বান্দরবানের লামা পৌরসভা এলাকার ৮/৯ নং ওয়ার্ডে একাধিক বার অভিযান, জরিমানা, স্থানীয়ভাবে সচেতনতা সৃষ্টির পরেও বন্ধ করা সম্ভব হয়নি অবৈধ বালু উত্তোলন কর্মকাণ্ড।
চারপাশ ম্যানেজ করে ঠিকই নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত এই সব বালু খেকোরা । অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি ওপেন সিক্রেট হওয়ায় স্থানীয় অনেকেই তাদের নাম পরিচয় জানার পরেও ঝামেলা এড়ানোর জন্য নাম প্রকাশ করতে চাই না।
বান্দরবানের লামা পৌরসভার আশেপাশের বেশ কিছু এলাকায় ছাগলখাইয়া মার্মা পাড়া, হরিণঝিরি, ও শিলেরতুয়া গ্ৰামের শেষ প্রান্ত আলীকদম সীমান্ত পর্যন্ত চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন । সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ছাগল খাইয়া থেকে শুরু করে লামার শেষ সীমানা শিলেরতুয়া পর্যন্ত মাতামুহুরী নদী হতে সেলু মেশিন বসিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক সিন্ডিকেট। স্থানীয় এলাকাবাসীদের তথ্য মতে প্রতিদিন ও রাতের অন্ধকারে গোপনে প্রেলোডার গাড়ি দিয়ে লোড করে দেয়া ট্রাক ও মিনি ট্রাক এবং টলি গাড়ি ভর্তি বালু বিক্রি করে আসছে এই বালু খেকো সিন্ডিকেট সদস্যরা। বালু উত্তোলনের ফলে ইতিমধ্যে নদীর পাড় ভাঙ্গতে শুরু করেছে, এতে ভাঙ্গন হতে পারে নদীর তীরে অবস্থিত আশেপাশের ঘরবাড়ি গুলো। এছাড়া খালের পাড় ঘেঁষে অবাধি কৃষি জমি ও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, প্রভাব পড়তে পারে আশেপাশের গ্ৰামের ছোট ছোট রাস্তায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে যিনি প্রত্যেক্ষভাবে জড়িত সিন্ডিকেটের মূলহোতা রাশেদুল ইসলাম, ফজল করিম মুজিব মিয়া।
এ বিষয়ে জানতে তার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি কে স্বীকার করে বলেন, আগে আওয়ামী লীগ নেতারা করেছে বর্তমানে আমারা বিএনপি’র নেতাসহ কয়েকজন মিলে করছি ।
এখন এ বিষয়ে আর বেশি কিছু বলতে পারবো না, পড়ে আপনাদের সাথে যোগাযোগ করব । পরবর্তীতে কিছুক্ষণ পরে আবার ফোন করে এই ব্যবসায় কারা কারা জড়িত আছে জানতে চাইলে, তিনি জানান তার সাথে এবং পাশাপাশি আরও অনেক পয়েন্ট আছে, তারা যে ভাবে ম্যানেজ করে চালাচ্ছে আমি ঠিক এই ভাবে চালিয়ে নিচ্ছি আর আপনার নিউজ করে পারলে আমার বিরুদ্ধে কিছু করে দেখান, আপনারা মনে হয় জানেন না আমার হাত কতটুকু লম্বা আর আমার সাথে লামার অনেক সিনিয়র নেতারা গোপনে জড়িত আছে ।
এই বিষয়ে লামা পৌর প্রশাসক ও লামা উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এর আগে ও বেশ কয়েকবার এই বালুর পয়েন্টে গুলোতে অভিযান পরিচালনা করে সেলু মেশিন, ফাইভ জব্দ ও অর্থদন্ড জরিমানা করা হয়। এই অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে আবারো অবগত হয়েছি এবং অতি দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে পদক্ষেপ নিবেন বলে জানান, লামা উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন ।
জেলা প্রতিনিধি বান্দরবান 
























