ঢাকা ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাইডেনের উপদেষ্টা পরিচয়ে উল্লাপাড়ায় প্রটোকল চেয়েছিলেন আরেফী

সিরাজগঞ্জ: চলতি বছরের জুলাই ও গত বছরের আগস্ট মাসে দুই দফায় সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় এসেছিলেন বাইডেনের কথিত উপদেষ্টা মিয়া জাহিদুল ইসলাম আরেফী। সে সময় তিনি নিজেকে জো বাইডেনের উপদেষ্টা ও ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির সদস্য পরিচয় দিয়ে প্রশাসনের প্রটোকল দাবি করেছিলেন।

ওই সময় তিনি উল্লাপাড়া ও সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে একটি রেস্টুরেন্টে চা খান। তিনি সে সময় উল্লাপাড়ায় ডাকবাংলোতেও থেকেছেন। সেখানে ফ্যাসিলিটি কম থাকায় তা নিয়ে রাগারাগিও করেছেন এবং স্থানীয় এমপির কাছেও অভিযোগ করে গেছেন। ওই সময় তিনি বিএনপির সাবেক এমপি এম আকবর আলীর গাড়িতে চলাচল করতেন বলে জানা গেছে।

ওই সময় তার সঙ্গে তার খালাতো ভগ্নিপতি উল্লাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল বাতেন হিরু পরিবারসহ সঙ্গ দিয়েছেন।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের মানিক দিয়ার গ্রামের মৃত রওশন মণ্ডলের ছেলে জাহিদুল ইসলাম আরেফী। তার বাবা পাবনা জেলা শিক্ষা অফিসার ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তারা ছয় ভাই চার বোন, সবাই আমেরিকায় থাকেন। প্রায় ৪০ বছর আগে তার বাবা আমেরিকায় গিয়ে সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা হয়েছিলেন। বাবা রওশন আমেরিকাতেই মারা গেছেন, সেখানেই তার দাফন হয়েছে। তাদের মা আমেরিকায় জীবিত আছেন বলে জানা গেছে।

২০২২ সালের ৬ আগস্ট নিজ ফেসবুকে পোস্টে আব্দুল বাতেন হিরু এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট দেন। উল্লাপাড়া ও সলঙ্গা থানার ওসির সঙ্গে রেস্টুরেন্টে আলাপরত বেশ কয়েকটি ছবি ব্যবহার করা পোস্টে হিরু লেখেন “আমার স্ত্রীর আপন খালাতো ভাই MR. MIAN AREFY (বেল্লাল ভাই) উল্লাপাড়ায় এসেছিলেন সুদূর ওয়াশিংটন থেকে। তার পৈত্রিক বাড়ি ছিল মানিকদিয়ায়। দাদা-দাদির কবর জিয়ারত করতে ৩৬ বছর পর উল্লাপাড়ায় এসেছেন। অমায়িক এ ভদ্রলোক ৩/৪ দিন প্রশাসনের দেখভালে ছিলেন। ” পোস্টে তিনি জাহিদুল ইসলাম আরেফীকে মেম্বার অব ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটি উল্লেখ করেন। পোস্টটিতে তিনি উল্লাপাড়া ও সলঙ্গা থানার ওসির সঙ্গে আলোচনারত জাহিদুল ইসলাম আরেফীর ছবিও দেন।

এদিকে মানিকদিয়া গ্রামের লোকজন জানান, আরেফী পাঁচ/সাত মাস আগে এসে একটি মক্তব চালু করে গেছেন। ওনার জন্ম পাবনায়, ওনার বাবা-দাদার জন্ম মানিকদিয়া গ্রামে। ওনার বাবা দেশের বিভিন্ন জায়গায় চাকরি করতেন। সেই কারণে এখানে তাদের খুব একটা যাতায়াত নেই। তিনি মাঝে মধ্যে এসে দান খয়রাত করেন। ওনার চাচারা মারা গেছেন। চাচাতো ভাইয়েরা রয়েছেন।

উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গত বছর আগস্ট মাসে তিনি এসেছিলেন। উল্লাপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল বাতেন হিরু আমাকে বলেছিলেন যে তার স্ত্রীর আপন খালাতো ভাই এসেছেন, এলাকা চিনবেন, কোনো সমস্যা হলে একটু দেখবেন। আরেফী এ এলাকায় যে স্কুলে পড়তেন, সেটা দেখতে এসেছেন। পরে সলঙ্গা থানার ওসি আর আমি উল্লাপাড়ায় রেস্টুরেন্টে চা খেতে যাই। বাতেন ভাই তখন বলেন, আরেফী ভাই কিন্তু বড় পদে আছেন। তখনই আমার সন্দেহ হয়। বড় পদে যদি জো বাইডেনের কিছু হন, তাহলে তো সরকারি প্রটোকল পাবেন।

এরপর আবার এসেছিলেন। আমি এসপি স্যারকে রিপোর্ট করেছিলাম, স্যার ওনার আচরণের মধ্যে ত্রুটি আছে। তারপর এমপিকে বলেছিলাম, তখন এমপি সাহেব তাকে ডেকে নিয়েছিলেন। যখন এখানে এসে ডাকবাংলোয় ওঠেন, তখন সেখানে তার সঙ্গে তিন/চারজন দেখা করতে এসেছিলেন। গোপন সংবাদে জানতে পারি, ওনারা বিএনপির সাবেক এমপি আকবর আলীর লোক। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে এসপি স্যার ও এমপি সাহেবকে জানাই। তখন এমপি সাহেব তার সঙ্গে কথা বলেন। ওই সময় নিজেকে তিনি নিজেকে ডেমোক্রেটিক পার্টির মেম্বার ও জো বাইডেনের উপদেষ্টা হিসেবে পরিচয় দেন। তখন আমার কাছে তা মনে হয়নি। পরে বুঝতে পারি, আসলে তিনি তার বাপ-দাদার জমি উদ্ধার করতে এসেছেন, বলেন ওসি।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য তানভীর ইমাম বলেন, আমি তাকে ডাকিনি, তিনিই আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। আমি শুনলাম, তিনি পুলিশ প্রটোকল চেয়েছেন, সার্কিট হাউসে থাকতে চেয়েছেন। সার্কিট হাউসে পয়সা দিয়ে থাকার সিস্টেম আছে। তাকে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়। সেখানে থেকে তিনি চিল্লাচিল্লি করেছেন, ফ্যাসিলিটি ভালো না। খাট খারাপ, এটা-সেটা খারাপ। উনি অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন আমার কাছে। আমি তখন বললাম আপনি কে এবং আপনার পরিচয় কি? তিনি তখন নিজেকে জো বাইডেনের উপদেষ্টা হিসেবে পরিচয় দেন। আমি তার কাছ থেকে পরিচয়ের প্রুফ বা আইডি কার্ড আছে কিনা জানতে চাইলে তা দেখাতে পারেননি।

তখনই আমার তাকে ফ্রড মনে হয়। আমি তাকে বললাম, আপনি যদি সত্যিকার অর্থে বাইডেনের উপদেষ্টা হয়ে থাকেন, তাহলে তো আয়োজন অ্যাম্বেসি থেকে করবে। কিন্তু আপনি একা কেন? তখন তিনি বলেন, আমি আপনাকে চিঠি এনে দেখাব। তিনি আকবর আলীসহ বিএনপির লোকজনকে দাওয়াত করে খাইয়েছেন। এ বিষয়ে আমি বলেছি, আপনি আমেরিকার সিটিজেন, আপনার তো রাজনীতি থেকে দূরে থাকার কথা। তিনি বলেন, তারা আমার আত্মীয়। তারপর তিনি চলে যান।

হাটিকুমরুল ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি কাওসার আলী জানান, আরেফীর বাবা রওশন মণ্ডল ছিলেন পাবনা জেলার শিক্ষা কর্মকর্তা। তারা ১০ ভাইবোন ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমেরিকায় থাকেন। তারা খুব একটা এলাকায় আসেন না। এলাকার লোকজনের সঙ্গেও তাদের তেমন যোগাযোগ নেই। শোনা যায়, এম আকবর আলী আমেরিকায় গেলে আরেফীর বাসায়ই থাকেন।

সলঙ্গা থানার ওসি মো. এনামুল হক জানান, জাহেদুল ইসলাম আরেফী এলাকায় বেল্লাল নামে পরিচিত। তিনি ছাত্রাবস্থাতেই পরিবারের সঙ্গে আমেরিকায় যান। সেখানে তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির রাজনীতিতে যুক্ত। তবে তিনি এলাকায় এসে নিজেকে জো বাইডেনের উপদেষ্টা হিসেবে পরিচয় দেন। মানিকদিয়া গ্রাম বা উল্লাপাড়ায় তার কোনো বাড়ি নেই। তার দাদা-দাদির জন্য দোয়া মাহফিল করতে গত জুলাই মাসে এসেছিলেন। তিনি উল্লাপাড়া ডাকবাংলোয় ছিলেন।

ওসি আরও বলেন, উল্লাপাড়ার সাবেক এমপি এম আকবর আলীর সাথে তার বাবা মৃত রওশন মণ্ডলের সম্পর্ক ছিল। সেই সূত্র ধরে তার সঙ্গেও আকবর আলীর সম্পর্ক রয়েছে। তার স্থানীয় স্বজনেরা বিএনপির সমর্থক হলেও সরাসরি রাজনীতিতে জড়িত নন।

গতকাল শনিবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আরেফী নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে নিজেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উপদেষ্টা পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় তার পাশে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকেও দেখা গেছে। এনিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার সময় রোববার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাইডেনের উপদেষ্টা পরিচয়ে উল্লাপাড়ায় প্রটোকল চেয়েছিলেন আরেফী

আপডেট সময় ০৫:১৭:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৩

সিরাজগঞ্জ: চলতি বছরের জুলাই ও গত বছরের আগস্ট মাসে দুই দফায় সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় এসেছিলেন বাইডেনের কথিত উপদেষ্টা মিয়া জাহিদুল ইসলাম আরেফী। সে সময় তিনি নিজেকে জো বাইডেনের উপদেষ্টা ও ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির সদস্য পরিচয় দিয়ে প্রশাসনের প্রটোকল দাবি করেছিলেন।

ওই সময় তিনি উল্লাপাড়া ও সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে একটি রেস্টুরেন্টে চা খান। তিনি সে সময় উল্লাপাড়ায় ডাকবাংলোতেও থেকেছেন। সেখানে ফ্যাসিলিটি কম থাকায় তা নিয়ে রাগারাগিও করেছেন এবং স্থানীয় এমপির কাছেও অভিযোগ করে গেছেন। ওই সময় তিনি বিএনপির সাবেক এমপি এম আকবর আলীর গাড়িতে চলাচল করতেন বলে জানা গেছে।

ওই সময় তার সঙ্গে তার খালাতো ভগ্নিপতি উল্লাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল বাতেন হিরু পরিবারসহ সঙ্গ দিয়েছেন।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের মানিক দিয়ার গ্রামের মৃত রওশন মণ্ডলের ছেলে জাহিদুল ইসলাম আরেফী। তার বাবা পাবনা জেলা শিক্ষা অফিসার ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তারা ছয় ভাই চার বোন, সবাই আমেরিকায় থাকেন। প্রায় ৪০ বছর আগে তার বাবা আমেরিকায় গিয়ে সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা হয়েছিলেন। বাবা রওশন আমেরিকাতেই মারা গেছেন, সেখানেই তার দাফন হয়েছে। তাদের মা আমেরিকায় জীবিত আছেন বলে জানা গেছে।

২০২২ সালের ৬ আগস্ট নিজ ফেসবুকে পোস্টে আব্দুল বাতেন হিরু এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট দেন। উল্লাপাড়া ও সলঙ্গা থানার ওসির সঙ্গে রেস্টুরেন্টে আলাপরত বেশ কয়েকটি ছবি ব্যবহার করা পোস্টে হিরু লেখেন “আমার স্ত্রীর আপন খালাতো ভাই MR. MIAN AREFY (বেল্লাল ভাই) উল্লাপাড়ায় এসেছিলেন সুদূর ওয়াশিংটন থেকে। তার পৈত্রিক বাড়ি ছিল মানিকদিয়ায়। দাদা-দাদির কবর জিয়ারত করতে ৩৬ বছর পর উল্লাপাড়ায় এসেছেন। অমায়িক এ ভদ্রলোক ৩/৪ দিন প্রশাসনের দেখভালে ছিলেন। ” পোস্টে তিনি জাহিদুল ইসলাম আরেফীকে মেম্বার অব ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটি উল্লেখ করেন। পোস্টটিতে তিনি উল্লাপাড়া ও সলঙ্গা থানার ওসির সঙ্গে আলোচনারত জাহিদুল ইসলাম আরেফীর ছবিও দেন।

এদিকে মানিকদিয়া গ্রামের লোকজন জানান, আরেফী পাঁচ/সাত মাস আগে এসে একটি মক্তব চালু করে গেছেন। ওনার জন্ম পাবনায়, ওনার বাবা-দাদার জন্ম মানিকদিয়া গ্রামে। ওনার বাবা দেশের বিভিন্ন জায়গায় চাকরি করতেন। সেই কারণে এখানে তাদের খুব একটা যাতায়াত নেই। তিনি মাঝে মধ্যে এসে দান খয়রাত করেন। ওনার চাচারা মারা গেছেন। চাচাতো ভাইয়েরা রয়েছেন।

উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গত বছর আগস্ট মাসে তিনি এসেছিলেন। উল্লাপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল বাতেন হিরু আমাকে বলেছিলেন যে তার স্ত্রীর আপন খালাতো ভাই এসেছেন, এলাকা চিনবেন, কোনো সমস্যা হলে একটু দেখবেন। আরেফী এ এলাকায় যে স্কুলে পড়তেন, সেটা দেখতে এসেছেন। পরে সলঙ্গা থানার ওসি আর আমি উল্লাপাড়ায় রেস্টুরেন্টে চা খেতে যাই। বাতেন ভাই তখন বলেন, আরেফী ভাই কিন্তু বড় পদে আছেন। তখনই আমার সন্দেহ হয়। বড় পদে যদি জো বাইডেনের কিছু হন, তাহলে তো সরকারি প্রটোকল পাবেন।

এরপর আবার এসেছিলেন। আমি এসপি স্যারকে রিপোর্ট করেছিলাম, স্যার ওনার আচরণের মধ্যে ত্রুটি আছে। তারপর এমপিকে বলেছিলাম, তখন এমপি সাহেব তাকে ডেকে নিয়েছিলেন। যখন এখানে এসে ডাকবাংলোয় ওঠেন, তখন সেখানে তার সঙ্গে তিন/চারজন দেখা করতে এসেছিলেন। গোপন সংবাদে জানতে পারি, ওনারা বিএনপির সাবেক এমপি আকবর আলীর লোক। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে এসপি স্যার ও এমপি সাহেবকে জানাই। তখন এমপি সাহেব তার সঙ্গে কথা বলেন। ওই সময় নিজেকে তিনি নিজেকে ডেমোক্রেটিক পার্টির মেম্বার ও জো বাইডেনের উপদেষ্টা হিসেবে পরিচয় দেন। তখন আমার কাছে তা মনে হয়নি। পরে বুঝতে পারি, আসলে তিনি তার বাপ-দাদার জমি উদ্ধার করতে এসেছেন, বলেন ওসি।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য তানভীর ইমাম বলেন, আমি তাকে ডাকিনি, তিনিই আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। আমি শুনলাম, তিনি পুলিশ প্রটোকল চেয়েছেন, সার্কিট হাউসে থাকতে চেয়েছেন। সার্কিট হাউসে পয়সা দিয়ে থাকার সিস্টেম আছে। তাকে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়। সেখানে থেকে তিনি চিল্লাচিল্লি করেছেন, ফ্যাসিলিটি ভালো না। খাট খারাপ, এটা-সেটা খারাপ। উনি অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন আমার কাছে। আমি তখন বললাম আপনি কে এবং আপনার পরিচয় কি? তিনি তখন নিজেকে জো বাইডেনের উপদেষ্টা হিসেবে পরিচয় দেন। আমি তার কাছ থেকে পরিচয়ের প্রুফ বা আইডি কার্ড আছে কিনা জানতে চাইলে তা দেখাতে পারেননি।

তখনই আমার তাকে ফ্রড মনে হয়। আমি তাকে বললাম, আপনি যদি সত্যিকার অর্থে বাইডেনের উপদেষ্টা হয়ে থাকেন, তাহলে তো আয়োজন অ্যাম্বেসি থেকে করবে। কিন্তু আপনি একা কেন? তখন তিনি বলেন, আমি আপনাকে চিঠি এনে দেখাব। তিনি আকবর আলীসহ বিএনপির লোকজনকে দাওয়াত করে খাইয়েছেন। এ বিষয়ে আমি বলেছি, আপনি আমেরিকার সিটিজেন, আপনার তো রাজনীতি থেকে দূরে থাকার কথা। তিনি বলেন, তারা আমার আত্মীয়। তারপর তিনি চলে যান।

হাটিকুমরুল ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি কাওসার আলী জানান, আরেফীর বাবা রওশন মণ্ডল ছিলেন পাবনা জেলার শিক্ষা কর্মকর্তা। তারা ১০ ভাইবোন ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমেরিকায় থাকেন। তারা খুব একটা এলাকায় আসেন না। এলাকার লোকজনের সঙ্গেও তাদের তেমন যোগাযোগ নেই। শোনা যায়, এম আকবর আলী আমেরিকায় গেলে আরেফীর বাসায়ই থাকেন।

সলঙ্গা থানার ওসি মো. এনামুল হক জানান, জাহেদুল ইসলাম আরেফী এলাকায় বেল্লাল নামে পরিচিত। তিনি ছাত্রাবস্থাতেই পরিবারের সঙ্গে আমেরিকায় যান। সেখানে তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির রাজনীতিতে যুক্ত। তবে তিনি এলাকায় এসে নিজেকে জো বাইডেনের উপদেষ্টা হিসেবে পরিচয় দেন। মানিকদিয়া গ্রাম বা উল্লাপাড়ায় তার কোনো বাড়ি নেই। তার দাদা-দাদির জন্য দোয়া মাহফিল করতে গত জুলাই মাসে এসেছিলেন। তিনি উল্লাপাড়া ডাকবাংলোয় ছিলেন।

ওসি আরও বলেন, উল্লাপাড়ার সাবেক এমপি এম আকবর আলীর সাথে তার বাবা মৃত রওশন মণ্ডলের সম্পর্ক ছিল। সেই সূত্র ধরে তার সঙ্গেও আকবর আলীর সম্পর্ক রয়েছে। তার স্থানীয় স্বজনেরা বিএনপির সমর্থক হলেও সরাসরি রাজনীতিতে জড়িত নন।

গতকাল শনিবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আরেফী নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে নিজেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উপদেষ্টা পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় তার পাশে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকেও দেখা গেছে। এনিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার সময় রোববার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়।