কুড়িগ্রাম সদর খাদ্যগুদামে সরকারি চাল ও ধানের মজুত এবং সংগ্রহের নথিতে অনিয়মের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাঁদের বিরুদ্ধে ২ কোটি ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫২ টাকা মূল্যের সরকারি খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার।
দুদকের কুড়িগ্রাম কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান আজ বুধবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বছরের শুরুতে দুদকের একটি এনফোর্সমেন্ট দল খাদ্যগুদামে অভিযান চালায়। ওই অভিযানে যেসব অসংগতি ধরা পড়ে, তা কমিশনকে জানানো হয়। এরপর কমিশনের অনুমতি নিয়ে খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগে চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। অর্থাৎ, অভিযানের পর মামলা পর্যন্ত গড়াতে কয়েক মাস সময় লেগেছে।
মামলার আসামিরা হলেন কুড়িগ্রাম সদর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরীফ আহমেদ, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম এলএসডির সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক হালিমুর রহমান এবং কুড়িগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ হামিদুল হক। আসামিদের মধ্যে গুদাম, উপজেলা ও জেলা—তিন স্তরের কর্মকর্তা থাকায় বিষয়টি নিছক একটি গুদামের গরমিলে সীমাবদ্ধ নয় বলেই মনে হচ্ছে।
দুদকের এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ও সংগ্রহের নথি পর্যালোচনা এবং বাস্তব মজুত যাচাই করে একাধিক অসংগতি পাওয়া যায়। তদন্তে উঠে আসে, নথিতে যত চাল দেখানো হয়েছে, বাস্তবে মজুত তার চেয়ে কম। ধান সংগ্রহের হিসাবেও গরমিল ছিল। এ ছাড়া বিল পরিশোধ করা হলেও গুদামে ধান পাওয়া যায়নি।
দুদকের অভিযোগ, চার কর্মকর্তা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ও সংগ্রহের রেকর্ডে অসংগতি তৈরি করেছেন এবং তা ব্যবহার করে খাদ্যশস্য আত্মসাৎ করেছেন। তবে এটি এখনো অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে। আদালতে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা যাবে না।
সরকারি খাদ্যগুদামের চাল ও ধান সাধারণত খাদ্যনিরাপত্তা কর্মসূচি এবং বাজার স্থিতিশীল রাখার কাজে ব্যবহৃত হয়। তাই মজুত ও সংগ্রহের হিসাবে গরমিল হলে এর প্রভাব শুধু আর্থিক ক্ষতিতে সীমাবদ্ধ থাকে না, খাদ্য ব্যবস্থাপনার ওপর আস্থাও নড়বড়ে হয়ে পড়ে। সব মিলিয়ে মামলাটি খাদ্যগুদাম ব্যবস্থাপনার তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এখন নজর থাকবে মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকে, যেখানে স্পষ্ট হবে অভিযোগের সত্যতা কতটা এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























