ঢাকা ০৭:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কালিহাতীতে মাদক, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিংবিরোধী প্রচার সভা অনুষ্ঠিত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় কমিয়ে অর্ধেক করল সরকার মিঠাপুকুরে ৫০ বছরের চলাচলের রাস্তা কেটে দখল বিশ্বকাপে ম্যাচসেরা হলে কি কোনো অর্থ পান ফুটবলাররা? তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে টাঙ্গাইলে জলাবদ্ধতা, স্থবির জনজীবন টানা বৃষ্টিতে বগুড়ার সবজির বাজারে ক্রেতা সংকট, বিপাকে কৃষক-ব্যবসায়ীরা ছাত্রশিবির থেকে বিদায় নিলেন সাদিক কায়েম ৭ জেলায় বন্যা : ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ, মৃত্যু বেড়ে ৫৪ ৪৫০ কোটির ‘কিং’ নিয়ে আসছেন বাবা-মেয়ে আওয়ামী লীগ আমলের অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় বন্যায় প্রাণহানি : রিজভী

লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে দুই মাস মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী শনিবার (১ মার্চ) থেকে বুধবার (৩০ এপ্রিল) মধ্যরাত পর্যন্ত লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে ইলিশসহ সব রকম মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

একই সঙ্গে এই দুই মাস ইলিশ মাছ ক্রয়, বিক্রয়, পরিবহন এবং মজুত নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে জেলেদের ভিজিএফ এর আওতায় খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।

ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষিত লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত একশ কিলোমিটার ও চর আলেকজান্ডার থেকে রায়পুরের হাজিমারা পর্যন্ত ৩০টি মাছ ঘাট এবং এসব এলাকার আশপাশের বরফকলগুলোও নিষেধাজ্ঞা চলাকালে বন্ধ থাকবে।

নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন অভয়াশ্রমে মাছ না ধরতে নদীর উপকূলীয় এলাকাসহ হাটবাজারগুলোতে মাইকিং, লিফলেট ও পোস্টারসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়েছে।

এছাড়াও জেলেদের মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। নিষিদ্ধ সময়ে নদীতে মাছ শিকারে গেলে জেলেদের আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানা করার বিধান রয়েছে।

লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য অফিস ও জেলেদের সূত্রে জানা যায়, এই জেলায় ৫২ হাজার জেলে রয়েছেন। এদের মধ্যে প্রায় ৪৩ হাজার জেলে নিবন্ধিত রয়েছেন। এদের সকলেই মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক রাজিব কুমার সরকার বলেন, এবার জেলেদের জন্য ২ হাজার ৩০০ টন ভিজিএফের চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। নিষেধাজ্ঞার দুই মাসে প্রতিজন জেলে ভিজিএফের চাল পাবেন ৮০ কেজি করে। ইতোমধ্যে জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভিজিএফের চাল নিয়ে কোনো অনিয়ম পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন জানান, জাটকা সংরক্ষণে জেলেদের সচেতন করার জন্য নদী এবং উপকুলবর্তী এলাকায় মাইকিং ও পোস্টারিংসহ সব ধরনের প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য বিভাগ।

এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করার জন্য নদীতে মৎস্য বিভাগ, উপজেলা-জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করা হবে। আইন অমান্য করলে জেল-জরিমানার আওতায় আনা হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিহাতীতে মাদক, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিংবিরোধী প্রচার সভা অনুষ্ঠিত

লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে দুই মাস মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

আপডেট সময় ০৯:৩৭:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী শনিবার (১ মার্চ) থেকে বুধবার (৩০ এপ্রিল) মধ্যরাত পর্যন্ত লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে ইলিশসহ সব রকম মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

একই সঙ্গে এই দুই মাস ইলিশ মাছ ক্রয়, বিক্রয়, পরিবহন এবং মজুত নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে জেলেদের ভিজিএফ এর আওতায় খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।

ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষিত লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত একশ কিলোমিটার ও চর আলেকজান্ডার থেকে রায়পুরের হাজিমারা পর্যন্ত ৩০টি মাছ ঘাট এবং এসব এলাকার আশপাশের বরফকলগুলোও নিষেধাজ্ঞা চলাকালে বন্ধ থাকবে।

নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন অভয়াশ্রমে মাছ না ধরতে নদীর উপকূলীয় এলাকাসহ হাটবাজারগুলোতে মাইকিং, লিফলেট ও পোস্টারসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়েছে।

এছাড়াও জেলেদের মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। নিষিদ্ধ সময়ে নদীতে মাছ শিকারে গেলে জেলেদের আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানা করার বিধান রয়েছে।

লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য অফিস ও জেলেদের সূত্রে জানা যায়, এই জেলায় ৫২ হাজার জেলে রয়েছেন। এদের মধ্যে প্রায় ৪৩ হাজার জেলে নিবন্ধিত রয়েছেন। এদের সকলেই মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক রাজিব কুমার সরকার বলেন, এবার জেলেদের জন্য ২ হাজার ৩০০ টন ভিজিএফের চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। নিষেধাজ্ঞার দুই মাসে প্রতিজন জেলে ভিজিএফের চাল পাবেন ৮০ কেজি করে। ইতোমধ্যে জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভিজিএফের চাল নিয়ে কোনো অনিয়ম পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন জানান, জাটকা সংরক্ষণে জেলেদের সচেতন করার জন্য নদী এবং উপকুলবর্তী এলাকায় মাইকিং ও পোস্টারিংসহ সব ধরনের প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য বিভাগ।

এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করার জন্য নদীতে মৎস্য বিভাগ, উপজেলা-জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করা হবে। আইন অমান্য করলে জেল-জরিমানার আওতায় আনা হবে।