ঢাকা ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বরিশালে কাস্টমস কর্মকর্তাকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ—ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলা, প্রত্যাহারে হুমকির দাবি এক মাসে দুইবার বাড়লো এলপিজির দাম, ১২ কেজি ১৯৪০ টাকা ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু সেই ভুয়া আজিজের সহযোগী ইউসুফ রিমান্ডে জ্বালানির সংকট নেই, অসাধু সিন্ডিকেটে পাম্পগুলোতে কৃত্রিম সংকট হচ্ছে তারাকান্দায় বিএনপির দুই গ্রুপের কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে হঠাৎ ছিটকে পড়ে বাসচাপায় ঠিকাদার নিহত চুয়াডাঙ্গায় ঘুমন্ত নারীকে কুপিয়ে হত্যা সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ নিয়ে ফের উত্তাল চট্টগ্রাম শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে মোটরসাইকেল চালানোর প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ডাকসু

রাজউকের ইমারত পরিদর্শক সোহাগ মিয়ার বিরুদ্ধে দুদক-এ অভিযোগ

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা রাজউক এর ১০ম গ্রেডের ইমারত পরিদর্শকের ডেভেলপার কোম্পানীর সাথে যুক্ত থাকার বিষয়ে মোর্শেদ আহম্মেদ নামে এক ব্যক্তি দুদক এ অভিযোগ করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের ডিম্বর গ্রামের মোঃ আশ্রাব আলীর পুত্র মোঃ সোহাগ মিয়া ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ার (সিভিল) পাশ করে ০২ জুলাই ২০১৮ সালে ইমারত পরিদর্শক হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পরে জোন-৩ এ দায়িত্ব পালনকলে চরম দুর্নীতির কারনে তাকে ০৫ ডিসেম্বর ২০২২ সালে জোন-৩ থেকে জোন-৭ এ বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু মহাখালী অঞ্চলের মতো অন্য অঞ্চলে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ আয়ের সুযোগ কম থাকায় পুণরায় রাজউকের সাবেক দুনীতিবাজ চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সিদ্দিকুর রহমানকে ম্যানেজ করে ২০২৪ সালে মহাখালী জোন-৪/২ এ যোগদান করেন ইমারত পরিদর্শক মোঃ সোহাগ মিয়া। এলডিএল ডেভেলপার লিমিটেড কোম্পানী প্রতিষ্ঠার সময় সোহাগ জোন-৩ এর কাফরুল- ইব্রাহিমপুর এড়িয়ার দায়িত্বে ছিলেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে মোঃ সোহাগ মিয়া সরকরি কর্মচারী হওয়ায় ঘুষের টাকায় নিজের নামে কোম্পানী খুলতে না পারলেও মধ্যবিত্ত পরিবারের বেকার ভগ্নীপতিকে পুতুল সাজিয়ে এলডিএল ডেভেলপার লিমিটেড নামে গড়ে তুলেছেন ডেভেলপার কোম্পানী। রাজউক জোন-৩/২ এড়িয়ায় নিয়ম না মেনে মিরপুরের সেনপাড়া পর্বতা হোল্ডিং নং-৫৩৭, ইব্রাহিমপুর হোল্ডিং নং-৫০৬ নির্মাণ করছে এই ডেভেলপাড় কোম্পানী।

নতুন ভবনের প্ল্যান পাস, ছাড়পত্র সহ ইমারত সম্পর্কিত বিভিন্ন কাজ জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পাদন করেছেন মোঃ সোহাগ মিয়া। এ ছাড়াও নোটিশ বাণিজ্য, অন্যায় আবদার ও যেসব ভবন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে অনুমোদন নেওয়া হয়নি সেই সব ভবন মালিকদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতাচ্ছেন ইমারত পরিদর্শক মোঃ সোহাগ মিয়া। তার এই সকল অন্যায় ও দুর্নীতির বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে দির্ঘদিন যাবৎ সাথে আছেন মোঃ খুরশিদ। ইমারত পরিদর্শক সোহেগের কর্ম এলাকায় এই খুরশিদ নিজেকে রাজউকের ইমারত পরিদর্শক হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভবন মালিকদের থেকে অর্থ আদায় করেন সোহাগের প্রশ্রয়ে। ইমারত পরিদর্শক মোঃ সোহাগ মিয়ার অবৈধ লেনদেনও হয়ে থাকে এই খুরশিদের মাধ্যমেই। মোঃ সোহাগ মিয়া যখন ইব্রাহিমপুর এড়িয়ার দায়িত্বে ছিলেন তখন মিরপুরের ইব্রাহিমপুর, আশিদাগ, হোল্ডিং নং -৬৯১/১ মোজাম্মেল হক গং রাজউক থেকে ০৮ তলা প্ল্যান অনুমোদন নিয়ে ০৯তলা ভবন নির্মাণ করায় ভবন মালিককে ভবন ভাঙার ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা ও ফ্লাট বাগিয়ে নিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান রাজউক জোন ৪/২ এ আসতে ঊর্ধ্বতন এ কর্মকর্তাকে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন তিনি। ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তার বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

রাজউকের ইমারত পরিদর্শক সোহাগ মিয়া সরকারি ১০ম গ্রেডে প্রায় ৭ বছর চাকুরি করেই ঢাকার শহরে করেছেন একাধিক ফ্লাট, নিজ গ্রামের বাড়িও সাজিয়েছেন মনের মতো করে। মুখোশের আড়ালে থেকে পরিচালনা করছেন একটি ডেভলপার কোম্পানী। এত কিছুর পরেও তার বিরুদ্ধে নেয়া হচ্ছেনা কোন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা।

ইমারত পরিদর্শক মোঃ সোহাগ মিয়ার কাছে এই সকল বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনারা এই বিষয় নিয়ে অনুসন্ধান করেন, আমার এমন কিছুই নেই। আপনাদের মাধ্যমেই এই ডেভেলপার কোম্পানীর নাম শুনলাম। আর খুরশিদ নামে আমি কাউকে চিনি না।

এই বিষয়ে জোন-৪/২ এর অথরাইজড অফিসার মোঃ রাজিবুল ইসলামকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এই বিষয়ে জোন-৩ ও ৪ (অ: দা:) পরিচালক জনাব সালেহ্ আহমদ জাকারিয়াকে কল করা হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে কল কেটে দেন। এই কর্মকর্তার বক্তব্য নিতে গেলে বেশিরভাগ সময়ই তিনি বক্তব্য না দিয়ে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে এড়িয়ে যান। রাজউক মহাখালী জোনে এই পরিচালকের প্রশ্রয়ে অন্যান্য দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা অনিয়মের মহা-উৎসবে মেতেছেন। মহাখালী জোনে সাংবাদিক হেনস্থা করার মতো ঘটনাও তিনি ঘটিয়েছেন। তবুও কেন এদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা এমন প্রশ্নের জবাবে সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) (যুগ্মসচিব) ড. মোঃ আলম মোস্তফা বলেন আমি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছি। অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে অনেকের বিষয়ে তদন্ত চলছে।মোঃ সোহাগ মিয়ার আরও দুর্নীতির তথ্য বেড়িয়ে আসবে আগামী প্রতিবেদনে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে কাস্টমস কর্মকর্তাকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ—ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলা, প্রত্যাহারে হুমকির দাবি

রাজউকের ইমারত পরিদর্শক সোহাগ মিয়ার বিরুদ্ধে দুদক-এ অভিযোগ

আপডেট সময় ১০:০২:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৫

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা রাজউক এর ১০ম গ্রেডের ইমারত পরিদর্শকের ডেভেলপার কোম্পানীর সাথে যুক্ত থাকার বিষয়ে মোর্শেদ আহম্মেদ নামে এক ব্যক্তি দুদক এ অভিযোগ করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের ডিম্বর গ্রামের মোঃ আশ্রাব আলীর পুত্র মোঃ সোহাগ মিয়া ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ার (সিভিল) পাশ করে ০২ জুলাই ২০১৮ সালে ইমারত পরিদর্শক হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পরে জোন-৩ এ দায়িত্ব পালনকলে চরম দুর্নীতির কারনে তাকে ০৫ ডিসেম্বর ২০২২ সালে জোন-৩ থেকে জোন-৭ এ বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু মহাখালী অঞ্চলের মতো অন্য অঞ্চলে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ আয়ের সুযোগ কম থাকায় পুণরায় রাজউকের সাবেক দুনীতিবাজ চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সিদ্দিকুর রহমানকে ম্যানেজ করে ২০২৪ সালে মহাখালী জোন-৪/২ এ যোগদান করেন ইমারত পরিদর্শক মোঃ সোহাগ মিয়া। এলডিএল ডেভেলপার লিমিটেড কোম্পানী প্রতিষ্ঠার সময় সোহাগ জোন-৩ এর কাফরুল- ইব্রাহিমপুর এড়িয়ার দায়িত্বে ছিলেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে মোঃ সোহাগ মিয়া সরকরি কর্মচারী হওয়ায় ঘুষের টাকায় নিজের নামে কোম্পানী খুলতে না পারলেও মধ্যবিত্ত পরিবারের বেকার ভগ্নীপতিকে পুতুল সাজিয়ে এলডিএল ডেভেলপার লিমিটেড নামে গড়ে তুলেছেন ডেভেলপার কোম্পানী। রাজউক জোন-৩/২ এড়িয়ায় নিয়ম না মেনে মিরপুরের সেনপাড়া পর্বতা হোল্ডিং নং-৫৩৭, ইব্রাহিমপুর হোল্ডিং নং-৫০৬ নির্মাণ করছে এই ডেভেলপাড় কোম্পানী।

নতুন ভবনের প্ল্যান পাস, ছাড়পত্র সহ ইমারত সম্পর্কিত বিভিন্ন কাজ জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পাদন করেছেন মোঃ সোহাগ মিয়া। এ ছাড়াও নোটিশ বাণিজ্য, অন্যায় আবদার ও যেসব ভবন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে অনুমোদন নেওয়া হয়নি সেই সব ভবন মালিকদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতাচ্ছেন ইমারত পরিদর্শক মোঃ সোহাগ মিয়া। তার এই সকল অন্যায় ও দুর্নীতির বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে দির্ঘদিন যাবৎ সাথে আছেন মোঃ খুরশিদ। ইমারত পরিদর্শক সোহেগের কর্ম এলাকায় এই খুরশিদ নিজেকে রাজউকের ইমারত পরিদর্শক হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভবন মালিকদের থেকে অর্থ আদায় করেন সোহাগের প্রশ্রয়ে। ইমারত পরিদর্শক মোঃ সোহাগ মিয়ার অবৈধ লেনদেনও হয়ে থাকে এই খুরশিদের মাধ্যমেই। মোঃ সোহাগ মিয়া যখন ইব্রাহিমপুর এড়িয়ার দায়িত্বে ছিলেন তখন মিরপুরের ইব্রাহিমপুর, আশিদাগ, হোল্ডিং নং -৬৯১/১ মোজাম্মেল হক গং রাজউক থেকে ০৮ তলা প্ল্যান অনুমোদন নিয়ে ০৯তলা ভবন নির্মাণ করায় ভবন মালিককে ভবন ভাঙার ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা ও ফ্লাট বাগিয়ে নিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান রাজউক জোন ৪/২ এ আসতে ঊর্ধ্বতন এ কর্মকর্তাকে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন তিনি। ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তার বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

রাজউকের ইমারত পরিদর্শক সোহাগ মিয়া সরকারি ১০ম গ্রেডে প্রায় ৭ বছর চাকুরি করেই ঢাকার শহরে করেছেন একাধিক ফ্লাট, নিজ গ্রামের বাড়িও সাজিয়েছেন মনের মতো করে। মুখোশের আড়ালে থেকে পরিচালনা করছেন একটি ডেভলপার কোম্পানী। এত কিছুর পরেও তার বিরুদ্ধে নেয়া হচ্ছেনা কোন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা।

ইমারত পরিদর্শক মোঃ সোহাগ মিয়ার কাছে এই সকল বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনারা এই বিষয় নিয়ে অনুসন্ধান করেন, আমার এমন কিছুই নেই। আপনাদের মাধ্যমেই এই ডেভেলপার কোম্পানীর নাম শুনলাম। আর খুরশিদ নামে আমি কাউকে চিনি না।

এই বিষয়ে জোন-৪/২ এর অথরাইজড অফিসার মোঃ রাজিবুল ইসলামকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এই বিষয়ে জোন-৩ ও ৪ (অ: দা:) পরিচালক জনাব সালেহ্ আহমদ জাকারিয়াকে কল করা হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে কল কেটে দেন। এই কর্মকর্তার বক্তব্য নিতে গেলে বেশিরভাগ সময়ই তিনি বক্তব্য না দিয়ে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে এড়িয়ে যান। রাজউক মহাখালী জোনে এই পরিচালকের প্রশ্রয়ে অন্যান্য দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা অনিয়মের মহা-উৎসবে মেতেছেন। মহাখালী জোনে সাংবাদিক হেনস্থা করার মতো ঘটনাও তিনি ঘটিয়েছেন। তবুও কেন এদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা এমন প্রশ্নের জবাবে সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) (যুগ্মসচিব) ড. মোঃ আলম মোস্তফা বলেন আমি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছি। অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে অনেকের বিষয়ে তদন্ত চলছে।মোঃ সোহাগ মিয়ার আরও দুর্নীতির তথ্য বেড়িয়ে আসবে আগামী প্রতিবেদনে।