ঢাকা ১১:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ই-হেলথ প্ল্যাটফর্মের পাইলট প্রকল্প শুরুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর দেশে পোস্টগ্র্যাজুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী তেজগাঁও থানায় আকস্মিক পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ নিউজ নেটওয়ার্ক নীলফামারীর আহ্বায়ক কমিটি গঠন অল্প সময়ে জনগণের সব প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয় : পানিসম্পদমন্ত্রী জাজিরায় স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা মঠবাড়িয়ায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কীর্তি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিলেন তাকওয়া ফাউন্ডেশন মৌলভীবাজারের বড়লেখায় প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার রাজনীতি নিষিদ্ধ ববিতে জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদের কাউন্সিল, পূর্ণাঙ্গ কমিটির আত্মপ্রকাশ   পোষা বিড়ালের আঁচড়ের পর থেকে ‘মিউ মিউ’ করছে শিশু আদ্রিতা

বাহুবলের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আকলাছ মিয়া লাশ চায় পরিবার

গত মঙ্গলবার (১৪ফেব্রুয়ারি) সিলেটে বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে যান চুনারুঘাট উপজেলার বালিয়াড়ি গ্রামের আলকাছ মিয়া (৪৫)। ফেরার পথে বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারী) রাত ৮ টায় বাহুবল উপজেলার বাগানবাড়ি এলাকায় হবিগঞ্জ সিলেট বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাস দুর্ঘটনায় মারা যায় সে।

পরিচয় না পেয়ে পরদিন শুক্রবার রাতে আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে বেওয়ারিশ হিসেবে রাজনগর পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর একদিন পর শনিবার সকালে স্বজনরা প্রতিবেশীদের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দেখে নিশ্চিত হন দুর্ঘটনায় নিহত পরিচয় না পাওয়া মৃতদেহটি আকলাছ মিয়ার।

এরপর থেকে স্বামীর লাশ ফিরে পাওয়ার দাবি নিয়ে শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানায় গিয়ে লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ করেছেন স্ত্রী জেসমিন আক্তার। বারবার ধর্ণা দিয়েও কোন কুল কিনারা করতে পারছেন না তিনি। জেসমিন আক্তারের দাবি তিনি তার স্বামীর লাশটি শেষবারের জন্য দেখতে চান। যে কোন মূল্যে তিনি তার স্বামীর লাশ ফেরত চান।

সরেজমিনে নিহত আলকাছ মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে তার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোকে স্তব্ধ গোটা গ্রামও। স্বামীর এমন মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ আকলাছের স্ত্রী জেসমিন আক্তার। ছোট পাঁচ শিশু সন্তানকে নিয়ে কী করবেন ভেবে কুল পাচ্ছেন না।

এ সময় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে তিনি বলেন, “আমার স্বামী ছাড়া আমার বাচ্চা-কাচ্চার আর কেউ নাই, ই বাচ্চারারে কেটায় দেখবো? সন্ধ্যার সময় রান্দার মতো চাউলও ঘরে নাই, আপনারা আমারে সাহায্য করইন”।

এসময় তিনি তার স্বামীর লাশ ফিরে পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। নিহত আলকাছ মিয়ার মা আমিনা খাতুন বলেন,” আমি আমার ছেলের লাশ চাই, আমি আমার ছেলেরে দাফন করতাম চাই।”

এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, লাশের দাবি নিয়ে স্বজনেরা আমার কাছে আসছিলো। তাদের সাথে কথা হয়েছে।

বিস্তারিত জানার জন্য আগামীকাল (সোমবার) সকালে তাদেরকে আসার জন্য বলেছি। এসময় তিনি পিবিআই’র মাধ্যমে ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে পরিচয় যাচাইয়ের চেষ্টা করা হলেও কোন তথ্য আসেনি বলেও জানান।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ই-হেলথ প্ল্যাটফর্মের পাইলট প্রকল্প শুরুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বাহুবলের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আকলাছ মিয়া লাশ চায় পরিবার

আপডেট সময় ১০:১৬:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

গত মঙ্গলবার (১৪ফেব্রুয়ারি) সিলেটে বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে যান চুনারুঘাট উপজেলার বালিয়াড়ি গ্রামের আলকাছ মিয়া (৪৫)। ফেরার পথে বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারী) রাত ৮ টায় বাহুবল উপজেলার বাগানবাড়ি এলাকায় হবিগঞ্জ সিলেট বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাস দুর্ঘটনায় মারা যায় সে।

পরিচয় না পেয়ে পরদিন শুক্রবার রাতে আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে বেওয়ারিশ হিসেবে রাজনগর পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর একদিন পর শনিবার সকালে স্বজনরা প্রতিবেশীদের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দেখে নিশ্চিত হন দুর্ঘটনায় নিহত পরিচয় না পাওয়া মৃতদেহটি আকলাছ মিয়ার।

এরপর থেকে স্বামীর লাশ ফিরে পাওয়ার দাবি নিয়ে শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানায় গিয়ে লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ করেছেন স্ত্রী জেসমিন আক্তার। বারবার ধর্ণা দিয়েও কোন কুল কিনারা করতে পারছেন না তিনি। জেসমিন আক্তারের দাবি তিনি তার স্বামীর লাশটি শেষবারের জন্য দেখতে চান। যে কোন মূল্যে তিনি তার স্বামীর লাশ ফেরত চান।

সরেজমিনে নিহত আলকাছ মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে তার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোকে স্তব্ধ গোটা গ্রামও। স্বামীর এমন মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ আকলাছের স্ত্রী জেসমিন আক্তার। ছোট পাঁচ শিশু সন্তানকে নিয়ে কী করবেন ভেবে কুল পাচ্ছেন না।

এ সময় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে তিনি বলেন, “আমার স্বামী ছাড়া আমার বাচ্চা-কাচ্চার আর কেউ নাই, ই বাচ্চারারে কেটায় দেখবো? সন্ধ্যার সময় রান্দার মতো চাউলও ঘরে নাই, আপনারা আমারে সাহায্য করইন”।

এসময় তিনি তার স্বামীর লাশ ফিরে পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। নিহত আলকাছ মিয়ার মা আমিনা খাতুন বলেন,” আমি আমার ছেলের লাশ চাই, আমি আমার ছেলেরে দাফন করতাম চাই।”

এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, লাশের দাবি নিয়ে স্বজনেরা আমার কাছে আসছিলো। তাদের সাথে কথা হয়েছে।

বিস্তারিত জানার জন্য আগামীকাল (সোমবার) সকালে তাদেরকে আসার জন্য বলেছি। এসময় তিনি পিবিআই’র মাধ্যমে ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে পরিচয় যাচাইয়ের চেষ্টা করা হলেও কোন তথ্য আসেনি বলেও জানান।