সংবাদ শিরোনাম ::
আশুরা মানুষকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় : রাষ্ট্রপতি তিস্তা মহাপরিকল্পনায় কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী চীন নরসিংদীতে কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে নিক্ষেপ, যুবক আটক ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত আটকা বহু, উদ্ধারে আসছেন না কেউ বরগুনায় সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে প্যানেল চেয়ারম্যান (ইউপি সদস্যের) বিরুদ্ধে মামলা গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা বড়লেখার ছাতুর খাল পুনঃখনন ও সুইচ গেইট নির্মাণের জন্য এমপি নাসির উদ্দিন আহমেদের ডিও লেটার “ঠিকাদার মো. সায়মনের বিরুদ্ধে গণপূর্তে চাঁদাবাজি ও কর্মকর্তাদের হয়রানির অভিযোগ” মৌলভীবাজার সীমান্তে বিজিবির অভিযান ৩ বিদেশি পিস্তলসহ বিস্ফোরক উদ্ধার নিখোঁজের তিনদিন পর মিলল ইব্রাহিমের মরদেহ 

চোরাচালানের টাকায় গোয়াইনঘাট থানার ওসি এসআইদের আয়েশি জীবন

সিলেটে সীমান্ত এখন চোরাচালানের স্বর্গরাজ্য। চোরাচালান বন্ধে দফায়-দফায় বৈঠকে বসছেন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। তবুও চোরাকারবারিদের লাগাম টানা যাচ্ছে না। সীমান্ত এলাকার চোরাচালান বন্ধে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার, সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি, সিলেট এসএমপি কমিশনার, চোরাচালান বিরোধী টাস্কফোর্স, চোরাচালান মনিটরিং সেল প্রতিমাসে একাধিক সভা করেও ফলাফল শূন্য। আর এর মূল কারণ, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা চোরাচালান বন্ধে তৎপর থাকলেও তাদের অধীন ওসি-দারোগারা ওতোপ্রতোভাবে জড়িয়ে পড়ছেন চোরাচালানের সাথে। সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন থানার ওসিরা দিনে ডিআইজি, কমিশনার, এসপির সাথে বৈঠকে অংশ নেন আর রাতে থানায় বসেই ছক কষেন চোরাচালানের লাইনম্যানদের নিয়ে। কিন্তু আর্চায্য জনক হলেও সত্য এসব মিটিং হলে ওইসব থানার ওসিরা ঘুষের টাকার হার বৃদ্ধির সুযোগ পান। আর সে টাকায় কাটান আয়েশি জীবন, গড়েন অবৈধ সম্পদ।

দীর্ঘ অনুসন্ধানে জানা যায়, সিলেট জেলার সীমান্তবর্তী থানার ওসি ও জেলা ডিবি (ওসি উত্তর) সরাসরি জড়িত চোরাচালানের সাথে। তার মধ্যে অন্যতম হল গোয়াইনঘাট উপজেলার সীমান্ত এলাকা। যার ফলে চোরাচালানের লাইনম্যান নিয়োগ দিয়ে গোয়াইনঘাট থানার ওসি সরকার তোফায়েল আহমদে মাসিক ২৫ লাখ টাকা ওপরে ঘুষ নেন। তাছাড়া এই থানার সবকয়টি ভিট অফিসার চোরাচালান থেকে প্রতি মাসে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা করে ঘুষ নিয়ে চোরাকারবারিদের সহযোগিতা করেন।

আর এই সুযোগে গোয়াইনঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ভারত থেকে আসা শতাধিক স্থান দিয়ে চোরাই পণ্য প্রকাশ্যে প্রবেশ করছে সিলেট শহরে। তারপর শহর থেকে মাদকসহ বিভিন্ন পণ্য কাভার্ড ভ্যান,বালু ভর্তি ট্রাকে পাঠানো হয় সারাদেশে। ভারত থেকে এসব পণ্য স্থানীয়ভাবে ‘বুঙ্গার মাল’ নামে পরিচিত।

সিলেটের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায় ‘বুঙ্গার মালে’ সয়লাব প্রায় প্রতিটি দোকান । সীমান্ত দিয়ে যে সকল চোরাইপণ্যে দেশে আসে যার মধ্যে চিনি, কসমেটিক্স-কিট, মাদক, শাড়ি, থ্রিপিছ, আপেল, কম্বল, গাড়ির যন্ত্রাংশ, গরুসহ বিভিন্ন পণ্য অন্যতম। যা উচ্চ রাজস্ব পণ্য।
না প্রকাশ করা না শর্তে চোরাচালানের সাথে একজন জানান, আগে প্রতিদিন গড়ে দেড় থেকে দুই কোটি টাকার চিনি আসত। বর্তমানে ৫-৭ কোটি টাকায় বেড়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় মহাসড়ক দিয়ে প্রতি ট্রাক চিনি ৫ থেকে ৮ হাজার টাকায় পার করিয়ে দিচ্ছে কয়েকটি সিন্ডিকেট। একই ভাবে অন্যান্য পণ্যের প্রকার অনুযায়ী ট্রাক প্রতি ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা দিতে হয়।

পরিতাপের বিষয় হলো ওসি এসআইরা সাথে জড়িত সিন্ডিকেটের কারণে এখন পর্যন্ত ধরা পড়েনি কোনো শীর্ষ চোরাকারবারি। মাঝে মধ্যে আই ওয়াশের জন্য চুনোপুঁটিদের গ্রেফতারের নাটক করেন ওসি এসআইরা।

এ বিষয়ে জানতে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার তোফায়েলের সরকারি ফোনে কল দিয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোনকল রিসিভ করেননি।
২ নং পশ্চিম জাফলং বিট অফিসার এসআই তরিকুল ইসলামে কাছে তথ্য জানতে হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে বার বার ফোন দেওয়া হয় কিন্তু ফোন রিসিভ করেন নি।
এ বিষয়ে জানতে ১১ নং মধ্য জাফলং এর বিট অফিসার এসআই উৎসব কর্মকারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি চোরাচালানের সাথে জড়িত বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে জানি না। আমি এই থানায় নতুন এসেছি এতকিছু জানা শুনা নেই। আর এমন কিছু হলে আপরানা আটক করে পুলিশ কে খবর দিবেন। আমি এখন একটা অভিযানে যাচ্ছি বলে ফোন কেটে দেন। এসআই উৎসব কর্মকারের কথার প্রেক্ষিতে অনুসন্ধানে গিয়ে জানা যায়, মধ্য জাফলং ইউপির বিট অফিসার এসআই উৎসব কর্মকার মধ্য জাফলংয়ে যোগ দিয়েই চোরাচালান ব্যবসা দ্বিগুণ উদ্যমে চালু করে দেন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আশুরা মানুষকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় : রাষ্ট্রপতি

চোরাচালানের টাকায় গোয়াইনঘাট থানার ওসি এসআইদের আয়েশি জীবন

আপডেট সময় ১১:৪১:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৫

সিলেটে সীমান্ত এখন চোরাচালানের স্বর্গরাজ্য। চোরাচালান বন্ধে দফায়-দফায় বৈঠকে বসছেন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। তবুও চোরাকারবারিদের লাগাম টানা যাচ্ছে না। সীমান্ত এলাকার চোরাচালান বন্ধে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার, সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি, সিলেট এসএমপি কমিশনার, চোরাচালান বিরোধী টাস্কফোর্স, চোরাচালান মনিটরিং সেল প্রতিমাসে একাধিক সভা করেও ফলাফল শূন্য। আর এর মূল কারণ, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা চোরাচালান বন্ধে তৎপর থাকলেও তাদের অধীন ওসি-দারোগারা ওতোপ্রতোভাবে জড়িয়ে পড়ছেন চোরাচালানের সাথে। সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন থানার ওসিরা দিনে ডিআইজি, কমিশনার, এসপির সাথে বৈঠকে অংশ নেন আর রাতে থানায় বসেই ছক কষেন চোরাচালানের লাইনম্যানদের নিয়ে। কিন্তু আর্চায্য জনক হলেও সত্য এসব মিটিং হলে ওইসব থানার ওসিরা ঘুষের টাকার হার বৃদ্ধির সুযোগ পান। আর সে টাকায় কাটান আয়েশি জীবন, গড়েন অবৈধ সম্পদ।

দীর্ঘ অনুসন্ধানে জানা যায়, সিলেট জেলার সীমান্তবর্তী থানার ওসি ও জেলা ডিবি (ওসি উত্তর) সরাসরি জড়িত চোরাচালানের সাথে। তার মধ্যে অন্যতম হল গোয়াইনঘাট উপজেলার সীমান্ত এলাকা। যার ফলে চোরাচালানের লাইনম্যান নিয়োগ দিয়ে গোয়াইনঘাট থানার ওসি সরকার তোফায়েল আহমদে মাসিক ২৫ লাখ টাকা ওপরে ঘুষ নেন। তাছাড়া এই থানার সবকয়টি ভিট অফিসার চোরাচালান থেকে প্রতি মাসে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা করে ঘুষ নিয়ে চোরাকারবারিদের সহযোগিতা করেন।

আর এই সুযোগে গোয়াইনঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ভারত থেকে আসা শতাধিক স্থান দিয়ে চোরাই পণ্য প্রকাশ্যে প্রবেশ করছে সিলেট শহরে। তারপর শহর থেকে মাদকসহ বিভিন্ন পণ্য কাভার্ড ভ্যান,বালু ভর্তি ট্রাকে পাঠানো হয় সারাদেশে। ভারত থেকে এসব পণ্য স্থানীয়ভাবে ‘বুঙ্গার মাল’ নামে পরিচিত।

সিলেটের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায় ‘বুঙ্গার মালে’ সয়লাব প্রায় প্রতিটি দোকান । সীমান্ত দিয়ে যে সকল চোরাইপণ্যে দেশে আসে যার মধ্যে চিনি, কসমেটিক্স-কিট, মাদক, শাড়ি, থ্রিপিছ, আপেল, কম্বল, গাড়ির যন্ত্রাংশ, গরুসহ বিভিন্ন পণ্য অন্যতম। যা উচ্চ রাজস্ব পণ্য।
না প্রকাশ করা না শর্তে চোরাচালানের সাথে একজন জানান, আগে প্রতিদিন গড়ে দেড় থেকে দুই কোটি টাকার চিনি আসত। বর্তমানে ৫-৭ কোটি টাকায় বেড়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় মহাসড়ক দিয়ে প্রতি ট্রাক চিনি ৫ থেকে ৮ হাজার টাকায় পার করিয়ে দিচ্ছে কয়েকটি সিন্ডিকেট। একই ভাবে অন্যান্য পণ্যের প্রকার অনুযায়ী ট্রাক প্রতি ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা দিতে হয়।

পরিতাপের বিষয় হলো ওসি এসআইরা সাথে জড়িত সিন্ডিকেটের কারণে এখন পর্যন্ত ধরা পড়েনি কোনো শীর্ষ চোরাকারবারি। মাঝে মধ্যে আই ওয়াশের জন্য চুনোপুঁটিদের গ্রেফতারের নাটক করেন ওসি এসআইরা।

এ বিষয়ে জানতে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার তোফায়েলের সরকারি ফোনে কল দিয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোনকল রিসিভ করেননি।
২ নং পশ্চিম জাফলং বিট অফিসার এসআই তরিকুল ইসলামে কাছে তথ্য জানতে হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে বার বার ফোন দেওয়া হয় কিন্তু ফোন রিসিভ করেন নি।
এ বিষয়ে জানতে ১১ নং মধ্য জাফলং এর বিট অফিসার এসআই উৎসব কর্মকারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি চোরাচালানের সাথে জড়িত বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে জানি না। আমি এই থানায় নতুন এসেছি এতকিছু জানা শুনা নেই। আর এমন কিছু হলে আপরানা আটক করে পুলিশ কে খবর দিবেন। আমি এখন একটা অভিযানে যাচ্ছি বলে ফোন কেটে দেন। এসআই উৎসব কর্মকারের কথার প্রেক্ষিতে অনুসন্ধানে গিয়ে জানা যায়, মধ্য জাফলং ইউপির বিট অফিসার এসআই উৎসব কর্মকার মধ্য জাফলংয়ে যোগ দিয়েই চোরাচালান ব্যবসা দ্বিগুণ উদ্যমে চালু করে দেন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে।