সংবাদ শিরোনাম ::
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টেকনিক্যাল ত্রুটি ও কয়লা সংকটে ৩০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে ঝালকাঠিতে পৌর কবরস্থান-৫ এর উদ্বোধন বাজেট নয়, এটি প্রচারণার দলিল এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর জুড়ী-বড়লেখা সফর, ১১ দলীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা ও দাফনে অংশ নেবে ২ কোটি মানুষ এআই প্রযুক্তির পোষ্টার প্রদর্শনী ৩১ দফা বাস্তবায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে : আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম অতিরিক্ত আইজিপিসহ পুলিশের ২১ কর্মকর্তাকে বদলি মৌলভীবাজার সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা,কঠোর অবস্থানে বিজিবি নওগাঁয় এক মাদ্রাসা ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাফল্যমণ্ডিত পাঁচ বছর

 

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (খুবিসাস) গত পাঁচ বছরে তার অসাধারণ কার্যক্রম এবং সংগ্রামী যাত্রার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি তার শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের অধিকার, পরিবেশ সুরক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজ শুরু করে। পাঁচ বছরের এই পথচলায়, খুবিসাস আজও তার উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সচেষ্ট, এবং এর কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

চিত্র : খুবিসাসের প্রথম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী

প্রথম কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন হয় ২০২০ সালের জুনে, যখন কালের কণ্ঠ পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি তেহসিন আশরাফ প্রত্যয় সভাপতি হিসেবে এবং সমকাল পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মীর হাসিব সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। তাদের নেতৃত্বে সংগঠনটি অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয় এবং ক্যাম্পাসে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলে ধরার মাধ্যমে নিজেদের কর্মকাণ্ডে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে শুরু করে। শিক্ষার্থীদের সমস্যা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সংকটগুলো সঠিকভাবে তুলে ধরতে তাদের সাহসী পদক্ষেপগুলো ক্যাম্পাসে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসে।

চিত্র :খুবিসাসের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি

বর্তমানে ২০২৪ সালে, খুবিসাসের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন দৈনিক নয়া শতাব্দীর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি একরামুল হক সভাপতি হিসেবে এবং ট্রিবিউন নিউজের সুমাইয়া আক্তার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এই নতুন কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের স্বচ্ছতা, গণমাধ্যমের উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি নিয়ে কাজ করছে। তাদের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষণীয়, যেখানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিবাদী মনোভাব এবং স্বচ্ছতার গুরুত্বের প্রতি এক নতুন দৃষ্টি সৃষ্টি হচ্ছে।

খুবিসাসের পাঁচ বছরের এই যাত্রা ক্যাম্পাসের নানা গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোকেও তুলে ধরেছে। আবাসন সংকট, পরিবহন ব্যবস্থার দুর্ভোগ, গবেষণার অগ্রগতি এবং একাডেমিক কার্যক্রমের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যাগুলি তারা সাহসীভাবে তুলে ধরেছে। এর পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ইস্যুগুলোর সঠিক সংবাদ উপস্থাপনও তারা করেছে। বিশেষ করে, জুলাই আন্দোলনে সংগঠনের সক্রিয় ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে, যেখানে তারা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক সচেতনতা এবং দাবির প্রতি সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করেছে।

তবে, এই পথচলায় খুবিসাস সাংবাদিক সমিতি নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। সমিতির সদস্যরা নানা সময়ে সমালোচনা, চাপ এবং কটূক্তির সম্মুখীন হলেও তারা তাদের কাজের প্রতি অবিচল থেকেছে। তাদের নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ এবং দৃঢ় মনোবল ছিল তাদের প্রধান শক্তি, যা তাদের কাজকে আরও শক্তিশালী ও প্রভাবশালী করে তুলেছে। বিশেষত, তাদের ধৈর্য এবং সংগ্রামী মনোভাবই ছিল তাদের সফলতার মূল কারণ। কঠিন পরিস্থিতিতেও তারা তাদের কর্তব্য পালনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল এবং তা অব্যাহত রাখার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

খুবিসাসের এই পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে একটি শক্তিশালী পরিবর্তন এসেছে। আগামীতে, এই সংগঠনটি আরও সৃজনশীল, শক্তিশালী এবং দায়িত্বশীল হয়ে তার কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি, প্রশাসনের প্রতি স্বচ্ছতা ও গণমাধ্যমের উন্নয়নে এ সংগঠনের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাফল্যমণ্ডিত পাঁচ বছর

আপডেট সময় ০৫:৩০:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

 

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (খুবিসাস) গত পাঁচ বছরে তার অসাধারণ কার্যক্রম এবং সংগ্রামী যাত্রার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি তার শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের অধিকার, পরিবেশ সুরক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজ শুরু করে। পাঁচ বছরের এই পথচলায়, খুবিসাস আজও তার উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সচেষ্ট, এবং এর কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

চিত্র : খুবিসাসের প্রথম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী

প্রথম কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন হয় ২০২০ সালের জুনে, যখন কালের কণ্ঠ পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি তেহসিন আশরাফ প্রত্যয় সভাপতি হিসেবে এবং সমকাল পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মীর হাসিব সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। তাদের নেতৃত্বে সংগঠনটি অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয় এবং ক্যাম্পাসে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলে ধরার মাধ্যমে নিজেদের কর্মকাণ্ডে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে শুরু করে। শিক্ষার্থীদের সমস্যা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সংকটগুলো সঠিকভাবে তুলে ধরতে তাদের সাহসী পদক্ষেপগুলো ক্যাম্পাসে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসে।

চিত্র :খুবিসাসের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি

বর্তমানে ২০২৪ সালে, খুবিসাসের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন দৈনিক নয়া শতাব্দীর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি একরামুল হক সভাপতি হিসেবে এবং ট্রিবিউন নিউজের সুমাইয়া আক্তার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এই নতুন কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের স্বচ্ছতা, গণমাধ্যমের উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি নিয়ে কাজ করছে। তাদের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষণীয়, যেখানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিবাদী মনোভাব এবং স্বচ্ছতার গুরুত্বের প্রতি এক নতুন দৃষ্টি সৃষ্টি হচ্ছে।

খুবিসাসের পাঁচ বছরের এই যাত্রা ক্যাম্পাসের নানা গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোকেও তুলে ধরেছে। আবাসন সংকট, পরিবহন ব্যবস্থার দুর্ভোগ, গবেষণার অগ্রগতি এবং একাডেমিক কার্যক্রমের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যাগুলি তারা সাহসীভাবে তুলে ধরেছে। এর পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ইস্যুগুলোর সঠিক সংবাদ উপস্থাপনও তারা করেছে। বিশেষ করে, জুলাই আন্দোলনে সংগঠনের সক্রিয় ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে, যেখানে তারা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক সচেতনতা এবং দাবির প্রতি সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করেছে।

তবে, এই পথচলায় খুবিসাস সাংবাদিক সমিতি নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। সমিতির সদস্যরা নানা সময়ে সমালোচনা, চাপ এবং কটূক্তির সম্মুখীন হলেও তারা তাদের কাজের প্রতি অবিচল থেকেছে। তাদের নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ এবং দৃঢ় মনোবল ছিল তাদের প্রধান শক্তি, যা তাদের কাজকে আরও শক্তিশালী ও প্রভাবশালী করে তুলেছে। বিশেষত, তাদের ধৈর্য এবং সংগ্রামী মনোভাবই ছিল তাদের সফলতার মূল কারণ। কঠিন পরিস্থিতিতেও তারা তাদের কর্তব্য পালনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল এবং তা অব্যাহত রাখার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

খুবিসাসের এই পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে একটি শক্তিশালী পরিবর্তন এসেছে। আগামীতে, এই সংগঠনটি আরও সৃজনশীল, শক্তিশালী এবং দায়িত্বশীল হয়ে তার কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি, প্রশাসনের প্রতি স্বচ্ছতা ও গণমাধ্যমের উন্নয়নে এ সংগঠনের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।