ঢাকা ০২:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকা ওয়াসা বোর্ড বিলুপ্ত, এমডি মনিরুজ্জামানের হাতে সব ক্ষমতা দুঃখের কথা শুনেই সহায়তার হাত বাড়ালেন মানবিক ডিসি জাহিদ পাওনা টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ীকে মারধর, যুবদল নেতা আল আমিনের বিরুদ্ধে মামলা আরব দলগুলোর সমর্থন পেলে ক্ষমতা হারাতে পারেন নেতানিয়াহু বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে টোলের নামে চাঁদাবাজি, ক্ষুব্ধ পর্যটক ও যাত্রীরা ১২ কেজি এলপিজির দাম ৩০০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব ভোটার স্থানান্তরের আবেদনের সময় বাড়ল ১ নভেম্বর পর্যন্ত উখিয়ায় এসআই কিবরিয়াসহ ৩ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ১ লাখ ইয়াবা ও পিস্তল গায়েবের অভিযোগ নেতানিয়াহুর বদলে ‘কম ক্ষতিকর’ প্রধানমন্ত্রী চান গাজাবাসী বরগুনায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত

চাঁদপুরে ছেলেকে হত্যায় মাসহ দুইজনের মৃত্যুদণ্ড

চাঁদপুরের হাইমচরে ভাড়াটিয়া লোকদের মাধ্যমে আপন ছেলে মো. আরিফ হোসেনকে (২৫) হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মা খুকি বেগম (৪৩) ও আসামী মো. জয়নাল গাজী (২৪) কে মৃত্যুদণ্ড এবং সহযোগী দুই আসামী ইউছুফ মোল্লা (২৭) ও মাহবুব মোল্লা (২৬) কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।একই সাথে প্রত্যেক আসামীকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদন্ড দেয়া হয়।

বুধবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (১) ফারহানা ইয়াসমিন এই রায় দেন।

হত্যার শিকার আরিফ হোসেন জেলার হাইমচর উপজেলার দক্ষিণ আলগী ইউনিয়নের মাছুম খান বাড়ীর মিজানুর রহমান খানের ছেলে এবং মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত খুকি বেগমের ছেলে।

অপর মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী মো. জয়নাল গাজী পাশবর্তী ফরিদগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম লাড়ুয়া গ্রামের গাজী বাড়ীর গণি গাজীর ছেলে।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন-ফরিদগঞ্জ উপজেলার উত্তর বিষকাটালি গ্রামের মোল্লা বাড়ীর হোসেন মোল্লার ছেলে ইউছুফ মোল্লা ও একই গ্রামের বিল্লাল মোল্লার ছেলে মাহবুব মোল্লা।

মামলার বিবরণ থেকে জানাগেছে, হত্যার শিকার আরিফ হোসেন তার মা খুকি বেগমের সাথে আসামী জয়নাল গাজীর পরকিয়া সম্পর্কের কথা জানতেন। এই বিষয়ে মা ছেলের সম্পর্কের অবনতি হয়। ২০১৫ সালের শুরুতে ছেলে আরিফ হোসেন প্রেমের সম্পর্ক করে পাশবর্তী উত্তর আলগী ইউনিয়নের মিজি বাড়ীর আব্দুস সালাম মিজির মেয়ে আসমা আক্তার (১৯) কে বিয়ে করেন।

তাদের বিয়ে মা খুকি বেগম প্রথমে মেনে না নিলেও এক পর্যায়ে মেনে নেন। এরপর মা, ছেলে ও ছেলের বউ এর সাথে বিভিন্ন বিষয়ে জগড়া বিবাদ হত। এরই মধ্যে মা খুকি বেগম ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা করে। তারই আলোকে ২০১৫ সালের ১৬ নভেম্বর ছেলের বউ আসমাকে পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দেন। এরপর ১৮ নভেম্বর পরিকল্পিতভাবে মা খুকি বেগম নিজ গৃহে পরকিয়া প্রেমিক জয়নাল গাজী ও সহযোগিদের দিয়ে আরিফকে ঘুমন্ত অবস্থায় হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে, দা দিয়ে কুপিয়ে এবং ব্লেড দিয়ে পোছ মেরে মৃত্যু হয়েছে মনে করে ঘরের মেঝেতে ফেলে চলে যায়। পরদিন ১৯ নভেম্বর সকালে খুকি বেগম আরিফের স্ত্রী আসমাকে ফোন করে জানায় ডাকাতরা আরিফকে জখম করে ফেলে গিয়েছে।

আসমা তাৎক্ষনিক স্বামীর বাড়িতে চলে আসে এবং আরিফকে উদ্ধার করে প্রথমে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখান থেকে ঢাকা নেয়ার পথে মতলব ফেরিঘাটে পার হওয়ার পর সকাল ৯টার দিকে আরিফের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় ওইদিনই আসমা শ্বাশুড়ী খুকি বেগমসহ অজ্ঞাতনামা ব্যাক্তিদের আসামী করে হাইমচর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে।

এই মামলাটি তদন্ত করার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয় হাইমচর থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নুর মিয়াকে। তিনি মামলাটি দীর্ঘ এক বছর তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ৯ নভেম্বর আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।

মামলার সরকার পক্ষের আইনজীবী সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) বদিউজ্জামান কিরন জানান, এটি একটি নৃশংস হত্যাকান্ড। মায়ের পরকিয়ার জন্য এই ঘটনা ঘটে। মামলাটি দীর্ঘ ৭ বছরের অধিক সময় চলাকালীন সময়ে আদালত ২০জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন। স্বাক্ষ্য গ্রহন ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে আসামীদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এই রায় দেন। আসামীদের মধ্যে ইউছুফ মোল্লা প্রথম থেকে পলাতক। বাকীরা জামিনে থাকলেও রায়ের সময়ে সকল আসামীর অনুপস্থিতিতে রায় হয়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা ওয়াসা বোর্ড বিলুপ্ত, এমডি মনিরুজ্জামানের হাতে সব ক্ষমতা

চাঁদপুরে ছেলেকে হত্যায় মাসহ দুইজনের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ০৭:২৩:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৩

চাঁদপুরের হাইমচরে ভাড়াটিয়া লোকদের মাধ্যমে আপন ছেলে মো. আরিফ হোসেনকে (২৫) হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মা খুকি বেগম (৪৩) ও আসামী মো. জয়নাল গাজী (২৪) কে মৃত্যুদণ্ড এবং সহযোগী দুই আসামী ইউছুফ মোল্লা (২৭) ও মাহবুব মোল্লা (২৬) কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।একই সাথে প্রত্যেক আসামীকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদন্ড দেয়া হয়।

বুধবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (১) ফারহানা ইয়াসমিন এই রায় দেন।

হত্যার শিকার আরিফ হোসেন জেলার হাইমচর উপজেলার দক্ষিণ আলগী ইউনিয়নের মাছুম খান বাড়ীর মিজানুর রহমান খানের ছেলে এবং মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত খুকি বেগমের ছেলে।

অপর মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী মো. জয়নাল গাজী পাশবর্তী ফরিদগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম লাড়ুয়া গ্রামের গাজী বাড়ীর গণি গাজীর ছেলে।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন-ফরিদগঞ্জ উপজেলার উত্তর বিষকাটালি গ্রামের মোল্লা বাড়ীর হোসেন মোল্লার ছেলে ইউছুফ মোল্লা ও একই গ্রামের বিল্লাল মোল্লার ছেলে মাহবুব মোল্লা।

মামলার বিবরণ থেকে জানাগেছে, হত্যার শিকার আরিফ হোসেন তার মা খুকি বেগমের সাথে আসামী জয়নাল গাজীর পরকিয়া সম্পর্কের কথা জানতেন। এই বিষয়ে মা ছেলের সম্পর্কের অবনতি হয়। ২০১৫ সালের শুরুতে ছেলে আরিফ হোসেন প্রেমের সম্পর্ক করে পাশবর্তী উত্তর আলগী ইউনিয়নের মিজি বাড়ীর আব্দুস সালাম মিজির মেয়ে আসমা আক্তার (১৯) কে বিয়ে করেন।

তাদের বিয়ে মা খুকি বেগম প্রথমে মেনে না নিলেও এক পর্যায়ে মেনে নেন। এরপর মা, ছেলে ও ছেলের বউ এর সাথে বিভিন্ন বিষয়ে জগড়া বিবাদ হত। এরই মধ্যে মা খুকি বেগম ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা করে। তারই আলোকে ২০১৫ সালের ১৬ নভেম্বর ছেলের বউ আসমাকে পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দেন। এরপর ১৮ নভেম্বর পরিকল্পিতভাবে মা খুকি বেগম নিজ গৃহে পরকিয়া প্রেমিক জয়নাল গাজী ও সহযোগিদের দিয়ে আরিফকে ঘুমন্ত অবস্থায় হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে, দা দিয়ে কুপিয়ে এবং ব্লেড দিয়ে পোছ মেরে মৃত্যু হয়েছে মনে করে ঘরের মেঝেতে ফেলে চলে যায়। পরদিন ১৯ নভেম্বর সকালে খুকি বেগম আরিফের স্ত্রী আসমাকে ফোন করে জানায় ডাকাতরা আরিফকে জখম করে ফেলে গিয়েছে।

আসমা তাৎক্ষনিক স্বামীর বাড়িতে চলে আসে এবং আরিফকে উদ্ধার করে প্রথমে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখান থেকে ঢাকা নেয়ার পথে মতলব ফেরিঘাটে পার হওয়ার পর সকাল ৯টার দিকে আরিফের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় ওইদিনই আসমা শ্বাশুড়ী খুকি বেগমসহ অজ্ঞাতনামা ব্যাক্তিদের আসামী করে হাইমচর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে।

এই মামলাটি তদন্ত করার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয় হাইমচর থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নুর মিয়াকে। তিনি মামলাটি দীর্ঘ এক বছর তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ৯ নভেম্বর আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।

মামলার সরকার পক্ষের আইনজীবী সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) বদিউজ্জামান কিরন জানান, এটি একটি নৃশংস হত্যাকান্ড। মায়ের পরকিয়ার জন্য এই ঘটনা ঘটে। মামলাটি দীর্ঘ ৭ বছরের অধিক সময় চলাকালীন সময়ে আদালত ২০জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন। স্বাক্ষ্য গ্রহন ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে আসামীদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এই রায় দেন। আসামীদের মধ্যে ইউছুফ মোল্লা প্রথম থেকে পলাতক। বাকীরা জামিনে থাকলেও রায়ের সময়ে সকল আসামীর অনুপস্থিতিতে রায় হয়।