সংবাদ শিরোনাম ::
আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করলেন আইসিসির তিন বিচারক গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতায় বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হোটেল রুমে স্বামী, পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের ঘরে বিবাদ ১ টাকার দুর্নীতি বের করতে পারলে ইস্তফা দেবো: হাসনাত  আশুরা মানুষকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় : রাষ্ট্রপতি তিস্তা মহাপরিকল্পনায় কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী চীন নরসিংদীতে কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে নিক্ষেপ, যুবক আটক ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত আটকা বহু, উদ্ধারে আসছেন না কেউ বরগুনায় সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে প্যানেল চেয়ারম্যান (ইউপি সদস্যের) বিরুদ্ধে মামলা

ড. ইউনূসকে স্বাগত: আগুন ধ্বংসযজ্ঞের প্রতিকার চান ব্যবসায়ীরা

শান্তিতে নোবেল জয়ী ড. ইউনূসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসাবে স্বাগত জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা। একইসঙ্গে কলকারখানায় আগুন ও ধ্বংসযজ্ঞের প্রতিবাদ জানিয়ে তারা বলেছেন, সহিংসতায় অর্থনীতিতে রক্তক্ষরণ হয়েছে। অর্থনীতি পুনর্নির্মাণে কলকারখানা চালু করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে, এজন্য সেনাবাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজন। আগুন ও ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করতে না পারলে পরিস্থিতি আরও দুঃসহ আকার ধারণ করবে।

বুধবার (৭ আগস্ট) বনানীতে একটি হোটেলে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশ আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় ১৩ ব্যবসায়ী নেতা এ কথা বলেন। আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

আইসিসির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, সহিংসতায় নিহতদের শহিদের মর্যাদা দান ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানাই। আহতদের সুচিকিৎসা, পঙ্গুদের পুনর্বাসন করতে হবে। কলকারখানা চালু করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দুষ্কৃতকারীদের ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করতে হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসাবে ড. ইউনূসকে স্বাগত জানিয়ে মাহবুবুর রহমান বলেন, গত এক মাসে জানমালের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবাই মিলে আলোচনার মাধ্যমে কীভাবে ঘুরে দাঁড়ানো যায়, তা নির্ধারণ করতে হবে।

স্কয়ার গ্রুপের পরিচালক তপন চৌধুরী বলেন, এ কথা অনস্বীকার্য যে আমরা অস্থিতিকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। গত কয়েক দিনের পরিস্থিতি দেশের অর্জনকে ম্লান করে দিয়েছে। কারও ওপর কারও রাগ থাকলে শিল্পকারখানা ভাঙতে পারে, কিছু জিনিসপত্র নিয়ে যেতে পারে, কিন্তু আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়ে ধ্বংস করে লাভটা কার হচ্ছে। অবিলম্বে ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করা উচিত।

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, উৎপাদন ঠিকমতো হচ্ছে না, অর্ডার যথাসময়ে শিপমেন্ট করা সম্ভব কিনা, উৎপাদনকর্মীরা ভালো আছেন কিনা, এসব বিষয়ে বিদেশি ক্রেতারা আশ্বস্ত হতে চান। নতুন যে সরকার গঠিত হচ্ছে, সে ব্যাপারে পশ্চিমাদের ইতিবাচক মনোভাব আছে। আমাদের প্রত্যাশা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে। এখন যারা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ চালাচ্ছে, এর সঙ্গে কোনো ছাত্র বা রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা আছে বলে আমি মনে করি না। কিছু সংখ্যক দুষ্কৃতকারী, স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী টোকাই শ্রেণির মানুষ দিয়ে এসব কাজ করছে। এটা কাম্য নয়।

ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান সিমিন রহমান বলেন, শিল্প ও দৈনন্দিন জীবনে আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারাই দেশ পরিচালনা করবে তাদের আইনশৃঙ্খলা ফিরিতে আনতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করতে হবে।

সাবেক এফবিসিসিআইর সভাপতি একে আজাদ বলেন, এখন দরকার কলকারখানা চালু, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও পুলিশ বাহিনীকে সক্রিয় করা। ভবিষ্যতে কী হবে সেটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঠিক করবে।

সাবেক বিটিএমএ সভাপতি মতিন চৌধুরী বলেন, রপ্তানি চেইন ভেঙে গেছে। চাহিদা মাফিক গ্যাসের অভাবে রপ্তানিমুখী শিল্প খোঁড়াচ্ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে কারখানা বন্ধ থাকায় আরও ক্ষতিগ্রস্ত হলো। আশার বিষয় হচ্ছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধানের বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্বে ইতিবাচক মনোভাব আছে। এটি কাজে লাগিয়ে পতনটা ঠেকানো যাবে আশা করি।

ডিবিএল গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ জব্বার বলেন, বিদেশি ব্র্যান্ড এবং বায়ারদের আমাদের প্রতি আস্থা আছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। কারখানা চালু করে যোগাযোগ বাড়াতে হবে।

ফরেন চেম্বারের সভাপতি নাসির এজাজ বিজয় বলেন, এই মুহূর্তে অর্থনীতি নিয়ে কথা বলার সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে এখন যেমন জীবন হারিয়েছি, পরে জীবিকাও হারাতে হবে।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসাবে ড. ইউনূসকে আমরা স্বাগত জানাই। তিনি দেশে এবং আন্তর্জাতিক মহলে একজন সম্মানিত ব্যক্তি। ফলে দেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা পাওয়া সহজ হবে বলে আশা করছি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আমিন হেলালী, ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রহমান, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি কুতুব উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ

ড. ইউনূসকে স্বাগত: আগুন ধ্বংসযজ্ঞের প্রতিকার চান ব্যবসায়ীরা

আপডেট সময় ০১:২১:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৪

শান্তিতে নোবেল জয়ী ড. ইউনূসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসাবে স্বাগত জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা। একইসঙ্গে কলকারখানায় আগুন ও ধ্বংসযজ্ঞের প্রতিবাদ জানিয়ে তারা বলেছেন, সহিংসতায় অর্থনীতিতে রক্তক্ষরণ হয়েছে। অর্থনীতি পুনর্নির্মাণে কলকারখানা চালু করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে, এজন্য সেনাবাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজন। আগুন ও ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করতে না পারলে পরিস্থিতি আরও দুঃসহ আকার ধারণ করবে।

বুধবার (৭ আগস্ট) বনানীতে একটি হোটেলে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশ আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় ১৩ ব্যবসায়ী নেতা এ কথা বলেন। আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

আইসিসির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, সহিংসতায় নিহতদের শহিদের মর্যাদা দান ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানাই। আহতদের সুচিকিৎসা, পঙ্গুদের পুনর্বাসন করতে হবে। কলকারখানা চালু করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দুষ্কৃতকারীদের ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করতে হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসাবে ড. ইউনূসকে স্বাগত জানিয়ে মাহবুবুর রহমান বলেন, গত এক মাসে জানমালের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবাই মিলে আলোচনার মাধ্যমে কীভাবে ঘুরে দাঁড়ানো যায়, তা নির্ধারণ করতে হবে।

স্কয়ার গ্রুপের পরিচালক তপন চৌধুরী বলেন, এ কথা অনস্বীকার্য যে আমরা অস্থিতিকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। গত কয়েক দিনের পরিস্থিতি দেশের অর্জনকে ম্লান করে দিয়েছে। কারও ওপর কারও রাগ থাকলে শিল্পকারখানা ভাঙতে পারে, কিছু জিনিসপত্র নিয়ে যেতে পারে, কিন্তু আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়ে ধ্বংস করে লাভটা কার হচ্ছে। অবিলম্বে ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করা উচিত।

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, উৎপাদন ঠিকমতো হচ্ছে না, অর্ডার যথাসময়ে শিপমেন্ট করা সম্ভব কিনা, উৎপাদনকর্মীরা ভালো আছেন কিনা, এসব বিষয়ে বিদেশি ক্রেতারা আশ্বস্ত হতে চান। নতুন যে সরকার গঠিত হচ্ছে, সে ব্যাপারে পশ্চিমাদের ইতিবাচক মনোভাব আছে। আমাদের প্রত্যাশা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে। এখন যারা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ চালাচ্ছে, এর সঙ্গে কোনো ছাত্র বা রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা আছে বলে আমি মনে করি না। কিছু সংখ্যক দুষ্কৃতকারী, স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী টোকাই শ্রেণির মানুষ দিয়ে এসব কাজ করছে। এটা কাম্য নয়।

ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান সিমিন রহমান বলেন, শিল্প ও দৈনন্দিন জীবনে আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারাই দেশ পরিচালনা করবে তাদের আইনশৃঙ্খলা ফিরিতে আনতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করতে হবে।

সাবেক এফবিসিসিআইর সভাপতি একে আজাদ বলেন, এখন দরকার কলকারখানা চালু, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও পুলিশ বাহিনীকে সক্রিয় করা। ভবিষ্যতে কী হবে সেটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঠিক করবে।

সাবেক বিটিএমএ সভাপতি মতিন চৌধুরী বলেন, রপ্তানি চেইন ভেঙে গেছে। চাহিদা মাফিক গ্যাসের অভাবে রপ্তানিমুখী শিল্প খোঁড়াচ্ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে কারখানা বন্ধ থাকায় আরও ক্ষতিগ্রস্ত হলো। আশার বিষয় হচ্ছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধানের বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্বে ইতিবাচক মনোভাব আছে। এটি কাজে লাগিয়ে পতনটা ঠেকানো যাবে আশা করি।

ডিবিএল গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ জব্বার বলেন, বিদেশি ব্র্যান্ড এবং বায়ারদের আমাদের প্রতি আস্থা আছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। কারখানা চালু করে যোগাযোগ বাড়াতে হবে।

ফরেন চেম্বারের সভাপতি নাসির এজাজ বিজয় বলেন, এই মুহূর্তে অর্থনীতি নিয়ে কথা বলার সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে এখন যেমন জীবন হারিয়েছি, পরে জীবিকাও হারাতে হবে।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসাবে ড. ইউনূসকে আমরা স্বাগত জানাই। তিনি দেশে এবং আন্তর্জাতিক মহলে একজন সম্মানিত ব্যক্তি। ফলে দেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা পাওয়া সহজ হবে বলে আশা করছি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আমিন হেলালী, ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রহমান, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি কুতুব উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।