয়। এই কাগজ, সেই কাগজ—এমন অজুহাতে বারবার ঘুরতে বাধ্য করা হয় তাদের। চরম হতাশ হয়ে শেষ পর্যন্ত বাদলকে টাকা দিতে বাধ্য হন অনেকেই। তাদের অভিযোগ, অফিস সহকারী বাদলের মাধ্যমে টাকা দিলেই এক সপ্তাহের মধ্যেই কাজ হয়ে যায় এবং পাওয়া যায় নতুন ভোটার কার্ডের বার্তা ও কার্ড।
নাম সংশোধনের জন্য আবেদনকারী এক বেসরকারি চাকরিজীবী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাদলের মাধ্যমে টাকা না দেওয়ায় তার আবেদনে মিথ্যা প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। নভেম্বরে আবেদন করেও সাত মাস ধরে তিনি অফিসের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রায় ত্রিশ বছরের চাকরি জীবনে এমন হয়রানির শিকার তিনি আর কখনো হননি। প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও শুধু টাকার জন্য তার কাজটি আটকে রাখা হয়েছে।
সৌদি আরবে অবস্থান করা এক ব্যক্তি জানান, তার নামের জটিলতা নিরসনের জন্য দশ হাজার টাকার বিনিময়ে বাদলকে ঘুষ দিতে হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চুনারুঘাটের বিভিন্ন বাজারের কম্পিউটার দোকান মালিকদের নিয়ে একটি শক্তিশালী দালাল চক্র গড়ে তুলেছেন অফিস সহকারী বাদল। এই চক্রের মাধ্যমেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নতুন ভোটার হওয়া ব্যক্তি ও নাম সংশোধনের আবেদনগুলো কৌশলে টাকার বিনিময়ে সম্পন্ন করা হয়। তোফাজ্জল, সুমনসহ বেশ কয়েকজন দালালকে প্রায় প্রতিদিনই নির্বাচন অফিসে দেখা যায় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। তাদের অবাধ বিচরণ প্রমাণ করে দালাল সিন্ডিকেটের ক্ষমতা কতটা বিস্তৃত। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত স্বৈরাচার সরকারের আমল থেকেই এই দুর্নীতি চলে আসছে। এত অভিযোগ থাকার পরও কোনো অদৃশ্য শক্তির ছত্রচ্ছায়ায় বাদল বহাল তবিয়তে রয়েছেন, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দালাল জানান, আগের কর্মকর্তারা কিছুটা মানবিকতা দেখালেও নতুন অফিসার আসার পর ঘুষের পরিমাণ আরও বেড়েছে। আগে দু-একটি কাজ বিনামূল্যে করা গেলেও এখন ছোট কাজের জন্যও দুই হাজার টাকা দিতে হয়। এসব অভিযোগের বিষয়ে অফিস সহকারী বাদলের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি। উপজেলা নির্বাচন অফিসার মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
সংবাদ শিরোনাম ::
চুনারুঘাট নির্বাচন অফিসে ঘুষের রাজত্ব
বাদলের হাতেই সব কলকাঠি
-
চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি - আপডেট সময় ১০:৩২:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫
- ৬৩২ বার পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

























