সংবাদ শিরোনাম ::
তারেক রহমানের চীন সফর নিয়ে ভারতের গণমাধ্যমে উদ্বেগ জানা গেল ফাইনাল পর্যন্ত আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ও সূচি ভূমিকম্পে কাঁপল দিল্লি, জম্মু-কাশ্মীর প্রধানমন্ত্রীর সামনেই সংসদে কিল-ঘুষি, থমকে গেল অধিবেশন চীন-মায়ানমার করিডরে বাংলাদেশ যুক্ত হলে বিনিয়োগ বাড়বে : বাণিজ্যমন্ত্রী সাবেক এমডির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদকের চিঠিকেও পাত্তা দেননি আইএফআইসি চেয়ারম্যান মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্তবর্তী ডিমাই বাজারে কমিউনিটি পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত মৌলভীবাজারের বড়লেখার উত্তর শাহবাজপুরে অবৈধ মাটি কাটার হিড়িক, টনক নড়ছে না প্রশাসনের ওসমান হাদিকে নিয়ে পাগলা মসজিদের দানবাক্সে চিঠি গিলাতলা-কালীগঞ্জ সড়ক সংস্কার কাজ পরিদর্শনে কর্তৃপক্ষ, কাজের মান সন্তোষজনক

হেরে সমতায় সিরিজ শেষ করলো বাংলাদেশ

শেষ পর্যন্ত কিউইদের বিপক্ষে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল বাংলাদেশের। দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৪ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। ফলে ১-১ ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।

শনিবার (৯ ডিসেম্বর) শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ১৭২ রানে অল-আউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে খেলতে নেমে বাংলাদেশের ঘূর্ণিতে ৫ উইকেট ৫৫ রান নিয়ে প্রথম দিন শেষ করে নিউজিল্যান্ড। বৃষ্টি বাধায় দ্বিতীয় দিনের খেলা মাঠে না গড়ালে বাংলাদেশের চেয়ে ১১৭ রানে পিছিয়ে থেকে তৃতীয় দিন শুরু করে সফরকারীরা। এরপর ৫৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়া কিউইরা গ্লেন ফিলিপসের ঝোড়ো ব্যাটিং শেষে তৃতীয় দিনে ৮ রানের লিড নিয়ে অল-আউট হয়। প্রথম ইনিংসে ৩৭ দশমিক ১ ওভারে ১৮০ রানে থামে ব্ল্যাক-ক্যাপসরা।

দ্বিতীয় ইনিংসে ২ উইকেটে ৩৮ রানে তৃতীয় দিন শেষ করে বাংলাদেশ। এ সময়ে ৮ উইকেট হাতে নিয়ে ৩০ রানে এগিয়ে ছিল টাইগাররা। ওপেনার জাকির হাসান ১৬ ও মমিনুল শূন্যতে অপরাজিত ছিলেন। নিউজিল্যান্ডকে অন্তত ২০০ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দিতে চাওয়া বাংলাদেশ চতুর্থ দিনের শুরুটা ভালোই করেছিল। তবে দলীয় ৭১ রানে মুমিনুল হক বিদায় নিলে খেই হারানোর শুরু। চতুর্থ দিনের শুরুতে ব্যক্তিগত ১০ রানে আউট হন মুমিনুল।

জাকিরের একার লড়াইয়ের দিনে একে একে সাজঘরের পথের দিকে মিছিলে যোগ দেন অন্য ব্যাটাররা। সাবেক অধিনায়কের দেখানো পথে হেঁটে এরপর মুশফিকুর রহিম ৯, শাহাদাত হোসেন ৪, মেহেদি হাসান মিরাজ ৩, নুরুল হাসান শূন্য, নাঈম হাসান ৯, জাকির ৫৯ ও শরিফুল ইসলাম ৮ রানে আউট হন। ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন তাইজুল।

একা লড়াই করে চাপের মুখেই ক্যারিয়ারের তৃতীয় অর্ধশতক তুলে নেন ওপেনার জাকির। নবম ব্যাটার হিসেবে প্যাভিলিয়নের পথ ধরার আগে ৮৬ বলের মোকাবিলায় ৬ চার ও এক ছক্কায় ৫৯ রান করেন জাকির। শেষ পর্যন্ত ৩৫ ওভারে ১৪৪ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। কিউইদের হয়ে এজাজ প্যাটেল ছয়টি, মিচেল স্যান্টনার তিনটি ও টিম সাউদি একটি উইকেট শিকার করেন।

জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে টাইগারদের স্পিন ভেলকিতে দিশেহারা হয়ে পড়ে নিউজিল্যান্ড। ব্ল্যাক-ক্যাপসদের ইনিংসের শুরু থেকেই চেপে ধরেন তাইজুল-মিরাজরা। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় নিউজিল্যান্ড। ওপেনিং জুটিতে আঘাত হানেন শরিফুল। শরিফুলের পেসে পরাস্ত হয়ে লেগ-বিফোরের ফাঁদে পড়ে মাত্র ২ রানে ফেরেন কনওয়ে।

এরপর ব্যাট করতে নেমে তাইজুলের বাড়তি সুইংয়ের ফাঁদে পড়েন উইলিয়ামসন। স্ট্যাম্পিংয়ে পরাস্ত হন উইকেটরক্ষক সোহানের কাছে।

মিরাজের স্পিনে ফেরেন হেনরি নিকোলস। অন্যপ্রান্তে থিতু হতে থাকা টম ল্যাথামকে শান্তর ক্যাচ বানিয়েছেন মিরাজ। একই রকমভাবে টম ব্লান্ডেলকে নাস্তানাবুদ করেছেন তাইজুল। এরপর কিউই শিবিরে তাইজুলই সবচেয়ে বড় ধাক্কা দিয়েছেন। ফর্মে থাকা ড্যারিল মিচেলকে শান্তর ক্যাচে পরিণত করেছেন তিনি।

চা বিরতির আগে ষষ্ঠ উইকেটও হারিয়ে ফেলে কিউইরা। তবে কিউইদের জয়ের আশা জাগিয়ে রাখেন গ্লেন ফিলিপস। সপ্তম উইকেটে গ্লেন ফিলিপস ও মিচেল স্যান্টনার ২১ রানের জুটি গড়ে চা বিরতিতে মাঠ ছাড়েন। তৃতীয় সেশনে কিউইদের জয়ের বন্দরে নিয়ে যান এই দুই ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ৩৯ দশমিক ৪ ওভারে ৪ উইকেট হাতে রেখেই জয়সূচক রান পেয়ে যায় কিউইরা। ফিলিপস ৪৮ বলে ৪০ ও স্যান্টনার ৩৯ বলে ৩৫ রান করে অপরাজিত থাকেন।

বাংলাদেশের হয়ে মেহেদী হাসান মিরাজ তিনটি, তাইজুল ইসলাম দুটি ও শরিফুল ইসলাম একটি উইকেট শিকার করেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তারেক রহমানের চীন সফর নিয়ে ভারতের গণমাধ্যমে উদ্বেগ

হেরে সমতায় সিরিজ শেষ করলো বাংলাদেশ

আপডেট সময় ০৫:০৬:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৩

শেষ পর্যন্ত কিউইদের বিপক্ষে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল বাংলাদেশের। দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৪ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। ফলে ১-১ ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।

শনিবার (৯ ডিসেম্বর) শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ১৭২ রানে অল-আউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে খেলতে নেমে বাংলাদেশের ঘূর্ণিতে ৫ উইকেট ৫৫ রান নিয়ে প্রথম দিন শেষ করে নিউজিল্যান্ড। বৃষ্টি বাধায় দ্বিতীয় দিনের খেলা মাঠে না গড়ালে বাংলাদেশের চেয়ে ১১৭ রানে পিছিয়ে থেকে তৃতীয় দিন শুরু করে সফরকারীরা। এরপর ৫৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়া কিউইরা গ্লেন ফিলিপসের ঝোড়ো ব্যাটিং শেষে তৃতীয় দিনে ৮ রানের লিড নিয়ে অল-আউট হয়। প্রথম ইনিংসে ৩৭ দশমিক ১ ওভারে ১৮০ রানে থামে ব্ল্যাক-ক্যাপসরা।

দ্বিতীয় ইনিংসে ২ উইকেটে ৩৮ রানে তৃতীয় দিন শেষ করে বাংলাদেশ। এ সময়ে ৮ উইকেট হাতে নিয়ে ৩০ রানে এগিয়ে ছিল টাইগাররা। ওপেনার জাকির হাসান ১৬ ও মমিনুল শূন্যতে অপরাজিত ছিলেন। নিউজিল্যান্ডকে অন্তত ২০০ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দিতে চাওয়া বাংলাদেশ চতুর্থ দিনের শুরুটা ভালোই করেছিল। তবে দলীয় ৭১ রানে মুমিনুল হক বিদায় নিলে খেই হারানোর শুরু। চতুর্থ দিনের শুরুতে ব্যক্তিগত ১০ রানে আউট হন মুমিনুল।

জাকিরের একার লড়াইয়ের দিনে একে একে সাজঘরের পথের দিকে মিছিলে যোগ দেন অন্য ব্যাটাররা। সাবেক অধিনায়কের দেখানো পথে হেঁটে এরপর মুশফিকুর রহিম ৯, শাহাদাত হোসেন ৪, মেহেদি হাসান মিরাজ ৩, নুরুল হাসান শূন্য, নাঈম হাসান ৯, জাকির ৫৯ ও শরিফুল ইসলাম ৮ রানে আউট হন। ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন তাইজুল।

একা লড়াই করে চাপের মুখেই ক্যারিয়ারের তৃতীয় অর্ধশতক তুলে নেন ওপেনার জাকির। নবম ব্যাটার হিসেবে প্যাভিলিয়নের পথ ধরার আগে ৮৬ বলের মোকাবিলায় ৬ চার ও এক ছক্কায় ৫৯ রান করেন জাকির। শেষ পর্যন্ত ৩৫ ওভারে ১৪৪ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। কিউইদের হয়ে এজাজ প্যাটেল ছয়টি, মিচেল স্যান্টনার তিনটি ও টিম সাউদি একটি উইকেট শিকার করেন।

জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে টাইগারদের স্পিন ভেলকিতে দিশেহারা হয়ে পড়ে নিউজিল্যান্ড। ব্ল্যাক-ক্যাপসদের ইনিংসের শুরু থেকেই চেপে ধরেন তাইজুল-মিরাজরা। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় নিউজিল্যান্ড। ওপেনিং জুটিতে আঘাত হানেন শরিফুল। শরিফুলের পেসে পরাস্ত হয়ে লেগ-বিফোরের ফাঁদে পড়ে মাত্র ২ রানে ফেরেন কনওয়ে।

এরপর ব্যাট করতে নেমে তাইজুলের বাড়তি সুইংয়ের ফাঁদে পড়েন উইলিয়ামসন। স্ট্যাম্পিংয়ে পরাস্ত হন উইকেটরক্ষক সোহানের কাছে।

মিরাজের স্পিনে ফেরেন হেনরি নিকোলস। অন্যপ্রান্তে থিতু হতে থাকা টম ল্যাথামকে শান্তর ক্যাচ বানিয়েছেন মিরাজ। একই রকমভাবে টম ব্লান্ডেলকে নাস্তানাবুদ করেছেন তাইজুল। এরপর কিউই শিবিরে তাইজুলই সবচেয়ে বড় ধাক্কা দিয়েছেন। ফর্মে থাকা ড্যারিল মিচেলকে শান্তর ক্যাচে পরিণত করেছেন তিনি।

চা বিরতির আগে ষষ্ঠ উইকেটও হারিয়ে ফেলে কিউইরা। তবে কিউইদের জয়ের আশা জাগিয়ে রাখেন গ্লেন ফিলিপস। সপ্তম উইকেটে গ্লেন ফিলিপস ও মিচেল স্যান্টনার ২১ রানের জুটি গড়ে চা বিরতিতে মাঠ ছাড়েন। তৃতীয় সেশনে কিউইদের জয়ের বন্দরে নিয়ে যান এই দুই ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ৩৯ দশমিক ৪ ওভারে ৪ উইকেট হাতে রেখেই জয়সূচক রান পেয়ে যায় কিউইরা। ফিলিপস ৪৮ বলে ৪০ ও স্যান্টনার ৩৯ বলে ৩৫ রান করে অপরাজিত থাকেন।

বাংলাদেশের হয়ে মেহেদী হাসান মিরাজ তিনটি, তাইজুল ইসলাম দুটি ও শরিফুল ইসলাম একটি উইকেট শিকার করেন।