ঢাকা ১০:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অস্তিত্বহীন অফিসে গণপূর্তের ৩১১ কর্মকর্তার পদায়ন নিয়ে উঠেছে অভিযোগ আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর মিসরের বিপক্ষে জয়ের পর কেন কেঁদেছিলেন মেসি? নিজ দলের কর্মীদের পেটালেন মমতা পোষা পাখি মরে যাওয়ায় কান্না, শাসন করায় ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে নিহত বড় ভাই মির্জাপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে গাঁ’জা গাছ ও ই’য়া’বা উদ্ধার চীফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সাথে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাৎ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় টাঙ্গাইলে ‘সবুজ পৃথিবী’র ঔষধি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অপু বিশ্বাস কি আবার বিয়ে করেছেন? প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সবার জন্য বিনামূল্যে থাকবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

নয়ন-চয়ন বন্ডের নেপথ্যে ছাত্রলীগ!

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে তারা এলাকায় ভীতি ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। কিশোর গ্যাং তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সূচনা করে আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠনের মাধ্যমে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অভিযোগ, কুমিল্লা নগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের সাম্প্রতিক অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে ছাত্রলীগের নেতারা জড়িত। আত্মগোপনে থাকা নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতাদের ইন্ধনে রতন গ্যাং, নয়ন ও চয়ন বন্ড গ্রুপসহ বিভিন্ন কিশোর গ্যাং বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের থামাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। এছাড়া গ্যাং কালচার প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা পালনের কথা জানিয়েছে মহানগর ছাত্রদল।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আলোচিত কিশোর গ্যাং রতন গ্রুপ, নয়ন বন্ড ও চয়ন বন্ডের গ্রুপসহ প্রায় ২০টি গ্যাং নগরীতে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। অস্ত্র, অর্থ ও মাদক দিয়ে তাদের সহায়তা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিশোর গ্যাংগুলোকে কারা উসকে দিচ্ছে তা নিয়ে চলছে নগরজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা-বিশ্লেষণ। তাদের নেপথ্যে ছাত্রলীগের নেতাদের নাম উঠে এসেছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুমিল্লা মহানগরীর আহ্বায়ক আবু রায়হান জানান, খোঁজখবর নিয়ে আমরা নিশ্চিত হয়েছি-কিশোর গ্যাং মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার নেপথ্যে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ইন্ধন রয়েছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আমরা আলোচনা করব। পাশাপাশি ছাত্রলীগসহ বখাটে কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা রুখতে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। নগরীতে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি ফখরুল ইসলাম মিঠু বলেন, আমরা আদর্শের রাজনীতি করি। গ্যাং কালচারকে কখনো প্রশ্রয় দেইনি। ১৫ বছর ছাত্রলীগের পৃষ্ঠপোষকতায় গ্যাং কালচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে গ্যাং কালচার ব্যবহার করেছে ছাত্রলীগ। কিশোরদের দিয়ে তারা চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা করেছে। নগর থেকে কিশোর গ্যাং উৎখাত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আমরা কাজ করব। তবে আত্মগোপনে থাকায় ছাত্রলীগের দায়িত্বশীল কোনো নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, কিশোর গ্যাং দমনে আমরা নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। নেপথ্যে ছাত্রলীগের কোনো নেতার ইন্ধন পাওয়া গেলে কঠোর হাতে দমন করা হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্তিত্বহীন অফিসে গণপূর্তের ৩১১ কর্মকর্তার পদায়ন নিয়ে উঠেছে অভিযোগ

নয়ন-চয়ন বন্ডের নেপথ্যে ছাত্রলীগ!

আপডেট সময় ১১:৪৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৫

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে তারা এলাকায় ভীতি ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। কিশোর গ্যাং তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সূচনা করে আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠনের মাধ্যমে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অভিযোগ, কুমিল্লা নগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের সাম্প্রতিক অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে ছাত্রলীগের নেতারা জড়িত। আত্মগোপনে থাকা নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতাদের ইন্ধনে রতন গ্যাং, নয়ন ও চয়ন বন্ড গ্রুপসহ বিভিন্ন কিশোর গ্যাং বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের থামাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। এছাড়া গ্যাং কালচার প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা পালনের কথা জানিয়েছে মহানগর ছাত্রদল।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আলোচিত কিশোর গ্যাং রতন গ্রুপ, নয়ন বন্ড ও চয়ন বন্ডের গ্রুপসহ প্রায় ২০টি গ্যাং নগরীতে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। অস্ত্র, অর্থ ও মাদক দিয়ে তাদের সহায়তা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিশোর গ্যাংগুলোকে কারা উসকে দিচ্ছে তা নিয়ে চলছে নগরজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা-বিশ্লেষণ। তাদের নেপথ্যে ছাত্রলীগের নেতাদের নাম উঠে এসেছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুমিল্লা মহানগরীর আহ্বায়ক আবু রায়হান জানান, খোঁজখবর নিয়ে আমরা নিশ্চিত হয়েছি-কিশোর গ্যাং মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার নেপথ্যে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ইন্ধন রয়েছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আমরা আলোচনা করব। পাশাপাশি ছাত্রলীগসহ বখাটে কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা রুখতে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। নগরীতে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি ফখরুল ইসলাম মিঠু বলেন, আমরা আদর্শের রাজনীতি করি। গ্যাং কালচারকে কখনো প্রশ্রয় দেইনি। ১৫ বছর ছাত্রলীগের পৃষ্ঠপোষকতায় গ্যাং কালচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে গ্যাং কালচার ব্যবহার করেছে ছাত্রলীগ। কিশোরদের দিয়ে তারা চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা করেছে। নগর থেকে কিশোর গ্যাং উৎখাত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আমরা কাজ করব। তবে আত্মগোপনে থাকায় ছাত্রলীগের দায়িত্বশীল কোনো নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, কিশোর গ্যাং দমনে আমরা নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। নেপথ্যে ছাত্রলীগের কোনো নেতার ইন্ধন পাওয়া গেলে কঠোর হাতে দমন করা হবে।